
মো: আব্দুর রহিম, শরীয়তপুর প্রতিনিধি,
নদী ভাঙনকে ঘিরে রাজনীতি নয়, বাস্তব সমাধানই এখন সবচেয়ে জরুরি এমন বার্তাই দিলেন জাতীয় সংসদের হুইপ মিয়া নুরুদ্দিন আহাম্মেদ অপু। তিনি বলেছেন, নদী ভাঙন নিয়ে অনেক সময় নানা ধরনের রাজনৈতিক আলোচনা ও দোষারোপ দেখা যায়, কিন্তু আমাদের লক্ষ্য রাজনীতি নয়, বরং মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং স্থায়ী সমাধান গড়ে তোলা। অবহেলিত শরীয়তপুরকে উন্নয়নের ধারায় এনে একটি গর্বিত ও নিরাপদ জেলায় রূপান্তর করাই তাদের প্রধান লক্ষ্য।
শনিবার (২৫ এপ্রিল) বিকাল ৫ টার দিকে শরীয়তপুরের জাজিরা উপজেলায় পদ্মা সেতুর ডান তীর রক্ষা বাঁধের ভাঙন কবলিত এলাকা পরিদর্শনকালে তিনি এসব কথা বলেন।
এ সময় তিনি ভাঙন পরিস্থিতি সরেজমিনে ঘুরে দেখেন, স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলেন এবং তাদের দুর্ভোগের চিত্র সরাসরি অবলোকন করেন। দীর্ঘদিন ধরে নদী ভাঙনের আতঙ্কে থাকা মানুষজন তাদের ঘরবাড়ি, ফসলি জমি ও জীবিকা হারানোর শঙ্কার কথা তুলে ধরেন।
পরিদর্শনকালে হুইপ মিয়া নুরুদ্দিন আহাম্মেদ অপু আরও জানান, সরকার চায় না আসন্ন বর্ষা মৌসুমে শরীয়তপুরে একটি ঘরও নদীগর্ভে বিলীন হোক। এজন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় খুব দ্রুতই ভাঙন রোধে কাজ শুরু হতে পারে, যাতে করে স্থানীয় জনগণের জানমাল রক্ষা করা যায় এবং তাদের মধ্যে স্বস্তি ফিরে আসে।
এদিকে শরীয়তপুর জেলাকে একটি আধুনিক ও উন্নত জেলায় রূপান্তরের লক্ষ্যে সরকার বিভিন্ন মন্ত্রণালয়কে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে কাজ করার নির্দেশ দিয়েছে বলেও জানান তিনি। এরই অংশ হিসেবে পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রীসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা পদ্মা ও মেঘনা নদীর ভাঙন কবলিত এলাকা পরিদর্শন করছেন এবং ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোতে টেকসই বেড়িবাঁধ নির্মাণের পরিকল্পনা গ্রহণ করা হচ্ছে।
স্থানীয়দের মতে, পদ্মা ও মেঘনা নদীর তীব্র স্রোত ও প্রাকৃতিক পরিবর্তনের কারণে প্রতিবছরই ভাঙনের ঝুঁকি বাড়ছে, যা স্থানীয় জনগণের জীবনযাত্রাকে মারাত্মকভাবে প্রভাবিত করছে। তাই দ্রুত এবং দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা বাস্তবায়ন ছাড়া এই সমস্যার স্থায়ী সমাধান সম্ভব নয়।
পরিদর্শনকালে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ। শরীয়তপুর ২ আসনের সংসদ সদস্য শফিকুর রহমান কিরণ, শরীয়তপুর ১ আসনের সংসদ সদস্য সাঈদ আহমেদ আসলাম, পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী খান মোহাম্মদ ওয়ালিউজ্জামানসহ স্থানীয় বিএনপির নেতাকর্মী এবং গণ্যমান্য ব্যক্তিরা।
স্থানীয়দের প্রত্যাশা, এই পরিদর্শন শুধু আশ্বাসে সীমাবদ্ধ থাকবে না, বরং দ্রুত কার্যকর উদ্যোগের মাধ্যমে নদী ভাঙন থেকে স্থায়ী মুক্তি মিলবে এবং নিরাপদ জীবনের নিশ্চয়তা ফিরে আসবে।
























