Dhaka , Friday, 17 April 2026
নিবন্ধন নাম্বারঃ ১১০, সিরিয়াল নাম্বারঃ ১৫৪, কোড নাম্বারঃ ৯২
শিরোনাম ::
মধুপুটে স্মার্ট ফুয়েল কার্ড বিতরণের শুভ উদ্বোধন মিষ্টির দোকানে অনিয়ম ও ট্রাফিক আইন লঙ্ঘন: রায়পুরে ১৪ হাজার টাকা জরিমানা। শ্রীপুরে ফিলিং স্টেশনে অনিয়মের অভিযোগ, ভিডিও করায় সাংবাদিককে মারধর করা পুলিশ সদস্য প্রত্যাহার পাইকগাছায় নারীদের মাঝে বিনামূল্যে সেলাই মেশিন বিতরণ পাইকগাছায় নতুন মৎস্য আড়ৎ উদ্বোধন; কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত পাঁচলাইশ চসিক বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের অনুষ্ঠানে ডা. শাহাদাত হোসেন বাংলাদেশ ব্যাংকের পাহাড়ে ভূমিদস্যুদের থাবা, নির্বিকার কর্তৃপক্ষ, লড়ছে পরিবেশ অধিদপ্তর আড়াইহাজারে শিক্ষকের বাড়িতে দুর্ধর্ষ ডাকাতি তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রীর সাথে চীনা রাষ্ট্রদূতের সাক্ষাৎ জাতীয় হাম-রুবেলা ক্যাম্পেইন সফল করতে পাঁচবিবিতে সমন্বয় সভা ৩ লক্ষ শিশুকে হাম-রুবেলার টিকা দিবে চসিক:- মেয়র ডা. শাহাদাত মখলেছুর রহমান চৌধুরী- আলতাজ খাতুন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের পুরস্কার বিতরণ ও এসএসসি বিদায়ী সংবর্ধনা অনুষ্ঠিত চরভদ্রাসনে ৪৭তম বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সপ্তাহর উদ্বোধনী অনুষ্ঠান সম্পন্ন : ইউএনও’র পরিদর্শন। প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষায় শিক্ষার্থীদের অনাগ্রহ, বেড়েছে অনুপস্থিতি রামগঞ্জে ১৬১ প্রাথমিকবিদ্যালয়ের ৯২ টিতেই প্রধান শিক্ষক পদ শূন্য  নোয়াখালী সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি আপেল, সম্পাদক বাবু বসত বাড়িতে লুকিয়ে রাখা হলো ১২শত লিটার পেট্রোল, গ্রেপ্তার-৩ হযরত খাজা গরীব উল্লাহ শাহ্ (রঃ) মাজার পরিচালনা কমিটির সভাপতি মনোনীত হলেন মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন “স্মার্ট, পরিচ্ছন্ন ও শিক্ষাবান্ধব চট্টগ্রাম গড়তে কাজ করছি”: মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন কাউখালীতে খাল পুর্ন-খনন কাজের উদ্বোধন করলেন গৃহায়ন ও গণপূর্ত প্রতিমন্ত্রী আহমেদ সোহেল মঞ্জুর সুমন এমপি মাদক, সন্ত্রাস ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে সরকারের অবস্থান ‘জিরো টলারেন্স’:- পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রী জেলা প্রশাসক, চট্টগ্রাম কর্তৃক প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষা-২০২৫ এর কেন্দ্র পরিদর্শন জলাবদ্ধতা মোকাবিলায় বর্ষার আগে বিশেষ পরিচ্ছন্ন কার্যক্রম শুরু করছে চসিক দুর্গাপুর সংবর্ধিত হলেন কণ্ঠশিল্পী মিজানুর রহমান কাঞ্চন লালমনিরহাটে দুই উচ্চ বিদ্যালয়ে এসএসসি পরীক্ষার্থীদের বিদায় সংবর্ধনা; প্রধান অতিথি মমিনুল হক নিরাপত্তা বলয়ে পাইকগাছায় বৃত্তি পরীক্ষা শুরু; ইউএনও’র কেন্দ্র পরিদর্শন উচ্চশিক্ষার পথে বাধা দূর করল জেলা প্রশাসন: ঢাবি-জবিতে ভর্তির সুযোগ পেল ৬ অসচ্ছল মেধাবী বিগত ১৭ বছরে কিছু লোক এসেছিল তারা খেলার নামে রং তামাশা করেছে: মোস্তাফিজুর রহমান ভূইয়া দিপু ভাড়া বাসায় মদের কারবার,বিদেশি মদসহ গ্রেপ্তার-১ নোয়াখালীতে স্কুলছাত্রী অদিতা হত্যা মামলার রায় পেছাল

উপকূলে ‘চায়না দুয়ারি হুমকিতে ছোট মাছ

  • Reporter Name
  • আপডেট সময় : 08:07:24 pm, Monday, 4 April 2022
  • 369 বার পড়া হয়েছে

উপকূলে ‘চায়না দুয়ারি হুমকিতে ছোট মাছ

মনির হোসেন,বরিশাল ব্যুরো।।

জালের নাম ‘চায়না দুয়ারিথ। মরণফাঁদ নামের এই জালে একবার ঢুকলে আর বের হতে পারে না মাছ। চলতি পথে নানা জলজ প্রাণী ঢুকে পড়লেও নিশ্চিত মৃত্যু। এক সময় দেশের উত্তরবঙ্গের নদ-নদী এবং পদ্মা-মেঘনার অগভীর তীরে এ জালের দেখা মিললেও এখন তা পৌঁছেছে দক্ষিণের সাগর পাড়ে।সমুদ্র মোহনায় থাকা নদীগুলোর অগভীর পানিতে ব্যাপক হারে বাড়ছে এ জালের ব্যবহার। ফলে হুমকির মুখে পড়েছে মাছসহ নানা জলজ প্রাণী। সূ² ফাঁসের এই জালের পদ্ধতিটাই এমন যে স্রোতের টানে সব ধরনের জলজ প্রাণী ঢুকে যাবে এতে। বর্গাকৃতি লোহার খাঁচায় আটকে হারাতে হবে প্রাণ।কম দাম এবং বেশি মাছ ধরা পড়ায় জেলেদের মধ্যে ক্রমেই বাড়ছে এই জালের জনপ্রিয়তা। বিশেষজ্ঞদের মতে, কারেন্ট জালের চেয়েও মারাত্মক এই জাল। এর ব্যবহার বন্ধে এখনই ব্যবস্থা নেওয়া না গেলে হুমকির মুখে পড়বে দেশের মৎস্যসম্পদ। বিলুপ্তি ঘটবে নানা জলজ প্রাণীর।বছর দুই আগে বাংলাদেশে ব্যবহার শুরু হয় চায়না দুয়ারির। প্রথম দিকে পদ্মা-মেঘনাসহ উত্তরবঙ্গের নদ-নদীতে দেখা যেত এগুলো। চায়না থেকে আসা সূ² ফাঁসের নেট দিয়ে তৈরি হয় এ জাল। ১শ থেকে দেড়শ ফুট লম্বা এই জালের প্রস্থ সর্বোচ্চ দেড় ফুট।দেখতে অনেকটা মোটা পাইপের মতো এই জালের দেড় দুই ফুট পরপর থাকে চার কোনা অথবা গোল লোহার ফ্রেম। এই ফ্রেমের সঙ্গে আবার একমুখী ফাঁদ। পাইপ সদৃশ জালের ভেতরে ঢোকার পর এসব ফাঁদ পার হয়ে জালের শেষাংশে চলে যায় মাছ।লোহার ফ্রেমের সঙ্গে থাকা ফাঁদগুলো এমন পদ্ধতিতে তৈরি যে একবার এই ফাঁদ পার হলে পেছনে ফেরার উপায় থাকে না।বরগুনার পরিবেশ ও মানবাধিকারকর্মী আরিফুর রহমান বলেন, ‘কারেন্ট জালের চেয়েও ভয়ংকর এই জালের ফাঁস এতটাই ছোট যে এর ভেতরে মাছের রেনু পোনা পর্যন্ত আটকে যায়। সেই সঙ্গে আটকা পড়ে বিভিন্ন প্রজাতির জলজ প্রাণী। এককথায় পানি ছেকে সবকিছু নিয়ে আসে এই জাল।ক্ষুদ্র মৎস্যজীবী জেলে সমিতির কেন্দ্রীয় সদস্য শহিদুল ইসলাম বলেন, ‘দেশে প্রচলিত জালের মধ্যে যেগুলো নিষিদ্ধ তার তালিকায় এখনো আসেনি চায়না দুয়ারি। অসাধু জেলেরা এই সুযোগটিই ব্যবহার করছে।দাম কম এবং নদী তীরের কম পানিতে পাততে হয় বিধায় জেলে ছাড়াও নদীর পাড়ে বসবাসকারী অনেক সাধারণ মানুষও এখন এই জাল কিনে মাছ ধরছে। দিন দিন বাড়ছে এই জালের ব্যবহার। যাতে করে ধ্বংসের মুখে পড়ছে মৎস্যসম্পদ।থ
বিভিন্ন ভাবে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে সমুদ্র তীরবর্তী বরগুনা, পটুয়াখালী এবং ভোলা জেলার প্রায় সব এলাকাতেই এখন দেদার ব্যবহার হচ্ছে ‘চায়না দুয়ারিথ।বিশেষ করে সাগর মোহনার নদীগুলোর অগভীর অংশ এবং নদী থেকে ঢোকা খালের মুখে। সরেজমিন এরকম অসংখ্য জাল পাততে দেখা গেছে বরগুনার তালতলির জয়ালভাঙ্গা, বগি বাজারসংলগ্ন ¯øুুইচ গেট, পাথরঘাটার চরদোয়ানী ¯øুুইচ, বাঁশবুনিয়া এবং বুকাবুনিয়া এলাকায়।জয়ালভাঙ্গা এলাকার বাসিন্দা আলী কদম ব্যাপারী বলেন, ‘নদীতে জোয়ার আসার সময় জোয়ারের দিকে মুখ করে পাতা হয় এসব জাল। জোয়ার শেষে ভাটা শুরু হলে তুলে নেওয়া হয় তা। শুধু নদী নয়, নদী থেকে যেসব খাল জনবসতির দিকে গেছে সেসব জায়গাতেও এই জাল পাতে জেলেরা। পুরো তালতলী জুড়েই মিলবে এরকম অসংখ্য জাল পাতার দৃশ্য।বরগুনা জেলা মৎস্যজীবী ট্রলার মালিক অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি গোলাম মোস্তফা চৌধুরী বলেন, ‘এমন কোনো নদী খাল পাওয়া যাবে না যেখানে চায়না দুয়ারি জাল পাতা হয় না। অনেক জেলে যারা আগে নৌকা নিয়ে নদীতে জাল ফেলে মাছ ধরত তারাও এখন এই চায়না দুয়ারির জেলে। তাছাড়া মাত্র ৫ থেকে ১০ হাজার টাকায় কেনা যায় একেকটা চায়না দুয়ারি জাল। ফলে সহজেই তা কিনে নদীতে ফেলতে পারছে সবাই।থনদী ও মৎস্য গবেষণা বিষয়ক প্রতিষ্ঠান ইমেজ অ্যান্ড ইনফরমেশনের নির্বাহী পরিচালক হাসান আবিদুর রেজা বলেন, ‘আমাদের দেশে এমনিতেই এখন অস্তিত্ব বিলোপের মুখে রয়েছে বিভিন্ন ধরনের ছোট মাছ। এসব মাছ মূলত বিচরণ করে নদী-খালের অগভীর অংশে। চায়না দুয়ারি যেহেতু অগভীর পানিতে পাতা হয় তাই অস্তিত্বের সংকটে থাকা এসব ছোট মাছই ধরা পড়ে এই জালে। সূ² ফাঁসের হওয়ায় বিভিন্ন ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র মাছের পোনা এবং নানা ধরনের জলজ প্রাণীও আটকা পড়ে এই জালে। জেলেদের যেহেতু লক্ষ থাকে শুধু মূল্যবান মাছের দিকে তাই তীরে উঠার পর ওইসব পোনা এবং জলজ প্রাণী ফেলে দেওয়া হয় শুকনো ডাঙ্গায়। ফলে এগুলো মারা যায়। এর আগে যখন উপকূলে নেট জালের মাধ্যমে বাগদা চিংড়ির রেনু পোনা শিকার হতো তখনও এরকম সংকটে পড়েছিলাম আমরা। অবশ্য এখন সেটা অনেকটাই বন্ধ হয়েছে। কিন্তু নতুন করে এই চায়না দুয়ারি জাল এসে আবারও সেই আতঙ্কজনক পরিস্থিতি ফিরিয়ে এনেছে। ছোট ছোট প্রজাতির মাছ এবং মাছের রেনু পোনা মূলত নদী তীরের অগভীর পানিতেই থাকে। সেই জায়গায় এরকম ভয়ানক জাল পাতা মানে পুরো মৎস্যসম্পদকে ঝুঁকির মুখে ফেলা। এখনই এটা বন্ধ করা না গেলে দেশের মৎস্যসম্পদ হুমকির মুখে পড়ার পাশাপাশি জলজ প্রাণীর অস্তিত্ব বিলুপ্তির মাধ্যমে জলজ পরিবেশের ভারসাম্য বিনষ্ট হবে।
সাগর পাড়ের নদ-নদীর মোহনাই শুধু নয়, বরিশাল বিভাগের ৬ জেলার প্রায় সর্বত্রই এখন ছড়িয়ে পড়েছে চায়না দুয়ারি। যার প্রমাণ মিলেছে মৎস্য অধিদপ্তরের বরিশাল বিভাগীয় পরিচালক আনিসুর রহমান তালুকদারের বক্তব্যে।চায়না দুয়ারি নিয়ে আলাপকালে তিনি বলেন, ‘গেজেটে নাম থাকুক বা না থাকুক, মৎস্য আইনে এই জাল নিষিদ্ধ। এর প্রস্তুত পদ্ধতি এবং জাল ফার্মের যে ফাঁকা তা আইন সিদ্ধ নয়। এরইমধ্যে বরিশালের বিভিন্ন এলাকায় এই জালের বিরুদ্ধে অভিযান চালিয়েছি আমরা। বরিশালের গৌরনদী, আগৈলঝাড়া থেকে বিপুলসংখ্যক জাল আটক করে ধ্বংস করা হয়েছে। বিশেষ করে অগভীর বিল এলাকায় বেশি সংখ্যায় ব্যবহার হচ্ছে এই জাল।উপকূলীয় নদী এবং নদী মোহনায় এ জালের ব্যবহার রোধে কি কি উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে তা জানতে চাইলে তিনি বলেন, যেখানেই এই জালের ব্যবহার হচ্ছে বলে খবর মিলছে সেখানেই অভিযান চালাচ্ছি আমরা। তবে যেহেতু জেলেরা সংখ্যায় কয়েক লাখ সেখানে আমাদের সীমিত জনবল দিয়ে সবক্ষেত্রে ব্যবস্থা গ্রহণ সম্ভব হয়ে উঠছে না। তবে তারপরও আমরা চেষ্টা চালাচ্ছি। এখানে সবচেয়ে যেটা জরুরি সেটা হচ্ছে জনসচেতনতা। সে দিকটাতেও জোর দিয়েছি আমরা। স্থানীয় চেয়ারম্যান-মেম্বারসহ জনপ্রতিনিধিদের বিষয়টি সম্পর্কে সচেতন করা হচ্ছে। আশা করছি খুব শিগগিরই পুরো দক্ষিণ উপকূল থেকে মারাত্মক ক্ষতিকর এ জাল বিলুপ্ত করে দিতে পারব আমরা।

ট্যাগ :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

মধুপুটে স্মার্ট ফুয়েল কার্ড বিতরণের শুভ উদ্বোধন

উপকূলে ‘চায়না দুয়ারি হুমকিতে ছোট মাছ

আপডেট সময় : 08:07:24 pm, Monday, 4 April 2022

মনির হোসেন,বরিশাল ব্যুরো।।

জালের নাম ‘চায়না দুয়ারিথ। মরণফাঁদ নামের এই জালে একবার ঢুকলে আর বের হতে পারে না মাছ। চলতি পথে নানা জলজ প্রাণী ঢুকে পড়লেও নিশ্চিত মৃত্যু। এক সময় দেশের উত্তরবঙ্গের নদ-নদী এবং পদ্মা-মেঘনার অগভীর তীরে এ জালের দেখা মিললেও এখন তা পৌঁছেছে দক্ষিণের সাগর পাড়ে।সমুদ্র মোহনায় থাকা নদীগুলোর অগভীর পানিতে ব্যাপক হারে বাড়ছে এ জালের ব্যবহার। ফলে হুমকির মুখে পড়েছে মাছসহ নানা জলজ প্রাণী। সূ² ফাঁসের এই জালের পদ্ধতিটাই এমন যে স্রোতের টানে সব ধরনের জলজ প্রাণী ঢুকে যাবে এতে। বর্গাকৃতি লোহার খাঁচায় আটকে হারাতে হবে প্রাণ।কম দাম এবং বেশি মাছ ধরা পড়ায় জেলেদের মধ্যে ক্রমেই বাড়ছে এই জালের জনপ্রিয়তা। বিশেষজ্ঞদের মতে, কারেন্ট জালের চেয়েও মারাত্মক এই জাল। এর ব্যবহার বন্ধে এখনই ব্যবস্থা নেওয়া না গেলে হুমকির মুখে পড়বে দেশের মৎস্যসম্পদ। বিলুপ্তি ঘটবে নানা জলজ প্রাণীর।বছর দুই আগে বাংলাদেশে ব্যবহার শুরু হয় চায়না দুয়ারির। প্রথম দিকে পদ্মা-মেঘনাসহ উত্তরবঙ্গের নদ-নদীতে দেখা যেত এগুলো। চায়না থেকে আসা সূ² ফাঁসের নেট দিয়ে তৈরি হয় এ জাল। ১শ থেকে দেড়শ ফুট লম্বা এই জালের প্রস্থ সর্বোচ্চ দেড় ফুট।দেখতে অনেকটা মোটা পাইপের মতো এই জালের দেড় দুই ফুট পরপর থাকে চার কোনা অথবা গোল লোহার ফ্রেম। এই ফ্রেমের সঙ্গে আবার একমুখী ফাঁদ। পাইপ সদৃশ জালের ভেতরে ঢোকার পর এসব ফাঁদ পার হয়ে জালের শেষাংশে চলে যায় মাছ।লোহার ফ্রেমের সঙ্গে থাকা ফাঁদগুলো এমন পদ্ধতিতে তৈরি যে একবার এই ফাঁদ পার হলে পেছনে ফেরার উপায় থাকে না।বরগুনার পরিবেশ ও মানবাধিকারকর্মী আরিফুর রহমান বলেন, ‘কারেন্ট জালের চেয়েও ভয়ংকর এই জালের ফাঁস এতটাই ছোট যে এর ভেতরে মাছের রেনু পোনা পর্যন্ত আটকে যায়। সেই সঙ্গে আটকা পড়ে বিভিন্ন প্রজাতির জলজ প্রাণী। এককথায় পানি ছেকে সবকিছু নিয়ে আসে এই জাল।ক্ষুদ্র মৎস্যজীবী জেলে সমিতির কেন্দ্রীয় সদস্য শহিদুল ইসলাম বলেন, ‘দেশে প্রচলিত জালের মধ্যে যেগুলো নিষিদ্ধ তার তালিকায় এখনো আসেনি চায়না দুয়ারি। অসাধু জেলেরা এই সুযোগটিই ব্যবহার করছে।দাম কম এবং নদী তীরের কম পানিতে পাততে হয় বিধায় জেলে ছাড়াও নদীর পাড়ে বসবাসকারী অনেক সাধারণ মানুষও এখন এই জাল কিনে মাছ ধরছে। দিন দিন বাড়ছে এই জালের ব্যবহার। যাতে করে ধ্বংসের মুখে পড়ছে মৎস্যসম্পদ।থ
বিভিন্ন ভাবে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে সমুদ্র তীরবর্তী বরগুনা, পটুয়াখালী এবং ভোলা জেলার প্রায় সব এলাকাতেই এখন দেদার ব্যবহার হচ্ছে ‘চায়না দুয়ারিথ।বিশেষ করে সাগর মোহনার নদীগুলোর অগভীর অংশ এবং নদী থেকে ঢোকা খালের মুখে। সরেজমিন এরকম অসংখ্য জাল পাততে দেখা গেছে বরগুনার তালতলির জয়ালভাঙ্গা, বগি বাজারসংলগ্ন ¯øুুইচ গেট, পাথরঘাটার চরদোয়ানী ¯øুুইচ, বাঁশবুনিয়া এবং বুকাবুনিয়া এলাকায়।জয়ালভাঙ্গা এলাকার বাসিন্দা আলী কদম ব্যাপারী বলেন, ‘নদীতে জোয়ার আসার সময় জোয়ারের দিকে মুখ করে পাতা হয় এসব জাল। জোয়ার শেষে ভাটা শুরু হলে তুলে নেওয়া হয় তা। শুধু নদী নয়, নদী থেকে যেসব খাল জনবসতির দিকে গেছে সেসব জায়গাতেও এই জাল পাতে জেলেরা। পুরো তালতলী জুড়েই মিলবে এরকম অসংখ্য জাল পাতার দৃশ্য।বরগুনা জেলা মৎস্যজীবী ট্রলার মালিক অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি গোলাম মোস্তফা চৌধুরী বলেন, ‘এমন কোনো নদী খাল পাওয়া যাবে না যেখানে চায়না দুয়ারি জাল পাতা হয় না। অনেক জেলে যারা আগে নৌকা নিয়ে নদীতে জাল ফেলে মাছ ধরত তারাও এখন এই চায়না দুয়ারির জেলে। তাছাড়া মাত্র ৫ থেকে ১০ হাজার টাকায় কেনা যায় একেকটা চায়না দুয়ারি জাল। ফলে সহজেই তা কিনে নদীতে ফেলতে পারছে সবাই।থনদী ও মৎস্য গবেষণা বিষয়ক প্রতিষ্ঠান ইমেজ অ্যান্ড ইনফরমেশনের নির্বাহী পরিচালক হাসান আবিদুর রেজা বলেন, ‘আমাদের দেশে এমনিতেই এখন অস্তিত্ব বিলোপের মুখে রয়েছে বিভিন্ন ধরনের ছোট মাছ। এসব মাছ মূলত বিচরণ করে নদী-খালের অগভীর অংশে। চায়না দুয়ারি যেহেতু অগভীর পানিতে পাতা হয় তাই অস্তিত্বের সংকটে থাকা এসব ছোট মাছই ধরা পড়ে এই জালে। সূ² ফাঁসের হওয়ায় বিভিন্ন ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র মাছের পোনা এবং নানা ধরনের জলজ প্রাণীও আটকা পড়ে এই জালে। জেলেদের যেহেতু লক্ষ থাকে শুধু মূল্যবান মাছের দিকে তাই তীরে উঠার পর ওইসব পোনা এবং জলজ প্রাণী ফেলে দেওয়া হয় শুকনো ডাঙ্গায়। ফলে এগুলো মারা যায়। এর আগে যখন উপকূলে নেট জালের মাধ্যমে বাগদা চিংড়ির রেনু পোনা শিকার হতো তখনও এরকম সংকটে পড়েছিলাম আমরা। অবশ্য এখন সেটা অনেকটাই বন্ধ হয়েছে। কিন্তু নতুন করে এই চায়না দুয়ারি জাল এসে আবারও সেই আতঙ্কজনক পরিস্থিতি ফিরিয়ে এনেছে। ছোট ছোট প্রজাতির মাছ এবং মাছের রেনু পোনা মূলত নদী তীরের অগভীর পানিতেই থাকে। সেই জায়গায় এরকম ভয়ানক জাল পাতা মানে পুরো মৎস্যসম্পদকে ঝুঁকির মুখে ফেলা। এখনই এটা বন্ধ করা না গেলে দেশের মৎস্যসম্পদ হুমকির মুখে পড়ার পাশাপাশি জলজ প্রাণীর অস্তিত্ব বিলুপ্তির মাধ্যমে জলজ পরিবেশের ভারসাম্য বিনষ্ট হবে।
সাগর পাড়ের নদ-নদীর মোহনাই শুধু নয়, বরিশাল বিভাগের ৬ জেলার প্রায় সর্বত্রই এখন ছড়িয়ে পড়েছে চায়না দুয়ারি। যার প্রমাণ মিলেছে মৎস্য অধিদপ্তরের বরিশাল বিভাগীয় পরিচালক আনিসুর রহমান তালুকদারের বক্তব্যে।চায়না দুয়ারি নিয়ে আলাপকালে তিনি বলেন, ‘গেজেটে নাম থাকুক বা না থাকুক, মৎস্য আইনে এই জাল নিষিদ্ধ। এর প্রস্তুত পদ্ধতি এবং জাল ফার্মের যে ফাঁকা তা আইন সিদ্ধ নয়। এরইমধ্যে বরিশালের বিভিন্ন এলাকায় এই জালের বিরুদ্ধে অভিযান চালিয়েছি আমরা। বরিশালের গৌরনদী, আগৈলঝাড়া থেকে বিপুলসংখ্যক জাল আটক করে ধ্বংস করা হয়েছে। বিশেষ করে অগভীর বিল এলাকায় বেশি সংখ্যায় ব্যবহার হচ্ছে এই জাল।উপকূলীয় নদী এবং নদী মোহনায় এ জালের ব্যবহার রোধে কি কি উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে তা জানতে চাইলে তিনি বলেন, যেখানেই এই জালের ব্যবহার হচ্ছে বলে খবর মিলছে সেখানেই অভিযান চালাচ্ছি আমরা। তবে যেহেতু জেলেরা সংখ্যায় কয়েক লাখ সেখানে আমাদের সীমিত জনবল দিয়ে সবক্ষেত্রে ব্যবস্থা গ্রহণ সম্ভব হয়ে উঠছে না। তবে তারপরও আমরা চেষ্টা চালাচ্ছি। এখানে সবচেয়ে যেটা জরুরি সেটা হচ্ছে জনসচেতনতা। সে দিকটাতেও জোর দিয়েছি আমরা। স্থানীয় চেয়ারম্যান-মেম্বারসহ জনপ্রতিনিধিদের বিষয়টি সম্পর্কে সচেতন করা হচ্ছে। আশা করছি খুব শিগগিরই পুরো দক্ষিণ উপকূল থেকে মারাত্মক ক্ষতিকর এ জাল বিলুপ্ত করে দিতে পারব আমরা।