Dhaka , Saturday, 8 August 2026
নিবন্ধন নাম্বারঃ ১১০, সিরিয়াল নাম্বারঃ ১৫৪, কোড নাম্বারঃ ৯২
শিরোনাম ::
খেলাধুলা ও বই পড়ার মাধ্যমে আগামী প্রজন্মকে মাদক থেকে দূরে রাখতে হবে আব্দুর রহমান খাঁন সাবেক এনবিআর চেয়ারম্যান মধুপুরে ডায়রিয়ায় আক্রান্ত বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুস সামাদ হাসপাতালে দ্রুত সুস্থতার জন্য সবার কাছে দোয়া চেয়েছেন পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক খন্দকার মোতালিব শ্রীপুরে দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গ ও আহ্বায়কের ওপর হামলার অভিযোগে যুবদল নেতা তোফানকে কারণ দর্শানোর নোটিশ পাতে মাংস কম দেওয়া নিয়ে বিয়ের আসরে তুলকালাম, সংঘর্ষে আহত ৩ হাসপাতালের সেবার মানোন্নয়ন ও পরিচ্ছন্নতায় মাগুরায় সিভিল সার্জন ডা. শামীম কবিরের সারপ্রাইজ পরিদর্শন জুলাই গণ-অভ্যুত্থান দিবস: রূপগঞ্জে দীপু ভূঁইয়ার নেতৃত্বে বর্ণাঢ্য বিজয় র‌্যালি ও লাখো জনতার উল্লাস রূপগঞ্জে সাবেক সেনা কর্মকর্তার বসতবাড়িতে সন্ত্রাসী হামলা ভাংচুর লুটপাট রূপগঞ্জে ৮৪ কেজি গাঁজাসহ মাদক ব্যবসায়ী গ্রেপ্তার প্রধানমন্ত্রীর চট্টগ্রাম সফর কাল, প্রস্তুত সাত ভেন্যু প্রধানমন্ত্রীকে বরণে চউকের সব প্রস্তুতি সম্পন্ন ৫ লাখ টাকা যৌতুক দাবি, স্ত্রীকে এক কাপড়ে ঘরছাড়া করার অভিযোগ ফতুল্লায় দুর্ধর্ষ ডাকাতি, স্বর্ণালংকার ও সাড়ে ৭ লাখ টাকা লুট ফতুল্লায় বন্ধ গোডাউন থেকে গলিত লাশ উদ্ধার, আটক ২ মির্জাপুরে আর্ন এন্ড লিভের পক্ষ থেকে শাহাদতকে ৭ হাজার ৬ শত টাকার হুইলচেয়ার বিতরণ তিস্তা মহাপরিকল্পনায় গতি: অল্পদিনেই শুরু হচ্ছে পাইলট প্রকল্পের কাজ শাক ধুতে গিয়ে গৃহবধূর মৃত্যু নোয়াখালীর বেগমগঞ্জে তরুণীদের দিয়ে পর্নো ভিডিও তৈরি: স্বামী-স্ত্রী, দুই ছেলেসহ ৫ জন গ্রেপ্তার , ৪ তরুণী উদ্ধার বাবার মারধর সইতে না পেরে ৫০০ রুপি পকেটে ঘর ছাড়েন রবি কিষাণ, এরপর যা হলো… নাইটক্লাবে মারামারি করে বিপদে ইংল্যান্ডের স্ট্রাইকার নতুন সমরাস্ত্র পদক্ষেপ নিল যুক্তরাষ্ট্র পোশাকশিল্পে মূল্য সংযোজন বাড়াতে বাংলাদেশে বড় সম্ভাবনা দেখছে দ. কোরিয়া ‘আপনি কি গুপ্ত আওয়ামী লীগ’, জবাবে যা বললেন রুমিন ফারহানা হাসিনা চাইলেই কী দেশে ফিরতে পারবেন? সবুজ বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয়ে সিলেটে বাবৌযুপ’র দ্বিতীয় পর্যায়ে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি সম্পন্ন নোয়াখালীর বেগমগঞ্জে সিএনজিতে ১১ কেজি গাঁজা, গ্রেপ্তার ১ রূপগঞ্জে বসতভিটায় বালু ফেলার প্রতিবাদে থানার সামনে গণঅভিযোগ ও মানববন্ধন টাঙ্গাইলের মধুপুর শহর অটোরিকশার দখলে মহন গ্রামের একমাত্র সড়কের বেহাল দশা, চরম দুর্ভোগে ৩০০ পরিবারের মানুষ প্রচলিত আইনের কাঠগড়াতেই নিশ্চিত করা হবে বিগত সব নৃশংসতার বিচার: ভূমি ও পার্বত্য চট্টগ্রাম প্রতিমন্ত্রী মীর হেলাল প্রধানমন্ত্রীর সফর সফল করতে দিনরাত মাঠে ডিসি জাহিদুল ইসলাম মিঞা

বছরের পর বছর গ্যাস সংকটে জর্জরিত আশুলিয়ার শ্রীপুর — বিল দিচ্ছেন, গ্যাস পাচ্ছেন না; চরম দুর্ভোগে হাজারো পরিবার

  • Reporter Name
  • আপডেট সময় : 03:22:08 pm, Monday, 27 July 2026
  • 56 বার পড়া হয়েছে

মোঃ আসিফুজ্জামান আসিফ,

ঢাকার শিল্পাঞ্চল আশুলিয়ার শ্রীপুর এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে চলমান তীব্র গ্যাস সংকট জনজীবনকে কার্যত বিপর্যস্ত করে তুলেছে। বছরের পর বছর ধরে নিরবচ্ছিন্ন গ্যাস সরবরাহ থেকে বঞ্চিত হয়ে চরম ভোগান্তিতে রয়েছেন সাধারণ মানুষ, পোশাক শ্রমিক, বাড়ির মালিক ও ভাড়াটিয়ারা। প্রতিদিন সকাল ও সন্ধ্যায়, যখন গ্যাসের চাহিদা সবচেয়ে বেশি, তখন চুলায় আগুন না জ্বলায় রান্নাবান্না বন্ধ হয়ে যায়। ফলে কর্মজীবী মানুষ, নারী ও শিশুদের দুর্ভোগ যেন নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে।

ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, নিয়মিতভাবে তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানির নির্ধারিত গ্যাস বিল পরিশোধ করলেও বাস্তবে তারা কাঙ্ক্ষিত সেবা পাচ্ছেন না। গ্যাসের পরিবর্তে বাধ্য হয়ে অতিরিক্ত অর্থ ব্যয় করে এলপি গ্যাস (সিলিন্ডার) কিনে রান্নার কাজ চালাতে হচ্ছে। এতে সংসারের মাসিক ব্যয় উল্লেখযোগ্য হারে বেড়ে গেছে।

বিশেষ করে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারের পাশাপাশি পোশাক কারখানার শ্রমিকরা সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়েছেন। সারাদিন কারখানায় কাজ শেষে বাসায় ফিরে রান্না করতে না পেরে অনেকেই বাইরে থেকে খাবার কিনতে বাধ্য হচ্ছেন। এতে তাদের সীমিত আয়ের ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি হচ্ছে।

অন্যদিকে, গ্যাস সংকটকে কেন্দ্র করে বাড়ির মালিক ও ভাড়াটিয়াদের মধ্যেও প্রায়ই বিরোধের সৃষ্টি হচ্ছে। ভাড়াটিয়ারা অভিযোগ করছেন, গ্যাস বিল পরিশোধ করেও সেবা না পাওয়ায় তারা ক্ষুব্ধ। আবার বাড়ির মালিকদের দাবি, তারা নিয়মিত বিল পরিশোধ করলেও সমস্যার কোনো সমাধান না হওয়ায় তারাও অসহায় অবস্থায় রয়েছেন।

এলাকাবাসী জানান, গত ২৪ মে ২০২৫ তারিখে আশুলিয়ার শ্রীপুর এলাকার বাসিন্দাদের পক্ষ থেকে সাভারে অবস্থিত তিতাস গ্যাসের আঞ্চলিক কার্যালয়ে লিখিত অভিযোগ দাখিল করা হয়। অভিযোগে দ্রুত গ্যাস সংকট নিরসনের দাবি জানানো হলেও এক বছরেরও বেশি সময় অতিবাহিত হয়েছে। কিন্তু আজ পর্যন্ত দৃশ্যমান কোনো কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ তাদের।

স্থানীয়দের ভাষ্য, দিনের অধিকাংশ সময় গ্যাসের চাপ এতটাই কম থাকে যে চুলায় আগুন জ্বলে না। কখনো কখনো গভীর রাতে অল্প সময়ের জন্য গ্যাস এলেও তখন অধিকাংশ মানুষ ঘুমিয়ে থাকেন। ফলে সেই গ্যাসও তাদের কোনো কাজে আসে না।

এলাকাবাসীর অভিযোগ, বারবার সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হলেও সমস্যার স্থায়ী সমাধানে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা হচ্ছে না। দীর্ঘসূত্রতা ও অবহেলার কারণে সাধারণ মানুষ চরম হতাশায় ভুগছেন।

শ্রীপুর এলাকার বাসিন্দারা অবিলম্বে গ্যাস সংকট নিরসনে তিতাস গ্যাস কর্তৃপক্ষের কার্যকর উদ্যোগ এবং সরকারের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। তাদের দাবি, নিয়মিত বিল পরিশোধ করার পরও যদি নিরবচ্ছিন্ন গ্যাস সরবরাহ নিশ্চিত করা না যায়, তবে এটি ভোক্তা অধিকারের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন। তাই দ্রুত তদন্ত করে সমস্যার মূল কারণ চিহ্নিত করে স্থায়ী সমাধানের ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা।

“আমরা বিল দিচ্ছি, কিন্তু গ্যাস পাচ্ছি না। বছরের পর বছর ধরে একই সমস্যায় ভুগছি। আর কতদিন এভাবে কষ্ট করতে হবে?”— এমন প্রশ্ন এখন আশুলিয়ার শ্রীপুর এলাকার হাজারো পরিবারের।

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

খেলাধুলা ও বই পড়ার মাধ্যমে আগামী প্রজন্মকে মাদক থেকে দূরে রাখতে হবে আব্দুর রহমান খাঁন সাবেক এনবিআর চেয়ারম্যান

বছরের পর বছর গ্যাস সংকটে জর্জরিত আশুলিয়ার শ্রীপুর — বিল দিচ্ছেন, গ্যাস পাচ্ছেন না; চরম দুর্ভোগে হাজারো পরিবার

আপডেট সময় : 03:22:08 pm, Monday, 27 July 2026

মোঃ আসিফুজ্জামান আসিফ,

ঢাকার শিল্পাঞ্চল আশুলিয়ার শ্রীপুর এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে চলমান তীব্র গ্যাস সংকট জনজীবনকে কার্যত বিপর্যস্ত করে তুলেছে। বছরের পর বছর ধরে নিরবচ্ছিন্ন গ্যাস সরবরাহ থেকে বঞ্চিত হয়ে চরম ভোগান্তিতে রয়েছেন সাধারণ মানুষ, পোশাক শ্রমিক, বাড়ির মালিক ও ভাড়াটিয়ারা। প্রতিদিন সকাল ও সন্ধ্যায়, যখন গ্যাসের চাহিদা সবচেয়ে বেশি, তখন চুলায় আগুন না জ্বলায় রান্নাবান্না বন্ধ হয়ে যায়। ফলে কর্মজীবী মানুষ, নারী ও শিশুদের দুর্ভোগ যেন নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে।

ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, নিয়মিতভাবে তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানির নির্ধারিত গ্যাস বিল পরিশোধ করলেও বাস্তবে তারা কাঙ্ক্ষিত সেবা পাচ্ছেন না। গ্যাসের পরিবর্তে বাধ্য হয়ে অতিরিক্ত অর্থ ব্যয় করে এলপি গ্যাস (সিলিন্ডার) কিনে রান্নার কাজ চালাতে হচ্ছে। এতে সংসারের মাসিক ব্যয় উল্লেখযোগ্য হারে বেড়ে গেছে।

বিশেষ করে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারের পাশাপাশি পোশাক কারখানার শ্রমিকরা সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়েছেন। সারাদিন কারখানায় কাজ শেষে বাসায় ফিরে রান্না করতে না পেরে অনেকেই বাইরে থেকে খাবার কিনতে বাধ্য হচ্ছেন। এতে তাদের সীমিত আয়ের ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি হচ্ছে।

অন্যদিকে, গ্যাস সংকটকে কেন্দ্র করে বাড়ির মালিক ও ভাড়াটিয়াদের মধ্যেও প্রায়ই বিরোধের সৃষ্টি হচ্ছে। ভাড়াটিয়ারা অভিযোগ করছেন, গ্যাস বিল পরিশোধ করেও সেবা না পাওয়ায় তারা ক্ষুব্ধ। আবার বাড়ির মালিকদের দাবি, তারা নিয়মিত বিল পরিশোধ করলেও সমস্যার কোনো সমাধান না হওয়ায় তারাও অসহায় অবস্থায় রয়েছেন।

এলাকাবাসী জানান, গত ২৪ মে ২০২৫ তারিখে আশুলিয়ার শ্রীপুর এলাকার বাসিন্দাদের পক্ষ থেকে সাভারে অবস্থিত তিতাস গ্যাসের আঞ্চলিক কার্যালয়ে লিখিত অভিযোগ দাখিল করা হয়। অভিযোগে দ্রুত গ্যাস সংকট নিরসনের দাবি জানানো হলেও এক বছরেরও বেশি সময় অতিবাহিত হয়েছে। কিন্তু আজ পর্যন্ত দৃশ্যমান কোনো কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ তাদের।

স্থানীয়দের ভাষ্য, দিনের অধিকাংশ সময় গ্যাসের চাপ এতটাই কম থাকে যে চুলায় আগুন জ্বলে না। কখনো কখনো গভীর রাতে অল্প সময়ের জন্য গ্যাস এলেও তখন অধিকাংশ মানুষ ঘুমিয়ে থাকেন। ফলে সেই গ্যাসও তাদের কোনো কাজে আসে না।

এলাকাবাসীর অভিযোগ, বারবার সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হলেও সমস্যার স্থায়ী সমাধানে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা হচ্ছে না। দীর্ঘসূত্রতা ও অবহেলার কারণে সাধারণ মানুষ চরম হতাশায় ভুগছেন।

শ্রীপুর এলাকার বাসিন্দারা অবিলম্বে গ্যাস সংকট নিরসনে তিতাস গ্যাস কর্তৃপক্ষের কার্যকর উদ্যোগ এবং সরকারের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। তাদের দাবি, নিয়মিত বিল পরিশোধ করার পরও যদি নিরবচ্ছিন্ন গ্যাস সরবরাহ নিশ্চিত করা না যায়, তবে এটি ভোক্তা অধিকারের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন। তাই দ্রুত তদন্ত করে সমস্যার মূল কারণ চিহ্নিত করে স্থায়ী সমাধানের ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা।

“আমরা বিল দিচ্ছি, কিন্তু গ্যাস পাচ্ছি না। বছরের পর বছর ধরে একই সমস্যায় ভুগছি। আর কতদিন এভাবে কষ্ট করতে হবে?”— এমন প্রশ্ন এখন আশুলিয়ার শ্রীপুর এলাকার হাজারো পরিবারের।