
শওকত আলম, কক্সবাজার:
শারদীয় দুর্গাপূজা শুরুর আগেই বিশ্বের দীর্ঘতম সমুদ্র সৈকত কক্সবাজারে পর্যটকের ঢল নেমেছে। শুক্রবার সকাল থেকেই সৈকতের বিভিন্ন পয়েন্টে হাজারো পর্যটকের সমাগমে মুখরিত হয়ে ওঠে সমুদ্র নগরী। হোটেল-মোটেল ও গেস্টহাউসগুলোতে আগাম বুকিং বেড়ে যাওয়ায় পর্যটন ব্যবসায়ীরা ব্যস্ত সময় পার করছেন।
পর্যটকরা জানাচ্ছেন, দীর্ঘ কর্মব্যস্ততা শেষে প্রিয়জনদের নিয়ে সমুদ্রের টানে ছুটে এসেছেন তারা। ঢাকা থেকে আগত এক পর্যটক বলেন, “দুর্গাপূজার ছুটি সামনে, তাই পরিবার নিয়ে কক্সবাজারে এসেছি। এখানে এসে সত্যিই অন্যরকম আনন্দ পাচ্ছি।”
চট্টগ্রাম থেকে আসা আরেক পর্যটক বলেন, “পূজার আমেজের সঙ্গে সমুদ্রের সৌন্দর্য উপভোগ করতে চাই। নিরাপত্তা ও পরিবেশ ভালো থাকায় আমরা খুব স্বাচ্ছন্দ্যে ঘুরছি।”
অন্যদিকে হোটেল-মোটেল ব্যবসায়ীরাও বাড়তি পর্যটক সমাগমে আশাবাদী। কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতের কলাতলী পয়েন্টের এক হোটেল মালিক বলেন, “গত কয়েকদিন থেকেই বুকিং বেড়েছে। সামনে পূজার ছুটিতে সব কক্ষ ভরে যাবে বলে আমরা আশা করছি।”
আরেক হোটেল কর্মকর্তা জানান, “পূজা উপলক্ষে পর্যটকদের ভিড় আমাদের ব্যবসায় নতুন প্রাণ দিয়েছে। আমরা নিরাপদ ও আরামদায়ক সেবা দেওয়ার জন্য প্রস্তুত।”
দুর্গাপূজার সরকারি ছুটি সামনে রেখে আগামী কয়েকদিন পর্যটকের সংখ্যা আরও বৃদ্ধি পাবে বলে আশা করা হচ্ছে। এতে স্থানীয় অর্থনীতিতেও নতুন গতি সঞ্চার হবে। পর্যটকদের নিরাপত্তা ও সেবায় প্রশাসন, পুলিশ ও ব্যবসায়ীরা একযোগে কাজ করছে।
এদিকে, আগামীকাল শনিবার (২৭ সেপ্টেম্বর) থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হচ্ছে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজা। দেবী দুর্গার বোধনের মধ্য দিয়ে শুরু হবে এ মহোৎসব। পঞ্জিকা অনুযায়ী, মহাষষ্ঠী দিয়ে পূজার সূচনা হলেও মূল উৎসব চলবে মহাসপ্তমী, মহাঅষ্টমী ও মহানবমীতে। আর বিজয়া দশমীতে প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে ২ অক্টোবর সমাপ্ত হবে দুর্গাপূজা।
দেশজুড়ে মণ্ডপে মণ্ডপে প্রতিমা নির্মাণ ও সাজসজ্জার কাজ শেষ পর্যায়ে, চলছে শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি। পূজাকে ঘিরে সনাতন ধর্মাবলম্বীসহ সর্বস্তরের মানুষের মধ্যে উৎসবের আমেজ ছড়িয়ে পড়েছে। শান্তিপূর্ণ পরিবেশে পূজা উদযাপনে প্রশাসনও বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়েছে।

























