
চট্টগ্রাম প্রতিনিধি,
প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খাঁন বলেছেন, জাতীয় সংকটকে রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহার না করে দেশের স্বার্থে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে রাষ্ট্র পুনর্গঠনে কাজ করতে হবে। গণঅভ্যুত্থানের চেতনা ধারণ করে রাজনৈতিক দল, গণমাধ্যম ও সর্বস্তরের জনগণের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় একটি সমৃদ্ধ, গণতান্ত্রিক ও জনকল্যাণমুখী বাংলাদেশ গড়তে হবে।
সহকারী শুক্রবার চট্টগ্রাম সার্কিট হাউস সম্মেলন কক্ষে চট্টগ্রামের সাংবাদিকদের সাথে মতবিনিময়কালে এসব কথা বলেন।
সহকারী তার বক্তব্যের শুরুতে ১৯৭১সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে শহীদ ও আহতদের এবং ২০২৪ সালে গণঅভ্যুত্থানে শহীদ ও আহতদের গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন।সেইসাথে তিনি চট্টগ্রামের সাংবাদিক সমাজের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বলেন, গণতন্ত্র ও জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে সাংবাদিকরা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে।২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানে চট্টগ্রামের মানুষের রাজপথের অংশগ্রহণের ঘটনাকেও বিশেষভাবে স্মরণ করেন।
চট্টগ্রামের ঐতিহাসিক গুরুত্ব তুলে ধরে রাশেদ খান বলেন, মহান মুক্তিযুদ্ধের সূচনালগ্নে চট্টগ্রাম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের মহান স্বাধীনতার ঘোষণা এবং চট্টগ্রামের মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের সঙ্গে গভীরভাবে সম্পৃক্ত।তিনি শহীদ জিয়াউর রহমানের স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানান।
চট্টগ্রাম সফরের বিভিন্ন কর্মসূচির কথা উল্লেখ করে সহকারী জানান, সফরের অংশ হিসেবে ফটিকছড়ির বাবুনগর এলাকায় আল-জামিয়াতুল ইসলামিয়া আজিজুল উলুম বাবুনগর মাদ্রাসা এবং হাটহাজারীর আল-জামিয়াতুল আহলিয়া দারুল উলুম মঈনুল ইসলাম মাদ্রাসায় আলেম-ওলামাদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন। এ সময় তিনি আল্লামা শাহ আহমদ শফী ও আল্লামা জুনায়েদ বাবুনগরীর কবর জিয়ারত করেন এবং হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ এর আমির আল্লামা মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরীর সাথে সাক্ষাত করেন। পরে জেলা পুলিশ সুপারের আমন্ত্রণে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন।
দেশের বর্তমান জ্বালানি পরিস্থিতি প্রসঙ্গে রাশেদ খান বলেন, জ্বালানি সংকট শুধু বাংলাদেশের নয়, এটি বৈশ্বিক বাস্তবতার সঙ্গে সম্পৃক্ত। মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের প্রভাব বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থায় উপর পড়েছে। এ পরিস্থিতিতে সরকার সংকট মোকাবিলায় বিভিন্ন পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে।
তিনি উল্লেখ করেন,সরকার আমদানি-নির্ভরতা কমিয়ে নবায়নযোগ্য ও বিকল্প জ্বালানি ব্যবস্থার মাধ্যমে দেশকে এগিয়ে নিতে হবে। পানি, বায়ু ও সৌরবিদ্যুৎসহ বিকল্প উৎসের উন্নয়ন এবং দীর্ঘমেয়াদি জ্বালানি পরিকল্পনা বাস্তবায়নের ওপর গুরুত্বারোপ করেন ।
জ্বালানি সংকট নিয়ে গণমাধ্যমের দায়িত্বশীল ভূমিকার ওপর গুরুত্ব দিয়ে তিনি আরো বলেন, সাংবাদিকরা সমাজের মানুষের কাছে তথ্য পৌঁছে দেওয়ার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। তাই জাতীয় সংকট সময়ে জনগণ যাতে সঠিক ও নির্ভুল তথ্য পায়, সেবিষয়ে গণমাধ্যমকে আরও দায়িত্বশীল ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান।
সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিস্থিতি প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর সহকারী বলেন, সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পরপরই রাজনৈতিক কর্মসূচির নামে জনগণের মধ্যে উদ্বেগ বা বিভ্রান্তি সৃষ্টি না করে রাষ্ট্রের পুনর্গঠন ও জনকল্যাণে সবাইকে সহযোগিতা করা উচিত। রাজনৈতিক মতপার্থক্য থাকতেই পারে, তবে জাতীয় স্বার্থে পারস্পরিক সহনশীলতা ও সহযোগিতার পরিবেশ বজায় রাখা প্রয়োজন। জনগণ গণতান্ত্রিক পরিবেশে রাষ্ট্রের উন্নয়ন ও পুনর্গঠন দেখতে চায়। তাই রাজনৈতিক দলগুলোর উচিত পরস্পরকে প্রতিপক্ষ হিসেবে দেখার পাশাপাশি দেশের স্বার্থে প্রয়োজনীয় জায়গায় সহযোগিতার মনোভাব নিয়ে সবাই এগিয়ে আসাবে। বাংলাদেশে গণতন্ত্র, আইনের শাসন, সামাজিক ন্যায়বিচার ও অর্থনৈতিক মুক্তি নিশ্চিত করতে হলে জাতীয় ঐক্যের কোনো বিকল্প নেই।জাতি, ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সব নাগরিকের অধিকার নিশ্চিত করে একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক বাংলাদেশ গড়ে তোলাই সবার লক্ষ্য হওয়া উচিত।
চট্টগ্রামের সাংবাদিকদের উদ্দেশ্যে রাশেদ খাঁন বলেন, গণতন্ত্রের কঠিন সময়ে আপনারা যেভাবে দায়িত্ব পালন করেছেন, তা দেশের মানুষ দেখেছে। ভবিষ্যতেও বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ পরিবেশনের মাধ্যমে জনগণকে সঠিক তথ্য জানানো এবং গুজব ও বিভ্রান্তি প্রতিরোধে গণমাধ্যম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশাবাদ প্রকাশ করেন। এছাড়া তিনি বলেন যে, রাষ্ট্র পুনর্গঠনের এই সময়ে আমাদের সবার দায়িত্ব হলো বিভাজন নয়, ঐক্যের বার্তা দেওয়া। রাজনৈতিক মতপার্থক্য থাকবে, কিন্তু দেশের স্বার্থে আমাদেরকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে।
মতবিনিময় সভায় জেলার প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন এবং সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব দেন রাশেদ খান ও জাতীয় স্বার্থে গণমাধ্যমের সহযোগিতা কামনা করেন।
























