
তৌহিদ বেলাল
কক্সবাজার জেলা প্রতিনিধি।।
কক্সবাজার জেলাব্যাপি অবৈধভাবে গড়ে ওঠা অর্ধশতাধিক ইটভাটা বন্ধের সুপারিশ করা হয়েছে। এসব ইটভাটার তালিকা করে ঢাকায় প্রেরণ করেছে কক্সবাজার পরিবেশ অধিদপ্তর।
বায়ুদূষণ রোধ, নিষিদ্ধ এলাকায় ভাটা স্থাপন, পরিবেশের ছাড়পত্র না থাকাসহ নানা অনিয়মের কারণে ৫৪টি ইটভাটা বন্ধের সুপারিশ করে তালিকা প্রেরণ করা হয়েছে বলে পরিবেশ অধিদপ্তরের প্রেরিত চিঠি থেকে জানা গেছে। কক্সবাজার পরিবেশ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মুহাম্মদ হাফিজুর রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
বন্ধের সুপারিশ করা অবৈধ ইটভাটাগুলো হলো- কক্সবাজার সদর উপজেলার ঝিলংজা ইউনিয়নের পূর্ব খরুলিয়ার শফিউল হক চৌধুরীর মেসার্স এমএস ব্রিকফিল্ড ও এমএস ব্রিকস ম্যানুফেকচারিং, পিএমখালি ইউনিয়নের বাংলাবাজারের বজল আহমদ কোম্পানির বজল অ্যান্ড ব্রাদার্স ব্রিকস, চৌফলদন্ডি ইউনিয়নের হুমায়ুন সিকদারের মেসার্স আরকেসি ব্রিকস, ঈদগাঁও উপজেলার ইসলাবাদ ইউনিয়নের ওয়াহেদেরপাড়ার দিদারুল ইসলামের মেসার্স দিবা ব্রিকস, খোদইবাাড়ির জসিম উদ্দিনের কক্স ইন অ্যাসোসিয়েট ব্রিকস, ঈদগাঁও ইউনিয়নের ভোমরিয়াঘোনায় রশিদ আহমদ বাবুল কোম্পানির আরএমএম ব্রিকস, চৌফলদন্ডি ইউনিয়নে রেজাউল করিম সিকদারের আরকেসি ব্রিকস, ঝিলংজা ইউনিয়নের খরুলিয়ায় আফরোজা সুলতানার মেসার্স এমএসআর ব্রিকস ও জামাল হোসেনের মেসার্স বিবিএম ব্রিকস, রামু উপজেলার রশিদনগর ইউনিয়নের ধলিরছড়ায় ইয়াসিন পারভেজ চৌধুরীর মেসার্স এইচবিএম ব্রিকস, ফতেখাঁরকুল ইউনিয়নের মেরংলোয়ার আলহাজ্ব ছাবের আহমদের আল হেরাম ব্রিকস, মুহাম্মদ জাহাঙ্গির হোসেনের মেসার্স জেডএসটি ব্রিকস এবং ফরিদুল আলম-জাফর আলমের মেসার্স জেডঅ্যান্ডএফ ব্রিকস, মোস্তাক আহমদের মেসার্স এসএসবি ব্রিকস, শাহ আলম চৌধুরীর মেসার্স সাবরিনা ব্রিকস, খুনিয়াপালং ইউনিয়নে মুহাম্মদ শাহ আলমের মেসার্স এমআরসি ব্রিকস, মধ্যম খুনিয়াপালংয়ের মোস্তফা আলমের মেসার্স এসএসবি-২ ব্রিকস, ধোয়াপালংয়ের কালু চেয়ারম্যানের মেসার্স ভাই ভাই ব্রিকস, কাউয়ারখোপ ইউনিয়নের উখিয়ারঘোনার মেসার্স সাসকো অটো ব্রিকস, রশিদনগর ইউনিয়নের ধলিরছড়ার ওয়াহিদুজ্জামানের মেসার্স জামান অ্যান্ড ব্রাদার্স, ধোয়াপালংয়ের হাবিবুল ইসলামের মেসার্স এইচএএম ব্রিকস, দক্ষিণ খুনিয়াপালংয়ের মুহাম্মদ শাকেরের মেসার্স রায়ান ব্রিকস, উখিয়ারঘোনার জাহাঙ্গির আলমের মেসার্স এরআমএল ব্রিকস, মেরংলোয়ার কামাল মোস্তফার মেসার্স এমকে ব্রিকস, গয়ালমারার শামসুল আলমের মেসার্স এসবিএম ব্রিকস, চকরিয়া উপজেলার উত্তর হারবাংয়ে শামসুল আলমের এলবিএম ব্রিকস, আরিফ উদ্দিনের মেসার্স আশিক ব্রিকস, ফাঁসিয়াখালি ইউনিয়নে গিয়াস উদ্দিন চৌধুরীর মেসার্স জিএলবি ব্রিকস, গয়ালমারার শামসুল আলম কোম্পানির মেসার্স এবিএম ব্রিকস, উত্তর মানিকপুরের শাহাব উদ্দিনের মদিনা ব্রিকস, মানিকপুরের মাহমুদুল হকের আল মদিনা ব্রিকস-২ এবং এবিএম ব্রিকস, উত্তর মানিকপুরের শাহ আলমের ডায়মন্ড ব্রিকস, উখিয়া উপজেলার রুমখাপালংয়ে মুহাম্মদ শাহ আলমের মিডিয়া ব্রিকস ফিল্ড, হলদিয়াপালং ইউনিয়নের পাগলিরবিলে সৈয়দ উল্লাহর জিএমএস ব্রিকস, পালংখালি ইউনিয়নের থাইংখালির কেআরবি ব্রিকস, টেকনাফ উপজেলার হ্নীলা ইউনিয়নে আলি আহমদের মেসার্স জিয়াউর রহমান ব্রিকস, দৈংগাকাটার মুহাম্মদ আবুল হাশেমের মেসার্স এ হাশেম ব্রিকস, উত্তর হ্নীলার মোঃ আবদুল্লাহর মেসার্স এআরবি ব্রিকস ও মের্সাস সালমান ট্রেডিং ব্রিকস, মির কাশেমের মেসার্স এমকেবি ব্রিকস, হোয়াইক্যং ইউনিয়নে মুহাম্মদ হাশেমের মেসার্স এএইচবি ব্রিকস, রঙ্গিখালির মুহাম্মদ শাহজাহান মিয়া চেয়ারম্যানের ফোর স্টার ব্রিকস, লতিয়া খোলার মেসার্স এমআরবি ব্রিকস, হোয়াইক্যংয়ের কবির আহমদ চৌধুরীর মেসার্স পিবিসি ব্রিকস, পেকুয়া উপজেলার টৈটং ইউনিয়নে হাজিরবাজার এলাকার আলহাজ্ব আহমদ নবির মেসার্স এবিএম ব্রিকস ও কুতুবদিয়া উপজেলার কৈয়ারবিল ইউনিয়নে মুহাম্মদ শামসুল আলমের মেসার্স এসএ ব্রিক ফিল্ড।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, কক্সবাজারের ৮ উপজেলায় ১৩০টি ইটভাটা রয়েছে। এর মধ্যে মাত্র ৪০ শতাংশের রয়েছে পরিবেশের ছাড়পত্র। বাকি ৬০ শতাংশের পরিবেশগত ছাড়পত্র নেই। ওইসব ইটভাটার মালিকরা উচ্চ আদালতে মামলা করে কৌশলে এসব ইটভাটার কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন।
সূত্রে আরো জানা যায়, কক্সবাজার সদর উপজেলায় ২৭টির মধ্যে ১৭টি, রামু উপজেলায় ৪০টির মধ্যে ২৫টি, পেকুয়া উপজেলায় ৭টির মধ্যে ৪টি, চকরিয়া উপজেলায় ৫২টির মধ্যে ৩৬টি, উখিয়া ও টেকনাফ উপজেলার অধিকাংশ ইটভাটার পরিবেশ অধিদপ্তরের কোনো অনুমতি নেই। এছাড়া কুতুবদিয়া উপজেলায় ১টি ও মহেশখালি উপজেলার ১টি ইটভাটা চলছে দায়সারাভাবে।
অবৈধ ইটভাটা বন্ধের পদক্ষেপ বিষয়ে কক্সবাজার পরিবেশ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মোঃ হাফিজুর রহমান বলেন- ‘৫৪ টি অবৈধ ইটভাটার তালিকা কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক বরাবর ও ঢাকায় প্রেরণ করা হয়েছে।

























