
নাদিম সরকার,
ট্রেনে যাত্রী হয়রানি ও প্রতারণা এড়াতে বাংলাদেশ রেলওয়ের নির্ধারিত অ্যাপ ব্যবহার করে যাত্রীদের টিকেট ক্রয়ের পরামর্শ দিয়েছে রেল কর্তৃপক্ষ।
আগামী ১ ও ২ অক্টোবর সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সর্ববৃহদ ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে সরকারি ছুটি। সেই সাথে ৩ ও ৪ অক্টোবর সাপ্তাহিক ছুটি যোগ হয়ে টানা চার দিন ছুটি উপভোগ করার সুযোগ পাচ্ছে সরকারি কর্মচারীগণ। এই লম্বা ছুটিতে ট্রেনযাত্রায় বিপুল চাহিদার প্রেক্ষিতে কিছু অসাধু ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান টিকেট কালোবাজারি করতে পারে। ক্ষেত্র বিশেষে তারা বিভিন্ন আইডি থেকে ক্রয়কৃত টিকেট বেআইনিভাবে বিভিন্ন মাধ্যমে বিক্রির চেষ্টা করতে পারে। এতে যাত্রী সাধারণের হয়রানি ও প্রতারণার শিকার হবার সম্ভাবনা রয়েছে। এজন্য বাংলাদেশ রেলওয়ের নির্ধারিত অ্যাপ (রেল সেবা) ব্যবহার করে টিকেট ক্রয়ের পরামর্শ দিয়েছে রেলপথ মন্ত্রণালয় ও বাংলাদেশ রেলওয়ে।
উল্লেখ্য যে, বাংলাদেশ রেলওয়ের রেজিস্টার্ড একটি আইডি থেকে একক যাত্রায় সর্বোচ্চ চারটি টিকেট ক্রয় করা যায়। এক্ষেত্রে আইডিধারী ব্যক্তির সহযাত্রীদের নামও ইনপুট দেওয়ার ব্যবস্থা রয়েছে। বর্তমানে ট্রেনের শতভাগ টিকেট অনলাইনে বিক্রয় করা হচ্ছে। বাংলাদেশ রেলওয়ের নির্ধারিত অ্যাপ (রেল সেবা) ব্যতিত অন্য কোথাও ট্রেনের টিকেট বিক্রয় করা হচ্ছে না। কোন যাত্রী বাংলাদেশ রেলওয়ের নির্ধারিত অ্যাপ (রেল সেবা) ব্যতিত অন্য কোন ব্যাক্তি, প্রতিষ্ঠান বা স্থান থেকে টিকেট ক্রয় করলে তিনি নিশ্চিতভাবে প্রতারিত হবেন।
বাংলাদেশ রেলওয়ের নিয়ম অনুযায়ী যে ব্যক্তির আইডি ব্যবহার করে টিকেট ক্রয় করা হবে ঐ ব্যক্তির সংশ্লিষ্ট মোবাইল ফোন ও আইডিধারী ব্যক্তির ফটো সম্বলিত আইডি কার্ডসহ তাকে ভ্রমন করতে হবে। আইডিধারী ব্যক্তি ও টিকেটে উল্লিখিত সহযাএী ব্যতীত অন্য কেউ ভ্রমন করতে পারবেন না। কোন ব্যক্তি নিজের আইডি ব্যতিত অন্য কারো আইডি ব্যবহার করে ক্রয়কৃত টিকেটে ভ্রমণ করতে চাইলে তার বিরুদ্ধে বাংলাদেশ রেলওয়ের সংশ্লিষ্ট বিধি মোতাবেক আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
কোন প্রতারকচক্র বা কালোবাজারী এরূপ অন্যের নামে বা অন্য কারো আইডি ব্যবহার করে ক্রয়কৃত টিকেট কারো নিকট বিক্রির চেষ্টা করলে তাকে আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাছে সোপর্দ করার জন্য অথবা বাংলাদেশ রেলওয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাকে অবহিত করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে যাত্রী সাধারণকে বাংলাদেশ রেলওয়ে নিরাপত্তা বাহিনী (আরএনবি) ও রেলওয়ে পুলিশ (জিআরপি) এর সহায়তা গ্রহণেরও পরামর্শ প্রদান করা হয়েছে। তাছাড়া বাংলাদেশ রেলওয়ের হটলাইন ১৩১ নম্বরে ডায়াল করে এ ব্যাপারে অভিযোগ জানানোর ব্যবস্থা রয়েছে। সকল ক্ষেত্রে অভিযোগকারীর পরিচয় গোপন রাখা হবে।

























