Dhaka , Wednesday, 22 April 2026
নিবন্ধন নাম্বারঃ ১১০, সিরিয়াল নাম্বারঃ ১৫৪, কোড নাম্বারঃ ৯২
শিরোনাম ::
আড়াইহাজারে স্বামীর সাথে ঝগড়া করে স্ত্রীর আত্মহত্যা আড়াইহাজারে দুই বাড়ীতে ডাকাতি, আহত ২ মধুপুরে জমি সংক্রান্ত বিরোধে মারধরের প্রতিবাদে মানববন্ধন সিএমপির ডিবি-পশ্চিম’র বিশেষ অভিযানে বিদেশি রিভলবার ও গুলি উদ্ধার, গ্রেফতার ১ চট্টগ্রামের জলাবদ্ধতা এবার ৭০-৮০ শতাংশ কমবে:- মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন সংশ্লিষ্টদের সেবকের ভূমিকা পালন করতে হবে:- ভূমি ভবন পরিদর্শনে ভূমি প্রতিমন্ত্রী মীর হেলাল পদ্মার চরাঞ্চলে পুলিশের ওপর হামলা- পাঁচ পুলিশ সদস্য আহত- আসামি ছিনতাই। সরাইল বিজিবির অভিযানে বিপুলপরিমাণ মাদক আটক বস্ত্রখাতকে আধুনিকায়নের মাধ্যমে দেশে সম্ভাবনার উন্মোচন হবে : শরীফুল আলম মেঘনায় জোয়ারের পানিতে ভেসে এলো অজ্ঞাত যুবকের মরদেহ বেতাগীতে সুষ্ঠু পরিবেশে এসএসসি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত কার্টুন শেয়ার ইস্যুতে গ্রেপ্তার অ্যাক্টিভিস্ট হাসান নাসিমের মুক্তির দাবিতে রাজু ভাস্কর্যে ছাত্রশক্তির মানববন্ধন টেকনাফে পাহাড় থেকে তিন যুবকের গলাকাটা মরদেহ উদ্ধার “মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করতে নকলমুক্ত পরিবেশ গড়তে হবে” :- মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন কোচবিহারে লোকসভা ভোট: বুড়িমারী সীমান্তে বাণিজ্যিক কার্যক্রমে চার দিনের বিরতি কুলাঘাট সীমান্তে ১৫ বিজিবির কড়াকড়ি: মোটরসাইকেল ফেলে পালাল মাদক পাচারকারীরা লালমনিরহাটে মাদকের প্রতিবাদ করায় নারী লাঞ্ছিত: পাল্টা মামলায় ঘরছাড়া ভুক্তভোগী পরিবার শ্রীপুরে ক্ষুদে খেলোয়াড়ের মাঝে জার্সি ও প্যান্ট বিতরণ করলেন ছাত্রদল নেতা ফতুল্লায় মসজিদের ছাদ থেকে পড়ে শিশুর মৃত্যু গাজীপুরে হাম-রুবেলা টিকাদান ক্যাম্পেইন উদ্বোধন দুর্গাপুরে ৩ ধর্মের প্রতিনিধি উদ্বোধন করলেন খালখনন কর্মসূচি পাইকগাছায় হাম-রুবেলা টিকাদানের উদ্বোধন; প্রায় ২১ হাজার শিশুকে টিকার লক্ষ্যমাত্রা পাইকগাছায় পানি পরীক্ষা ল্যাবের উদ্বোধন শ্রীপুরে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট ছাত্রদল নেতার মৃত্যু মনোনয়ন না পেয়েও থেমে নেই—নেতৃত্বের পথে নতুন লক্ষ্য, মেয়র নির্বাচনে চোখ আদিতমারীতে র‍্যাবের ঝটিকা অভিযান: বেগুন ক্ষেতের মাটির নিচে মিলল ২০০ বোতল মাদক পলাশে শিক্ষার্থীর ধর্ষকদের দ্রুত গ্রেফতার ও শাস্তির দাবীতে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত উচ্ছেদের পরও নিয়ন্ত্রণহীন দখল—গুলিস্তানে ফের সড়ক-ফুটপাত দখলে হকারদের দাপট হরিপুরে বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিটে অগ্নিকাণ্ডে ৮টি ঘর পুড়ে ছাই, এএসআই সামিউল ইসলামের মানবিক সহায়তা রূপগঞ্জে জমি বিরোধকে কেন্দ্র করে ভাঙচুর ও বিধবার ৭দোকানে তালা

সৈয়দপুরে স্বাস্থ্য পরীক্ষার ছাড়াই পশু জবাই : হুমকির মুখে জনস্বাস্থ্য

  • Reporter Name
  • আপডেট সময় : 11:40:21 pm, Monday, 19 July 2021
  • 233 বার পড়া হয়েছে

সৈয়দপুরে স্বাস্থ্য পরীক্ষার ছাড়াই পশু জবাই : হুমকির মুখে জনস্বাস্থ্য

আমিরুল হক, নীলফামারী।।

জবাই করার আগে গবাদিপশুর স্বাস্থ্য পরীক্ষার সনদ দেওয়ার চিকিৎসক নেই সৈয়দপুর পৌরসভায়। নিয়ম অনুযায়ী পৌরসভার ভেটেরিনারি সার্জনের এই সনদ দেওয়ার কথা থাকলেও এ কাজ করছেন মাংস বিক্রেতা সমিতির এক নেতা। এ ছাড়া পৌরসভায় স্বাস্থ্য পরিদর্শকের পদও দীর্ঘদিন শূন্য। এখানে অতিরক্ত হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন উপজেলার স্বাস্থ্য পরিদর্শক।

অভিযোগ উঠেছে তিনিও নির্ধারিত কসাইখানায় যান না। তবে অভিযোগ অস্বীকার স্বাস্থ্য পরিদর্শক আলতাব হোসেন বলেন, আমি নিয়মিত যাই। কসাইখানা দুই বছরের জন্য চুক্তি দেওয়া হয়। নাদিম নামের এক কসাই কসাইখানা চুক্তি পেয়েছেন। পৌরকর ও সিলের বিষয়টি তিনিই দেখেন।

সৈয়দপুর মাংস ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি নাদিম আহমেদ বলেন, সৈয়দপুর প্রানিসম্পদ অধিদফতরের চিকিৎসক আহসান হাবিব স্বাস্থ্য পরীক্ষা করেন। তারপরই পশু জবাই করে সিল মারা হয়।

পৌর মেয়র রাফিকা আকতার জাহান বেবী বলেন, আমি দায়িত্ব নেওয়ার খুব বেশি দিন হয়নি। পরিষদের মিটিংয়ে আলোচনা করে ভেটেরিনারি সার্জনের পদের বিষয়ে খুব শিগগির সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। তিনি যত্রতত্র পশু জবাই না করা এবং পশুবর্জ্য যেখানে সেখানে না ফেলার জন্য পৌরবাসির প্রতি অনুরোধ জানান।

এদিকে কসাইখানা থাকলেও যে যার মতো শহরের যেখানে খুশি পশু জবাই করছেন। এমনটি জানিয়েছেন স্থানীয়রা। তাঁরা বলেন, এতে না জেনেই হয়ত তারকা রোগসহ, দূর্বল, রুগ্ন, গর্ভবতী পশু জবাই করা মাংস খেতে হচ্ছে তাঁদের।

নতুনবাবু পাড়া এলাকার শিক্ষক কোয়েলিয়া বিশ্বাস বলেন, পরীক্ষা ছাড়াই যত্রতত্র পশু করছে এলাকার কসাইরা। জবাইয়ের পর যেখানে সেখানে বর্জও ফেলা হচ্ছে। এতে ক্ষতিকর হয়ে উঠছে এখানকার পরিবেশ।

পৌরসভার সূত্র জানায়, স্বাস্থ্যসম্মত পশু জবাই করার জন্য সৈয়দপুর পৌরসভার একটিমাত্র কসাইখানা রয়েছে শহরের সুরকি এলাকায়। সপ্তাহে চার দিন সেখানে ৩০ থেকে ৪০ টি গরু জবাই করা হয়ে থাকে।

সরেজমিন ঘুরে দেখা গেছে, শহরের গোলাহাট রেলকলোনী, গোলাহাট বাজার, মোজার মোড়,সাহেবপাড়া রেলওয়ে সরকারী উচ্চ বিদ্যালয়ের পশ্চিম পাশে, সাহেবপাড়া আমিন মোড়, মিস্ত্রিপাড়া, টার্মিনাল, বসুনিয়াপাড়া বাইপাস এলাকায় পরীক্ষা ছাড়াই প্রতিদিন পশু জবাই করছে।

এসব এলাকায় স্থানীয় কয়েকজন দোকানদার অভিযোগ করেন, গরু প্রতি টাকা নিয়ে যান পৌরসভার স্বাস্থ্য পরিদর্শক। তাঁর মোখিক সনদেই পশু জবাই করা হয়। পরে ওই অসাধু কসাইরা নিজেদের বানানো “পরীক্ষিত” লেখা সিল মাংসের গায়ে মেরে নেন।

উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্র জানায়, ২০১১ সালের ২৪ আগস্ট যত্রতত্র পশুপাখি জবাই বন্ধ এবং যথাযথ চিকিৎসকের সনদ ছাড়া পশু জবাই করাকে শাস্তিযোগ্য অপরাধের বিধান রেখে ‘পশু জবাই ও মাংসের মান নিয়ন্ত্রণ বিল-২০১১’ নামে নতুন আইন করা হয়। কেউ আইন অমান্য করলে ভ্রাম্যমাণ আদালত আইন-২০০৯ অনুযায়ী তিনি অনূর্ধ্ব এক বছর বিনাশ্রম কারাদণ্ড বা ন্যূনতম পাঁচ হাজার থেকে অনূর্ধ্ব ২৫ হাজার টাকা পর্যন্ত আর্থিক দণ্ড বা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হবেন।

উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা রাশেদুল হক বলেন, জেলা প্রশাসকের কার্যালয় থেকে চলতি বছরের এপ্রিল মাসের ১১ তারিখে চিঠি দেওয়া হয়েছে প্রতিটি উপজেলা ও পৌরসভায়। চিঠিতে জবাইয়ের আগে গবাদিপশুর স্বাস্থ্য পরীক্ষা নিশ্চিত করার কথা বলা হয়েছে। কিন্তু সে নিয়ম মানা হচ্ছে না। আগে আমাদের এখানকার সার্জন আহসান হাবিবকে মাঝে মধ্যে কসাইখানায় ডেকে নিয়ে যাওয়া হতো। কিন্তু নানা কারনে সেই যাওয়াটাও এখন নিয়মিত নয়।

ট্যাগ :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

আড়াইহাজারে স্বামীর সাথে ঝগড়া করে স্ত্রীর আত্মহত্যা

সৈয়দপুরে স্বাস্থ্য পরীক্ষার ছাড়াই পশু জবাই : হুমকির মুখে জনস্বাস্থ্য

আপডেট সময় : 11:40:21 pm, Monday, 19 July 2021

আমিরুল হক, নীলফামারী।।

জবাই করার আগে গবাদিপশুর স্বাস্থ্য পরীক্ষার সনদ দেওয়ার চিকিৎসক নেই সৈয়দপুর পৌরসভায়। নিয়ম অনুযায়ী পৌরসভার ভেটেরিনারি সার্জনের এই সনদ দেওয়ার কথা থাকলেও এ কাজ করছেন মাংস বিক্রেতা সমিতির এক নেতা। এ ছাড়া পৌরসভায় স্বাস্থ্য পরিদর্শকের পদও দীর্ঘদিন শূন্য। এখানে অতিরক্ত হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন উপজেলার স্বাস্থ্য পরিদর্শক।

অভিযোগ উঠেছে তিনিও নির্ধারিত কসাইখানায় যান না। তবে অভিযোগ অস্বীকার স্বাস্থ্য পরিদর্শক আলতাব হোসেন বলেন, আমি নিয়মিত যাই। কসাইখানা দুই বছরের জন্য চুক্তি দেওয়া হয়। নাদিম নামের এক কসাই কসাইখানা চুক্তি পেয়েছেন। পৌরকর ও সিলের বিষয়টি তিনিই দেখেন।

সৈয়দপুর মাংস ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি নাদিম আহমেদ বলেন, সৈয়দপুর প্রানিসম্পদ অধিদফতরের চিকিৎসক আহসান হাবিব স্বাস্থ্য পরীক্ষা করেন। তারপরই পশু জবাই করে সিল মারা হয়।

পৌর মেয়র রাফিকা আকতার জাহান বেবী বলেন, আমি দায়িত্ব নেওয়ার খুব বেশি দিন হয়নি। পরিষদের মিটিংয়ে আলোচনা করে ভেটেরিনারি সার্জনের পদের বিষয়ে খুব শিগগির সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। তিনি যত্রতত্র পশু জবাই না করা এবং পশুবর্জ্য যেখানে সেখানে না ফেলার জন্য পৌরবাসির প্রতি অনুরোধ জানান।

এদিকে কসাইখানা থাকলেও যে যার মতো শহরের যেখানে খুশি পশু জবাই করছেন। এমনটি জানিয়েছেন স্থানীয়রা। তাঁরা বলেন, এতে না জেনেই হয়ত তারকা রোগসহ, দূর্বল, রুগ্ন, গর্ভবতী পশু জবাই করা মাংস খেতে হচ্ছে তাঁদের।

নতুনবাবু পাড়া এলাকার শিক্ষক কোয়েলিয়া বিশ্বাস বলেন, পরীক্ষা ছাড়াই যত্রতত্র পশু করছে এলাকার কসাইরা। জবাইয়ের পর যেখানে সেখানে বর্জও ফেলা হচ্ছে। এতে ক্ষতিকর হয়ে উঠছে এখানকার পরিবেশ।

পৌরসভার সূত্র জানায়, স্বাস্থ্যসম্মত পশু জবাই করার জন্য সৈয়দপুর পৌরসভার একটিমাত্র কসাইখানা রয়েছে শহরের সুরকি এলাকায়। সপ্তাহে চার দিন সেখানে ৩০ থেকে ৪০ টি গরু জবাই করা হয়ে থাকে।

সরেজমিন ঘুরে দেখা গেছে, শহরের গোলাহাট রেলকলোনী, গোলাহাট বাজার, মোজার মোড়,সাহেবপাড়া রেলওয়ে সরকারী উচ্চ বিদ্যালয়ের পশ্চিম পাশে, সাহেবপাড়া আমিন মোড়, মিস্ত্রিপাড়া, টার্মিনাল, বসুনিয়াপাড়া বাইপাস এলাকায় পরীক্ষা ছাড়াই প্রতিদিন পশু জবাই করছে।

এসব এলাকায় স্থানীয় কয়েকজন দোকানদার অভিযোগ করেন, গরু প্রতি টাকা নিয়ে যান পৌরসভার স্বাস্থ্য পরিদর্শক। তাঁর মোখিক সনদেই পশু জবাই করা হয়। পরে ওই অসাধু কসাইরা নিজেদের বানানো “পরীক্ষিত” লেখা সিল মাংসের গায়ে মেরে নেন।

উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্র জানায়, ২০১১ সালের ২৪ আগস্ট যত্রতত্র পশুপাখি জবাই বন্ধ এবং যথাযথ চিকিৎসকের সনদ ছাড়া পশু জবাই করাকে শাস্তিযোগ্য অপরাধের বিধান রেখে ‘পশু জবাই ও মাংসের মান নিয়ন্ত্রণ বিল-২০১১’ নামে নতুন আইন করা হয়। কেউ আইন অমান্য করলে ভ্রাম্যমাণ আদালত আইন-২০০৯ অনুযায়ী তিনি অনূর্ধ্ব এক বছর বিনাশ্রম কারাদণ্ড বা ন্যূনতম পাঁচ হাজার থেকে অনূর্ধ্ব ২৫ হাজার টাকা পর্যন্ত আর্থিক দণ্ড বা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হবেন।

উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা রাশেদুল হক বলেন, জেলা প্রশাসকের কার্যালয় থেকে চলতি বছরের এপ্রিল মাসের ১১ তারিখে চিঠি দেওয়া হয়েছে প্রতিটি উপজেলা ও পৌরসভায়। চিঠিতে জবাইয়ের আগে গবাদিপশুর স্বাস্থ্য পরীক্ষা নিশ্চিত করার কথা বলা হয়েছে। কিন্তু সে নিয়ম মানা হচ্ছে না। আগে আমাদের এখানকার সার্জন আহসান হাবিবকে মাঝে মধ্যে কসাইখানায় ডেকে নিয়ে যাওয়া হতো। কিন্তু নানা কারনে সেই যাওয়াটাও এখন নিয়মিত নয়।