Dhaka , Monday, 11 May 2026
নিবন্ধন নাম্বারঃ ১১০, সিরিয়াল নাম্বারঃ ১৫৪, কোড নাম্বারঃ ৯২
শিরোনাম ::
রামগঞ্জে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের সমন্বয় সভা অনুষ্ঠিত রামগঞ্জে ২০০ পিস ইয়াবা ও ৫০ গ্রাম গাঁজাসহ ৬ মাদক ব্যবসায়ী গ্রেফতার শরীয়তপুররে কৃষি জমিকে ডোবা দেখিয়ে পুকুর খননের আবেদন, অনুমতি ছাড়াই চলছে খনন পাইকগাছায় মাদকের বিরুদ্ধে যৌথ অভিযান: গাঁজাসহ আটক ১, ভ্রাম্যমাণ আদালতে কারাদণ্ড ভারতের মেডিকেল ও ট্যুরিস্ট ভিসা সহজ করার অনুরোধ মেয়র শাহাদাতের কাউখালীতে ‘ভুল সেট কোডে’ এসএসসির ফিন্যান্স ও ব্যাংকিং পরীক্ষা গ্রহন গবেষক ও ফিন্যান্স বিশেষজ্ঞ ড. সালেহ জহুর এখন চবি ব্যবসায় প্রশাসন অনুষদের ডিন মধুপুরে বিদ্যুৎস্পৃষ্ঠে এক নারীর মৃত্যু টেকনাফে ১ টি বিদেশী রাইফেল ও তাজা গোলাসহ ৭০ হাজার পিস ইয়াবা জব্দ করেছে কোস্ট গার্ড তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে রূপগঞ্জে স্বেচ্ছাসেবকদলের দুই গ্রুপের সংঘর্ষ, গোলাগুলি বাড়িঘরে হামলা ভাঙচুর লুটপাট, আহত-১৫ লালমনিরহাটে বেকারত্ব মোচনের মহোৎসব: ১০০০ কর্মসংস্থানের হাতছানি নিয়ে প্রাণ-আরএফএল ভুট্টাক্ষেতে গৃহবধূকে গণধর্ষণের ঘটনায় র‍্যাবের বড় সাফল্য: প্রধান সহযোগী রকিবুল আটক নগরবাসীর সচেতনতাই জলাবদ্ধতা নিরসনের মূল চাবিকাঠি: মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন বাড়ির সামনে জামায়াত কর্মী গুলিবিদ্ধ ওয়ারেন্টভুক্ত পলাতক প্যানেল চেয়ারম্যান গ্রেপ্তার ভাড়াটিয়া কর্তৃক নারী বাড়িওয়ালী লাঞ্চিত, শ্লীতাহানীর চেষ্টার অভিযোগ স্বর্ণপদক অর্জনের পর আন্তর্জাতিক মঞ্চে “DEMON 71” টিম, মালয়েশিয়ায় অংশ নিতে যাচ্ছে জাতীয় বিজয়ী দল পুলিশ সপ্তাহে সিএমপির ভার্চুয়াল অংশগ্রহণ পরিবহন খাতের উন্নয়নে সমন্বিত উদ্যোগ নেওয়া হবে: মেয়র ডা. শাহাদাত যত্রতত্র ময়লা আবর্জনা ফেললে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে :- মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন কৃষিতে বিপ্লব ঘটাবে খাল খনন কর্মসূচি: কুড়িগ্রামে ২ কিমি খালের উদ্বোধন করলেন ত্রাণমন্ত্রী নতুন কুড়ি ২০২৬ (মাদারীপুর) ফাইনাল খেলার পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠান। অ্যাপলের বিরুদ্ধে প্রতিযোগিতাবিরোধী অভিযোগে মামলা করল ‘রেভ’, শত কোটি ডলারের ক্ষতিপূরণ দাবি শিক্ষার মান ও দক্ষতার সংকট: বাংলাদেশের প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয় কতটা প্রস্তুত ভবিষ্যতের জন্য? শৈশবের পরও টিকা জরুরি, প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য ৫টি গুরুত্বপূর্ণ ভ্যাকসিন আনসার ভিডিপি উন্নয়ন ব্যাংকে ৩০০ জনের নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি স্বাধীনভাবে কাজ করতে না পারায় গণমাধ্যমের বিশ্বাসযোগ্যতা তলানিতে ক্রিস্পি চিলি পটেটো তৈরির রেসিপি জেনে নিন আবুধাবিতে বাংলাদেশ সমিতি ইউএই কেন্দ্রীয় কমিটির এজিএম অনুষ্ঠিত চ্যাটের মাধ্যমেই ভিডিও খোঁজার সুযোগ দিচ্ছে ইউটিউব, আসছে এআই ফিচার ‘Ask YouTube’

শরীয়তপুররে কৃষি জমিকে ডোবা দেখিয়ে পুকুর খননের আবেদন, অনুমতি ছাড়াই চলছে খনন

  • Reporter Name
  • আপডেট সময় : 08:09:40 pm, Monday, 11 May 2026
  • 1 বার পড়া হয়েছে

মো: আব্দুর রহিম, শরীয়তপুর প্রতিনিধি,

অনুমতি ছাড়া জমির প্রকৃতি পরিবর্তন করা যাবে না, সরকারের এমন নির্দেশ অমান্য করে ভেদরগঞ্জে তিন ফসলি কৃষিজমিতে পুকুর কাটার অভিযোগ পাওয়া গেছে। এতে উপজেলায় আশঙ্কাজনক হারে কমছে কৃষিজমি। একশ্রেণির অসাধু মানুষ কৃষকদের হুমকি দিয়ে কৃষিজমিতে পুকুর খনন করছেন। প্রভাবশালী ব্যক্তিরা প্রকাশ্যে এমন অপরাধ করলেও তা বন্ধে প্রশাসন উদ্যোগ নিচ্ছে না। এদিকে কৃষি জমিকে ‘ডোবা’ দেখিয়ে পুকুর খননের আবেদন করা হলেও প্রশাসনের অনুমতি ছাড়াই চলছে খনন কার্যক্রম। এতে আবাদি জমি নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি পরিবেশ ও কৃষি উৎপাদন নিয়ে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।

স্থানীয় সূত্র ও সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, ভেদরগঞ্জ উপজেলা সখিপুর ডিএমখালি ইউনিয়নের মৃধা কান্দি ৫১ নং দিগরমহিষখালী মৌজায় ১.৭৫ একর কৃষি জমিতে পুকুর খননের জন্য ভেদরগঞ্জ উপজেলা প্রশাসন বরাবর লিখিত আবেদন করেন কাদের গাজী নামে একজন।আবেদনে তিনি উল্লেখ করেন জমিটি আগে থেকেই পুকুর খনন করা রয়েছে। পাশাপাশি পুকুরটি নতুন করে সংস্কারের প্রয়োজন। আবেদনের সঙ্গে পুরাতন পুকুরের কয়েকটি ছবি যুক্ত করে দেন তিনি। এরপর আবেদনটি আমলে নিয়ে উপজেলা সহকারী কমিশনার ভূমি কর্মকর্তাকে তদন্তের নির্দেশ দেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা। গত ২৬ এপ্রিল ঘটনাস্থলে তদন্তে যায় সহকারী কমিশনার ভূমি অফিসের অফিস সহকারী তোফাজ্জল হোসেন। সেখানে প্রকৃতপক্ষে কৃষি জমি হলেও তোফাজ্জল হোসেন ঘের মালিকের সাথে আঁতাত করে সেখানে পুরাতন পুকুর আছে এ-ই মর্মে উপজেলা সহকারী কমিশনার ভূমি কর্মকর্তাকে জানান। পরে ২৯ এপ্রিল উপজেলা সহকারী কমিশনার ভূমি কে.এম রাফসান রাব্বির সাক্ষরিত একটি তদন্ত প্রতিবেদন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে পাঠানোর জন্য প্রস্তুত করা হয়। তবে নথি উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কাছে পাঠানোর আগেই সেটি পাঠানো হয় পুকুর মালিক কাদের গাজীর কাছে। নথিটি উপজেলা প্রশাসনের কাছে যাওয়ার পরে সেটিকে যাচাই-বাছাই করে পুকুর খনন করার অনুমতি দেওয়ার কথা ছিলো। তবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমোদন না পেলেও ভেকু মেশিন দিয়ে দিন-রাত পুকুর খননের কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন কাদের গাজী। তদন্ত প্রতিবেদনর মতো একটি গুরুত্বপূর্ণ নথি উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কাছে যাওয়া আগে কি ভাবে আবেদনকারীর হাতে গেলো এনিয়ে প্রশ্ন থেকেই যায়।এদিকে রবিবার সরেজমিনে দেখা যায়, কাদের গাজী যেই জমিতে পুকুর খননের আবেদন করেছেন সেখানে গত দশদিন ধরে দুটি এক্সক্যাভেটর দিয়ে পুকুর খননের কাজ শুরু হয়েছে। উপজেলা প্রশাসনের কাছে লিখিত আবেদনে যেটিকে তিনি পুরাতন পুকুর দাবি করেছেন সেখানে পুরাতন কোনো পুকুর নেই। জমির মাঝখানে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করে একটি ডোবা তৈরি করে পুকুর বলে কৃষি জমি কাটার চেষ্টা করছেন। সেখানে গিয়ে আরও দেখা যায় জমির মাঝখানে এখনো মরিচ, ধান সহ বিভিন্ন ফসল রয়েছে। এছাড়াও যেখানে পুকুর খনন করা হচ্ছে এর চারপাশে কৃষকের বিভিন্ন ধরনের ফসল রয়েছে। এভাবে পুকুর খনন করার কারণে পানি জমে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এতে ব্যাপক ক্ষতি হতে পারে কৃষি খাতে।

স্থানীয় কৃষক আব্দুল মালেক বলেন, “আমরা ফসল ফলাইয়া সংসার চালাই। এখন একের পর এক জমি কাইটা পুকুর বানাইতেছে। এভাবে চলতে থাকলে কৃষি জমি আর থাকবো না। পাশের জমিটা আমার তাদের কারণে আমার জমির ফসল উতপাদনে সমস্যা হবে। তাছাড়া এখানে সারাবছর পানি জমে থাকলে আমাদের চাষাবাদ করতেও বেকায়দায় পড়তে হবে।

আরেক কৃষক নুর ইসলাম বলেন, এই বিলে এখনো এধরনের খামার করা হয় নি। আমাদের এখানে সারাবছর তিন ফসল উতপাদন হয়। দশদিন আগে দেখলাম কাদের গাজী দুটি ভেকু মেশিন এনে পুকুর খনন করছে। তাকে জিগ্যেস করছিলাম অনুমতি কি ভাবে নিলো। তিনি বললো এ-ই দেশে এসবই সম্ভব। এভাবে কৃষি জমিতে পুকুর খনন করা যায় এটা আমার আগে জানা ছিলো না। প্রশাসন কি ভাবেই অনুমতি দিলো এটা আমার প্রশ্ন। যদি প্রশাসন অনুমতি না দিয়ে থাকো তাহলে এটি খনন করে কি ভাবে। এখানে আগে ডোবা অথবা পুকুর ছিলো কি না এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, এখানে কখনোই ডোবা ছিলো না কিছুদিন আগে অবৈধভাবে ড্রেজার বসিয়ে বালু উত্তোলনের কারণে কিছুটা গর্ত তৈরি হয়েছে। তাছাড়া পানি আটকে রাখার জন্য চারদিকে আইল তৈরি করে পানি আটকে রাখা হয়। অনুমতি ছাড়া প্রকাশ্যে ভেকু দিয়ে মাটি কাটতেছে। কিন্তু কেউ কিছু কইতেছে না। প্রশাসনের দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া দরকার।

এবিষয়ে জানতে চাইলে ঘের মালিক কাদের গাজী বলেন, এখানে ভিডিও করার কিছু নেই উপজেলা প্রশাসন থেকে পুকুর খননের অনুমতি নেওয়া আছে। উপজেলা থেকে তোফাজ্জল ভাই এসেছিলো তিনি তদন্ত করে আমাকে অনুমতি দিয়ে গেছে। তবে অনুমতি পত্র দেখতে চাইলে তিনি সেটি দেখাতে অপারগতা প্রকাশ করেন।

এবিষয়ে ভেদরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. হাফিজুল হক বলেন, কিছুদিন আগে আমাদের কাছে পরিত্যক্ত ডোবা উল্লেখ করে সেখানে পুকুর খননের আবেদন করা হয়। বিষয়টি তদন্তের জন্য সহকারী কমিশনার ভূমি কর্মকর্তাকে দেওয়া হয়েছে। এখনো আমি তদন্ত রিপোর্ট হাতে পাইনি। রিপোর্ট হাতে পেলে পুকুর খননের ব্যাপারে অনুমতি দেওয়া হবে। অনুমতি না নিয়ে সেখানে পুকুর খনন করা যাবে না। আমি বিষয়টি তদন্ত করে দেখি যদি অনুমতি নেওয়ার আগে সেখানে পুকুর খনন করে তাহলে তদন্ত করে সত্যতা পাওয়া গেলে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

রামগঞ্জে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের সমন্বয় সভা অনুষ্ঠিত

শরীয়তপুররে কৃষি জমিকে ডোবা দেখিয়ে পুকুর খননের আবেদন, অনুমতি ছাড়াই চলছে খনন

আপডেট সময় : 08:09:40 pm, Monday, 11 May 2026

মো: আব্দুর রহিম, শরীয়তপুর প্রতিনিধি,

অনুমতি ছাড়া জমির প্রকৃতি পরিবর্তন করা যাবে না, সরকারের এমন নির্দেশ অমান্য করে ভেদরগঞ্জে তিন ফসলি কৃষিজমিতে পুকুর কাটার অভিযোগ পাওয়া গেছে। এতে উপজেলায় আশঙ্কাজনক হারে কমছে কৃষিজমি। একশ্রেণির অসাধু মানুষ কৃষকদের হুমকি দিয়ে কৃষিজমিতে পুকুর খনন করছেন। প্রভাবশালী ব্যক্তিরা প্রকাশ্যে এমন অপরাধ করলেও তা বন্ধে প্রশাসন উদ্যোগ নিচ্ছে না। এদিকে কৃষি জমিকে ‘ডোবা’ দেখিয়ে পুকুর খননের আবেদন করা হলেও প্রশাসনের অনুমতি ছাড়াই চলছে খনন কার্যক্রম। এতে আবাদি জমি নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি পরিবেশ ও কৃষি উৎপাদন নিয়ে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।

স্থানীয় সূত্র ও সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, ভেদরগঞ্জ উপজেলা সখিপুর ডিএমখালি ইউনিয়নের মৃধা কান্দি ৫১ নং দিগরমহিষখালী মৌজায় ১.৭৫ একর কৃষি জমিতে পুকুর খননের জন্য ভেদরগঞ্জ উপজেলা প্রশাসন বরাবর লিখিত আবেদন করেন কাদের গাজী নামে একজন।আবেদনে তিনি উল্লেখ করেন জমিটি আগে থেকেই পুকুর খনন করা রয়েছে। পাশাপাশি পুকুরটি নতুন করে সংস্কারের প্রয়োজন। আবেদনের সঙ্গে পুরাতন পুকুরের কয়েকটি ছবি যুক্ত করে দেন তিনি। এরপর আবেদনটি আমলে নিয়ে উপজেলা সহকারী কমিশনার ভূমি কর্মকর্তাকে তদন্তের নির্দেশ দেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা। গত ২৬ এপ্রিল ঘটনাস্থলে তদন্তে যায় সহকারী কমিশনার ভূমি অফিসের অফিস সহকারী তোফাজ্জল হোসেন। সেখানে প্রকৃতপক্ষে কৃষি জমি হলেও তোফাজ্জল হোসেন ঘের মালিকের সাথে আঁতাত করে সেখানে পুরাতন পুকুর আছে এ-ই মর্মে উপজেলা সহকারী কমিশনার ভূমি কর্মকর্তাকে জানান। পরে ২৯ এপ্রিল উপজেলা সহকারী কমিশনার ভূমি কে.এম রাফসান রাব্বির সাক্ষরিত একটি তদন্ত প্রতিবেদন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে পাঠানোর জন্য প্রস্তুত করা হয়। তবে নথি উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কাছে পাঠানোর আগেই সেটি পাঠানো হয় পুকুর মালিক কাদের গাজীর কাছে। নথিটি উপজেলা প্রশাসনের কাছে যাওয়ার পরে সেটিকে যাচাই-বাছাই করে পুকুর খনন করার অনুমতি দেওয়ার কথা ছিলো। তবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমোদন না পেলেও ভেকু মেশিন দিয়ে দিন-রাত পুকুর খননের কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন কাদের গাজী। তদন্ত প্রতিবেদনর মতো একটি গুরুত্বপূর্ণ নথি উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কাছে যাওয়া আগে কি ভাবে আবেদনকারীর হাতে গেলো এনিয়ে প্রশ্ন থেকেই যায়।এদিকে রবিবার সরেজমিনে দেখা যায়, কাদের গাজী যেই জমিতে পুকুর খননের আবেদন করেছেন সেখানে গত দশদিন ধরে দুটি এক্সক্যাভেটর দিয়ে পুকুর খননের কাজ শুরু হয়েছে। উপজেলা প্রশাসনের কাছে লিখিত আবেদনে যেটিকে তিনি পুরাতন পুকুর দাবি করেছেন সেখানে পুরাতন কোনো পুকুর নেই। জমির মাঝখানে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করে একটি ডোবা তৈরি করে পুকুর বলে কৃষি জমি কাটার চেষ্টা করছেন। সেখানে গিয়ে আরও দেখা যায় জমির মাঝখানে এখনো মরিচ, ধান সহ বিভিন্ন ফসল রয়েছে। এছাড়াও যেখানে পুকুর খনন করা হচ্ছে এর চারপাশে কৃষকের বিভিন্ন ধরনের ফসল রয়েছে। এভাবে পুকুর খনন করার কারণে পানি জমে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এতে ব্যাপক ক্ষতি হতে পারে কৃষি খাতে।

স্থানীয় কৃষক আব্দুল মালেক বলেন, “আমরা ফসল ফলাইয়া সংসার চালাই। এখন একের পর এক জমি কাইটা পুকুর বানাইতেছে। এভাবে চলতে থাকলে কৃষি জমি আর থাকবো না। পাশের জমিটা আমার তাদের কারণে আমার জমির ফসল উতপাদনে সমস্যা হবে। তাছাড়া এখানে সারাবছর পানি জমে থাকলে আমাদের চাষাবাদ করতেও বেকায়দায় পড়তে হবে।

আরেক কৃষক নুর ইসলাম বলেন, এই বিলে এখনো এধরনের খামার করা হয় নি। আমাদের এখানে সারাবছর তিন ফসল উতপাদন হয়। দশদিন আগে দেখলাম কাদের গাজী দুটি ভেকু মেশিন এনে পুকুর খনন করছে। তাকে জিগ্যেস করছিলাম অনুমতি কি ভাবে নিলো। তিনি বললো এ-ই দেশে এসবই সম্ভব। এভাবে কৃষি জমিতে পুকুর খনন করা যায় এটা আমার আগে জানা ছিলো না। প্রশাসন কি ভাবেই অনুমতি দিলো এটা আমার প্রশ্ন। যদি প্রশাসন অনুমতি না দিয়ে থাকো তাহলে এটি খনন করে কি ভাবে। এখানে আগে ডোবা অথবা পুকুর ছিলো কি না এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, এখানে কখনোই ডোবা ছিলো না কিছুদিন আগে অবৈধভাবে ড্রেজার বসিয়ে বালু উত্তোলনের কারণে কিছুটা গর্ত তৈরি হয়েছে। তাছাড়া পানি আটকে রাখার জন্য চারদিকে আইল তৈরি করে পানি আটকে রাখা হয়। অনুমতি ছাড়া প্রকাশ্যে ভেকু দিয়ে মাটি কাটতেছে। কিন্তু কেউ কিছু কইতেছে না। প্রশাসনের দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া দরকার।

এবিষয়ে জানতে চাইলে ঘের মালিক কাদের গাজী বলেন, এখানে ভিডিও করার কিছু নেই উপজেলা প্রশাসন থেকে পুকুর খননের অনুমতি নেওয়া আছে। উপজেলা থেকে তোফাজ্জল ভাই এসেছিলো তিনি তদন্ত করে আমাকে অনুমতি দিয়ে গেছে। তবে অনুমতি পত্র দেখতে চাইলে তিনি সেটি দেখাতে অপারগতা প্রকাশ করেন।

এবিষয়ে ভেদরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. হাফিজুল হক বলেন, কিছুদিন আগে আমাদের কাছে পরিত্যক্ত ডোবা উল্লেখ করে সেখানে পুকুর খননের আবেদন করা হয়। বিষয়টি তদন্তের জন্য সহকারী কমিশনার ভূমি কর্মকর্তাকে দেওয়া হয়েছে। এখনো আমি তদন্ত রিপোর্ট হাতে পাইনি। রিপোর্ট হাতে পেলে পুকুর খননের ব্যাপারে অনুমতি দেওয়া হবে। অনুমতি না নিয়ে সেখানে পুকুর খনন করা যাবে না। আমি বিষয়টি তদন্ত করে দেখি যদি অনুমতি নেওয়ার আগে সেখানে পুকুর খনন করে তাহলে তদন্ত করে সত্যতা পাওয়া গেলে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।