Dhaka , Thursday, 5 November 2026
নিবন্ধন নাম্বারঃ ১১০, সিরিয়াল নাম্বারঃ ১৫৪, কোড নাম্বারঃ ৯২
শিরোনাম ::
সকালের ধাক্কা সামলে সিলেট টেস্টে ওয়েস্ট ইন্ডিজের লড়াই তাসকিন-হাসানের ইনসুইংয়ে শুরুতেই চাপে ওয়েস্ট ইন্ডিজ কোলকাতায় কয়লার বিস্ফোরণে ছাদ ভেদ করে মহিলার মাথায় পাথর, স্তব্ধ বোনজেমারি ওসিপি রোহিঙ্গা পরিচয়ের অভিযোগে ফায়সালের ভুয়া এনআইডি-পাসপোর্ট, রাঙ্গুনিয়ায় আটক মাদক সেবনের দায়ে রূপগঞ্জ উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য সচিব আলী আহম্মেদকে ১৫ দিনের কারাদণ্ড ও বহিষ্কার কুড়িগ্রামে ১১৭০ ইয়াবাসহ তিনজন গ্রেপ্তার, একজনের বিরুদ্ধে ২০টি মাদক মামলা ‘এই পৃথিবীর জন্য বড্ড নরম মনের মানুষ আমি’: মেঘনা আলম পাইকগাছায় নাশকতা, জুয়াসহ বিভিন্ন মামলায় আটক- ১৪ বি‌লে‌তের মা‌টি‌তে বর্ণাঢ্য আয়োজনে অনুষ্ঠিত হলো ‘চট্টগ্রাম উৎসব ২০২৬’ ও গুণীজন সম্মাননা ধর্মপাশা সরকারি ডিগ্রি কলেজের প্রভাষককে বিদায় সংবর্ধনা:: সাভার-আশুলিয়ায় শ্রমিক-পুলিশ সংঘর্ষে অর্ধশতাধিক আহত, পুলিশের গাড়িতে আগুন, ৩ প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন সিলেট টেস্টে ব্যাটিং অর্ডারে রদবদলের ইঙ্গিত, তিনে নামতে পারেন অধিনায়ক ১৯ বছরেই এমবাপ্পেকে টপকে ইতিহাস গড়লেন ইয়ামাল অস্ত্রের মুখে পদত্যাগে বাধ্য করার অভিযোগ ‘মিথ্যা’: সংবাদ সম্মেলনে সেলিম উদ্দিন খাগড়াছড়িতে ৫৫তম পরিচালনা পর্ষদের সভা অনুষ্ঠিত, ‘গিরিস্বপ্ন ২০২৬’-এর মোড়ক উন্মোচন রূপগঞ্জ পূর্বাচলের ৩০০ ফুটে প্রবাসীর গাড়িতে ডাকাতি \ চালকসহ তিন জন গ্রেফতার সীতাকুণ্ডে ফুটওভারব্রিজ নির্মাণে সচিবকে ডিসির চিঠি, ২৪ ঘণ্টায় নানা পদক্ষেপ আসামে উচ্ছেদ অভিযানে গৃহহীন ৪ হাজার বাঙালি মুসলিম ৫৮ হাজার কোটি টাকার ১৩ প্রকল্প একনেকে অনুমোদন গার্মেন্টস শ্রমিকদের ন্যায্য মজুরি নিশ্চিতের আহ্বান জিএম কাদেরের জয়পুরহাটে দৈনিক অগ্রযাত্রা প্রতিদিনের প্রথম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন পরীমনির বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি পাইকগাছা পৌরসভায় পরিচ্ছন্নতা ক্যাম্পেইন, নির্দিষ্ট স্থানে ময়লা ফেলার আহ্বান একনেক সভায় বিসিসির জন্য ৭০১ কোটি টাকা অনুমোদন : অবহেলিত থেকে গেল দক্ষিণাঞ্চল মধুপুরে সাংগঠনিক কাঠামো অনুমোদনের দাবিতে পল্লী সঞ্চয় ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মানববন্ধন বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় ১২০ কোটি টাকার সম্ভাব্য অনুদান দিচ্ছে জাইকা, চট্টগ্রামে নির্মিত হবে নতুন স্যানিটারি ল্যান্ডফিল সাভারে ৩০ হাজার টাকা ন্যূনতম মজুরির দাবিতে শ্রমিক-পুলিশ সংঘর্ষ, আহত ৫০ ফতুল্লায় পোশাক শ্রমিকদের সড়ক অবরোধ, পুলিশের টিয়ারশেল-সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ নারায়ণগঞ্জে ৩০ হাজার টাকা ন্যূনতম মজুরির দাবিতে শ্রমিক সমাবেশ কালিয়াকৈরে শ্রমিকের আন্দোলন পরিস্থিতি স্বাভাবিক ১৩ প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন

কক্সবাজার মেডিকেলে ৪ শিক্ষার্থীর ইমামতিতে খতমে তারাবিহ

  • Reporter Name
  • আপডেট সময় : 11:22:05 am, Sunday, 23 March 2025
  • 138 বার পড়া হয়েছে

কক্সবাজার মেডিকেলে ৪ শিক্ষার্থীর ইমামতিতে খতমে তারাবিহ

তৌহিদ বেলাল, কক্সবাজার অফিস
বিভিন্ন বর্ষে অধ্যয়নরত চারজন শিক্ষার্থীর ইমামতিতে কক্সবাজার মেডিকেল কলেজে (কক্সএমসি) প্রথমবারের মতো চলছে খতমে তারাবিহ। প্রথম রমজান থেকেই কক্সবাজার মেডিকেল কলেজের মসজিদে এই তারাবির নামাজ আদায় চলছে।
তারবির নামাজে ইমামতি করছেন কক্সবাজার মেডিকেল কলেজের ১২তম ব্যাচের শিক্ষার্থী হাফেজ আহসান শাকীক, ১৪তম ব্যাচের শিক্ষার্থী হাফেজ হাসানাত আব্দুল্লাহ, ১৫তম ব্যাচের শিক্ষার্থী হাফেজ ইমতিয়াজ হোসেন ও ১৬তম ব্যাচের শিক্ষার্থী হাফেজ মাওলানা তাউসিফ করিম।
কক্সবাজার মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর ডা. সোহেল বকস বলেন, ‘কলেজ মসজিদের খতম তারাবিহ আমাদের ছাত্ররাই পড়াতে পারছে, বাইরে থেকে হাফেজ আনতে হয়নি। এটা কক্সবাজার মেডিকেল কলেজ কর্তৃপক্ষ ও শিক্ষকদের জন্য খুবই আনন্দের ও গর্বের বিষয়। ছাত্ররাও আনন্দিত যে, তাদেরই বন্ধু-সহপাঠীরা খতমে তারাবিহ পড়াচ্ছে’।
অধ্যক্ষ আরও বলেন, ‘হাফেজে কুরআন হয়েও তারা যে বিজ্ঞান বিভাগে পড়াশোনা করে কঠিন প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে মেডিকেল কলেজে চান্স পেয়েছে, সেটাও দেশের ছাত্র-ছাত্রীদের জন্য অনুপ্রেরণাদায়ক’।
তারাবির নামাজে ইমামতি করা হাফেজ আহসান শাকীক অনুভূতির কথা জানিয়ে বলেন, ‘কুরআন হিফজ করা এবং সেটা ধরে রাখা অনেক বড় একটা দায়িত্ব। হিফজ ধরে রাখার জন্য নিয়মিত চর্চা রাখতে হয়। মেডিকেলে চান্স পাওয়ার পরে ভয়ে ছিলাম- সেই চর্চা ধরে রাখতে পারবো কিনা। আলহামদুলিল্লাহ, আমার সহপাঠীদের আন্তরিকতায় ক্যাম্পাসে রোজার প্রথম বছরই তাদেরকে নিয়ে একাই তারাবির নামাজে কুরআন খতম দেওয়ার চেষ্টা করেছিলাম হোস্টেলের বারান্দায়। পরবর্তীতে প্রতি ব্যাচেই নতুন নতুন হাফেজ ভর্তি হয় এবং আমাদের কলেজে হাফেজের সংখ্যা বৃদ্ধি পেতে থাকে। ফলে ২০২৩ সাল থেকেই হোস্টেলের মসজিদে সূরা তারাবির পরিবর্তে আমরা খতমে তারাবিহ পড়া শুরু করি। কিন্তু কিছু সীমাবদ্ধতার কারণে বিগত দুই বছর একবারও আমরা সম্পূর্ণ কুরআন খতম করতে সক্ষম হইনি। তবে এইবার তারাবিতে সম্পূর্ণ কুরআন খতম দেওয়ার ব্যাপারে আমরা সবাই দৃঢ় প্রতিজ্ঞ। পাশাপাশি আমার যেই হাফেজ সঙ্গীরা রয়েছেন তাঁরাও অত্যন্ত আন্তরিক। আল্লাহর অশেষ শুকরিয়া তিনি এমন কিছু দ্বীনি ভাই দিয়েছেন, যারা নিজেরাও দ্বীন পালন করেন এবং অন্যদেরকেও দ্বীন পালনে উৎসাহ দেন। দু’আ করি কক্সএমসিসহ সকল মেডিকেল কলেজেই নতুন নতুন হাফজ চান্স পাক এবং কলেজে শিক্ষার্থীদের দ্বারাই খতমে তারাবিহ পরিচালিত হওয়ার চর্চা ছড়িয়ে পড়ুক সব ক্যাম্পাসে’।
হাফেজ তাউসিফ করীম বলেন, ‘হাফেজ হওয়ার পর থেকে টানা নয় বছর তারাবিহ পড়িয়েছি। সারাবছরের একাডেমিক পড়াশোনার চাপে হিফজুল কুরআনের পর্যাপ্ত সময় দেওয়া হয় না’। তিনি বলেন, ‘তারাবিহ হলো একজন হাফেজের কাছে আল কুরআন রিচার্জের মতো। তারাবিহ ছাড়া কুরআন আয়ত্বে রাখা কষ্টসাধ্য। মেডিকেলে টিকে যাওয়ার পর এই আশঙ্কায় ছিলাম যে, রামাদানে তারাবিহ পড়াতে পারবো কিনা। মেডিকেলে ক্লাস আর পরীক্ষার পাশাপাশি তারাবির জন্য আলাদা প্রস্তুতি নেওয়া আসলেই কঠিন। আলহামদুলিল্লাহ, আল্লাহর অশেষ রহমতে এইবার রামাদানে কক্সএমসিতে সিনিয়র হাফেজ ভাইদের সাথে খতমে তারাবির ইমামতিতে অংশ নিয়েছি। এজন্য আমি প্রথমত আল্লাহর দরবারে এবং দ্বিতীয়ত কক্সএমসি পরিবারের কাছে কৃতজ্ঞ।
হাফেজ ইমতিয়াজ বলেন, ‘প্রকৃতপক্ষে হাফেজ হওয়ার পেছনে আল্লাহ তায়ালার রহমত তো ছিলোই, তার পাশাপাশি মায়ের ইচ্ছা এবং প্রচেষ্টা ছিলো অন্যতম সহায়ক। হাফেজ হবার পাশাপাশি মাদরাসা বিভাগ থেকে মেডিকেলে চান্স পাওয়া ছিলো আমার জন্য অন্যতম সৌভাগ্যের বিষয়’।
‘হাফেজ হওয়া যেমন আল্লাহ তায়ালার রহমত ব্যতিত সম্ভব নয়, তেমনি হাফেজ হওয়ার পর বুকে কুরআন ধরে রাখা অন্যতম একটি চ্যালেঞ্জের ব্যাপার। তাই প্রয়োজন রেগুলার একটু একটু হলেও কুরআন পড়া। কিন্তু মেডিকেলে আইটেম, কার্ড, টার্ম ও পরীক্ষার ব্যস্ততার কারণে রেগুলার কুরআন পড়া হয়ে ওঠে না। তাই রমজান ও খতমে তারাবিহ আমাদের হাফেজদের জন্য রহমত স্বরূপ। কারণ রমজানে খতমে তারাবির মাধ্যমে পুরো কুরআন একবার তেলাওয়াত করা হয়’- যোগ করেন হাফেজ ইমতিয়াজ।
প্রতিবারের ন্যায় এবারও খতমে তারাবির আয়োজন করে নামাজ পড়ানোর সুযোগ করে দেওয়ার জন্য কক্সবাজার মেডিকেল কলেজ কর্তৃপক্ষকে ধন্যবাদ জানান তিনি। পাশাপাশি এই ধারা অব্যাহত থাকবে বলেও আশাবাদ ব্যক্ত করেন ইমতিয়াজ।
কক্সবাজার মেডিকেলের ১৬তম ব্যাচের সাধারণ শিক্ষার্থী মাসুম মারিয়ান বলেন, ‘বসন্তে কোকিল যেমন, রামাদানে হাফেজ তেমন।’
তিনি বলেন, ‘দ্বীনের পথে আসার পর থেকে আলহামদুলিল্লাহ রমাদানের তারাবি আদায় করা হয়। এ বছর আমার জীবনের তৃতীয় খতমে তারাবিহ। এর আগে ঢাকায় দুবার খতমে তারাবিহ পড়ার সুযোগ হয়েছে। তবে এবারের তারাবির আনুসাঙ্গিকতা একটু ভিন্ন। নিজের মেডিকেলের চারজন হাফেজ ভাইয়ের ইমামতিতে তারাবির নামাজ পড়ার অনুভূতিটা অন্যরকম।
তিনি বলেন, ‘তারাবির প্রথম দিন প্রথম রাকাআতে পঞ্চম বর্ষের হাফেজ শাকিক ভাইয়ের হৃদয়স্পর্শী তিলাওয়াত শুনে অজান্তে আমার চোখ থেকে অশ্রু ঝরতে থাকে, আমি বুঝতেও পারিনি কেন এমন হয়েছে। এটা হয়তো মহামহিম আল্লাহর বাণীর প্রভাব, যা ভাইয়ার কণ্ঠনিঃসৃত হয়ে আমার অন্তর প্রকম্পিত করেছে’।
তিলাওয়াতের বৈশিষ্ট্যের বর্ণনা দিয়ে মেডিকেলে শিক্ষার্থী মাসুম বলেন, ‘ব্যাচমেট হাফেজ তাওসিফ করিমের তিলাওয়াতের কোনো তুলনাই হয় না। তার সুললিত সাবলীল স্রোতপ্রবাহের ন্যায় তিলাওয়াত শুনে চোখের পানি ধরে রাখতে পারিনি। হাফেজ হাসানাত ভাই, হাফেজ ইমতিয়াজ ভাইয়ের তিলাওয়াতেও আমি মুগ্ধ হয়েছি। আলহামদুলিল্লাহ, আল্লাহ তা’আলা হাফেজগণকে মেডিকেল পেশায় এনে দুনিয়া ও আখিরাত উভয় দিক থেকে সম্মানিত করেছেন। দোয়া করি, আল্লাহ তা’আলা যেন তাঁদের ঈমান ও আমলে বারাকাহ দান করুন’।

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

সকালের ধাক্কা সামলে সিলেট টেস্টে ওয়েস্ট ইন্ডিজের লড়াই

কক্সবাজার মেডিকেলে ৪ শিক্ষার্থীর ইমামতিতে খতমে তারাবিহ

আপডেট সময় : 11:22:05 am, Sunday, 23 March 2025
তৌহিদ বেলাল, কক্সবাজার অফিস
বিভিন্ন বর্ষে অধ্যয়নরত চারজন শিক্ষার্থীর ইমামতিতে কক্সবাজার মেডিকেল কলেজে (কক্সএমসি) প্রথমবারের মতো চলছে খতমে তারাবিহ। প্রথম রমজান থেকেই কক্সবাজার মেডিকেল কলেজের মসজিদে এই তারাবির নামাজ আদায় চলছে।
তারবির নামাজে ইমামতি করছেন কক্সবাজার মেডিকেল কলেজের ১২তম ব্যাচের শিক্ষার্থী হাফেজ আহসান শাকীক, ১৪তম ব্যাচের শিক্ষার্থী হাফেজ হাসানাত আব্দুল্লাহ, ১৫তম ব্যাচের শিক্ষার্থী হাফেজ ইমতিয়াজ হোসেন ও ১৬তম ব্যাচের শিক্ষার্থী হাফেজ মাওলানা তাউসিফ করিম।
কক্সবাজার মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর ডা. সোহেল বকস বলেন, ‘কলেজ মসজিদের খতম তারাবিহ আমাদের ছাত্ররাই পড়াতে পারছে, বাইরে থেকে হাফেজ আনতে হয়নি। এটা কক্সবাজার মেডিকেল কলেজ কর্তৃপক্ষ ও শিক্ষকদের জন্য খুবই আনন্দের ও গর্বের বিষয়। ছাত্ররাও আনন্দিত যে, তাদেরই বন্ধু-সহপাঠীরা খতমে তারাবিহ পড়াচ্ছে’।
অধ্যক্ষ আরও বলেন, ‘হাফেজে কুরআন হয়েও তারা যে বিজ্ঞান বিভাগে পড়াশোনা করে কঠিন প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে মেডিকেল কলেজে চান্স পেয়েছে, সেটাও দেশের ছাত্র-ছাত্রীদের জন্য অনুপ্রেরণাদায়ক’।
তারাবির নামাজে ইমামতি করা হাফেজ আহসান শাকীক অনুভূতির কথা জানিয়ে বলেন, ‘কুরআন হিফজ করা এবং সেটা ধরে রাখা অনেক বড় একটা দায়িত্ব। হিফজ ধরে রাখার জন্য নিয়মিত চর্চা রাখতে হয়। মেডিকেলে চান্স পাওয়ার পরে ভয়ে ছিলাম- সেই চর্চা ধরে রাখতে পারবো কিনা। আলহামদুলিল্লাহ, আমার সহপাঠীদের আন্তরিকতায় ক্যাম্পাসে রোজার প্রথম বছরই তাদেরকে নিয়ে একাই তারাবির নামাজে কুরআন খতম দেওয়ার চেষ্টা করেছিলাম হোস্টেলের বারান্দায়। পরবর্তীতে প্রতি ব্যাচেই নতুন নতুন হাফেজ ভর্তি হয় এবং আমাদের কলেজে হাফেজের সংখ্যা বৃদ্ধি পেতে থাকে। ফলে ২০২৩ সাল থেকেই হোস্টেলের মসজিদে সূরা তারাবির পরিবর্তে আমরা খতমে তারাবিহ পড়া শুরু করি। কিন্তু কিছু সীমাবদ্ধতার কারণে বিগত দুই বছর একবারও আমরা সম্পূর্ণ কুরআন খতম করতে সক্ষম হইনি। তবে এইবার তারাবিতে সম্পূর্ণ কুরআন খতম দেওয়ার ব্যাপারে আমরা সবাই দৃঢ় প্রতিজ্ঞ। পাশাপাশি আমার যেই হাফেজ সঙ্গীরা রয়েছেন তাঁরাও অত্যন্ত আন্তরিক। আল্লাহর অশেষ শুকরিয়া তিনি এমন কিছু দ্বীনি ভাই দিয়েছেন, যারা নিজেরাও দ্বীন পালন করেন এবং অন্যদেরকেও দ্বীন পালনে উৎসাহ দেন। দু’আ করি কক্সএমসিসহ সকল মেডিকেল কলেজেই নতুন নতুন হাফজ চান্স পাক এবং কলেজে শিক্ষার্থীদের দ্বারাই খতমে তারাবিহ পরিচালিত হওয়ার চর্চা ছড়িয়ে পড়ুক সব ক্যাম্পাসে’।
হাফেজ তাউসিফ করীম বলেন, ‘হাফেজ হওয়ার পর থেকে টানা নয় বছর তারাবিহ পড়িয়েছি। সারাবছরের একাডেমিক পড়াশোনার চাপে হিফজুল কুরআনের পর্যাপ্ত সময় দেওয়া হয় না’। তিনি বলেন, ‘তারাবিহ হলো একজন হাফেজের কাছে আল কুরআন রিচার্জের মতো। তারাবিহ ছাড়া কুরআন আয়ত্বে রাখা কষ্টসাধ্য। মেডিকেলে টিকে যাওয়ার পর এই আশঙ্কায় ছিলাম যে, রামাদানে তারাবিহ পড়াতে পারবো কিনা। মেডিকেলে ক্লাস আর পরীক্ষার পাশাপাশি তারাবির জন্য আলাদা প্রস্তুতি নেওয়া আসলেই কঠিন। আলহামদুলিল্লাহ, আল্লাহর অশেষ রহমতে এইবার রামাদানে কক্সএমসিতে সিনিয়র হাফেজ ভাইদের সাথে খতমে তারাবির ইমামতিতে অংশ নিয়েছি। এজন্য আমি প্রথমত আল্লাহর দরবারে এবং দ্বিতীয়ত কক্সএমসি পরিবারের কাছে কৃতজ্ঞ।
হাফেজ ইমতিয়াজ বলেন, ‘প্রকৃতপক্ষে হাফেজ হওয়ার পেছনে আল্লাহ তায়ালার রহমত তো ছিলোই, তার পাশাপাশি মায়ের ইচ্ছা এবং প্রচেষ্টা ছিলো অন্যতম সহায়ক। হাফেজ হবার পাশাপাশি মাদরাসা বিভাগ থেকে মেডিকেলে চান্স পাওয়া ছিলো আমার জন্য অন্যতম সৌভাগ্যের বিষয়’।
‘হাফেজ হওয়া যেমন আল্লাহ তায়ালার রহমত ব্যতিত সম্ভব নয়, তেমনি হাফেজ হওয়ার পর বুকে কুরআন ধরে রাখা অন্যতম একটি চ্যালেঞ্জের ব্যাপার। তাই প্রয়োজন রেগুলার একটু একটু হলেও কুরআন পড়া। কিন্তু মেডিকেলে আইটেম, কার্ড, টার্ম ও পরীক্ষার ব্যস্ততার কারণে রেগুলার কুরআন পড়া হয়ে ওঠে না। তাই রমজান ও খতমে তারাবিহ আমাদের হাফেজদের জন্য রহমত স্বরূপ। কারণ রমজানে খতমে তারাবির মাধ্যমে পুরো কুরআন একবার তেলাওয়াত করা হয়’- যোগ করেন হাফেজ ইমতিয়াজ।
প্রতিবারের ন্যায় এবারও খতমে তারাবির আয়োজন করে নামাজ পড়ানোর সুযোগ করে দেওয়ার জন্য কক্সবাজার মেডিকেল কলেজ কর্তৃপক্ষকে ধন্যবাদ জানান তিনি। পাশাপাশি এই ধারা অব্যাহত থাকবে বলেও আশাবাদ ব্যক্ত করেন ইমতিয়াজ।
কক্সবাজার মেডিকেলের ১৬তম ব্যাচের সাধারণ শিক্ষার্থী মাসুম মারিয়ান বলেন, ‘বসন্তে কোকিল যেমন, রামাদানে হাফেজ তেমন।’
তিনি বলেন, ‘দ্বীনের পথে আসার পর থেকে আলহামদুলিল্লাহ রমাদানের তারাবি আদায় করা হয়। এ বছর আমার জীবনের তৃতীয় খতমে তারাবিহ। এর আগে ঢাকায় দুবার খতমে তারাবিহ পড়ার সুযোগ হয়েছে। তবে এবারের তারাবির আনুসাঙ্গিকতা একটু ভিন্ন। নিজের মেডিকেলের চারজন হাফেজ ভাইয়ের ইমামতিতে তারাবির নামাজ পড়ার অনুভূতিটা অন্যরকম।
তিনি বলেন, ‘তারাবির প্রথম দিন প্রথম রাকাআতে পঞ্চম বর্ষের হাফেজ শাকিক ভাইয়ের হৃদয়স্পর্শী তিলাওয়াত শুনে অজান্তে আমার চোখ থেকে অশ্রু ঝরতে থাকে, আমি বুঝতেও পারিনি কেন এমন হয়েছে। এটা হয়তো মহামহিম আল্লাহর বাণীর প্রভাব, যা ভাইয়ার কণ্ঠনিঃসৃত হয়ে আমার অন্তর প্রকম্পিত করেছে’।
তিলাওয়াতের বৈশিষ্ট্যের বর্ণনা দিয়ে মেডিকেলে শিক্ষার্থী মাসুম বলেন, ‘ব্যাচমেট হাফেজ তাওসিফ করিমের তিলাওয়াতের কোনো তুলনাই হয় না। তার সুললিত সাবলীল স্রোতপ্রবাহের ন্যায় তিলাওয়াত শুনে চোখের পানি ধরে রাখতে পারিনি। হাফেজ হাসানাত ভাই, হাফেজ ইমতিয়াজ ভাইয়ের তিলাওয়াতেও আমি মুগ্ধ হয়েছি। আলহামদুলিল্লাহ, আল্লাহ তা’আলা হাফেজগণকে মেডিকেল পেশায় এনে দুনিয়া ও আখিরাত উভয় দিক থেকে সম্মানিত করেছেন। দোয়া করি, আল্লাহ তা’আলা যেন তাঁদের ঈমান ও আমলে বারাকাহ দান করুন’।