Dhaka , Thursday, 7 May 2026
নিবন্ধন নাম্বারঃ ১১০, সিরিয়াল নাম্বারঃ ১৫৪, কোড নাম্বারঃ ৯২
শিরোনাম ::
লক্ষ্মীপুরে বজ্রপাতে কোরআনে হাফেজার মৃত্যু সৌদি আরবে নিহত দুর্গাপুরের শ্রমিক আল আমিনের মরদেহ দেশে আনতে উদ্যোগ নিলেন ডেপুটি স্পিকার পাইকগাছায় খালে অবৈধ নেট পাটা অপসারণে প্রশাসনের অভিযান চট্টগ্রামের কর্মমুখী শিক্ষার মান উন্নয়নে কসোভোর সাথে কাজ করতে চান চসিক মেয়র ডা. শাহাদাত এসডিএফ-এ চরম অস্থিরতা: চেয়ারম্যান ও এমডির পদত্যাগ দাবিতে কর্মকর্তাদের কর্মবিরতি শেরপুরের ঝিনাইগাতীতে বনখেকুদের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ সমাবেশ রামুর খুনিয়া পালংয়ের মাদককারবারী আরিফ চট্টগ্রাম শহরে ইয়াবাসহ আটক পাঁচবিবির নবাগত ইউএনওর মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত পানি উন্নয়ন বোর্ডের ক্যানেল অপরিষ্কার ও খাল ভরাটের কারণে রূপগঞ্জে জলাবদ্ধতায় ভোগান্তিতে সাধারণ মানুষ ও টেক্সটাইল মালিক। কুড়িগ্রাম সীমান্তে ১৫ বিজিবি’র বড় সাফল্য: জব্দকৃত প্যান্ট পিসের বাজারমূল্য ৩০ লাখ টাকা কালীগঞ্জ ও তারাগঞ্জে পরিবেশ অধিদপ্তরের অভিযান: পরিবেশ বিধ্বংসী ইটভাটায় র‍্যাবের হানা রূপগঞ্জে নিরাপদ খাদ্য রপ্তানির লক্ষ্যে পার্টনার কংগ্রেস অনুষ্ঠিত ঝালকাঠি সদরে হাম-রুবেলার প্রাদুর্ভাব: চিকিৎসা নিয়েছে ৭৩, বাড়ছে নতুন ভর্তি স্মার্টফোনে জুয়া খেলায় যুবকের জেল-জরিমানা দুর্গাপুরে ধান পাহাড়া দিয়ে বাড়ি ফেরা হলো না যুবকের, হাতি কেড়ে নিল প্রাণ মহেশখালীতে অস্ত্র ও গোলাবারুদসহ জমির বাহিনীর প্রধান জলদস্যু জমিরকে আটক করেছে কোস্ট গার্ড চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের মাসিক কল্যাণ সভা অনুষ্ঠিত চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের মাসিক অপরাধ পর্যালোচনা সভা অনুষ্ঠিত রামুতে কৃষক কৃষাণীদের নিয়ে পার্টনার ফিল্ড স্কুল কংগ্রেস অনুষ্ঠিত নোয়াখালীতে ছাত্রদলের বিশাল শোভাযাত্রা, নেতৃত্বে নতুন উদ্দীপনা চবিতে ছাত্র অধিকার পরিষদের নতুন কমিটি, নেতৃত্বে রোমান-সবুজ  পাইকগাছায় বিপুল পারশে পোনা জব্দ; শিবসা নদীতে অবমুক্ত নরসিংদী সংঘবদ্ধ চক্রের চার সদস্য গ্রেফতার করেছে ডিবি নিরাপদ খাদ্য উৎপাদনের বার্তা নিয়ে পাঁচবিবিতে কৃষি কংগ্রেস লক্ষ্মীপুরে স্ত্রীর দেওয়া শর্ত মানতে না পেরে স্বামীর আত্মহত্যা নোয়াখালীতে সিএনজি ধাক্কায় প্রাণ গেল এসএসসি পরীক্ষার্থীর নোয়াখালীতে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে শিক্ষার্থীর মৃত্যু নিরাপত্তাহীন শাটল যাত্রা: পাথরের আঘাতে অল্পের জন্য প্রাণে বাঁচলেন চবি ছাত্রী  মসজিদের তালা ভেঙে দানবাক্সের টাকা লুট সাংবাদিক জি.কে. রাসেলের বিরুদ্ধে অসত্য, উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বানোয়াট সংবাদের প্রতিবাদ ও নিন্দা

রায় না হলেও বিভ্রান্তিকর সংবাদ প্রকাশের অভিযোগ, বাদীর সংবাদ সম্মেলন

  • Reporter Name
  • আপডেট সময় : 08:25:31 pm, Monday, 3 November 2025
  • 73 বার পড়া হয়েছে

মো: আব্দুর রহিম, শরীয়তপুর প্রতিনিধি:

শরীয়তপুরে একটি চলমান দেওয়ানি মামলার রায় ঘোষণা না হলেও কিছু গণমাধ্যমে “রায়ের কপি ছিঁড়ে ফেলার অভিযোগ” শিরোনামে সংবাদ প্রকাশ করায় ক্ষোভ ও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন মামলার বাদী সনিয়া আফরিন (কাজল)। তিনি দাবি করেছেন, বিষয়টি সম্পূর্ণ মিথ্যা, বানোয়াট ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত — যা মামলার সঠিক বিচার প্রক্রিয়াকে প্রভাবিত করতে পারে।

সোমবার (৩ নভেম্বর) দুপুরে শরীয়তপুরের চিকন্দী ফুডপার্কে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব অভিযোগ তুলে ধরেন বাদী সনিয়া আফরিন (কাজল)।

সংবাদ সম্মেলনে সনিয়া আফরিন বলেন,
“গত ২৬ অক্টোবরসহ সম্প্রতি মামলার রায়ের কপি ছিঁড়ে ফেলা নিয়ে কয়েকটি সংবাদ প্রকাশ হয়েছে। এই সংবাদগুলো একেবারেই মিথ্যা, বিভ্রান্তিকর ও মানহানিকর। আমার মামলাটি এখনো বিচারাধীন। রায় ঘোষণা হয়নি। তাহলে রায়ের কপি ছিঁড়ে ফেলার প্রশ্নই ওঠে না।”

তিনি আরও বলেন, “আমার পৈত্রিক সম্পত্তি নিয়ে ২০২১ সালে ভেদরগঞ্জ সিনিয়র সহকারী জজ আদালতে ১৬৭/২০২১ নং দেওয়ানি মোকাদ্দমা দায়ের করি। মামলাটি চলমান অবস্থায় আমি জানতে পারি, তৎকালীন বিচারক মো. আরিফুল ইসলাম বিবাদীপক্ষের কাছ থেকে আর্থিক সুবিধা গ্রহণের বিষয়ে সমঝোতা করেছেন বলে অভিযোগ উঠে। এরপর ন্যায়বিচারের স্বার্থে আমি মামলাটি অন্য আদালতে স্থানান্তরের আবেদন করি।”

সনিয়া আফরিনের সেই আবেদনের পর বিজ্ঞ জেলা জজ মামলাটি নড়িয়া সিনিয়র সহকারী জজ আদালতে প্রেরণ করেন। সেখানে মামলাটি ২৯৬/২০২৫ নং হিসেবে পুনরায় রেজিস্ট্রি হয়। বর্তমানে মামলাটি নড়িয়া আদালতে শুনানি ও সাক্ষ্যগ্রহণ পর্যায়ে রয়েছে।

তিনি প্রশ্ন তুলে বলেন, “যে মামলার রায়ই হয়নি, সেই মামলার রায়ের কপি ছিঁড়ে ফেলা হলো কীভাবে? এই ধরনের সংবাদ প্রকাশের ফলে আমার মামলার সঠিক বিচারের প্রক্রিয়া ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। একই সঙ্গে আমার ব্যক্তিগত ও পারিবারিক মানহানি ঘটেছে।”

সনিয়া আফরিন (কাজল) আরও বলেন, “আমি বিশ্বাস করি, গণমাধ্যম সমাজের দর্পণ। কিন্তু যাচাই-বাছাই না করে ভুল তথ্য প্রকাশ করলে সেটি শুধু ব্যক্তি নয়, বিচারব্যবস্থার প্রতিও অন্যায়। আমি চাই, মিডিয়া সত্য যাচাই করে দায়িত্বশীলতার সঙ্গে সংবাদ প্রকাশ করুক।”

বিষয়টি নিয়ে বাদীপক্ষের আইনজীবী মহিউদ্দিন মোল্লা (শাহীন) বলেন,
“১৬৭/২০২১ নং মামলাটি প্রথমে ভেদরগঞ্জ আদালতে ছিল। পরে ২০২৪ সালে আমি ন্যায়বিচারের স্বার্থে মামলাটি ট্রান্সফার করে নড়িয়া আদালতে আনি। বর্তমানে মামলাটি বিবাদীপক্ষের সাক্ষ্যগ্রহণ পর্যায়ে রয়েছে। এই ধাপ শেষে আর্গুমেন্ট হবে, তারপর রায়। এখন পর্যন্ত মামলার কোনো রায় ঘোষণা হয়নি। তাই গণমাধ্যমে প্রকাশিত রায়ের কপি ছেঁড়ার খবর সম্পূর্ণ অসত্য।”

অন্যদিকে বিবাদীপক্ষের আইনজীবী আনোয়ার হোসেন খান বলেন,
“মামলাটি ২০২১ সাল থেকে আমার মাধ্যমে পরিচালিত হচ্ছে। বছরখানেক আগে ফাইল হাইকোর্টে গিয়েছে। মামলাটি এখনো সাক্ষ্যগ্রহণ পর্যায়ে রয়েছে। তাই রায় হওয়া বা কপি ছেঁড়ার প্রশ্নই ওঠে না।”

মামলাটি নিয়ে এমন বিভ্রান্তিকর সংবাদ প্রকাশে বাদী পক্ষ ন্যায়বিচার প্রক্রিয়ায় বিঘ্ন ঘটার আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন। সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে সনিয়া আফরিন আদালত ও প্রশাসনের কাছে আবেদন জানিয়েছেন যেন এই বিষয়ে যথাযথ তদন্ত ও আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হয়, যাতে ভবিষ্যতে বিচারাধীন কোনো মামলার বিষয়ে বিভ্রান্তিকর সংবাদ প্রকাশের মতো ঘটনা আর না ঘটে।

তিনি বলেন, “আমি আদালতে এসেছি ন্যায়বিচার পেতে। বিচারাধীন কোনো মামলার বিষয়ে মিথ্যা সংবাদ প্রকাশ শুধু একজন বাদীকে নয়, পুরো বিচার ব্যবস্থাকেই প্রশ্নবিদ্ধ করে। আমি আদালতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল এবং সঠিক বিচারের অপেক্ষায় আছি।”

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

লক্ষ্মীপুরে বজ্রপাতে কোরআনে হাফেজার মৃত্যু

রায় না হলেও বিভ্রান্তিকর সংবাদ প্রকাশের অভিযোগ, বাদীর সংবাদ সম্মেলন

আপডেট সময় : 08:25:31 pm, Monday, 3 November 2025

মো: আব্দুর রহিম, শরীয়তপুর প্রতিনিধি:

শরীয়তপুরে একটি চলমান দেওয়ানি মামলার রায় ঘোষণা না হলেও কিছু গণমাধ্যমে “রায়ের কপি ছিঁড়ে ফেলার অভিযোগ” শিরোনামে সংবাদ প্রকাশ করায় ক্ষোভ ও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন মামলার বাদী সনিয়া আফরিন (কাজল)। তিনি দাবি করেছেন, বিষয়টি সম্পূর্ণ মিথ্যা, বানোয়াট ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত — যা মামলার সঠিক বিচার প্রক্রিয়াকে প্রভাবিত করতে পারে।

সোমবার (৩ নভেম্বর) দুপুরে শরীয়তপুরের চিকন্দী ফুডপার্কে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব অভিযোগ তুলে ধরেন বাদী সনিয়া আফরিন (কাজল)।

সংবাদ সম্মেলনে সনিয়া আফরিন বলেন,
“গত ২৬ অক্টোবরসহ সম্প্রতি মামলার রায়ের কপি ছিঁড়ে ফেলা নিয়ে কয়েকটি সংবাদ প্রকাশ হয়েছে। এই সংবাদগুলো একেবারেই মিথ্যা, বিভ্রান্তিকর ও মানহানিকর। আমার মামলাটি এখনো বিচারাধীন। রায় ঘোষণা হয়নি। তাহলে রায়ের কপি ছিঁড়ে ফেলার প্রশ্নই ওঠে না।”

তিনি আরও বলেন, “আমার পৈত্রিক সম্পত্তি নিয়ে ২০২১ সালে ভেদরগঞ্জ সিনিয়র সহকারী জজ আদালতে ১৬৭/২০২১ নং দেওয়ানি মোকাদ্দমা দায়ের করি। মামলাটি চলমান অবস্থায় আমি জানতে পারি, তৎকালীন বিচারক মো. আরিফুল ইসলাম বিবাদীপক্ষের কাছ থেকে আর্থিক সুবিধা গ্রহণের বিষয়ে সমঝোতা করেছেন বলে অভিযোগ উঠে। এরপর ন্যায়বিচারের স্বার্থে আমি মামলাটি অন্য আদালতে স্থানান্তরের আবেদন করি।”

সনিয়া আফরিনের সেই আবেদনের পর বিজ্ঞ জেলা জজ মামলাটি নড়িয়া সিনিয়র সহকারী জজ আদালতে প্রেরণ করেন। সেখানে মামলাটি ২৯৬/২০২৫ নং হিসেবে পুনরায় রেজিস্ট্রি হয়। বর্তমানে মামলাটি নড়িয়া আদালতে শুনানি ও সাক্ষ্যগ্রহণ পর্যায়ে রয়েছে।

তিনি প্রশ্ন তুলে বলেন, “যে মামলার রায়ই হয়নি, সেই মামলার রায়ের কপি ছিঁড়ে ফেলা হলো কীভাবে? এই ধরনের সংবাদ প্রকাশের ফলে আমার মামলার সঠিক বিচারের প্রক্রিয়া ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। একই সঙ্গে আমার ব্যক্তিগত ও পারিবারিক মানহানি ঘটেছে।”

সনিয়া আফরিন (কাজল) আরও বলেন, “আমি বিশ্বাস করি, গণমাধ্যম সমাজের দর্পণ। কিন্তু যাচাই-বাছাই না করে ভুল তথ্য প্রকাশ করলে সেটি শুধু ব্যক্তি নয়, বিচারব্যবস্থার প্রতিও অন্যায়। আমি চাই, মিডিয়া সত্য যাচাই করে দায়িত্বশীলতার সঙ্গে সংবাদ প্রকাশ করুক।”

বিষয়টি নিয়ে বাদীপক্ষের আইনজীবী মহিউদ্দিন মোল্লা (শাহীন) বলেন,
“১৬৭/২০২১ নং মামলাটি প্রথমে ভেদরগঞ্জ আদালতে ছিল। পরে ২০২৪ সালে আমি ন্যায়বিচারের স্বার্থে মামলাটি ট্রান্সফার করে নড়িয়া আদালতে আনি। বর্তমানে মামলাটি বিবাদীপক্ষের সাক্ষ্যগ্রহণ পর্যায়ে রয়েছে। এই ধাপ শেষে আর্গুমেন্ট হবে, তারপর রায়। এখন পর্যন্ত মামলার কোনো রায় ঘোষণা হয়নি। তাই গণমাধ্যমে প্রকাশিত রায়ের কপি ছেঁড়ার খবর সম্পূর্ণ অসত্য।”

অন্যদিকে বিবাদীপক্ষের আইনজীবী আনোয়ার হোসেন খান বলেন,
“মামলাটি ২০২১ সাল থেকে আমার মাধ্যমে পরিচালিত হচ্ছে। বছরখানেক আগে ফাইল হাইকোর্টে গিয়েছে। মামলাটি এখনো সাক্ষ্যগ্রহণ পর্যায়ে রয়েছে। তাই রায় হওয়া বা কপি ছেঁড়ার প্রশ্নই ওঠে না।”

মামলাটি নিয়ে এমন বিভ্রান্তিকর সংবাদ প্রকাশে বাদী পক্ষ ন্যায়বিচার প্রক্রিয়ায় বিঘ্ন ঘটার আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন। সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে সনিয়া আফরিন আদালত ও প্রশাসনের কাছে আবেদন জানিয়েছেন যেন এই বিষয়ে যথাযথ তদন্ত ও আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হয়, যাতে ভবিষ্যতে বিচারাধীন কোনো মামলার বিষয়ে বিভ্রান্তিকর সংবাদ প্রকাশের মতো ঘটনা আর না ঘটে।

তিনি বলেন, “আমি আদালতে এসেছি ন্যায়বিচার পেতে। বিচারাধীন কোনো মামলার বিষয়ে মিথ্যা সংবাদ প্রকাশ শুধু একজন বাদীকে নয়, পুরো বিচার ব্যবস্থাকেই প্রশ্নবিদ্ধ করে। আমি আদালতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল এবং সঠিক বিচারের অপেক্ষায় আছি।”