Dhaka , Monday, 27 April 2026
নিবন্ধন নাম্বারঃ ১১০, সিরিয়াল নাম্বারঃ ১৫৪, কোড নাম্বারঃ ৯২
শিরোনাম ::
রূপগঞ্জে জমিতে কাজ করতে বাধা, প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগ তালাবদ্ধ দোকান খুলে দেয়ার দাবি কালেক্টরেট জামে মসজিদ মার্কেটের ব্যাবসায়ীদের পাইকগাছায় শিক্ষার্থীদের মাঝে বাইসাইকেল বিতরণ পাইকগাছায় বাল্যবিবাহের আসর ভেঙে দিল ইউএনও, মোবাইল কোর্টে জরিমানা অবৈধ অস্ত্র-গুলিসহ ১৮ মামলার পলাতক আসামি শীর্ষ সন্ত্রাসী ওসমান গ্রেফতার চান্দগাঁও থানা পুলিশের অভিযানে চোরাইকৃত ২৩ লাখ ৭৩ হাজার ৫১০ টাকা উদ্ধার, চোর চক্রের মূলহোতা গ্রেফতার জেমসের গানে মাতবে লিসবন ; ২৬ জুলাই ” বাংলা লাইভ কনসার্ট ” আয়োজকদের সাংবাদিক সম্মেলন দুর্গাপুরে ডিবি পুলিশের অভিযানে ভারতীয় মদ উদ্ধার, আটক ২ বাকলিয়া এক্সেস রোডে কলেজ শিক্ষার্থী ও সংবাদকর্মীর ওপর হামলার অভিযোগ, থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের কয়রায় মাদরাসার অনুদানের টাকা আত্মসাতের অভিযোগ ঘোড়াশালে পল্লীবিদ্যুতের প্রহরীকে অস্ত্র ঠেকিয়ে তার-যন্ত্রাংশ লুট,পাঁচটি গ্রাম অন্ধকারে বিএইচআরএফ’র আবেদনে ভারতীয় নাগরিক’কে নিরাপদ হেজাজতে দিলেন বিজ্ঞ মহানগর আদালত চট্টগ্রাম চবির বাংলা বিভাগের আয়োজনে ‘বাংলা বিজ্ঞানসাহিত্যের নন্দিত ভুবন’ শীর্ষক অশোক বড়ুয়া পঞ্চম স্মারক বক্তৃতা অনুষ্ঠিত রামগঞ্জ উপজেলা ক্রীড়া সংস্থার কমিটি গঠিত  সড়কের পাশে বালুর স্তুপ, বেপরোয়া ট্রাক চাপায় সিএনজি যাত্রীর মৃত্যু শীর্ষ সন্ত্রাসী দেলোয়ার ইয়াবাসহ ধরা পড়ল ডিবির জালে ঝালকাঠির রাজাপুরে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ইটবোঝাই ট্রলি খাদে পড়ে হেল্পার নিহত লালমনিরহাটে শিক্ষার্থীদের শিক্ষায় উদ্বুদ্ধ করছে ১৫ বিজিবি: মোগলহাটে শিক্ষা উপকরণ বিতরণ রাউজানে বাবলু হত্যাকাণ্ডে জড়িত এজাহারনামীয় ০২ আসামী গ্রেফতার পূর্ব শত্রুতার জেরে নৃশংসভাবে যুবককে কুপিয়ে হাত-পা বিচ্ছিন্ন। নেত্রকোণায় এমপি মাছুম মোস্তফার গাড়িতে হামলার ঘটনায় মামলা, গ্রেপ্তার ৯ ভাঙন কবলিত এলাকা রক্ষায় ব্যয় নয়, মানুষের জীবনই অগ্রাধিকার: পানি সম্পদ প্রতিমন্ত্রী নদী ভাঙ্গন নিয়ে অনেক রাজনীতি হয়, আমরা রাজনীতি করতে আসিনি: মিয়া নুরুদ্দিন আহাম্মেদ অপু শরীয়তপুরের ভেদরগঞ্জে সিএসএসের ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্প অনুষ্ঠিত ইশিকার স্বপ্ন হারাবে না টাকার অভাবে রাঙ্গামাটির বরকলে পরীক্ষার্থীদের পাশে দাঁড়িয়ে মানবিক দৃষ্টান্ত গড়লেন পার্বত্য মন্ত্রী দীপেন দেওয়ান পতেঙ্গায় বিরোধপূর্ণ জমি দখলের অভিযোগ, আদালতের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে দেয়াল নির্মাণের চেষ্টা ঐতিহাসিক লালদীঘির ময়দানে জব্বারের বলি খেলার ১১৭ তম আসর পরিদর্শনে সিএমপি কমিশনার.. রূপগঞ্জে বালু নদীর উপর কেওডালা সেতুর নির্মান কাজের উদ্বোধন সিদ্দিরগঞ্জ থানায় পুলিশ সদস্যের হৃদরোগে মৃত্যু নোয়াখালীতে ছাত্রীকে ব্ল্যাকমেইল করে ধর্ষণ, প্রধান শিক্ষক গ্রেপ্তার

কক্সবাজারের মহেশখালীতে হারিয়ে যাচ্ছে মৃৎশিল্প

  • Reporter Name
  • আপডেট সময় : 07:57:43 pm, Saturday, 24 September 2022
  • 182 বার পড়া হয়েছে

কক্সবাজারের মহেশখালীতে হারিয়ে যাচ্ছে মৃৎশিল্প

সরওয়ার কামাল কক্সবাজার জেলা প্রতিনিধি।।

কক্সবাজারের মহেশখালীতে হারিয়ে যাচ্ছে মৃৎশিল্প । এক সময় গ্রাম বাংলার প্রতিটি ঘরে ঘরে আলোর ব্যবস্থা, রান্না-বান্না, খাওয়া-দাওয়া ও অতিথি আপ্যায়ন সহ প্রায় সব কাজেই ব্যবহার হতো মাটির তৈরি সৌখিন তৈজসপত্র। দামে সহজলভ্য ও স্বাস্থ্যকর হওয়ায় সব পরিবারেই ব্যবহার করা হতো মাটির তৈরী ওই সব পাত্র।
উপজেলার বড় মহেশখালী ইউনিয়নের বড় কুলাল পাড়া, ছোট কুলাল পাড়া, কালারমারছড়া ইউনিয়নের উত্তর নলবিলা বড়ুয়া পাড়া গ্রামে মৃশিল্প পেশায় জড়িত আছে ৬০টি পরিবার। খড়, কাঠি আর মাঠির সাথে যুদ্ধ করে কুমারেরা তাদের পরিবার পরিজন নিয়ে জীবিকা নির্বাহ করতে ঝড়, বৃষ্টি ও প্রচন্ড খরা উপেক্ষা করে এই পেশা কে ধরে রেখেছে। শীতকালে খেজুরের রস সংগ্রহে মাটির হাড়ি, বাহারি চিতল, পুলি ও ভাপা পিঠা সহ হরেক জাতের পিঠা তৈরীতে খোলা দধির পাতিল, টালি, ঘট, মুটকি, থালাবাসন ও অন্ধকার দূর করার মাটির বাতি সহ বিভিন্ন রকমের জিনিস তৈরি করতো গ্রাম বাংলার কুমারেরা। ওইসব মাটির জিনিসপত্র অনেকে ভ্যান যোগে আবার কেউ কেউ মাথায় নিয়ে বিক্রি করতো। আর সেই উপার্জনেই চলতো কুমারদের পরিবার। প্লাস্টিক, মেলামাইন, স্টিল ও সিলভারের তৈরিকৃত সামগ্রীর ব্যবহার বৃদ্ধি পাওয়ায় বর্তমানে হারিয়ে যেতে বসেছে ওই সব মাটির তৈরি সৌখিন জিনিসপত্র। তাই কুমারেরা পরিবার পরিজনের মুখে খাবার তুলে দিতে জাতিগত পেশা ছেড়ে অন্য পেশায় ধাবিত হচ্ছে। গ্রামীণ এলাকায় যখন বিদ্যুতের আলো পৌঁছেনি তখন ভরসা ছিল কেবলই মাটির তৈরি বাতি। তাতে কেরাসিন তেল দিয়ে চলতো রাতের সকল কাজ। সেই হাজার বছরের ঐতিহ্য ও গ্রাম বাংলার সংস্কৃতি এখন হারিয়ে যাওয়ার উপক্রম। বড় মহেশখালী ইউনিয়নের বড় কুলাল পাড়া এলাকার কুমার জসিম উদ্দিন বলেন, আমার কোন সম্পদ নেই। এক ছেলে, ৩ মেয়ে। সংসার চালাতে খুব কষ্ট হয়। অর্ধহারে ও অনাহারে পরিবার পরিজন নিয়ে জীবনযাপন করতে হয়। কালারমারছড়ার মিলনা রানী (৩৬) ও মনোরঞ্জন পাল (৭০) এর সাথে কথা হলে তারা বলেন, এক সময় বিনামূল্যে মাটি পাওয়া যেত। এখন তা পাওয়া যায়না। গত দু’বছর পূর্বেও প্রতি গাড়ি মাটির দাম যেখানে ছিল মাত্র ৪০০ টাকা। এখন সেই মাটিই ১ হাজার ২০০ টাকায় কিনতে হচ্ছে। কাঁচামাল গুলো পোঁড়াতে কাঠ ও খড়ের দাম বেড়েছে কয়েকগুন। বাজারে সব কিছুর দাম বাড়লেও শুধু মাটির তৈরি জিনিসপত্রের দাম বাড়েনি। ৬০ বছর বয়সী বিধবা কানন রানী বলেন, ১২ বছর বয়স হতে এ পেশায় জড়িত আছি। স্বামী মারা যাওয়ায় ছেলের সংসারে আছি। ছেলেদেরকে এখনো এ পেশায় সাহায্য করে আসছি। মাটি সংগ্রহ করে কোন জিনিস বানাতে খুব কষ্ট করতে হয়। একদিনে কোন কিছুই তৈরি করা যায়না, সময় নিয়ে বানাতে হয় এবং সেগুলি শুকিয়ে পোড়ানো হয়। আগের মতো এখন আর মাটির জিনিসের চাহিদাও নেই তেমন।
সরকারি সহযোগিতা ও বাজারে মাটির তৈরী জিনিসের চাহিদা থাকলে হাজার বছরের ঐতিহ্য হিসেবে পেশাটি টিকে থাকতে পারবে।

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

রূপগঞ্জে জমিতে কাজ করতে বাধা, প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগ

কক্সবাজারের মহেশখালীতে হারিয়ে যাচ্ছে মৃৎশিল্প

আপডেট সময় : 07:57:43 pm, Saturday, 24 September 2022

সরওয়ার কামাল কক্সবাজার জেলা প্রতিনিধি।।

কক্সবাজারের মহেশখালীতে হারিয়ে যাচ্ছে মৃৎশিল্প । এক সময় গ্রাম বাংলার প্রতিটি ঘরে ঘরে আলোর ব্যবস্থা, রান্না-বান্না, খাওয়া-দাওয়া ও অতিথি আপ্যায়ন সহ প্রায় সব কাজেই ব্যবহার হতো মাটির তৈরি সৌখিন তৈজসপত্র। দামে সহজলভ্য ও স্বাস্থ্যকর হওয়ায় সব পরিবারেই ব্যবহার করা হতো মাটির তৈরী ওই সব পাত্র।
উপজেলার বড় মহেশখালী ইউনিয়নের বড় কুলাল পাড়া, ছোট কুলাল পাড়া, কালারমারছড়া ইউনিয়নের উত্তর নলবিলা বড়ুয়া পাড়া গ্রামে মৃশিল্প পেশায় জড়িত আছে ৬০টি পরিবার। খড়, কাঠি আর মাঠির সাথে যুদ্ধ করে কুমারেরা তাদের পরিবার পরিজন নিয়ে জীবিকা নির্বাহ করতে ঝড়, বৃষ্টি ও প্রচন্ড খরা উপেক্ষা করে এই পেশা কে ধরে রেখেছে। শীতকালে খেজুরের রস সংগ্রহে মাটির হাড়ি, বাহারি চিতল, পুলি ও ভাপা পিঠা সহ হরেক জাতের পিঠা তৈরীতে খোলা দধির পাতিল, টালি, ঘট, মুটকি, থালাবাসন ও অন্ধকার দূর করার মাটির বাতি সহ বিভিন্ন রকমের জিনিস তৈরি করতো গ্রাম বাংলার কুমারেরা। ওইসব মাটির জিনিসপত্র অনেকে ভ্যান যোগে আবার কেউ কেউ মাথায় নিয়ে বিক্রি করতো। আর সেই উপার্জনেই চলতো কুমারদের পরিবার। প্লাস্টিক, মেলামাইন, স্টিল ও সিলভারের তৈরিকৃত সামগ্রীর ব্যবহার বৃদ্ধি পাওয়ায় বর্তমানে হারিয়ে যেতে বসেছে ওই সব মাটির তৈরি সৌখিন জিনিসপত্র। তাই কুমারেরা পরিবার পরিজনের মুখে খাবার তুলে দিতে জাতিগত পেশা ছেড়ে অন্য পেশায় ধাবিত হচ্ছে। গ্রামীণ এলাকায় যখন বিদ্যুতের আলো পৌঁছেনি তখন ভরসা ছিল কেবলই মাটির তৈরি বাতি। তাতে কেরাসিন তেল দিয়ে চলতো রাতের সকল কাজ। সেই হাজার বছরের ঐতিহ্য ও গ্রাম বাংলার সংস্কৃতি এখন হারিয়ে যাওয়ার উপক্রম। বড় মহেশখালী ইউনিয়নের বড় কুলাল পাড়া এলাকার কুমার জসিম উদ্দিন বলেন, আমার কোন সম্পদ নেই। এক ছেলে, ৩ মেয়ে। সংসার চালাতে খুব কষ্ট হয়। অর্ধহারে ও অনাহারে পরিবার পরিজন নিয়ে জীবনযাপন করতে হয়। কালারমারছড়ার মিলনা রানী (৩৬) ও মনোরঞ্জন পাল (৭০) এর সাথে কথা হলে তারা বলেন, এক সময় বিনামূল্যে মাটি পাওয়া যেত। এখন তা পাওয়া যায়না। গত দু’বছর পূর্বেও প্রতি গাড়ি মাটির দাম যেখানে ছিল মাত্র ৪০০ টাকা। এখন সেই মাটিই ১ হাজার ২০০ টাকায় কিনতে হচ্ছে। কাঁচামাল গুলো পোঁড়াতে কাঠ ও খড়ের দাম বেড়েছে কয়েকগুন। বাজারে সব কিছুর দাম বাড়লেও শুধু মাটির তৈরি জিনিসপত্রের দাম বাড়েনি। ৬০ বছর বয়সী বিধবা কানন রানী বলেন, ১২ বছর বয়স হতে এ পেশায় জড়িত আছি। স্বামী মারা যাওয়ায় ছেলের সংসারে আছি। ছেলেদেরকে এখনো এ পেশায় সাহায্য করে আসছি। মাটি সংগ্রহ করে কোন জিনিস বানাতে খুব কষ্ট করতে হয়। একদিনে কোন কিছুই তৈরি করা যায়না, সময় নিয়ে বানাতে হয় এবং সেগুলি শুকিয়ে পোড়ানো হয়। আগের মতো এখন আর মাটির জিনিসের চাহিদাও নেই তেমন।
সরকারি সহযোগিতা ও বাজারে মাটির তৈরী জিনিসের চাহিদা থাকলে হাজার বছরের ঐতিহ্য হিসেবে পেশাটি টিকে থাকতে পারবে।