Dhaka , Wednesday, 1 July 2026
নিবন্ধন নাম্বারঃ ১১০, সিরিয়াল নাম্বারঃ ১৫৪, কোড নাম্বারঃ ৯২
শিরোনাম ::
চট্টগ্রামের মুরাদপুরে দিনদুপুরে যুবককে গুলি করে হত্যা হোটেল সোনারগাঁওয়ে নগর জনস্বাস্থ্য প্রকল্পের অভিজ্ঞতা বিনিময় কর্মশালায় বক্তারা কাউখালীতে বাড়ছে ডেঙ্গু রোগী, স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি ৭ জন রূপগঞ্জে সাংগঠনিক আলোচনায় বিএনপি নেতাদের ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান আষাঢ়ের বৃষ্টিতে পাইকগাছায় ছাতা মেরামতের ধুম পাইকগাছায় সরকারি কর্মকর্তাদের সঙ্গে এমপির মতবিনিময় সভা পাইকগাছা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স পরিদর্শনে এমপি আবুল কালাম আজাদ মধুপুরে তৃতীয় শ্রেনীর ছাত্রীকে ধর্ষণচেষ্টা, অভিযুক্তের শাস্তির দাবিতে মানববন্ধন রূপগঞ্জে বেদে পল্লীর ১৮০ পরিবারের মাঝে ৩০ কেজি করে চাল বিতরণ রূপগঞ্জ পূর্বাচলে সার্বিক নিরাপত্তায় ৪ থানা, ৬ তদন্ত কেন্দ্র, ২পুলিশ লাইনস, ৩ডিসি অফিসসহ ৪১টি পুলিশবক্স স্থাপনের কার্যক্রম চলছে- আইজিপি স্বরূপে ফিরেছে ফরিদ আহমেদ ভুঁইয়া একাডেমি এইচ এসসি শিক্ষার্থীদের বিদায় অনুষ্ঠিত রাজনগরে জাতীয় ভিটামিন ‘এ’ প্লাস ক্যাম্পেইনের শুভ উদ্বোধন, ৩১ হাজার শিশুকে ক্যাপসুল খাওয়ানোর লক্ষ্য নাসির হত্যা মামলার আসামি শরিফকে আদালতে তোলার সময় বিক্ষোভ, ৫ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর রূপগঞ্জে চাঁদা দাবির অভিযোগে ইউএনও’র সংবাদ সম্মেলন \ অপ-সাংবাদিকতা প্রতিকারের দাবি পাইকগাছা পৌরসভায় বাজেট ঘোষণা: প্রস্তাবিত বাজেট ৫২ কোটি ১৯ লাখ টাকা দীর্ঘ এক যুগ বন্ধ মাদ্রাসা: জমি ফেরত চেয়ে ইউএনও’র কাছে আবেদন মাদারীপুর সদর উপজেলায় কৃষকদের মাঝে বীজ ও সার বিতরণ চট্টগ্রামের কর্নফুলী চ্যানেলে লাইটার জাহাজ ডুবি, ক্রুদের জীবিত উদ্ধার করেছে কোস্টগার্ড পাইকগাছায় জনগুরুত্বপূর্ণ বাইনতলা-খড়িয়া সড়ক সংস্কারহীন; চরম দুর্ভোগে এলাকাবাসী চন্দনাইশ প্রবাসী সমিতি-দাম্মাম এর সহযোগিতায় বরকল এলাকায় অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের মাঝে আর্থিক অনুদান প্রদান কিশোর বয়সে প্রেমের বিয়ে, ৮ মাস পর রহস্যজনক মৃত্যু অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের পাশে আশেকানে গাউছিয়া সুলতানপুরী পরিষদ রূপগঞ্জে ব্যবসায়ীর বাড়িঘরে হামলা, ভাংচুর লুটপাট ও জমি দখলের চেষ্টার প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন মধুপুরে পরিত্যক্ত গর্ত থেকে ছাগল তুলতে গিয়ে বাবা-ছেলে – মামা সহ প্রাণ গেল ৪ জনের রায়পুরে বর্ণমালা একাডেমীতে ফল উৎসব ও বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি। তারুণ্যের মেধা ও প্রযুক্তির শক্তিতেই গড়ে উঠবে সুখী-সমৃদ্ধ নতুন বাংলাদেশ: ভূমি প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর হেলাল কঠিন সময়ে সতীর্থকে পাশে পাচ্ছেন রোনালদো ইরানকে নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র যা করছে, তা ‘বিশ্বকাপের ইতিহাসে কালো অধ্যায়’ মোহাম্মদপুরের অপরাধীদের নির্মূল করা হবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আমাকে খুশি করতে মিথ্যা সংবাদ লেখার প্রয়োজন নেই: জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী

কক্সবাজার মেডিকেলে ৪ শিক্ষার্থীর ইমামতিতে খতমে তারাবিহ

  • Reporter Name
  • আপডেট সময় : 11:22:05 am, Sunday, 23 March 2025
  • 100 বার পড়া হয়েছে

কক্সবাজার মেডিকেলে ৪ শিক্ষার্থীর ইমামতিতে খতমে তারাবিহ

তৌহিদ বেলাল, কক্সবাজার অফিস
বিভিন্ন বর্ষে অধ্যয়নরত চারজন শিক্ষার্থীর ইমামতিতে কক্সবাজার মেডিকেল কলেজে (কক্সএমসি) প্রথমবারের মতো চলছে খতমে তারাবিহ। প্রথম রমজান থেকেই কক্সবাজার মেডিকেল কলেজের মসজিদে এই তারাবির নামাজ আদায় চলছে।
তারবির নামাজে ইমামতি করছেন কক্সবাজার মেডিকেল কলেজের ১২তম ব্যাচের শিক্ষার্থী হাফেজ আহসান শাকীক, ১৪তম ব্যাচের শিক্ষার্থী হাফেজ হাসানাত আব্দুল্লাহ, ১৫তম ব্যাচের শিক্ষার্থী হাফেজ ইমতিয়াজ হোসেন ও ১৬তম ব্যাচের শিক্ষার্থী হাফেজ মাওলানা তাউসিফ করিম।
কক্সবাজার মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর ডা. সোহেল বকস বলেন, ‘কলেজ মসজিদের খতম তারাবিহ আমাদের ছাত্ররাই পড়াতে পারছে, বাইরে থেকে হাফেজ আনতে হয়নি। এটা কক্সবাজার মেডিকেল কলেজ কর্তৃপক্ষ ও শিক্ষকদের জন্য খুবই আনন্দের ও গর্বের বিষয়। ছাত্ররাও আনন্দিত যে, তাদেরই বন্ধু-সহপাঠীরা খতমে তারাবিহ পড়াচ্ছে’।
অধ্যক্ষ আরও বলেন, ‘হাফেজে কুরআন হয়েও তারা যে বিজ্ঞান বিভাগে পড়াশোনা করে কঠিন প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে মেডিকেল কলেজে চান্স পেয়েছে, সেটাও দেশের ছাত্র-ছাত্রীদের জন্য অনুপ্রেরণাদায়ক’।
তারাবির নামাজে ইমামতি করা হাফেজ আহসান শাকীক অনুভূতির কথা জানিয়ে বলেন, ‘কুরআন হিফজ করা এবং সেটা ধরে রাখা অনেক বড় একটা দায়িত্ব। হিফজ ধরে রাখার জন্য নিয়মিত চর্চা রাখতে হয়। মেডিকেলে চান্স পাওয়ার পরে ভয়ে ছিলাম- সেই চর্চা ধরে রাখতে পারবো কিনা। আলহামদুলিল্লাহ, আমার সহপাঠীদের আন্তরিকতায় ক্যাম্পাসে রোজার প্রথম বছরই তাদেরকে নিয়ে একাই তারাবির নামাজে কুরআন খতম দেওয়ার চেষ্টা করেছিলাম হোস্টেলের বারান্দায়। পরবর্তীতে প্রতি ব্যাচেই নতুন নতুন হাফেজ ভর্তি হয় এবং আমাদের কলেজে হাফেজের সংখ্যা বৃদ্ধি পেতে থাকে। ফলে ২০২৩ সাল থেকেই হোস্টেলের মসজিদে সূরা তারাবির পরিবর্তে আমরা খতমে তারাবিহ পড়া শুরু করি। কিন্তু কিছু সীমাবদ্ধতার কারণে বিগত দুই বছর একবারও আমরা সম্পূর্ণ কুরআন খতম করতে সক্ষম হইনি। তবে এইবার তারাবিতে সম্পূর্ণ কুরআন খতম দেওয়ার ব্যাপারে আমরা সবাই দৃঢ় প্রতিজ্ঞ। পাশাপাশি আমার যেই হাফেজ সঙ্গীরা রয়েছেন তাঁরাও অত্যন্ত আন্তরিক। আল্লাহর অশেষ শুকরিয়া তিনি এমন কিছু দ্বীনি ভাই দিয়েছেন, যারা নিজেরাও দ্বীন পালন করেন এবং অন্যদেরকেও দ্বীন পালনে উৎসাহ দেন। দু’আ করি কক্সএমসিসহ সকল মেডিকেল কলেজেই নতুন নতুন হাফজ চান্স পাক এবং কলেজে শিক্ষার্থীদের দ্বারাই খতমে তারাবিহ পরিচালিত হওয়ার চর্চা ছড়িয়ে পড়ুক সব ক্যাম্পাসে’।
হাফেজ তাউসিফ করীম বলেন, ‘হাফেজ হওয়ার পর থেকে টানা নয় বছর তারাবিহ পড়িয়েছি। সারাবছরের একাডেমিক পড়াশোনার চাপে হিফজুল কুরআনের পর্যাপ্ত সময় দেওয়া হয় না’। তিনি বলেন, ‘তারাবিহ হলো একজন হাফেজের কাছে আল কুরআন রিচার্জের মতো। তারাবিহ ছাড়া কুরআন আয়ত্বে রাখা কষ্টসাধ্য। মেডিকেলে টিকে যাওয়ার পর এই আশঙ্কায় ছিলাম যে, রামাদানে তারাবিহ পড়াতে পারবো কিনা। মেডিকেলে ক্লাস আর পরীক্ষার পাশাপাশি তারাবির জন্য আলাদা প্রস্তুতি নেওয়া আসলেই কঠিন। আলহামদুলিল্লাহ, আল্লাহর অশেষ রহমতে এইবার রামাদানে কক্সএমসিতে সিনিয়র হাফেজ ভাইদের সাথে খতমে তারাবির ইমামতিতে অংশ নিয়েছি। এজন্য আমি প্রথমত আল্লাহর দরবারে এবং দ্বিতীয়ত কক্সএমসি পরিবারের কাছে কৃতজ্ঞ।
হাফেজ ইমতিয়াজ বলেন, ‘প্রকৃতপক্ষে হাফেজ হওয়ার পেছনে আল্লাহ তায়ালার রহমত তো ছিলোই, তার পাশাপাশি মায়ের ইচ্ছা এবং প্রচেষ্টা ছিলো অন্যতম সহায়ক। হাফেজ হবার পাশাপাশি মাদরাসা বিভাগ থেকে মেডিকেলে চান্স পাওয়া ছিলো আমার জন্য অন্যতম সৌভাগ্যের বিষয়’।
‘হাফেজ হওয়া যেমন আল্লাহ তায়ালার রহমত ব্যতিত সম্ভব নয়, তেমনি হাফেজ হওয়ার পর বুকে কুরআন ধরে রাখা অন্যতম একটি চ্যালেঞ্জের ব্যাপার। তাই প্রয়োজন রেগুলার একটু একটু হলেও কুরআন পড়া। কিন্তু মেডিকেলে আইটেম, কার্ড, টার্ম ও পরীক্ষার ব্যস্ততার কারণে রেগুলার কুরআন পড়া হয়ে ওঠে না। তাই রমজান ও খতমে তারাবিহ আমাদের হাফেজদের জন্য রহমত স্বরূপ। কারণ রমজানে খতমে তারাবির মাধ্যমে পুরো কুরআন একবার তেলাওয়াত করা হয়’- যোগ করেন হাফেজ ইমতিয়াজ।
প্রতিবারের ন্যায় এবারও খতমে তারাবির আয়োজন করে নামাজ পড়ানোর সুযোগ করে দেওয়ার জন্য কক্সবাজার মেডিকেল কলেজ কর্তৃপক্ষকে ধন্যবাদ জানান তিনি। পাশাপাশি এই ধারা অব্যাহত থাকবে বলেও আশাবাদ ব্যক্ত করেন ইমতিয়াজ।
কক্সবাজার মেডিকেলের ১৬তম ব্যাচের সাধারণ শিক্ষার্থী মাসুম মারিয়ান বলেন, ‘বসন্তে কোকিল যেমন, রামাদানে হাফেজ তেমন।’
তিনি বলেন, ‘দ্বীনের পথে আসার পর থেকে আলহামদুলিল্লাহ রমাদানের তারাবি আদায় করা হয়। এ বছর আমার জীবনের তৃতীয় খতমে তারাবিহ। এর আগে ঢাকায় দুবার খতমে তারাবিহ পড়ার সুযোগ হয়েছে। তবে এবারের তারাবির আনুসাঙ্গিকতা একটু ভিন্ন। নিজের মেডিকেলের চারজন হাফেজ ভাইয়ের ইমামতিতে তারাবির নামাজ পড়ার অনুভূতিটা অন্যরকম।
তিনি বলেন, ‘তারাবির প্রথম দিন প্রথম রাকাআতে পঞ্চম বর্ষের হাফেজ শাকিক ভাইয়ের হৃদয়স্পর্শী তিলাওয়াত শুনে অজান্তে আমার চোখ থেকে অশ্রু ঝরতে থাকে, আমি বুঝতেও পারিনি কেন এমন হয়েছে। এটা হয়তো মহামহিম আল্লাহর বাণীর প্রভাব, যা ভাইয়ার কণ্ঠনিঃসৃত হয়ে আমার অন্তর প্রকম্পিত করেছে’।
তিলাওয়াতের বৈশিষ্ট্যের বর্ণনা দিয়ে মেডিকেলে শিক্ষার্থী মাসুম বলেন, ‘ব্যাচমেট হাফেজ তাওসিফ করিমের তিলাওয়াতের কোনো তুলনাই হয় না। তার সুললিত সাবলীল স্রোতপ্রবাহের ন্যায় তিলাওয়াত শুনে চোখের পানি ধরে রাখতে পারিনি। হাফেজ হাসানাত ভাই, হাফেজ ইমতিয়াজ ভাইয়ের তিলাওয়াতেও আমি মুগ্ধ হয়েছি। আলহামদুলিল্লাহ, আল্লাহ তা’আলা হাফেজগণকে মেডিকেল পেশায় এনে দুনিয়া ও আখিরাত উভয় দিক থেকে সম্মানিত করেছেন। দোয়া করি, আল্লাহ তা’আলা যেন তাঁদের ঈমান ও আমলে বারাকাহ দান করুন’।

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

চট্টগ্রামের মুরাদপুরে দিনদুপুরে যুবককে গুলি করে হত্যা

কক্সবাজার মেডিকেলে ৪ শিক্ষার্থীর ইমামতিতে খতমে তারাবিহ

আপডেট সময় : 11:22:05 am, Sunday, 23 March 2025
তৌহিদ বেলাল, কক্সবাজার অফিস
বিভিন্ন বর্ষে অধ্যয়নরত চারজন শিক্ষার্থীর ইমামতিতে কক্সবাজার মেডিকেল কলেজে (কক্সএমসি) প্রথমবারের মতো চলছে খতমে তারাবিহ। প্রথম রমজান থেকেই কক্সবাজার মেডিকেল কলেজের মসজিদে এই তারাবির নামাজ আদায় চলছে।
তারবির নামাজে ইমামতি করছেন কক্সবাজার মেডিকেল কলেজের ১২তম ব্যাচের শিক্ষার্থী হাফেজ আহসান শাকীক, ১৪তম ব্যাচের শিক্ষার্থী হাফেজ হাসানাত আব্দুল্লাহ, ১৫তম ব্যাচের শিক্ষার্থী হাফেজ ইমতিয়াজ হোসেন ও ১৬তম ব্যাচের শিক্ষার্থী হাফেজ মাওলানা তাউসিফ করিম।
কক্সবাজার মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর ডা. সোহেল বকস বলেন, ‘কলেজ মসজিদের খতম তারাবিহ আমাদের ছাত্ররাই পড়াতে পারছে, বাইরে থেকে হাফেজ আনতে হয়নি। এটা কক্সবাজার মেডিকেল কলেজ কর্তৃপক্ষ ও শিক্ষকদের জন্য খুবই আনন্দের ও গর্বের বিষয়। ছাত্ররাও আনন্দিত যে, তাদেরই বন্ধু-সহপাঠীরা খতমে তারাবিহ পড়াচ্ছে’।
অধ্যক্ষ আরও বলেন, ‘হাফেজে কুরআন হয়েও তারা যে বিজ্ঞান বিভাগে পড়াশোনা করে কঠিন প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে মেডিকেল কলেজে চান্স পেয়েছে, সেটাও দেশের ছাত্র-ছাত্রীদের জন্য অনুপ্রেরণাদায়ক’।
তারাবির নামাজে ইমামতি করা হাফেজ আহসান শাকীক অনুভূতির কথা জানিয়ে বলেন, ‘কুরআন হিফজ করা এবং সেটা ধরে রাখা অনেক বড় একটা দায়িত্ব। হিফজ ধরে রাখার জন্য নিয়মিত চর্চা রাখতে হয়। মেডিকেলে চান্স পাওয়ার পরে ভয়ে ছিলাম- সেই চর্চা ধরে রাখতে পারবো কিনা। আলহামদুলিল্লাহ, আমার সহপাঠীদের আন্তরিকতায় ক্যাম্পাসে রোজার প্রথম বছরই তাদেরকে নিয়ে একাই তারাবির নামাজে কুরআন খতম দেওয়ার চেষ্টা করেছিলাম হোস্টেলের বারান্দায়। পরবর্তীতে প্রতি ব্যাচেই নতুন নতুন হাফেজ ভর্তি হয় এবং আমাদের কলেজে হাফেজের সংখ্যা বৃদ্ধি পেতে থাকে। ফলে ২০২৩ সাল থেকেই হোস্টেলের মসজিদে সূরা তারাবির পরিবর্তে আমরা খতমে তারাবিহ পড়া শুরু করি। কিন্তু কিছু সীমাবদ্ধতার কারণে বিগত দুই বছর একবারও আমরা সম্পূর্ণ কুরআন খতম করতে সক্ষম হইনি। তবে এইবার তারাবিতে সম্পূর্ণ কুরআন খতম দেওয়ার ব্যাপারে আমরা সবাই দৃঢ় প্রতিজ্ঞ। পাশাপাশি আমার যেই হাফেজ সঙ্গীরা রয়েছেন তাঁরাও অত্যন্ত আন্তরিক। আল্লাহর অশেষ শুকরিয়া তিনি এমন কিছু দ্বীনি ভাই দিয়েছেন, যারা নিজেরাও দ্বীন পালন করেন এবং অন্যদেরকেও দ্বীন পালনে উৎসাহ দেন। দু’আ করি কক্সএমসিসহ সকল মেডিকেল কলেজেই নতুন নতুন হাফজ চান্স পাক এবং কলেজে শিক্ষার্থীদের দ্বারাই খতমে তারাবিহ পরিচালিত হওয়ার চর্চা ছড়িয়ে পড়ুক সব ক্যাম্পাসে’।
হাফেজ তাউসিফ করীম বলেন, ‘হাফেজ হওয়ার পর থেকে টানা নয় বছর তারাবিহ পড়িয়েছি। সারাবছরের একাডেমিক পড়াশোনার চাপে হিফজুল কুরআনের পর্যাপ্ত সময় দেওয়া হয় না’। তিনি বলেন, ‘তারাবিহ হলো একজন হাফেজের কাছে আল কুরআন রিচার্জের মতো। তারাবিহ ছাড়া কুরআন আয়ত্বে রাখা কষ্টসাধ্য। মেডিকেলে টিকে যাওয়ার পর এই আশঙ্কায় ছিলাম যে, রামাদানে তারাবিহ পড়াতে পারবো কিনা। মেডিকেলে ক্লাস আর পরীক্ষার পাশাপাশি তারাবির জন্য আলাদা প্রস্তুতি নেওয়া আসলেই কঠিন। আলহামদুলিল্লাহ, আল্লাহর অশেষ রহমতে এইবার রামাদানে কক্সএমসিতে সিনিয়র হাফেজ ভাইদের সাথে খতমে তারাবির ইমামতিতে অংশ নিয়েছি। এজন্য আমি প্রথমত আল্লাহর দরবারে এবং দ্বিতীয়ত কক্সএমসি পরিবারের কাছে কৃতজ্ঞ।
হাফেজ ইমতিয়াজ বলেন, ‘প্রকৃতপক্ষে হাফেজ হওয়ার পেছনে আল্লাহ তায়ালার রহমত তো ছিলোই, তার পাশাপাশি মায়ের ইচ্ছা এবং প্রচেষ্টা ছিলো অন্যতম সহায়ক। হাফেজ হবার পাশাপাশি মাদরাসা বিভাগ থেকে মেডিকেলে চান্স পাওয়া ছিলো আমার জন্য অন্যতম সৌভাগ্যের বিষয়’।
‘হাফেজ হওয়া যেমন আল্লাহ তায়ালার রহমত ব্যতিত সম্ভব নয়, তেমনি হাফেজ হওয়ার পর বুকে কুরআন ধরে রাখা অন্যতম একটি চ্যালেঞ্জের ব্যাপার। তাই প্রয়োজন রেগুলার একটু একটু হলেও কুরআন পড়া। কিন্তু মেডিকেলে আইটেম, কার্ড, টার্ম ও পরীক্ষার ব্যস্ততার কারণে রেগুলার কুরআন পড়া হয়ে ওঠে না। তাই রমজান ও খতমে তারাবিহ আমাদের হাফেজদের জন্য রহমত স্বরূপ। কারণ রমজানে খতমে তারাবির মাধ্যমে পুরো কুরআন একবার তেলাওয়াত করা হয়’- যোগ করেন হাফেজ ইমতিয়াজ।
প্রতিবারের ন্যায় এবারও খতমে তারাবির আয়োজন করে নামাজ পড়ানোর সুযোগ করে দেওয়ার জন্য কক্সবাজার মেডিকেল কলেজ কর্তৃপক্ষকে ধন্যবাদ জানান তিনি। পাশাপাশি এই ধারা অব্যাহত থাকবে বলেও আশাবাদ ব্যক্ত করেন ইমতিয়াজ।
কক্সবাজার মেডিকেলের ১৬তম ব্যাচের সাধারণ শিক্ষার্থী মাসুম মারিয়ান বলেন, ‘বসন্তে কোকিল যেমন, রামাদানে হাফেজ তেমন।’
তিনি বলেন, ‘দ্বীনের পথে আসার পর থেকে আলহামদুলিল্লাহ রমাদানের তারাবি আদায় করা হয়। এ বছর আমার জীবনের তৃতীয় খতমে তারাবিহ। এর আগে ঢাকায় দুবার খতমে তারাবিহ পড়ার সুযোগ হয়েছে। তবে এবারের তারাবির আনুসাঙ্গিকতা একটু ভিন্ন। নিজের মেডিকেলের চারজন হাফেজ ভাইয়ের ইমামতিতে তারাবির নামাজ পড়ার অনুভূতিটা অন্যরকম।
তিনি বলেন, ‘তারাবির প্রথম দিন প্রথম রাকাআতে পঞ্চম বর্ষের হাফেজ শাকিক ভাইয়ের হৃদয়স্পর্শী তিলাওয়াত শুনে অজান্তে আমার চোখ থেকে অশ্রু ঝরতে থাকে, আমি বুঝতেও পারিনি কেন এমন হয়েছে। এটা হয়তো মহামহিম আল্লাহর বাণীর প্রভাব, যা ভাইয়ার কণ্ঠনিঃসৃত হয়ে আমার অন্তর প্রকম্পিত করেছে’।
তিলাওয়াতের বৈশিষ্ট্যের বর্ণনা দিয়ে মেডিকেলে শিক্ষার্থী মাসুম বলেন, ‘ব্যাচমেট হাফেজ তাওসিফ করিমের তিলাওয়াতের কোনো তুলনাই হয় না। তার সুললিত সাবলীল স্রোতপ্রবাহের ন্যায় তিলাওয়াত শুনে চোখের পানি ধরে রাখতে পারিনি। হাফেজ হাসানাত ভাই, হাফেজ ইমতিয়াজ ভাইয়ের তিলাওয়াতেও আমি মুগ্ধ হয়েছি। আলহামদুলিল্লাহ, আল্লাহ তা’আলা হাফেজগণকে মেডিকেল পেশায় এনে দুনিয়া ও আখিরাত উভয় দিক থেকে সম্মানিত করেছেন। দোয়া করি, আল্লাহ তা’আলা যেন তাঁদের ঈমান ও আমলে বারাকাহ দান করুন’।