Dhaka , Thursday, 6 August 2026
নিবন্ধন নাম্বারঃ ১১০, সিরিয়াল নাম্বারঃ ১৫৪, কোড নাম্বারঃ ৯২
শিরোনাম ::
জুলাই-যোদ্ধাদের পাশে দাঁড়াতে হবে :- মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন নারায়ণগঞ্জে জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস উপলক্ষে শহিদ পরিবার ও আহত যোদ্ধাদের সংবর্ধনা রুমিন ফারহানার সভায় নেই বিএনপি বেতাগীতে জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস উপলক্ষে আলোচনা সভা ও দোয়া অনুষ্ঠিত হাসিনাকে ফিরিয়ে এনে বিচারের মুখোমুখি করা হবে: চবিতে আয়োজিত জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবসে প্রতিমন্ত্রী মীর হেলাল  জুলাই গণঅভ্যুত্থানের স্মৃতি ও চেতনায় চরভদ্রাসনে পালিত হলো জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস। রামুতে উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস পালিত পাইকগাছায় জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস পালিত প্রধানমন্ত্রীর বাঁশখালী সফর, প্রস্তুতি ও পুনর্বাসন ঘরের নির্মাণকাজ পরিদর্শনে জেলা প্রশাসক শহিদ পরিবারের আর্তনাদ শুনলে নিজেকে স্থির রাখতে পারি না’ :- চউক চেয়ারম্যান জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস ২০২৬ উপলক্ষে জুলাই স্মৃতিস্তম্ভে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ (সিএমপি)’র শ্রদ্ধাঞ্জলি প্রত্যেক অপরাধীর বিচার এ দেশেই হবে, সে যত শক্তিশালীই হোক না কেন”:- চট্টগ্রামে জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবসে প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর হেলাল নরসিংদীতে জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস পালন নেতাকর্মীদের ওপর জামাত-শিবিরের মামলার প্রতিবাদে রূপগঞ্জে ছাত্রদলের বিক্ষোভ মিছিল রূপগঞ্জে ১০২ বোতল বিদেশি মদ ও ৪ কেজি গাঁজসহ ১ জন গ্রেফতার জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবসের আলোচনা সভায় অংশ নেয়নি ইবি ছাত্রদল অদম্য জুলাই মিছিল করেছে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রশিবির। জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস ২০২৬: রাষ্ট্রীয় আয়োজনে শহিদ পরিবার ও জুলাই যোদ্ধাদের সম্মাননা, স্মারক তুলে দিলেন ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘরের উদ্বোধন, সংরক্ষিত হবে গণতান্ত্রিক সংগ্রামের ইতিহাস বাংলাদেশকে চিরতরে ফ্যাসিস্টমুক্ত রাখতে পারলে শহিদদের প্রতি প্রকৃত সম্মান জানানো হবে: ইবি উপাচার্য স্বপ্নের সুরে এগিয়ে চলা মধুপুরের গীতিকার আমিনুল ইসলাম সেলিম জনআকাঙ্ক্ষা ও জুলাই সনদের আলোকে বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়তে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ :- প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর হেলাল জুলাই-আগস্টের শহীদরা চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে :- মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস ২০২৬ উপলক্ষে শিল্পকলায় আলোচনা সভা ও সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ সুপার জুলাইয়ে দলমত নির্বিশেষে সকলের অংশগ্রহণে স্বৈরাচারের বিদায় ঘন্টা বেজে ওঠে -জাহান্দার আলী এমপি মাদারীপুরে যথাযোগ্য শ্রদ্ধা ও মর্যাদায় পালিত হচ্ছে জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস ৪৭ টি বুলেটের আঘাতের পরও আহতদের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হননি রামগঞ্জের সিহাব জাফর ইকবালের সঙ্গে প্রেম নিয়ে যে তথ্য দিলেন ববিতা আয়ের দিক থেকে অনন্য উচ্চতায় রিয়াল মাদ্রিদ পদত্যাগের গুঞ্জন উড়িয়ে দিলেন ইরানের প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ান

৭ ডিসেম্বর ইসলামপুর হানাদার মুক্ত দিবস গৌরবময় অধ্যায়।।

  • Reporter Name
  • আপডেট সময় : 05:59:49 am, Saturday, 7 December 2024
  • 127 বার পড়া হয়েছে

৭ ডিসেম্বর ইসলামপুর হানাদার মুক্ত দিবস গৌরবময় অধ্যায়।।

জাবির আহম্মেদ জিহাদ।।
 
  
ডিসেম্বর মাস বাঙালির জীবনে গৌরবের এক আলোকিত অধ্যায়। এ মাসে অর্জিত হয় বাঙালির চূড়ান্ত বিজয়। ১৯৭১ সালের ৭ ডিসেম্বর- পাকহানাদার বাহিনীর কবল থেকে মুক্তচ হয় জামালপুর জেলার ইসলামপুর উপজেলা। এ দিনটি ইসলামপুরবাসীর জীবনে এক গৌরবোজ্জ্বল মুহূর্ত হিসেবে ইতিহাসের পাতায় চিরস্মরণীয় হয়ে আছে।
ইসলামপুরের মুক্তিযুদ্ধের সূচনা-
ইসলামপুর ছিল মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম একটি গুরুত্বপূর্ণ অঞ্চল। এখানে গেরিলা আক্রমণ- প্রতিরোধ যুদ্ধ- এবং স্থানীয় জনগণের বীরত্বের অসংখ্য দৃষ্টান্ত রচিত হয়েছে। মুক্তিযুদ্ধের সময় ইসলামপুর অঞ্চলে নেতৃত্ব দেন পশ্চিম ইসলামপুরে একদল বীর, দরিয়াবাদ ফকিরপাড়ার সন্তান প্রয়াত শাহ মোহাম্মদ জালাল উদ্দিন।
জালাল উদ্দিন ছিলেন এক সাহসী মুক্তিযোদ্ধা, যিনি “জালাল কোম্পানি” নামে একটি বিশেষ গেরিলা বাহিনী গঠন করেছিলেন। ১১ নম্বর সেক্টর কমান্ডারের নির্দেশনায় গঠিত এই বাহিনী ইসলামপুরে পাকহানাদার বাহিনীর ওপর ধারাবাহিক আক্রমণ চালায়। ভারতের মেঘালয় রাজ্যের মহেন্দ্রগঞ্জে স্থাপিত মুক্তিযোদ্ধা প্রশিক্ষণ শিবির থেকে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত যোদ্ধারা এই বাহিনীতে যোগ দেন।
গেরিলা আক্রমণ ও প্রশিক্ষণ-
জালাল বাহিনী সিরাজাবাদ এলাকার ব্রহ্মপুত্র নদের পাড়ে মাদারি ছন আখক্ষেতে একটি ক্যাম্প স্থাপন করে। এখানে গেরিলা যুদ্ধের তাত্ত্বিক এবং ব্যবহারিক প্রশিক্ষণ দেওয়া হতো। প্রতিদিন তারা পাকিস্তানি সেনাদের ক্যাম্প এবং রাজাকারদের স্থাপনায় আক্রমণ চালাত। এই বাহিনীর দক্ষতা ও সাহসিকতা স্থানীয়দের মধ্যে মুক্তিযুদ্ধের প্রতি উদ্দীপনা জাগিয়ে তুলেছিল।
ইসলামপুর দখলের প্রস্তুতি-
১৯৭১ সালের ৬ ডিসেম্বর, জালাল বাহিনী ইসলামপুর দখলের জন্য চূড়ান্ত পরিকল্পনা নেয়। চারটি প্লাটুনে ভাগ হয়ে তারা ইসলামপুরের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলোতে অবস্থান নেয়। 
– ১ নম্বর প্লাটুন অবস্থান নেয় থানা পরিষদের উত্তর-পশ্চিম কোণে ঋষিপাড়া রেল ক্রসিং এলাকায়। 
– ২ নম্বর প্লাটুন অবস্থান করে সর্দারপাড়া অষ্টমিটেক খেয়াঘাট সংলগ্ন ব্রহ্মপুত্র নদের দক্ষিণ পাড়ে। 
– ৩ নম্বর প্লাটুন থানার পূর্ব পাশে পাকা মুড়ি মোড়ে -বর্তমানে ইসলামপুর হাসপাতাল সংলগ্ন-। 
– ৪ নম্বর প্লাটুন ছিল পশ্চিম বাহাদুরপুর প্রাথমিক বিদ্যালয়ের উত্তর পাশে।
এই পরিকল্পনার মাধ্যমে তারা পাক সেনাদের পুরোপুরি ঘিরে ফেলে।
চূড়ান্ত যুদ্ধ ও বিজয়-
৬ ডিসেম্বর দুপুর থেকে শুরু হওয়া যুদ্ধ টানা পরদিন ভোর পর্যন্ত চলে। মুক্তিযোদ্ধাদের গেরিলা আক্রমণে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী ও তাদের দোসর রাজাকাররা কোনোভাবেই টিকতে পারেনি। মুক্তিযোদ্ধাদের অসীম সাহসিকতার মুখে তারা অস্ত্র- গোলাবারুদ এবং অন্যান্য সামগ্রী ফেলে পালিয়ে যায়। পালানোর সময় বিশেষ ট্রেনে করে জামালপুরের দিকে যাওয়ার পথে ঝিনাই ব্রিজসহ তিনটি রেল ব্রিজ ধ্বংস করে, যাতে ইসলামপুরের সাথে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়।
পরদিন ৭ ডিসেম্বর বেলা ১১টায় ইসলামপুর থানা চত্বরে এক ঐতিহাসিক মুহূর্তের সৃষ্টি হয়। হাজারো মুক্তিকামী মানুষের উপস্থিতিতে প্রয়াত কমান্ডার শাহ মোহাম্মদ জালাল উদ্দিন স্বাধীন বাংলাদেশের পতাকা উত্তোলন করেন। ওই মুহূর্তে ইসলামপুরের আকাশ স্বাধীনতার আনন্দে মুখরিত হয়।
জালাল বাহিনীর অবদান-
জালাল কোম্পানি মুক্তিযুদ্ধের সময় ইসলামপুর অঞ্চলে বিশেষ ভূমিকা পালন করে। এই বাহিনীর নেতৃত্বে ইসলামপুরের প্রতিটি গ্রাম-গঞ্জে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ছড়িয়ে পড়ে। বিশেষ করে তাদের প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত যোদ্ধারা পাকিস্তানি বাহিনীর বিরুদ্ধে সফল গেরিলা অভিযান চালিয়ে ইসলামপুরকে পাক হানাদারমুক্ত করতে সক্ষম হয়।
একজন বীরের স্মৃতি-
মুক্তিযুদ্ধের গৌরবোজ্জ্বল এই অধ্যায়ের অন্যতম নায়ক- স্পেশাল জালাল কোম্পানির কমান্ডার শাহ মোহাম্মদ জালাল উদ্দিন, ২০১৭ সালের ২৭ আগস্ট হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুবরণ করেন। তিনি ছিলেন ইসলামপুরের মুক্তিকামী জনগণের হৃদয়ের নায়ক।
ইসলামপুরের স্বাধীনতার গুরুত্ব-
৭ ডিসেম্বর ইসলামপুরবাসীর জন্য শুধুই একটি দিন নয়- এটি তাঁদের সাহসিকতা- ত্যাগ এবং বিজয়ের প্রতীক। এই দিনটি কেবল ইসলামপুর নয়- পুরো বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসে একটি উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত।ইসলামপুরের হানাদার মুক্তির এই দিনটি নতুন প্রজন্মের জন্য এক প্রেরণার উৎস। জালাল বাহিনীর আত্মত্যাগ ও বীরত্ব আমাদের মনে করিয়ে দেয় যে স্বাধীনতা কোনো সহজ প্রাপ্তি নয়। এটি অর্জনের পেছনে রয়েছে লক্ষ মানুষের আত্মত্যাগ ও বীরত্ব।
এই ঐতিহাসিক দিনটির স্মৃতি ধরে রাখতে প্রতিবছর ইসলামপুরে দিবসটি যথাযোগ্য মর্যাদায় পালিত হওয়া উচিত। স্থানীয়হ প্রশাসন, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ এবং সাধারণ মানুষ এই দিনটির গৌরবময় ইতিহাস নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরতে আরও উদ্যোগী হতে পারেন।
৭ ডিসেম্বর ইসলামপুরের মানুষকে তাঁদের গৌরবের স্মৃতি স্মরণ করিয়ে দেয়। এটি শুধু একটি এলাকার মুক্তি নয়, এটি একটি জাতির বিজয়ের অংশ।

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

জুলাই-যোদ্ধাদের পাশে দাঁড়াতে হবে :- মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন

৭ ডিসেম্বর ইসলামপুর হানাদার মুক্ত দিবস গৌরবময় অধ্যায়।।

আপডেট সময় : 05:59:49 am, Saturday, 7 December 2024
জাবির আহম্মেদ জিহাদ।।
 
  
ডিসেম্বর মাস বাঙালির জীবনে গৌরবের এক আলোকিত অধ্যায়। এ মাসে অর্জিত হয় বাঙালির চূড়ান্ত বিজয়। ১৯৭১ সালের ৭ ডিসেম্বর- পাকহানাদার বাহিনীর কবল থেকে মুক্তচ হয় জামালপুর জেলার ইসলামপুর উপজেলা। এ দিনটি ইসলামপুরবাসীর জীবনে এক গৌরবোজ্জ্বল মুহূর্ত হিসেবে ইতিহাসের পাতায় চিরস্মরণীয় হয়ে আছে।
ইসলামপুরের মুক্তিযুদ্ধের সূচনা-
ইসলামপুর ছিল মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম একটি গুরুত্বপূর্ণ অঞ্চল। এখানে গেরিলা আক্রমণ- প্রতিরোধ যুদ্ধ- এবং স্থানীয় জনগণের বীরত্বের অসংখ্য দৃষ্টান্ত রচিত হয়েছে। মুক্তিযুদ্ধের সময় ইসলামপুর অঞ্চলে নেতৃত্ব দেন পশ্চিম ইসলামপুরে একদল বীর, দরিয়াবাদ ফকিরপাড়ার সন্তান প্রয়াত শাহ মোহাম্মদ জালাল উদ্দিন।
জালাল উদ্দিন ছিলেন এক সাহসী মুক্তিযোদ্ধা, যিনি “জালাল কোম্পানি” নামে একটি বিশেষ গেরিলা বাহিনী গঠন করেছিলেন। ১১ নম্বর সেক্টর কমান্ডারের নির্দেশনায় গঠিত এই বাহিনী ইসলামপুরে পাকহানাদার বাহিনীর ওপর ধারাবাহিক আক্রমণ চালায়। ভারতের মেঘালয় রাজ্যের মহেন্দ্রগঞ্জে স্থাপিত মুক্তিযোদ্ধা প্রশিক্ষণ শিবির থেকে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত যোদ্ধারা এই বাহিনীতে যোগ দেন।
গেরিলা আক্রমণ ও প্রশিক্ষণ-
জালাল বাহিনী সিরাজাবাদ এলাকার ব্রহ্মপুত্র নদের পাড়ে মাদারি ছন আখক্ষেতে একটি ক্যাম্প স্থাপন করে। এখানে গেরিলা যুদ্ধের তাত্ত্বিক এবং ব্যবহারিক প্রশিক্ষণ দেওয়া হতো। প্রতিদিন তারা পাকিস্তানি সেনাদের ক্যাম্প এবং রাজাকারদের স্থাপনায় আক্রমণ চালাত। এই বাহিনীর দক্ষতা ও সাহসিকতা স্থানীয়দের মধ্যে মুক্তিযুদ্ধের প্রতি উদ্দীপনা জাগিয়ে তুলেছিল।
ইসলামপুর দখলের প্রস্তুতি-
১৯৭১ সালের ৬ ডিসেম্বর, জালাল বাহিনী ইসলামপুর দখলের জন্য চূড়ান্ত পরিকল্পনা নেয়। চারটি প্লাটুনে ভাগ হয়ে তারা ইসলামপুরের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলোতে অবস্থান নেয়। 
– ১ নম্বর প্লাটুন অবস্থান নেয় থানা পরিষদের উত্তর-পশ্চিম কোণে ঋষিপাড়া রেল ক্রসিং এলাকায়। 
– ২ নম্বর প্লাটুন অবস্থান করে সর্দারপাড়া অষ্টমিটেক খেয়াঘাট সংলগ্ন ব্রহ্মপুত্র নদের দক্ষিণ পাড়ে। 
– ৩ নম্বর প্লাটুন থানার পূর্ব পাশে পাকা মুড়ি মোড়ে -বর্তমানে ইসলামপুর হাসপাতাল সংলগ্ন-। 
– ৪ নম্বর প্লাটুন ছিল পশ্চিম বাহাদুরপুর প্রাথমিক বিদ্যালয়ের উত্তর পাশে।
এই পরিকল্পনার মাধ্যমে তারা পাক সেনাদের পুরোপুরি ঘিরে ফেলে।
চূড়ান্ত যুদ্ধ ও বিজয়-
৬ ডিসেম্বর দুপুর থেকে শুরু হওয়া যুদ্ধ টানা পরদিন ভোর পর্যন্ত চলে। মুক্তিযোদ্ধাদের গেরিলা আক্রমণে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী ও তাদের দোসর রাজাকাররা কোনোভাবেই টিকতে পারেনি। মুক্তিযোদ্ধাদের অসীম সাহসিকতার মুখে তারা অস্ত্র- গোলাবারুদ এবং অন্যান্য সামগ্রী ফেলে পালিয়ে যায়। পালানোর সময় বিশেষ ট্রেনে করে জামালপুরের দিকে যাওয়ার পথে ঝিনাই ব্রিজসহ তিনটি রেল ব্রিজ ধ্বংস করে, যাতে ইসলামপুরের সাথে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়।
পরদিন ৭ ডিসেম্বর বেলা ১১টায় ইসলামপুর থানা চত্বরে এক ঐতিহাসিক মুহূর্তের সৃষ্টি হয়। হাজারো মুক্তিকামী মানুষের উপস্থিতিতে প্রয়াত কমান্ডার শাহ মোহাম্মদ জালাল উদ্দিন স্বাধীন বাংলাদেশের পতাকা উত্তোলন করেন। ওই মুহূর্তে ইসলামপুরের আকাশ স্বাধীনতার আনন্দে মুখরিত হয়।
জালাল বাহিনীর অবদান-
জালাল কোম্পানি মুক্তিযুদ্ধের সময় ইসলামপুর অঞ্চলে বিশেষ ভূমিকা পালন করে। এই বাহিনীর নেতৃত্বে ইসলামপুরের প্রতিটি গ্রাম-গঞ্জে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ছড়িয়ে পড়ে। বিশেষ করে তাদের প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত যোদ্ধারা পাকিস্তানি বাহিনীর বিরুদ্ধে সফল গেরিলা অভিযান চালিয়ে ইসলামপুরকে পাক হানাদারমুক্ত করতে সক্ষম হয়।
একজন বীরের স্মৃতি-
মুক্তিযুদ্ধের গৌরবোজ্জ্বল এই অধ্যায়ের অন্যতম নায়ক- স্পেশাল জালাল কোম্পানির কমান্ডার শাহ মোহাম্মদ জালাল উদ্দিন, ২০১৭ সালের ২৭ আগস্ট হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুবরণ করেন। তিনি ছিলেন ইসলামপুরের মুক্তিকামী জনগণের হৃদয়ের নায়ক।
ইসলামপুরের স্বাধীনতার গুরুত্ব-
৭ ডিসেম্বর ইসলামপুরবাসীর জন্য শুধুই একটি দিন নয়- এটি তাঁদের সাহসিকতা- ত্যাগ এবং বিজয়ের প্রতীক। এই দিনটি কেবল ইসলামপুর নয়- পুরো বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসে একটি উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত।ইসলামপুরের হানাদার মুক্তির এই দিনটি নতুন প্রজন্মের জন্য এক প্রেরণার উৎস। জালাল বাহিনীর আত্মত্যাগ ও বীরত্ব আমাদের মনে করিয়ে দেয় যে স্বাধীনতা কোনো সহজ প্রাপ্তি নয়। এটি অর্জনের পেছনে রয়েছে লক্ষ মানুষের আত্মত্যাগ ও বীরত্ব।
এই ঐতিহাসিক দিনটির স্মৃতি ধরে রাখতে প্রতিবছর ইসলামপুরে দিবসটি যথাযোগ্য মর্যাদায় পালিত হওয়া উচিত। স্থানীয়হ প্রশাসন, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ এবং সাধারণ মানুষ এই দিনটির গৌরবময় ইতিহাস নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরতে আরও উদ্যোগী হতে পারেন।
৭ ডিসেম্বর ইসলামপুরের মানুষকে তাঁদের গৌরবের স্মৃতি স্মরণ করিয়ে দেয়। এটি শুধু একটি এলাকার মুক্তি নয়, এটি একটি জাতির বিজয়ের অংশ।