
সোহানুর রহমান বাপ্পি, কিশোরগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি:
বাংলাদেশের রাজনীতির নির্মম ইতিহাসে আওয়ামী সৈরাচার আমলে বিএনপি ও তৃণমূল থেকে শুরু করে কেন্দ্রীয় পর্যায়ের নেতা–কর্মীদের উপর চালানো হয়েছিল অমানবিক নির্যাতন, মিথ্যা মামলা, গুম ও হত্যার বিভীষিকা। সেই ভয়াবহ পরিস্থিতি থেকে রেহাই পাননি কিশোরগঞ্জ জেলা ছাত্রদলের সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. খাইরুল ইসলামও।
দীর্ঘ চার বছর দশ মাস আগে আওয়ামী ফ্যাসিস্ট সরকারের দমন–পীড়ন ও একের পর এক মিথ্যা মামলার কারণে প্রিয় জন্মভূমি কিশোরগঞ্জ ত্যাগ করতে বাধ্য হয়েছিলেন তিনি। এ সময়ে শুধু তিনিই নয়, তার পুরো পরিবারও আওয়ামী সন্ত্রাসের শিকার হয়। একাধিকবার ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করা হয় তাদের বাড়িঘরে। এমনকি তার বোন, গুরুদয়াল সরকারি কলেজের ছাত্রী, পরীক্ষা চলাকালে রাজনৈতিক সিন্ডিকেটের বাধার কারণে পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে পারেননি।
দৈনিক আজকের বাংলা-এর সঙ্গে এক সাক্ষাৎকারে খাইরুল ইসলাম বলেন,
“আওয়ামী সরকারের আমলে আমার মা–বাবা, ভাই–বোন কারোই নিরাপত্তা ছিল না। আমাদের সপরিবার নির্যাতিত হতে হয়েছে। প্রশাসন থেকেও কোনো সহযোগিতা পাইনি। এলাকাবাসী সব দেখলেও তখন সৈরাচারের ভয়ে কেউ মুখ খুলতে সাহস পায়নি। আমি ছোটবেলা থেকেই বিএনপিকে ভালোবাসতাম, জিয়াউর রহমানের আদর্শে উদ্বুদ্ধ হয়ে ছাত্রদলে যোগ দিয়েছিলাম। তার আদর্শের সৈনিক হিসেবে নির্যাতন সহ্য করেছি, এখনো করব।”
রাজনৈতিক আশ্রয়ে দীর্ঘ সময় কাটানোর পর অবশেষে তিনি কিশোরগঞ্জে ফিরে আবারও সক্রিয়ভাবে বিএনপি ও ছাত্রদলের রাজনীতিতে সম্পৃক্ত হচ্ছেন। তার এই প্রত্যাবর্তনকে কেন্দ্র করে জেলা ছাত্রদলের বর্তমান ও সাবেক বহু নেতা–কর্মী তাকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানিয়ে মিছিল ও সমাবেশ করেন।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন—
•হামজা বিন মুরাদ, কিশোরগঞ্জ জেলা ছাত্রদল নেতা
•রায়হান গান্ধী, সেক্রেটারি, বিন্নাটি ইউনিয়ন যুবদল
•সেজান মাহমুদ হৃদয়, সাবেক সহ–সাধারণ সম্পাদক, কিশোরগঞ্জ জেলা ছাত্রদল
•মো. রুবেল মিয়া, সাবেক সহ–সাধারণ সম্পাদক, কিশোরগঞ্জ জেলা ছাত্রদল
মিঠুন কর্মকার
কিশোরগঞ্জ জেলা ছাত্রদল
•মোহাম্মদ জিয়াউর রহমান, সাবেক সহ–সাংগঠনিক সম্পাদক, কিশোরগঞ্জ জেলা ছাত্রদল
•রাহান মিয়া, সাবেক সহ–সাধারণ সম্পাদক, কিশোরগঞ্জ জেলা ছাত্রদল
•মো. মানিক মিয়া, কিশোরগঞ্জ জেলা ছাত্রদল নেতা
•মোহাম্মদ নাজির মিয়া, কিশোরগঞ্জ জেলা ছাত্রদল নেতা
•মো. আকাশ, সাবেক জলবায়ু বিষয়ক সম্পাদক
এছাড়াও মোহাম্মদ তোফাজ্জল মিয়া, জান্নাতুল, শুভ, আওয়াল শ্রাবণ, মবিন, রাফিনসহ জেলা ছাত্রদলের অসংখ্য নেতা–কর্মী উপস্থিত ছিলেন।
খাইরুল ইসলামের প্রত্যাবর্তনকে কেন্দ্র করে কিশোরগঞ্জে বিএনপি ও ছাত্রদলের রাজনীতিতে নতুন উদ্দীপনা ও প্রাণচাঞ্চল্য লক্ষ্য করা যাচ্ছে।

























