
নিজস্ব প্রতিবেদক:
চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের কুলসি থানার এক পুলিশ সদস্যের মানবিক উদ্যোগে আবেগাপ্লুত সাধারণ মানুষ। আদালতের ওয়ারেন্ট আসামি গ্রেফতার করতে গিয়ে চট্টগ্রাম কুলসি থানার এএসআই মহিউদ্দিনের চোখে ধরা পড়ে এক করুণ বাস্তবতা।
ঘরে গিয়ে দেখেন, আসামির স্ত্রীর কোলে একটি মাত্র পাঁচ মাসের শিশু এবং মেঝেতে বসে আছে আরেকটি মাত্র ২০/২২ মাস বয়সী শিশু। দুই সন্তানের তরুণী মা তখন একেবারেই অসহায়, সংসারে নেই এক মুঠো খাবারও।
আসামি তার অপরাধের জন্য সাজা ভোগ করবে—এটাই আইনের নিয়ম। কিন্তু এএসআই মহিউদ্দিনকে গভীরভাবে নাড়া দেয় শিশু দু’টির নিরুপায় অবস্থা। সাথে সাথেই তিনি সিদ্ধান্ত নেন, ক্ষুধার্ত পরিবারের পাশে দাঁড়াতে হবে। নিজের উদ্যোগে ওই অসহায় নারী ও দুই সন্তানের হাতে তুলে দেন ১০ দিনের খাবার চাল, ডাল, আলু ও প্রয়োজনীয় নিত্যপণ্য। এরপর আইনানুগ প্রক্রিয়ায় আসামিকে আদালতে উপস্থাপন করেন।
ঘটনাটি নিজের ফেসবুক স্ট্যাটাসে তুলে ধরেন এএসআই মহিউদ্দিন। তিনি লেখেন—
“আজকে একটা ওয়ারেন্টের আসামি গ্রেফতার করতে যেয়ে খুব খারাপ লাগল! ঘরে দেখি আসামির ৫ মাসের একটা ও ২০/২২ মাস বয়সী আরো একটা (মোট-২জন) বাচ্চা এবং বাচ্চার মা—খুব কম বয়সী মনে হলো, খুবই অসহায়। আসামি তার অপরাধের শাস্তি ভোগ করবে, কিন্তু তার শিশু দু’টি ও স্ত্রী সকালের খাবার ঘরে নাই। তাদের কথা চিন্তা করে ১০ দিনের খাওয়ার মত কিছু খাবার দিয়ে আসলাম। আসামিকেও আদালতে উপস্থাপনের জন্য নিয়ে এলাম।”
পুলিশের এমন মানবিক কাজ ছড়িয়ে পড়তেই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রশংসার জোয়ার ওঠে। নেটিজেনরা মন্তব্য করেন পুলিশ শুধু গ্রেফতারই করে না, সমাজের অসহায় মানুষের ভরসাও হতে পারে।”
উল্লেখ্য, এএসআই মহিউদ্দিন এর আগে কক্সবাজার সদর ও ঈদগাঁও থানায় সুনামের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেছেন। শুধু কঠোর আইন প্রয়োগ নয়, মানবিক দিক থেকেও তিনি সহকর্মীদের জন্য উদাহরণ হয়ে উঠছেন।
মহিউদ্দিন প্রমাণ করলেন—পুলিশের দায়িত্ব শুধু আইন প্রয়োগ নয়, মানবতার দিকটিও সমানভাবে গুরুত্বপূর্ণ।

























