Dhaka , Wednesday, 10 June 2026
নিবন্ধন নাম্বারঃ ১১০, সিরিয়াল নাম্বারঃ ১৫৪, কোড নাম্বারঃ ৯২
শিরোনাম ::
বিশ্বকাপ ২০২৬: মধ্যপ্রাচ্য ও উত্তর আফ্রিকার আট দলের সম্ভাবনা বিশ্লেষণ দলীয় সম্পদ-প্রতীকও কি হারাতে পারেন মমতা? সেভেন আপের বোতলে দুধ ঢেলে গোসল করে সৌদিকে সমর্থন ব্রাজিল সমর্থকের সাফজয়ী ফুটবলার ঋতুপর্ণা চাকমার গৃহনির্মাণে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর আর্থিক অনুদান শিক্ষার্থীদের জন্য নিরাপদ নগর গড়তে ব্যাপক কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে:- মেয়র ডা. শাহাদাত চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের নবনিযুক্ত উপ-উপাচার্য (শিক্ষা) অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আল আমীন মাদকবিরোধী অভিযানে ৩ জন আটক, জিরো টলারেন্স নীতির ঘোষণা আজিজুল হক আজিজের নানাবাড়ি বেড়াতে এসে পানিতে ডুবে শিশুর মৃত্যু রূপগঞ্জে বৃক্ষরোপন ও বিতরণ কর্মসূচির উদ্বোধন  বিশ্বকাপ উন্মাদনায় রামগঞ্জে চেয়ারম্যান প্রার্থীর ব্যতিক্রমী উদ্যোগ পাইকগাছায় ফ্রেন্ডশিপের পরিবেশ সচেতনতা সভা ও বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত রূপগঞ্জে খাল দখলমুক্ত করতে পানি উন্নয়ন বোর্ডের উচ্ছেদ অভিযান হামলার ভিডিও ধারণ করতে গিয়ে মামলার আসামি স্টার নিউজের সাংবাদিক রামুতে উপজেলা আইন-শৃঙ্খলা কমিটির মাসিক সভা অনুষ্ঠিত প্রযুক্তি নির্ভর আর্থিক সেবায় বদলে যাচ্ছে মানুষের জীবন ফটিকছড়ি হতে ০১ টি দেশীয় এলজি বন্দুক ও ০৭ রাউন্ড কার্তুজ উদ্ধারসহ ০১ জন’কে আটক করেছে র‌্যাব-৭, চট্টগ্রাম সীমান্তে মাইন বিস্ফোরণে রোহিঙ্গা যুবক নিহত একনেকে ৩ হাজার ৮৯১ কোটি টাকার ১০ প্রকল্প অনুমোদন যৌন নিপীড়নের অভিযোগে আইসিসির প্রধান কৌঁসুলি বরখাস্ত দেশের প্রথম স্যাটেলাইটভিত্তিক ‘ওশান ডাটা সেন্টার’ উদ্বোধন করলেন পার্বত্য প্রতিমন্ত্রী ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করে ইরানি যুবককে বিয়ে করলেন মার্কিন নারী ক্রীড়াবিদ কৃষক দল নেতার ক্ষমতায় হালিশহরে বাড়ি দখলের চেষ্টার অভিযোগ নোয়াখালীতে চেকেপোস্টে তিনটি বিদেশী পিস্তল-গুলিসহ কিশোর আটক নোয়াখালীতে প্রকাশ্যে যুবককে গুলি রামগঞ্জে নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন আওয়ামী লীগের চার নেতা গ্রেফতার অতিবৃষ্টিতে ক্ষতিপূরণ ও কৃষিঋণ মওকুফের দাবিতে দুর্গাপুরে কৃষক-ক্ষেতমজুরদের বিক্ষোভ পাইকগাছায় মাটির রাস্তা থেকে এইচবিবি: বদলে গেল জনদুর্ভোগের চিত্র ১৭ জুন রাজনগরে আসছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান, উন্নয়ন দাবিতে ৯ দফা প্রস্তুত মৌলভীবাজার পিটিআইয়ে প্রশিক্ষণে এসি ও খাবারের মান নিয়ে অসন্তোষ ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে চট্টগ্রাম মডেল সফল, অ্যাম্বুলেন্স ভাড়া হবে নির্ধারিত ও স্বচ্ছ:- মেয়র ডা. শাহাদাত

ঢাকায় পাহাড়ি ছাত্র পরিষদের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী

  • Reporter Name
  • আপডেট সময় : 11:14:12 pm, Saturday, 20 May 2023
  • 239 বার পড়া হয়েছে

এস চাঙমা সত্যজিৎ
বিশেষ প্রতিনিধি।।

 

পার্বত্য চট্টগ্রামে নিষ্ঠুর দমন-পীড়ন ও হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে ছাত্র সমাজকে গর্জে ওঠার আহ্বান জানিয়ে ঢাকায় পাহাড়ি ছাত্র পরিষদের ৩৪তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উপলক্ষে সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে।

পার্বত্য চট্টগ্রামে সরকার রাষ্ট্রীয় বাহিনীর কর্তৃক প্রতিনিয়ত নিষ্ঠুর দমন-পীড়ন ও হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটছে। এ হত্যাকান্ডের ঘটনায় সাধারণ শিক্ষার্থীসহ নিরীহ জনগণ বাদ যাচ্ছে না। সুতরাং এ হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে ছাত্র সমাজকে গর্জে উঠতে হবে। দেশের ফ্যাসিবাদী শাসন ও পাহাড়ে ফৌজি শাসনের বিরুদ্ধে পাহাড় ও সমতলে সমান তালে লড়াই চালিয়ে নিতে হবে।

আজ শনিবার ২০ মে ২০২৩ সকাল ১১ টায় বৃহত্তর পার্বত্য চট্টগ্রাম পাহাড়ি ছাত্র পরিষদ (পিসিপি)’র ৩৪তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উপলক্ষে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সন্ত্রাস বিরোধী রাজু ভাস্কর্যের পাদদেশে আয়োজিত সমাবেশে বক্তারা এসব কথা বলেন।

সমাবেশের আগে এক র‌্যালি অনুষ্ঠিত হয়। র‌্যালিটি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শারিরীক শিক্ষা কেন্দ্র থেকে শুরু করে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার হয়ে ভিসি চত্ত্বর, কলা ভবন, মধুর ক্যান্টিন, সমাজবিজ্ঞান ভবন হয়ে রাজু ভাস্কর্যে গিয়ে এক ছাত্র সমাবেশে মিলিত হয়।

“পিসিপি’র গৌরবোজ্জ্বল সংগ্রামী চেতনা রাখবো সমুন্নত” এ শ্লোগানে এবং “পার্বত্য চট্টগ্রামে নিষ্ঠুর দমন-পীড়ন ও হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে গর্জে ওঠো, পাহাড়ে ফৌজি শাসন ও দেশে ফ্যাসিবাদ অবসানে পাহাড়-সমতলে লড়াই হবে সমান তালে” এই আহ্বানে র‌্যালীর পরবর্তী অনুষ্ঠিত সমাবেশে পাহাড়ি ছাত্র পরিষদের কেন্দ্রীয় সভাপতি অঙ্কন চাকমার সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক অমল ত্রিপুরার সঞ্চালনায় বক্তব্য রাখেন জাতীয় মুক্তি কাউন্সিলের সম্পাদক ফয়জুল হাকিম, ইউনাইটেড ওয়ার্কার্স ডেমোক্রেটিক ফ্রন্টের সহ-সাধারণ সম্পাদক প্রমোদ জ্যোতি চাকমা, গণতান্ত্রিক যুব ফোরামের সাধারণ সম্পাদক জিকো ত্রিপুরা, হিল উইমেন্স ফেডারেশনের সভাপতি নীতি চাকমা।

সমাবেশে সংহতি জানিয়ে বক্তব্য রাখেন, সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্টের সভাপতি মুক্তা বাড়ৈ, বিপ্লবী ছাত্র মৈত্রী সাধারণ সম্পাদক দীলিপ রায়, বাংলাদেশ ছাত্র ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক সৈকত আরিফ, বিপ্লবী ছাত্র-যুব আন্দোলনের প্রচার ও প্রকাশনার সম্পাদক সোহবত শোভন। এছাড়াও সমাবেশে সংহতি জানিয়েছেন বাংললাদেশ ছাত্র ফেডারেশনের সভাপতি মিতু সরকার, গণতান্ত্রিক ছাত্র কাউন্সিলের সভাপতি ছায়েদুল হক নিশান, সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্টের তথ্য প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক সাদেকুল ইসলাম সাদিক প্রমুখ। এতে স্বাগত বক্তব্য রাখেন পাহাড়ি ছাত্র পরিষদের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক শুভাশীষ চাকমা।

সমাবেশে ফয়জুল হাকিম তাঁর বক্তব্যে বলেন, বাংলাদেশের আভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে সাম্রাজ্যবাদের হস্তক্ষেপ তথা পুরো দক্ষিণ এশিয়ার রাজনীতিতে যে ভয়াবহ পরিস্থিতি বিরাজ করছে এই সময়ে পিসিপি’র প্রতিষ্ঠাবাষির্কী পালন করা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। ইতিহাসের দিকে তাকালে দেখতে পাই তৎকালীন ছাত্র সমাজ পাকিস্তানের চাপিয়ে দেয়া উর্দু ভাষার আগ্রাসনের বিরুদ্ধে ১৪৪ ধারা ভঙ্গ করে, জীবনের আত্মহুতি দিয়ে ভাষা রক্ষার আন্দোলন সংগঠিত করেছে। এদেশের শ্রমিক-কৃষকসহ দেশের সাধারণ মানুষই ইতিহাসের নির্মাতা। অথচ বাংলাদেশে আজ জনগণের ভোটাধিকারে জনবান্ধব সরকার প্রতিষ্ঠা হয় না। যে সরকারের এমপি-মন্ত্রীরা সিন্ডিকেট গঠন করে কালো বাজারের মজুরি শোষণসহ শ্রমিক-কৃষক ও ছাত্র সমাজের ওপর ফ্যাসিবাদী দুঃশাসন ও গণবিরোধী ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন জারি করে সে সরকার জনগণের সরকার হতে পারে না।

তিনি আরও বলেন, উগ্র-বাঙালি জাতীয়তাবাদের মাধ্যমে পাহাড়িদের উপর জাতিগত নিপীড়ন জারি রাখা হয়েছে। আজকে স্বাধীনতার পঞ্চাশ বছর পরও দেশের সংবিধানের কৃষক শ্রমিক তথা মেহনতি মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠা হয়নি। নায্য দাবি আদায়ের আন্দোলন দমন করতে এই ফ্যাসিবাদী রাষ্ট্র ছাত্রনেতাদের হত্যা করছে। সাবেক ছাত্রনেতা মিঠুন, রূপক, অনিমেষ ও রমেলসহ অনেকে শাসকগোষ্ঠীর এই হত্যার শিকার হয়েছে। গণতান্ত্রিক শিক্ষা ব্যবস্থার আন্দোলন, জাতিসত্তা মুক্তি সংগ্রাম ও সাংবিধানিক স্বীকৃতিসহ নিপীড়িত মানুষের মুক্তির লক্ষ্যে ঐক্যবদ্ধ হয়ে আন্দোলন জোরদার করতে হবে।

সভাপতির বক্তব্য অঙ্কন চাকমা বলেন, বাংলাদেশ স্বাধীনতার ৫০ বছর অতিক্রম করলেও সর্বজনীন, বিজ্ঞানভিত্তিক, বৈষম্যহীন ও গণতান্ত্রিক শিক্ষা ব্যবস্থা চালু করা হয়নি। দেশের শিক্ষা ব্যবস্থাকে দিন দিন সংকুচিত করা হয়েছে। বাণিজ্যিকীকরণের মাধ্যমে শিক্ষাকে একটি বাণিজ্যিক পণ্যে পরিণত করা হয়েছে। আওয়ামীলীগ সরকার কথায় কথায় নিজেদের “সংখ্যালঘু বান্ধব সরকার” হিসেবে জাহির করলেও বাস্তবে তাদের চরিত্র ভিন্ন। ২০১১ সালের ৩০শে জুন পঞ্চদশ সংবিধান সংশোধনীতে দেশের ৪৫টির অধিক ভিন্ন জাতিসত্তা সমূহকে বাঙালি জাতীয়তা চাপিয়ে দিয়েছে।

তিনি আরও বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রামে অধিকাংশ স্কুল-কলেজ সমূহের বিরাজ করছে চরম শিক্ষক সংকট। রয়েছে অবকাঠামোগত দূর্বলতা, প্রত্যন্ত অঞ্চলে ঝুঁকিপূর্ণ জরাজীর্ণ স্কুল ভবন ও স্কুল কলেজে ছাত্রাবাস ও কলেজ বাস চালু নেই। এসব সংকট নিরসনের জেলা পরিষদ-আঞ্চলিক পরিষদ ও ক্ষমতাসীন দলের সংসদ সদস্য তথাকথিত জনপ্রতিনিধিদের কোন উদ্যোগ চোখে পড়ে না। শিক্ষা ব্যবস্থা নিয়ে তারা চিন্তিত নয়, তৎপরতাও নেই। এইজন্য মান-সম্মত শিক্ষাতো দূরের কথা ন্যূনতম শিক্ষা থেকেও বঞ্চিত হচ্ছে পাহাড়ি শিশুরা। প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্তরে শিক্ষার্থীদের ঝরে পড়ার হার দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। লক্ষ লক্ষ টাকা ঘুষ নিয়ে প্রাইমারী লেভেলে অযোগ্য-অদক্ষ শিক্ষক নিয়োগ দানের মাধ্যমে জেলা পরিষদ শিক্ষা ব্যবস্থাকে ধ্বংস করে দিচ্ছে।

তিনি আরও বলেন,পার্বত্য চট্টগ্রামসহ সারাদেশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সরকার দলীয় ছাত্র সংগঠন ছাত্রলীগের সন্ত্রাস, নৈরাজ্য, পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় সমূহের হল দখলদারিত্ব, চাঁদাবাজি, শিক্ষার্থীদের উপর হামলা, নির্যাতন করে এক ভীতিকর পরিস্থিতি তৈরী করে রেখেছে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান সমূহে মুক্তচিন্তা ও গণতান্ত্রিক পরিবেশ নেই।

ট্যাগ :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

বিশ্বকাপ ২০২৬: মধ্যপ্রাচ্য ও উত্তর আফ্রিকার আট দলের সম্ভাবনা বিশ্লেষণ

ঢাকায় পাহাড়ি ছাত্র পরিষদের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী

আপডেট সময় : 11:14:12 pm, Saturday, 20 May 2023

এস চাঙমা সত্যজিৎ
বিশেষ প্রতিনিধি।।

 

পার্বত্য চট্টগ্রামে নিষ্ঠুর দমন-পীড়ন ও হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে ছাত্র সমাজকে গর্জে ওঠার আহ্বান জানিয়ে ঢাকায় পাহাড়ি ছাত্র পরিষদের ৩৪তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উপলক্ষে সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে।

পার্বত্য চট্টগ্রামে সরকার রাষ্ট্রীয় বাহিনীর কর্তৃক প্রতিনিয়ত নিষ্ঠুর দমন-পীড়ন ও হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটছে। এ হত্যাকান্ডের ঘটনায় সাধারণ শিক্ষার্থীসহ নিরীহ জনগণ বাদ যাচ্ছে না। সুতরাং এ হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে ছাত্র সমাজকে গর্জে উঠতে হবে। দেশের ফ্যাসিবাদী শাসন ও পাহাড়ে ফৌজি শাসনের বিরুদ্ধে পাহাড় ও সমতলে সমান তালে লড়াই চালিয়ে নিতে হবে।

আজ শনিবার ২০ মে ২০২৩ সকাল ১১ টায় বৃহত্তর পার্বত্য চট্টগ্রাম পাহাড়ি ছাত্র পরিষদ (পিসিপি)’র ৩৪তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উপলক্ষে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সন্ত্রাস বিরোধী রাজু ভাস্কর্যের পাদদেশে আয়োজিত সমাবেশে বক্তারা এসব কথা বলেন।

সমাবেশের আগে এক র‌্যালি অনুষ্ঠিত হয়। র‌্যালিটি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শারিরীক শিক্ষা কেন্দ্র থেকে শুরু করে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার হয়ে ভিসি চত্ত্বর, কলা ভবন, মধুর ক্যান্টিন, সমাজবিজ্ঞান ভবন হয়ে রাজু ভাস্কর্যে গিয়ে এক ছাত্র সমাবেশে মিলিত হয়।

“পিসিপি’র গৌরবোজ্জ্বল সংগ্রামী চেতনা রাখবো সমুন্নত” এ শ্লোগানে এবং “পার্বত্য চট্টগ্রামে নিষ্ঠুর দমন-পীড়ন ও হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে গর্জে ওঠো, পাহাড়ে ফৌজি শাসন ও দেশে ফ্যাসিবাদ অবসানে পাহাড়-সমতলে লড়াই হবে সমান তালে” এই আহ্বানে র‌্যালীর পরবর্তী অনুষ্ঠিত সমাবেশে পাহাড়ি ছাত্র পরিষদের কেন্দ্রীয় সভাপতি অঙ্কন চাকমার সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক অমল ত্রিপুরার সঞ্চালনায় বক্তব্য রাখেন জাতীয় মুক্তি কাউন্সিলের সম্পাদক ফয়জুল হাকিম, ইউনাইটেড ওয়ার্কার্স ডেমোক্রেটিক ফ্রন্টের সহ-সাধারণ সম্পাদক প্রমোদ জ্যোতি চাকমা, গণতান্ত্রিক যুব ফোরামের সাধারণ সম্পাদক জিকো ত্রিপুরা, হিল উইমেন্স ফেডারেশনের সভাপতি নীতি চাকমা।

সমাবেশে সংহতি জানিয়ে বক্তব্য রাখেন, সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্টের সভাপতি মুক্তা বাড়ৈ, বিপ্লবী ছাত্র মৈত্রী সাধারণ সম্পাদক দীলিপ রায়, বাংলাদেশ ছাত্র ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক সৈকত আরিফ, বিপ্লবী ছাত্র-যুব আন্দোলনের প্রচার ও প্রকাশনার সম্পাদক সোহবত শোভন। এছাড়াও সমাবেশে সংহতি জানিয়েছেন বাংললাদেশ ছাত্র ফেডারেশনের সভাপতি মিতু সরকার, গণতান্ত্রিক ছাত্র কাউন্সিলের সভাপতি ছায়েদুল হক নিশান, সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্টের তথ্য প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক সাদেকুল ইসলাম সাদিক প্রমুখ। এতে স্বাগত বক্তব্য রাখেন পাহাড়ি ছাত্র পরিষদের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক শুভাশীষ চাকমা।

সমাবেশে ফয়জুল হাকিম তাঁর বক্তব্যে বলেন, বাংলাদেশের আভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে সাম্রাজ্যবাদের হস্তক্ষেপ তথা পুরো দক্ষিণ এশিয়ার রাজনীতিতে যে ভয়াবহ পরিস্থিতি বিরাজ করছে এই সময়ে পিসিপি’র প্রতিষ্ঠাবাষির্কী পালন করা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। ইতিহাসের দিকে তাকালে দেখতে পাই তৎকালীন ছাত্র সমাজ পাকিস্তানের চাপিয়ে দেয়া উর্দু ভাষার আগ্রাসনের বিরুদ্ধে ১৪৪ ধারা ভঙ্গ করে, জীবনের আত্মহুতি দিয়ে ভাষা রক্ষার আন্দোলন সংগঠিত করেছে। এদেশের শ্রমিক-কৃষকসহ দেশের সাধারণ মানুষই ইতিহাসের নির্মাতা। অথচ বাংলাদেশে আজ জনগণের ভোটাধিকারে জনবান্ধব সরকার প্রতিষ্ঠা হয় না। যে সরকারের এমপি-মন্ত্রীরা সিন্ডিকেট গঠন করে কালো বাজারের মজুরি শোষণসহ শ্রমিক-কৃষক ও ছাত্র সমাজের ওপর ফ্যাসিবাদী দুঃশাসন ও গণবিরোধী ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন জারি করে সে সরকার জনগণের সরকার হতে পারে না।

তিনি আরও বলেন, উগ্র-বাঙালি জাতীয়তাবাদের মাধ্যমে পাহাড়িদের উপর জাতিগত নিপীড়ন জারি রাখা হয়েছে। আজকে স্বাধীনতার পঞ্চাশ বছর পরও দেশের সংবিধানের কৃষক শ্রমিক তথা মেহনতি মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠা হয়নি। নায্য দাবি আদায়ের আন্দোলন দমন করতে এই ফ্যাসিবাদী রাষ্ট্র ছাত্রনেতাদের হত্যা করছে। সাবেক ছাত্রনেতা মিঠুন, রূপক, অনিমেষ ও রমেলসহ অনেকে শাসকগোষ্ঠীর এই হত্যার শিকার হয়েছে। গণতান্ত্রিক শিক্ষা ব্যবস্থার আন্দোলন, জাতিসত্তা মুক্তি সংগ্রাম ও সাংবিধানিক স্বীকৃতিসহ নিপীড়িত মানুষের মুক্তির লক্ষ্যে ঐক্যবদ্ধ হয়ে আন্দোলন জোরদার করতে হবে।

সভাপতির বক্তব্য অঙ্কন চাকমা বলেন, বাংলাদেশ স্বাধীনতার ৫০ বছর অতিক্রম করলেও সর্বজনীন, বিজ্ঞানভিত্তিক, বৈষম্যহীন ও গণতান্ত্রিক শিক্ষা ব্যবস্থা চালু করা হয়নি। দেশের শিক্ষা ব্যবস্থাকে দিন দিন সংকুচিত করা হয়েছে। বাণিজ্যিকীকরণের মাধ্যমে শিক্ষাকে একটি বাণিজ্যিক পণ্যে পরিণত করা হয়েছে। আওয়ামীলীগ সরকার কথায় কথায় নিজেদের “সংখ্যালঘু বান্ধব সরকার” হিসেবে জাহির করলেও বাস্তবে তাদের চরিত্র ভিন্ন। ২০১১ সালের ৩০শে জুন পঞ্চদশ সংবিধান সংশোধনীতে দেশের ৪৫টির অধিক ভিন্ন জাতিসত্তা সমূহকে বাঙালি জাতীয়তা চাপিয়ে দিয়েছে।

তিনি আরও বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রামে অধিকাংশ স্কুল-কলেজ সমূহের বিরাজ করছে চরম শিক্ষক সংকট। রয়েছে অবকাঠামোগত দূর্বলতা, প্রত্যন্ত অঞ্চলে ঝুঁকিপূর্ণ জরাজীর্ণ স্কুল ভবন ও স্কুল কলেজে ছাত্রাবাস ও কলেজ বাস চালু নেই। এসব সংকট নিরসনের জেলা পরিষদ-আঞ্চলিক পরিষদ ও ক্ষমতাসীন দলের সংসদ সদস্য তথাকথিত জনপ্রতিনিধিদের কোন উদ্যোগ চোখে পড়ে না। শিক্ষা ব্যবস্থা নিয়ে তারা চিন্তিত নয়, তৎপরতাও নেই। এইজন্য মান-সম্মত শিক্ষাতো দূরের কথা ন্যূনতম শিক্ষা থেকেও বঞ্চিত হচ্ছে পাহাড়ি শিশুরা। প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্তরে শিক্ষার্থীদের ঝরে পড়ার হার দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। লক্ষ লক্ষ টাকা ঘুষ নিয়ে প্রাইমারী লেভেলে অযোগ্য-অদক্ষ শিক্ষক নিয়োগ দানের মাধ্যমে জেলা পরিষদ শিক্ষা ব্যবস্থাকে ধ্বংস করে দিচ্ছে।

তিনি আরও বলেন,পার্বত্য চট্টগ্রামসহ সারাদেশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সরকার দলীয় ছাত্র সংগঠন ছাত্রলীগের সন্ত্রাস, নৈরাজ্য, পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় সমূহের হল দখলদারিত্ব, চাঁদাবাজি, শিক্ষার্থীদের উপর হামলা, নির্যাতন করে এক ভীতিকর পরিস্থিতি তৈরী করে রেখেছে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান সমূহে মুক্তচিন্তা ও গণতান্ত্রিক পরিবেশ নেই।