Dhaka , Friday, 8 May 2026
নিবন্ধন নাম্বারঃ ১১০, সিরিয়াল নাম্বারঃ ১৫৪, কোড নাম্বারঃ ৯২
শিরোনাম ::
লক্ষ্মীপুরে বজ্রপাতে কোরআনে হাফেজার মৃত্যু সৌদি আরবে নিহত দুর্গাপুরের শ্রমিক আল আমিনের মরদেহ দেশে আনতে উদ্যোগ নিলেন ডেপুটি স্পিকার পাইকগাছায় খালে অবৈধ নেট পাটা অপসারণে প্রশাসনের অভিযান চট্টগ্রামের কর্মমুখী শিক্ষার মান উন্নয়নে কসোভোর সাথে কাজ করতে চান চসিক মেয়র ডা. শাহাদাত এসডিএফ-এ চরম অস্থিরতা: চেয়ারম্যান ও এমডির পদত্যাগ দাবিতে কর্মকর্তাদের কর্মবিরতি শেরপুরের ঝিনাইগাতীতে বনখেকুদের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ সমাবেশ রামুর খুনিয়া পালংয়ের মাদককারবারী আরিফ চট্টগ্রাম শহরে ইয়াবাসহ আটক পাঁচবিবির নবাগত ইউএনওর মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত পানি উন্নয়ন বোর্ডের ক্যানেল অপরিষ্কার ও খাল ভরাটের কারণে রূপগঞ্জে জলাবদ্ধতায় ভোগান্তিতে সাধারণ মানুষ ও টেক্সটাইল মালিক। কুড়িগ্রাম সীমান্তে ১৫ বিজিবি’র বড় সাফল্য: জব্দকৃত প্যান্ট পিসের বাজারমূল্য ৩০ লাখ টাকা কালীগঞ্জ ও তারাগঞ্জে পরিবেশ অধিদপ্তরের অভিযান: পরিবেশ বিধ্বংসী ইটভাটায় র‍্যাবের হানা রূপগঞ্জে নিরাপদ খাদ্য রপ্তানির লক্ষ্যে পার্টনার কংগ্রেস অনুষ্ঠিত ঝালকাঠি সদরে হাম-রুবেলার প্রাদুর্ভাব: চিকিৎসা নিয়েছে ৭৩, বাড়ছে নতুন ভর্তি স্মার্টফোনে জুয়া খেলায় যুবকের জেল-জরিমানা দুর্গাপুরে ধান পাহাড়া দিয়ে বাড়ি ফেরা হলো না যুবকের, হাতি কেড়ে নিল প্রাণ মহেশখালীতে অস্ত্র ও গোলাবারুদসহ জমির বাহিনীর প্রধান জলদস্যু জমিরকে আটক করেছে কোস্ট গার্ড চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের মাসিক কল্যাণ সভা অনুষ্ঠিত চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের মাসিক অপরাধ পর্যালোচনা সভা অনুষ্ঠিত রামুতে কৃষক কৃষাণীদের নিয়ে পার্টনার ফিল্ড স্কুল কংগ্রেস অনুষ্ঠিত নোয়াখালীতে ছাত্রদলের বিশাল শোভাযাত্রা, নেতৃত্বে নতুন উদ্দীপনা চবিতে ছাত্র অধিকার পরিষদের নতুন কমিটি, নেতৃত্বে রোমান-সবুজ  পাইকগাছায় বিপুল পারশে পোনা জব্দ; শিবসা নদীতে অবমুক্ত নরসিংদী সংঘবদ্ধ চক্রের চার সদস্য গ্রেফতার করেছে ডিবি নিরাপদ খাদ্য উৎপাদনের বার্তা নিয়ে পাঁচবিবিতে কৃষি কংগ্রেস লক্ষ্মীপুরে স্ত্রীর দেওয়া শর্ত মানতে না পেরে স্বামীর আত্মহত্যা নোয়াখালীতে সিএনজি ধাক্কায় প্রাণ গেল এসএসসি পরীক্ষার্থীর নোয়াখালীতে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে শিক্ষার্থীর মৃত্যু নিরাপত্তাহীন শাটল যাত্রা: পাথরের আঘাতে অল্পের জন্য প্রাণে বাঁচলেন চবি ছাত্রী  মসজিদের তালা ভেঙে দানবাক্সের টাকা লুট সাংবাদিক জি.কে. রাসেলের বিরুদ্ধে অসত্য, উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বানোয়াট সংবাদের প্রতিবাদ ও নিন্দা

বিসর্জনের পর প্রতিমা পুনরুদ্ধারে ব্যস্ত সুন্দরগঞ্জের মালাকাররা

  • Reporter Name
  • আপডেট সময় : 06:53:50 pm, Wednesday, 8 October 2025
  • 97 বার পড়া হয়েছে

Oplus_131072

হযরত বেল্লাল, বেল্লাল, সুন্দরগঞ্জ (গাইবান্ধা) প্রতিনিধি:
দুর্গাপূজার উৎসব শেষ হয়েছে কয়েকদিন আগে। ঢাকের বাদ্য, আরতির আলো, সিঁদুরখেলা সব মিলিয়ে শেষ হয়েছে আনন্দোৎসবের মহোৎসব। দেবী দূর্গা ফিরে গেছেন কৈলাসে, কিন্তু গ্রামের মালাকারদের (মৃৎশিল্পীদের) ব্যস্ততা এখনো থামেনি। কারণ, বিসর্জনের পরই শুরু হয় তাদের আরেক গুরুত্বপূর্ণ কাজ প্রতিমা পুনরুদ্ধার ও মেরামতের প্রক্রিয়া।
গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় বর্তমানে দেখা যাচ্ছে এক ভিন্ন চিত্র। নদী, খাল ও পুকুরে বিসর্জন দেওয়া প্রতিমার কাঠামো ও মাটির অংশগুলো নৌকা, বাঁশ, রশি ও জাল দিয়ে সংগ্রহ করছেন স্থানীয় মালাকাররা। ভাসমান খড়, বাঁশ, কাঠ ও প্রতিমার ভগ্নাংশ তারা ঘাটে এনে আলাদা করে শুকোতে দিচ্ছেন রোদে।
স্থানীয় মৃৎশিল্পী নিতাই মালাকার বলেন,
দুর্গাপূজা শেষ মানেই আমাদের কাজের বিরতি নয়। বরং এখনই আমাদের কাজের শুরু। আমরা বিসর্জিত প্রতিমার কাঠামো তুলে এনে পরিষ্কার করি, শুকিয়ে রাখি। আগামী বছর নতুন প্রতিমা গড়তে এসব কাঠামোই কাজে লাগে।
তিনি আরও বলেন, এভাবে করলে খরচ কম হয়, সময়ও বাঁচে। কাঠামোটা ঠিক থাকলে শুধু মাটি ও রঙের কাজ করলেই চলে।
মৃৎশিল্পীরা এখন পুরুদ্ধারেরর কাজে ভরপুর ব্যস্ততা। কেউ বাঁশ কেটে কাঠামো শক্ত করছেন, কেউ খড় গুছিয়ে রাখছেন, আবার কেউ শুকনো মাটি ভেঙে মিহি করে পরবর্তী বছরের ব্যবহারের জন্য রাখছেন। চারপাশে ছড়িয়ে আছে ভেজা মাটির গন্ধ, শুকোতে থাকা খড়ের স্তূপ আর শ্রমে ভরা মুখগুলো।
প্রতিমা বিসর্জনের সময় যেমন ভক্তদের চোখে জল থাকে, ঠিক তেমনি কয়েকদিন পর সেই প্রতিমাই আবার ফিরে আসে শিল্পীদের হাতে। মালাকার জানান, এই প্রতিমাগুলোর কাঠামো কিন্তু একেবারে ফেলে দেওয়া হয় না। মাটির অংশ খুলে ফেলে আমরা কাঠ, বাঁশ, খড় ইত্যাদি শুকিয়ে রেখে দিই। এরপর আগামী বছর সেই কাঠামোর উপর আবার নতুন করে মাটি লাগিয়ে নতুন প্রতিমা তৈরি করা হয়।
স্থানীয় বাসিন্দা তাপস মহন্ত বলেন, বিসর্জনের পর মালাকারদের এমন পরিশ্রম সত্যিই প্রশংসনীয়। তারা শুধু প্রতিমা তৈরি করেন না, একধরনের ঐতিহ্য ও সংস্কৃতিকে টিকিয়ে রাখছেন।
প্রতিমা পুনরুদ্ধারের এই প্রক্রিয়া কেবল অর্থনৈতিক নয়, ধর্মীয় ভক্তিরও প্রতিফলন। ভাঙা প্রতিমার কাঠামোর মধ্যেই শিল্পীরা খুঁজে পান নতুন সৃষ্টির অনুপ্রেরণা।
এ সময় চারদিকে দেখা যায় কর্মব্যস্ততার মনোমুগ্ধকর দৃশ্য কেউ প্রতিমার দড়ি টানছেন, কেউ কাঠামো শুকাচ্ছেন, কেউ আবার রঙ ও অলংকার খুলে নিচ্ছেন। শিশু-কিশোররা কৌতূহল নিয়ে পাশে দাঁড়িয়ে দেখছে প্রিয় দেবীর পুনর্জন্মের সূচনা।
মৃৎশিল্পীদের ভাষায়, এই সময়টাই পরবর্তী পূজার প্রস্তুতির শুরু। তাদের পরিশ্রম, দক্ষতা ও ধর্মীয় ভক্তির মেলবন্ধনে সৃষ্টি হয় নতুন জীবনের প্রতিমা যা আগামী বছরের দুর্গাপূজায় আবারও পূজিত হবে ভক্তিমন্দিরে।

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

লক্ষ্মীপুরে বজ্রপাতে কোরআনে হাফেজার মৃত্যু

বিসর্জনের পর প্রতিমা পুনরুদ্ধারে ব্যস্ত সুন্দরগঞ্জের মালাকাররা

আপডেট সময় : 06:53:50 pm, Wednesday, 8 October 2025
হযরত বেল্লাল, বেল্লাল, সুন্দরগঞ্জ (গাইবান্ধা) প্রতিনিধি:
দুর্গাপূজার উৎসব শেষ হয়েছে কয়েকদিন আগে। ঢাকের বাদ্য, আরতির আলো, সিঁদুরখেলা সব মিলিয়ে শেষ হয়েছে আনন্দোৎসবের মহোৎসব। দেবী দূর্গা ফিরে গেছেন কৈলাসে, কিন্তু গ্রামের মালাকারদের (মৃৎশিল্পীদের) ব্যস্ততা এখনো থামেনি। কারণ, বিসর্জনের পরই শুরু হয় তাদের আরেক গুরুত্বপূর্ণ কাজ প্রতিমা পুনরুদ্ধার ও মেরামতের প্রক্রিয়া।
গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় বর্তমানে দেখা যাচ্ছে এক ভিন্ন চিত্র। নদী, খাল ও পুকুরে বিসর্জন দেওয়া প্রতিমার কাঠামো ও মাটির অংশগুলো নৌকা, বাঁশ, রশি ও জাল দিয়ে সংগ্রহ করছেন স্থানীয় মালাকাররা। ভাসমান খড়, বাঁশ, কাঠ ও প্রতিমার ভগ্নাংশ তারা ঘাটে এনে আলাদা করে শুকোতে দিচ্ছেন রোদে।
স্থানীয় মৃৎশিল্পী নিতাই মালাকার বলেন,
দুর্গাপূজা শেষ মানেই আমাদের কাজের বিরতি নয়। বরং এখনই আমাদের কাজের শুরু। আমরা বিসর্জিত প্রতিমার কাঠামো তুলে এনে পরিষ্কার করি, শুকিয়ে রাখি। আগামী বছর নতুন প্রতিমা গড়তে এসব কাঠামোই কাজে লাগে।
তিনি আরও বলেন, এভাবে করলে খরচ কম হয়, সময়ও বাঁচে। কাঠামোটা ঠিক থাকলে শুধু মাটি ও রঙের কাজ করলেই চলে।
মৃৎশিল্পীরা এখন পুরুদ্ধারেরর কাজে ভরপুর ব্যস্ততা। কেউ বাঁশ কেটে কাঠামো শক্ত করছেন, কেউ খড় গুছিয়ে রাখছেন, আবার কেউ শুকনো মাটি ভেঙে মিহি করে পরবর্তী বছরের ব্যবহারের জন্য রাখছেন। চারপাশে ছড়িয়ে আছে ভেজা মাটির গন্ধ, শুকোতে থাকা খড়ের স্তূপ আর শ্রমে ভরা মুখগুলো।
প্রতিমা বিসর্জনের সময় যেমন ভক্তদের চোখে জল থাকে, ঠিক তেমনি কয়েকদিন পর সেই প্রতিমাই আবার ফিরে আসে শিল্পীদের হাতে। মালাকার জানান, এই প্রতিমাগুলোর কাঠামো কিন্তু একেবারে ফেলে দেওয়া হয় না। মাটির অংশ খুলে ফেলে আমরা কাঠ, বাঁশ, খড় ইত্যাদি শুকিয়ে রেখে দিই। এরপর আগামী বছর সেই কাঠামোর উপর আবার নতুন করে মাটি লাগিয়ে নতুন প্রতিমা তৈরি করা হয়।
স্থানীয় বাসিন্দা তাপস মহন্ত বলেন, বিসর্জনের পর মালাকারদের এমন পরিশ্রম সত্যিই প্রশংসনীয়। তারা শুধু প্রতিমা তৈরি করেন না, একধরনের ঐতিহ্য ও সংস্কৃতিকে টিকিয়ে রাখছেন।
প্রতিমা পুনরুদ্ধারের এই প্রক্রিয়া কেবল অর্থনৈতিক নয়, ধর্মীয় ভক্তিরও প্রতিফলন। ভাঙা প্রতিমার কাঠামোর মধ্যেই শিল্পীরা খুঁজে পান নতুন সৃষ্টির অনুপ্রেরণা।
এ সময় চারদিকে দেখা যায় কর্মব্যস্ততার মনোমুগ্ধকর দৃশ্য কেউ প্রতিমার দড়ি টানছেন, কেউ কাঠামো শুকাচ্ছেন, কেউ আবার রঙ ও অলংকার খুলে নিচ্ছেন। শিশু-কিশোররা কৌতূহল নিয়ে পাশে দাঁড়িয়ে দেখছে প্রিয় দেবীর পুনর্জন্মের সূচনা।
মৃৎশিল্পীদের ভাষায়, এই সময়টাই পরবর্তী পূজার প্রস্তুতির শুরু। তাদের পরিশ্রম, দক্ষতা ও ধর্মীয় ভক্তির মেলবন্ধনে সৃষ্টি হয় নতুন জীবনের প্রতিমা যা আগামী বছরের দুর্গাপূজায় আবারও পূজিত হবে ভক্তিমন্দিরে।