Dhaka , Wednesday, 22 April 2026
নিবন্ধন নাম্বারঃ ১১০, সিরিয়াল নাম্বারঃ ১৫৪, কোড নাম্বারঃ ৯২
শিরোনাম ::
আড়াইহাজারে স্বামীর সাথে ঝগড়া করে স্ত্রীর আত্মহত্যা আড়াইহাজারে দুই বাড়ীতে ডাকাতি, আহত ২ মধুপুরে জমি সংক্রান্ত বিরোধে মারধরের প্রতিবাদে মানববন্ধন সিএমপির ডিবি-পশ্চিম’র বিশেষ অভিযানে বিদেশি রিভলবার ও গুলি উদ্ধার, গ্রেফতার ১ চট্টগ্রামের জলাবদ্ধতা এবার ৭০-৮০ শতাংশ কমবে:- মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন সংশ্লিষ্টদের সেবকের ভূমিকা পালন করতে হবে:- ভূমি ভবন পরিদর্শনে ভূমি প্রতিমন্ত্রী মীর হেলাল পদ্মার চরাঞ্চলে পুলিশের ওপর হামলা- পাঁচ পুলিশ সদস্য আহত- আসামি ছিনতাই। সরাইল বিজিবির অভিযানে বিপুলপরিমাণ মাদক আটক বস্ত্রখাতকে আধুনিকায়নের মাধ্যমে দেশে সম্ভাবনার উন্মোচন হবে : শরীফুল আলম মেঘনায় জোয়ারের পানিতে ভেসে এলো অজ্ঞাত যুবকের মরদেহ বেতাগীতে সুষ্ঠু পরিবেশে এসএসসি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত কার্টুন শেয়ার ইস্যুতে গ্রেপ্তার অ্যাক্টিভিস্ট হাসান নাসিমের মুক্তির দাবিতে রাজু ভাস্কর্যে ছাত্রশক্তির মানববন্ধন টেকনাফে পাহাড় থেকে তিন যুবকের গলাকাটা মরদেহ উদ্ধার “মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করতে নকলমুক্ত পরিবেশ গড়তে হবে” :- মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন কোচবিহারে লোকসভা ভোট: বুড়িমারী সীমান্তে বাণিজ্যিক কার্যক্রমে চার দিনের বিরতি কুলাঘাট সীমান্তে ১৫ বিজিবির কড়াকড়ি: মোটরসাইকেল ফেলে পালাল মাদক পাচারকারীরা লালমনিরহাটে মাদকের প্রতিবাদ করায় নারী লাঞ্ছিত: পাল্টা মামলায় ঘরছাড়া ভুক্তভোগী পরিবার শ্রীপুরে ক্ষুদে খেলোয়াড়ের মাঝে জার্সি ও প্যান্ট বিতরণ করলেন ছাত্রদল নেতা ফতুল্লায় মসজিদের ছাদ থেকে পড়ে শিশুর মৃত্যু গাজীপুরে হাম-রুবেলা টিকাদান ক্যাম্পেইন উদ্বোধন দুর্গাপুরে ৩ ধর্মের প্রতিনিধি উদ্বোধন করলেন খালখনন কর্মসূচি পাইকগাছায় হাম-রুবেলা টিকাদানের উদ্বোধন; প্রায় ২১ হাজার শিশুকে টিকার লক্ষ্যমাত্রা পাইকগাছায় পানি পরীক্ষা ল্যাবের উদ্বোধন শ্রীপুরে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট ছাত্রদল নেতার মৃত্যু মনোনয়ন না পেয়েও থেমে নেই—নেতৃত্বের পথে নতুন লক্ষ্য, মেয়র নির্বাচনে চোখ আদিতমারীতে র‍্যাবের ঝটিকা অভিযান: বেগুন ক্ষেতের মাটির নিচে মিলল ২০০ বোতল মাদক পলাশে শিক্ষার্থীর ধর্ষকদের দ্রুত গ্রেফতার ও শাস্তির দাবীতে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত উচ্ছেদের পরও নিয়ন্ত্রণহীন দখল—গুলিস্তানে ফের সড়ক-ফুটপাত দখলে হকারদের দাপট হরিপুরে বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিটে অগ্নিকাণ্ডে ৮টি ঘর পুড়ে ছাই, এএসআই সামিউল ইসলামের মানবিক সহায়তা রূপগঞ্জে জমি বিরোধকে কেন্দ্র করে ভাঙচুর ও বিধবার ৭দোকানে তালা

ত্রিশালে আবুল মনসুর আহমদ-এর ১২৩ তম জন্মবার্ষিকীতে স্মরণ সভা ও দোয়া মাহফিল

  • Reporter Name
  • আপডেট সময় : 07:52:04 pm, Friday, 3 September 2021
  • 514 বার পড়া হয়েছে

ত্রিশালে আবুল মনসুর আহমদ-এর ১২৩ তম জন্মবার্ষিকীতে স্মরণ সভা ও দোয়া মাহফিল

 

মোঃ আসাদুল ইসলাম মিন্টু

ত্রিশাল (ময়মনসিংহ) প্রতিনিধি।।

ময়মনসিংহের ত্রিশালে জন্মগ্রহণকারী উপমহাদেশের কিংবদন্তি ব্যক্তিত্ব, সাহিত্যিক, সাংবাদিক এবং রাজনীতিবীদ আবুল মনসুর আহমদ-এর ১২৩তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে সঞ্জীবন যুব সংস্থা ও আবুল মনসুর আহমদ পাঠাগার-এর আয়োজনে স্মরণ সভা ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে।
আজ ০৩সেপ্টেম্বর ২০২১ শুক্রবার বিকেলে ত্রিশাল প্রেসক্লাবের সভাপতি ও আবুল মনসুর আহমদ-জন্মজয়ন্তী উদযাপন পরিষদের আহ্বায়ক মুহাম্মদ আলমগীর কবীরের সভাপতিত্ব করেন।
প্রধান অতিথি ছিলেন ত্রিশালের প্রবীণ রাজনীতিবিদ জনাব ফজলে রাব্বী।
প্রধান আলোচক ছিলেন জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ফোকলোর বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক বাকী বিল্লাহ। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন আবুল মনসুর আহমদ-এর নাতি ও ডেইলি স্টার পত্রিকার সিনিয়র এক্সিকিউটিভ রায়হান ফরাজী।
আলোচনায় অংশ নেন জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের জমিদাতা সমিতির সাবেক সভাপতি ও সাবেক ব্যাংকার জনাব আলতাব হোসেন , বিশিষ্ট কবি রিয়েল আব্দুল্লাহ , আবুল মনসুর আহমদ পাঠাগারের প্রধান উপদেষ্টা রঘুনাথ ভাস্কর , বাগান ইসলামিয়া আলিম মাদ্রাসার অধ্যক্ষ আনোয়ার সাদত জাহাঙ্গীর , বিচ্যুতি বেপারীর বাড়ির বংশধর আব্দুল আউয়াল প্রমুখ।
অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন সঞ্জীবন যুব সংস্থার সভাপতি ফাহিম আহমেদ মন্ডল ।
আবুল মনসুর আহমদ-এর সংক্ষিপ্ত জীবনীঃ
(১৮৯৮-১৯৭৯) সাংবাদিক, আইনজীবী, রাজনীতিবিদ, সাহিত্যিক। তাঁর জন্ম ১৮৯৮ সালে ময়মনসিংহ জেলার ত্রিশাল উপজেলার ধানীখোলা গ্রামে। পিতার নাম আবদুর রহিম ফরায়জী এবং মাতার নাম মীর জাহান বেগম। তিনি ১৯১৭ সালে নাসিরাবাদ মৃত্যুঞ্জয় বিদ্যালয় থেকে ম্যাট্রিক, ১৯১৯ সালে ঢাকার জগন্নাথ কলেজ থেকে আই.এ এবং ১৯২১ সালে ঢাকা কলেজ থেকে বি.এ পাস করেন। এরপর তিনি ১৯২৬ থেকে ১৯২৯ সাল পর্যন্ত কলকাতা রিপন ল’ কলেজে আইন বিষয়ে পড়াশোনা করেন এবং বি.এল পাস করেন। এ বছরেই তিনি ময়মনসিংহে আইন পেশা শুরু করেন এবং সেখানে তিনি ১৯৩৮ সাল পর্যন্ত তাঁর পেশায় নিয়োজিত থাকেন।
আবুল মনসুর আহমদ একজন পেশাদার সাংবাদিক ছিলেন। তিনি যে সকল সাময়িক পত্রিকায় কাজ করেন, সেগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য সোলতান, মোহাম্মদী, দি মুসলমান, কৃষক, নবযুগ ও ইত্তেহাদ। তিনি সাপ্তাহিক সোলতান ও মোহাম্মদীর সহকারী সম্পাদক ছিলেন (১৯২৩-১৯২৬)। তিনি দি মুসলমান পত্রিকায় সাংবাদিকতা করেন ১৯২৬ থেকে ১৯২৯ সাল পর্যন্ত।
আবুল মনসুর ১৯৩৮ সালের ডিসেম্বর মাসে দৈনিক কৃষক পত্রিকার সম্পাদক নিযুক্ত হন। তিনি ১৯৪১ সালের অক্টোবর মাসে নবযুগ পত্রিকার সম্পাদনা বিভাগে চাকরি লাভ করেন।
এ ছাড়াও তিনি ১৯৪৬ থেকে ১৯৪৮ সাল পর্যন্ত দৈনিক ইত্তেহাদ পত্রিকার সম্পাদক এর দায়িত্ব পালন করেন।
রাজনীতিতেও আবুল মনসুর আহমদ এর ভূমিকা বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। তিনি খিলাফত ও অসহযোগ আন্দোলনে সক্রিয় অংশগ্রহণ করেন। তাঁর রাজনৈতিক জীবন খিলাফত ও অসহযোগ আন্দোলনে যোগদানের মধ্য দিয়ে শুরু হলেও তিনি এ আন্দোলনের বাস্তবতা সম্পর্কে বেশ সন্দিহান ছিলেন।
একটি অভারতীয় বিষয়কে কেন্দ্র করে সর্বভারতীয় পর্যায়ে আন্দোলন এবং সে আন্দোলনে গান্ধীর অসহযোগ-এর ডাক ও স্বরাজ আদায়ের লক্ষ্য সম্পর্কে আবুল মনসুর আহমদ তেমন একটা খুশি ছিলেন না। তিনি গান্ধীর এ পদক্ষেপকে অবাস্তব মনে করেছেন।
কংগ্রেস দলের সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকা সত্ত্বেও তিনি ছিলেন কেন্দ্রীয় কংগ্রেস নীতির বিরুদ্ধে। তিনি চিত্তরঞ্জন দাশ এর (১৮৭০-১৯২৫) স্বরাজ্য পার্টির রাজনীতি সমর্থন করেন এবং ১৯২৩ সালের বেঙ্গল প্যাক্ট এর মাধ্যমে হিন্দু-মুসলমান সম্প্রীতির যে প্রচেষ্টা চলে সে ব্যাপারে উৎসাহী ছিলেন। এর পর ১৯২৯ সালে আবুল মনসুর বাংলার প্রজা পার্টিতে যোগ দেন এবং ময়মনসিংহ জেলায় দক্ষতার সঙ্গে কৃষক প্রজা সমিতি সংগঠনের কাজ করেন। একই সময় তিনি ছিলেন ময়মনসিংহ জেলা কংগ্রেস কমিটির ভাইস প্রেসিডেন্ট।
আবুল মনসুর বামপন্থি কংগ্রেস সমর্থিত ‘কিষাণ সভা’ ও ‘কিষাণ সমিতি’র কার্যক্রমের সমালোচনা করেন। ১৯৩৭ সালে নির্বাচনে কৃষক প্রজা পার্টি যথেষ্ট ভালো ফল করে এবং এ পার্টির নেতা একে ফজলুল হক আশা করেন ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেস (১৮৭৩-১৯৬২) বাংলায় একটি কোয়ালিশন সরকার গঠনে সমর্থন পাওয়া যাবে। কিন্তু কংগ্রেস কৃষক প্রজা দলের সঙ্গে কোয়ালিশন সরকার গঠনে রাজি হয়নি। তখন ফজলুল হক মুসলিম লীগের সঙ্গে কোয়ালিশন সরকার গঠন করতে বাধ্য হন। কংগ্রেসের এ মনোভাবকে অনেকেই ভালোভাবে নিতে পারেননি। এ ঘটনার ফলে আবুল মনসুর আহমদ কংগ্রেসের সদস্যপদ ত্যাগ করেন এবং মুসলিম লীগের রাজনীতির প্রতি ঝুঁকে পড়েন। ১৯৪০ সালের মার্চ মাসে লাহোরে ভারতের মুসলমানদের জন্য পৃথক আবাস ভূমির দাবি করা হয়। আবুল মনসুর আহমদ এ দাবি যুক্তিসঙ্গত মনে করেন। ১৯৪৪ সালে তিনি ইস্ট পাকিস্তান রেনেসাঁ সোসাইটির সম্মেলনে বলেন যে, সাংস্কৃতিক স্বতন্ত্রতার কারণে পাকিস্তান সৃষ্টি হওয়ার প্রয়োজন যুক্তিসঙ্গত। তিনি ভারতে দু’অঞ্চলে দুইটি মুসলিম প্রধান অঞ্চল নিয়ে দুইটি পৃথক স্বায়ত্তশাসিত রাষ্ট্রের সৃষ্টির দাবি সমর্থন করেন। পরবর্তী সময়ে তিনি বাঙালি সংস্কৃতির স্বতন্ত্রতার বিষয়টির উপর জোর দেন। ১৯৪৬-৪৭ সালে হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দীর সাথে একযোগে ‘স্বাধীন যুক্ত বাংলা’ সৃষ্টির দাবি তোলেন। সে দাবি বাস্তবতা লাভ করেনি এবং ১৯৪৭ সালে বাংলা প্রদেশও বিভক্ত হয়ে যায়। তখন তিনি কলকাতাকে পূর্ব বাংলায় অন্তর্ভুক্ত করার দাবি করেন। কিন্তু সে দাবিও উপেক্ষিত হয়।
১৯৪৯ সালে আবুল মনসুর আহমদ আওয়ামী মুসলিম লীগ দল প্রতিষ্ঠায় উল্লেখযোগ্য ভূমিকা পালন করেন। তিনি ১৯৫৩ সাল থেকে ১৯৫৮ সাল পর্যন্ত আওয়ামী মুসলিম লীগের সহ-সভাপতি ছিলেন। তিনি যুক্তফ্রন্ট এর নির্বাচনী কর্মসূচি ২১-দফার অন্যতম প্রণেতা ছিলেন। তিনি ১৯৫৪ সালে যুক্তফ্রন্টের মনোনয়নে পূর্ববঙ্গ পরিষদের সদস্য নির্বাচিত হন। এরপর ১৯৫৪ সালে তিনি ফজলুল হক মন্ত্রিসভায় স্বাস্থ্য মন্ত্রী নিযুক্ত হন।
আবুল মনসুর আহমদ ১৯৫৫ সালে আওয়ামী লীগের মনোনয়নে পূর্ববঙ্গ পরিষদের সদস্যদের ভোটে পাকিস্তান গণপরিষদ এর সদস্য নির্বাচিত হন। তিনি ১৯৫৬ সালে পূর্ব পাকিস্তানের যুক্তফ্রন্ট সরকারের শিক্ষামন্ত্রী এবং ১৯৫৬-৫৭ সালে বাণিজ্যমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৫৮ সালে আইয়ুব খান কর্তৃক সামরিক শাসন জারি হওয়ার পর তিনি কারারুদ্ধ হন এবং ১৯৬২ সালে মুক্তি পান। এরপর তিনি রাজনৈতিক জীবন থেকে অবসর গ্রহণ করেন।
আবুল মনসুর আহমদ বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন দলীয় রাজনীতির সঙ্গে সক্রিয়ভাবে যুক্ত থাকলেও বিদ্রুপাত্মক রচনার লেখক হিসেবেই তিনি সমাধিক পরিচিত। তাঁর বিখ্যাত বিদ্রুপাত্মক রচনাগুলো হচ্ছে, আয়না (১৯৩৬-১৯৩৭) ও ফুড কনফারেন্স (১৯৪৪)। তাঁর রচিত উপন্যাসের মধ্যে রয়েছে, সত্যমিথ্যা (১৯৫৩), জীবন ক্ষুধা (১৯৫৫) ও আবে-হায়াৎ (১৯৬৪)। আর স্মৃতিকথা, আমার দেখা রাজনীতির পঞ্চাশ বছর (১৯৬৯), শের-ই-বাংলা থেকে বঙ্গবন্ধু (১৯৭২) এবং তাঁর আত্মচরিত হল আত্মকথা (১৯৭৮)। সাহিত্যে অবদানের জন্য তাঁকে বাংলা একাডেমী পুরস্কার (১৯৬০), স্বাধীনতা পদক (১৯৭৯) ও নাসিরউদ্দিন স্বর্ণপদকে ভূষিত করা হয়। ১৯৭৯ সালের ১৮ মার্চ আবুল মনসুর আহমদ মৃত্যুবরণ করেন।
স্মরণ সভা শেষে আবুল মনসুর আহমদ-এর রুহের মাগফেরাত কামনা করে দোয়া অনুষ্ঠিত হয়।

ট্যাগ :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

আড়াইহাজারে স্বামীর সাথে ঝগড়া করে স্ত্রীর আত্মহত্যা

ত্রিশালে আবুল মনসুর আহমদ-এর ১২৩ তম জন্মবার্ষিকীতে স্মরণ সভা ও দোয়া মাহফিল

আপডেট সময় : 07:52:04 pm, Friday, 3 September 2021

 

মোঃ আসাদুল ইসলাম মিন্টু

ত্রিশাল (ময়মনসিংহ) প্রতিনিধি।।

ময়মনসিংহের ত্রিশালে জন্মগ্রহণকারী উপমহাদেশের কিংবদন্তি ব্যক্তিত্ব, সাহিত্যিক, সাংবাদিক এবং রাজনীতিবীদ আবুল মনসুর আহমদ-এর ১২৩তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে সঞ্জীবন যুব সংস্থা ও আবুল মনসুর আহমদ পাঠাগার-এর আয়োজনে স্মরণ সভা ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে।
আজ ০৩সেপ্টেম্বর ২০২১ শুক্রবার বিকেলে ত্রিশাল প্রেসক্লাবের সভাপতি ও আবুল মনসুর আহমদ-জন্মজয়ন্তী উদযাপন পরিষদের আহ্বায়ক মুহাম্মদ আলমগীর কবীরের সভাপতিত্ব করেন।
প্রধান অতিথি ছিলেন ত্রিশালের প্রবীণ রাজনীতিবিদ জনাব ফজলে রাব্বী।
প্রধান আলোচক ছিলেন জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ফোকলোর বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক বাকী বিল্লাহ। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন আবুল মনসুর আহমদ-এর নাতি ও ডেইলি স্টার পত্রিকার সিনিয়র এক্সিকিউটিভ রায়হান ফরাজী।
আলোচনায় অংশ নেন জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের জমিদাতা সমিতির সাবেক সভাপতি ও সাবেক ব্যাংকার জনাব আলতাব হোসেন , বিশিষ্ট কবি রিয়েল আব্দুল্লাহ , আবুল মনসুর আহমদ পাঠাগারের প্রধান উপদেষ্টা রঘুনাথ ভাস্কর , বাগান ইসলামিয়া আলিম মাদ্রাসার অধ্যক্ষ আনোয়ার সাদত জাহাঙ্গীর , বিচ্যুতি বেপারীর বাড়ির বংশধর আব্দুল আউয়াল প্রমুখ।
অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন সঞ্জীবন যুব সংস্থার সভাপতি ফাহিম আহমেদ মন্ডল ।
আবুল মনসুর আহমদ-এর সংক্ষিপ্ত জীবনীঃ
(১৮৯৮-১৯৭৯) সাংবাদিক, আইনজীবী, রাজনীতিবিদ, সাহিত্যিক। তাঁর জন্ম ১৮৯৮ সালে ময়মনসিংহ জেলার ত্রিশাল উপজেলার ধানীখোলা গ্রামে। পিতার নাম আবদুর রহিম ফরায়জী এবং মাতার নাম মীর জাহান বেগম। তিনি ১৯১৭ সালে নাসিরাবাদ মৃত্যুঞ্জয় বিদ্যালয় থেকে ম্যাট্রিক, ১৯১৯ সালে ঢাকার জগন্নাথ কলেজ থেকে আই.এ এবং ১৯২১ সালে ঢাকা কলেজ থেকে বি.এ পাস করেন। এরপর তিনি ১৯২৬ থেকে ১৯২৯ সাল পর্যন্ত কলকাতা রিপন ল’ কলেজে আইন বিষয়ে পড়াশোনা করেন এবং বি.এল পাস করেন। এ বছরেই তিনি ময়মনসিংহে আইন পেশা শুরু করেন এবং সেখানে তিনি ১৯৩৮ সাল পর্যন্ত তাঁর পেশায় নিয়োজিত থাকেন।
আবুল মনসুর আহমদ একজন পেশাদার সাংবাদিক ছিলেন। তিনি যে সকল সাময়িক পত্রিকায় কাজ করেন, সেগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য সোলতান, মোহাম্মদী, দি মুসলমান, কৃষক, নবযুগ ও ইত্তেহাদ। তিনি সাপ্তাহিক সোলতান ও মোহাম্মদীর সহকারী সম্পাদক ছিলেন (১৯২৩-১৯২৬)। তিনি দি মুসলমান পত্রিকায় সাংবাদিকতা করেন ১৯২৬ থেকে ১৯২৯ সাল পর্যন্ত।
আবুল মনসুর ১৯৩৮ সালের ডিসেম্বর মাসে দৈনিক কৃষক পত্রিকার সম্পাদক নিযুক্ত হন। তিনি ১৯৪১ সালের অক্টোবর মাসে নবযুগ পত্রিকার সম্পাদনা বিভাগে চাকরি লাভ করেন।
এ ছাড়াও তিনি ১৯৪৬ থেকে ১৯৪৮ সাল পর্যন্ত দৈনিক ইত্তেহাদ পত্রিকার সম্পাদক এর দায়িত্ব পালন করেন।
রাজনীতিতেও আবুল মনসুর আহমদ এর ভূমিকা বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। তিনি খিলাফত ও অসহযোগ আন্দোলনে সক্রিয় অংশগ্রহণ করেন। তাঁর রাজনৈতিক জীবন খিলাফত ও অসহযোগ আন্দোলনে যোগদানের মধ্য দিয়ে শুরু হলেও তিনি এ আন্দোলনের বাস্তবতা সম্পর্কে বেশ সন্দিহান ছিলেন।
একটি অভারতীয় বিষয়কে কেন্দ্র করে সর্বভারতীয় পর্যায়ে আন্দোলন এবং সে আন্দোলনে গান্ধীর অসহযোগ-এর ডাক ও স্বরাজ আদায়ের লক্ষ্য সম্পর্কে আবুল মনসুর আহমদ তেমন একটা খুশি ছিলেন না। তিনি গান্ধীর এ পদক্ষেপকে অবাস্তব মনে করেছেন।
কংগ্রেস দলের সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকা সত্ত্বেও তিনি ছিলেন কেন্দ্রীয় কংগ্রেস নীতির বিরুদ্ধে। তিনি চিত্তরঞ্জন দাশ এর (১৮৭০-১৯২৫) স্বরাজ্য পার্টির রাজনীতি সমর্থন করেন এবং ১৯২৩ সালের বেঙ্গল প্যাক্ট এর মাধ্যমে হিন্দু-মুসলমান সম্প্রীতির যে প্রচেষ্টা চলে সে ব্যাপারে উৎসাহী ছিলেন। এর পর ১৯২৯ সালে আবুল মনসুর বাংলার প্রজা পার্টিতে যোগ দেন এবং ময়মনসিংহ জেলায় দক্ষতার সঙ্গে কৃষক প্রজা সমিতি সংগঠনের কাজ করেন। একই সময় তিনি ছিলেন ময়মনসিংহ জেলা কংগ্রেস কমিটির ভাইস প্রেসিডেন্ট।
আবুল মনসুর বামপন্থি কংগ্রেস সমর্থিত ‘কিষাণ সভা’ ও ‘কিষাণ সমিতি’র কার্যক্রমের সমালোচনা করেন। ১৯৩৭ সালে নির্বাচনে কৃষক প্রজা পার্টি যথেষ্ট ভালো ফল করে এবং এ পার্টির নেতা একে ফজলুল হক আশা করেন ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেস (১৮৭৩-১৯৬২) বাংলায় একটি কোয়ালিশন সরকার গঠনে সমর্থন পাওয়া যাবে। কিন্তু কংগ্রেস কৃষক প্রজা দলের সঙ্গে কোয়ালিশন সরকার গঠনে রাজি হয়নি। তখন ফজলুল হক মুসলিম লীগের সঙ্গে কোয়ালিশন সরকার গঠন করতে বাধ্য হন। কংগ্রেসের এ মনোভাবকে অনেকেই ভালোভাবে নিতে পারেননি। এ ঘটনার ফলে আবুল মনসুর আহমদ কংগ্রেসের সদস্যপদ ত্যাগ করেন এবং মুসলিম লীগের রাজনীতির প্রতি ঝুঁকে পড়েন। ১৯৪০ সালের মার্চ মাসে লাহোরে ভারতের মুসলমানদের জন্য পৃথক আবাস ভূমির দাবি করা হয়। আবুল মনসুর আহমদ এ দাবি যুক্তিসঙ্গত মনে করেন। ১৯৪৪ সালে তিনি ইস্ট পাকিস্তান রেনেসাঁ সোসাইটির সম্মেলনে বলেন যে, সাংস্কৃতিক স্বতন্ত্রতার কারণে পাকিস্তান সৃষ্টি হওয়ার প্রয়োজন যুক্তিসঙ্গত। তিনি ভারতে দু’অঞ্চলে দুইটি মুসলিম প্রধান অঞ্চল নিয়ে দুইটি পৃথক স্বায়ত্তশাসিত রাষ্ট্রের সৃষ্টির দাবি সমর্থন করেন। পরবর্তী সময়ে তিনি বাঙালি সংস্কৃতির স্বতন্ত্রতার বিষয়টির উপর জোর দেন। ১৯৪৬-৪৭ সালে হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দীর সাথে একযোগে ‘স্বাধীন যুক্ত বাংলা’ সৃষ্টির দাবি তোলেন। সে দাবি বাস্তবতা লাভ করেনি এবং ১৯৪৭ সালে বাংলা প্রদেশও বিভক্ত হয়ে যায়। তখন তিনি কলকাতাকে পূর্ব বাংলায় অন্তর্ভুক্ত করার দাবি করেন। কিন্তু সে দাবিও উপেক্ষিত হয়।
১৯৪৯ সালে আবুল মনসুর আহমদ আওয়ামী মুসলিম লীগ দল প্রতিষ্ঠায় উল্লেখযোগ্য ভূমিকা পালন করেন। তিনি ১৯৫৩ সাল থেকে ১৯৫৮ সাল পর্যন্ত আওয়ামী মুসলিম লীগের সহ-সভাপতি ছিলেন। তিনি যুক্তফ্রন্ট এর নির্বাচনী কর্মসূচি ২১-দফার অন্যতম প্রণেতা ছিলেন। তিনি ১৯৫৪ সালে যুক্তফ্রন্টের মনোনয়নে পূর্ববঙ্গ পরিষদের সদস্য নির্বাচিত হন। এরপর ১৯৫৪ সালে তিনি ফজলুল হক মন্ত্রিসভায় স্বাস্থ্য মন্ত্রী নিযুক্ত হন।
আবুল মনসুর আহমদ ১৯৫৫ সালে আওয়ামী লীগের মনোনয়নে পূর্ববঙ্গ পরিষদের সদস্যদের ভোটে পাকিস্তান গণপরিষদ এর সদস্য নির্বাচিত হন। তিনি ১৯৫৬ সালে পূর্ব পাকিস্তানের যুক্তফ্রন্ট সরকারের শিক্ষামন্ত্রী এবং ১৯৫৬-৫৭ সালে বাণিজ্যমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৫৮ সালে আইয়ুব খান কর্তৃক সামরিক শাসন জারি হওয়ার পর তিনি কারারুদ্ধ হন এবং ১৯৬২ সালে মুক্তি পান। এরপর তিনি রাজনৈতিক জীবন থেকে অবসর গ্রহণ করেন।
আবুল মনসুর আহমদ বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন দলীয় রাজনীতির সঙ্গে সক্রিয়ভাবে যুক্ত থাকলেও বিদ্রুপাত্মক রচনার লেখক হিসেবেই তিনি সমাধিক পরিচিত। তাঁর বিখ্যাত বিদ্রুপাত্মক রচনাগুলো হচ্ছে, আয়না (১৯৩৬-১৯৩৭) ও ফুড কনফারেন্স (১৯৪৪)। তাঁর রচিত উপন্যাসের মধ্যে রয়েছে, সত্যমিথ্যা (১৯৫৩), জীবন ক্ষুধা (১৯৫৫) ও আবে-হায়াৎ (১৯৬৪)। আর স্মৃতিকথা, আমার দেখা রাজনীতির পঞ্চাশ বছর (১৯৬৯), শের-ই-বাংলা থেকে বঙ্গবন্ধু (১৯৭২) এবং তাঁর আত্মচরিত হল আত্মকথা (১৯৭৮)। সাহিত্যে অবদানের জন্য তাঁকে বাংলা একাডেমী পুরস্কার (১৯৬০), স্বাধীনতা পদক (১৯৭৯) ও নাসিরউদ্দিন স্বর্ণপদকে ভূষিত করা হয়। ১৯৭৯ সালের ১৮ মার্চ আবুল মনসুর আহমদ মৃত্যুবরণ করেন।
স্মরণ সভা শেষে আবুল মনসুর আহমদ-এর রুহের মাগফেরাত কামনা করে দোয়া অনুষ্ঠিত হয়।