
মোঃ মিজানুর রহমান, সাতকানিয়া প্রতিনিধি:
চট্টগ্রাম: সাতকানিয়ায় ইছামতি খালে ব্রিজের নিচে ভাসমান অবস্থায় ইয়াছিন আরাফাত (১৩) নামে হেফজখানার এক ছাত্রের লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ।
শনিবার (২৭ সেপ্টেম্বর) সকালে সাতকানিয়া পৌরসভার ৬নং ওয়ার্ড চরপাড়া এলাকায় ইছামতি খালে ব্রিজের নিচ থেকে লাশটি উদ্ধার করা হয়। নিহত ইয়াছিন আরাফাত পৌরসভার ৬নং ওয়ার্ড চরপাড়ার সৌদি প্রবাসী আবুল কালামের ছেলে ও পৌরসভার খালেদ বিন ওয়ালিদ মাদ্রাসার হেফজ বিভাগের ছাত্র।
পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, গত বৃহস্পতিবার ইয়াছিন আরাফাত মাদ্রাসায় না যাওয়ার জন্য মায়ের সাথে জোরাজুরি করে। পরে মা জোর করে ছেলেকে মাদ্রাসায় নিয়ে যায়, সেখান থেকে সে নিখোঁজ হয়ে যায়। পরিবারের পক্ষ থেকে খোঁজাখুঁজি করেও তাকে পাওয়া যায়নি। নিখোঁজ হওয়ার দুইদিন পর শনিবার সকালে ইছামতি খালে একটি লাশ ভেসে ওঠার খবর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে আরাফাতের লাশ শনাক্ত করা হয়।
নিহত ইয়াছিন আরাফাতের মা জানান, আমারা পুরান ঢাকার লালবাগের একটি ভাড়া বাসায় থাকতাম। সেইখানে একটি মাদ্রাসায় আমার ছেলে ইয়াছিন আরাফাত পড়াশোনা করতো। গত মাসে আমার স্বামী সৌদি আরব চলে যাওয়ার জন্য আমরা সবাই গ্রামের বাড়িতে চলে আসি। এখানে এসে ছেলেকে পৌরসভার খালেদ বিন ওয়ালিদ মাদ্রাসায় হেফজ বিভাগে ভর্তি করিয়ে দিই। বৃহস্পতিবার আমার ছেলে ইয়াছিন আরাফাতকে মাদ্রাসায় দিয়ে আসি, সেখান থেকে সে নিখোঁজ হয়ে যায়। অনেক খোঁজাখুঁজি করেও তাকে আমরা পায়নি। আজকে সকালে লোকজনের মাধ্যমে খবর পাই, ইছামতি খালে একটি লাশ ভাসছে। ওইখানে গিয়ে দেখি আমার ছেলে ইয়াছিন আরাফাতের লাশ।
সাতকানিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোঃ জাহেদুল ইসলাম বলেন, সাতকানিয়া পৌরসভার চরপাড়া ইছামতি খালে ভাসমান অবস্থায় ইয়াছিন আরাফাত নামে এক মাদ্রাসা শিক্ষার্থীর লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। তার পরিবারের পক্ষ থেকে কাউকে সন্দেহ করা হয়নি এবং কোনও অভিযোগ করেনি। একটি অপমৃত্যুর মামলা রুজু করে লাশ ময়নাতদন্তের জন্য চট্টগ্রামে মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর সঠিক কারণ জানা যাবে।

























