Dhaka , Monday, 8 June 2026
নিবন্ধন নাম্বারঃ ১১০, সিরিয়াল নাম্বারঃ ১৫৪, কোড নাম্বারঃ ৯২
শিরোনাম ::
শরীয়তপুরে প্রধান শিক্ষক সুজিত কর্মকারের অপসারণ দাবিতে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ বাংলাদেশ পুলিশ উইমেন নেটওয়ার্কের কৌশলগত পরিকল্পনা বাস্তবায়ন নিয়ে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত নোয়াখালীতে ১৪২ কেজি জেলি মিশ্রিত চিংড়ি জব্দ, দুই ব্যবসায়ীকে জরিমানা লালমনিরহাটে বিশ্ব পরিবেশ দিবসের মানববন্ধন: নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে রূপান্তর ও পরিবেশ আইন সংশোধনের দাবি রামুর খুনিয়াপালংয়ে ছেলের গুলিতে আহত পিতা আয়াছের মৃত্যু জঙ্গল সলিমপুরের আলিনগর উচ্চ বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের সাথে পুলিশ সুপারে’র শিক্ষা, স্বপ্ন ও নিরাপত্তা নিয়ে মতবিনিময় গ্রীন চট্টগ্রাম গড়তে লাগানো হচ্ছে ১০ লক্ষ গাছ:- মেয়র ডা. শাহাদাত রূপগঞ্জে এনসিপির অনুষ্ঠানে হামলার ঘটনায় মামলা, গ্রাম পুরুষ শূন্য, গ্রেফতার ২ দুই দশকের মধ্যে প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী পাচ্ছে দক্ষিণ কোরিয়া বিশ্বকাপের বাকি ৪ দিন : ভাইদের গোলের কীর্তি ব্যাংক সংস্কারে রাজনৈতিক সুশাসন জরুরি : তথ্যমন্ত্রী বিএসএফের ‘মানসিক ভারসাম্যহীন’ যুবককে পুশ ইনের চেষ্টা উচ্চ আদালতে রামিসার মামলার শুনানি এগিয়ে আনতে সুপারিশ করা হবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী নোয়াখালীতে আওয়ামী লীগ-বিএনপি সংঘর্ষ, পাল্টাপাল্টি অগ্নিসংযোগ, আহত ৬ রামগঞ্জে যুবকের ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার দালালের খপ্পরে নিঃস্ব হয়ে রামগঞ্জের মনু মাস্টারের করুণ মৃত্যু অর্থমন্ত্রীর প্রতিশ্রুতিতে পতেঙ্গায় টানেল দিয়ে ওয়াসার পানি, ৬৩ বছর পর পতেঙ্গায় পানি, ৩ লাখ মানুষের স্বস্তি পাইকগাছায় ডেঙ্গু প্রতিরোধে র‍্যালি, প্রচার ও পরিচ্ছন্নতা অভিযান চসিকের ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান, নিউমার্কেট থেকে সদরঘাট পর্যন্ত প্রায় ২০০ অবৈধ দোকান উচ্ছেদ কুড়িগ্রামে পিকআপ-মোটরসাইকেল মুখোমুখি সংঘর্ষে বাবা-ছেলে নিহত বিয়ের চারদিন পর মোটরসাইকেল নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে যুবকের মৃত্যু মোংলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ডেঙ্গু প্রতিরোধে পরিচ্ছন্নতা অভিযান রামগঞ্জে নিষিদ্ধ ঘোষিত যুবলীগ-ছাত্রলীগ নেতাসহ ৯ জন গ্রেপ্তার রামুর দক্ষিণ মিঠাছড়ি ইউনিয়ন জামায়াতের আমিরের পিতা হাছান আলীর ইন্তেকাল ছাত্রলীগের ঝটিকা মিছিলের পরেই লালমনিরহাটে পুলিশের সাঁড়াশি অভিযান: যুবলীগ সভাপতি মোতালেবসহ ১৫ নেতাকর্মী জেলহাজতে চমেক হাসপাতালের ২৪ সদস্য বিশিষ্ট নতুন ব্যবস্থাপনা কমিটি গঠন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী যুবদলের কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটি পূর্ণাঙ্গ ঘোষণায় চট্টগ্রামে স্বাগত মিছিল রূপগঞ্জে পুলিশের সামনেই এনসিপির নেতা কর্মীদের উপর বিএনপির হামলা আহত- ১০ বিক্ষোভ করছে ‘ককরোচ জনতা পার্টি’, দেশে ফিরলেন পার্টির প্রতিষ্ঠাতা ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে ১৮ কিলোমিটার যানজট

পাবনায় প্রবাসীর স্ত্রী ১০ বছরের শিশুকে হত্যা রহস্য উদঘাটন গ্রেফতার ৩ জন।।

  • Reporter Name
  • আপডেট সময় : 10:04:30 am, Thursday, 1 February 2024
  • 150 বার পড়া হয়েছে

পাবনায় প্রবাসীর স্ত্রী ১০ বছরের শিশুকে হত্যা রহস্য উদঘাটন গ্রেফতার ৩ জন।।

পাবনা প্রতিনিধি।।
পাবনা জেলার চাটমোহর থানাধীন দিঘলিয়া গ্রামের মোঃ আব্দুর রশিদ গত ৭-সাত-বছর যাবত মালয়েশিয়া থাকেন। প্রবাসি আব্দুর রশিদ এর স্ত্রী ডিসিস্ট লাবনী খাতুন তার বাড়ী নির্মানের জন্য গত কয়েক দিন আগে প্রায় ২৫০০০ ইট ক্রয় করে এবং ব্যাংক হতে নগদ অর্থ উত্তোলন করে বাড়িতে রাখে। ডিসিস্ট লাবনী খাতুন সহ তার ১০
বছরের ছেলে রিয়াদ গত ২৫ জানুয়ারি দিবাগত রাতে খা্ওয়া দা্ওয়া শেষে নিজ বসত ঘরে ঘুমিয়ে ছিল। পরের দিন সকাল সাড়ে আট ঘটিকার দিকে ভিকটিমের ঘরের দরজা খোলা এবং আসবাব পত্র এলোমেলো দেখে সবাই খোঁজাখুজি শুরু করে। 
এক পর্যায়ে ভিক্টিম লাবনীর মৃতদেহ ছাগল রাখার ঘরে এবং ১০ বছরের ছেলে রিয়াদের মৃতদেহ বাড়ির পাশে পুকুর পারে গাছের সাথে ঝুলন্ত অবস্থায় পাওয়া যায়। 
উক্ত ঘটনার প্রেক্ষিতে চাটমোহর থানার মামলা নং-২২ তারিখ ২৬/০১/২০২৪ইং ধারাঃ ৩০২/২০১/৩৪ পেনাল  কোড ১৮৬০ রজু হয়।
পুলিশ সুপার জনাব মোঃ আকবর আলী মুনসী নির্দেশনায় অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অর্থ ও প্রশাসন)জনাব মোঃ মাসুদ আলম এর তত্ত্বাবধানে এবং নেতৃত্বে ওসি ডিবি মোঃ এমরান মাহমুদ তুহিন, 
এসআই -নিরস্ত্র-বেনু রায়,কং/মো: রিমন হোসেন পিপিএম জেলা গোয়েন্দা শাখা পাবনা সহ সঙ্গীয় অফিসার ফোর্স এবং মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা পুলিশ পরিদর্শক -নিঃমোঃ গোলাম রসুল সহ উক্ত হত্যাকান্ডের মুল রহস্য উদ্ধঘাটন এবং চুরি হ্ওয়া মালামাল উদ্ধারের জন্য কাজ শুরু করে। 
পরবর্তীতে তথ্য প্রযুক্তি ও গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ফরিদপুর, গোপালগঞ্জ জেলার বিভিন্ন থানা এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে উক্ত ঘটনার সাথে সরাসরি জড়িত আসামী মোঃ সাদ্দাম হোসেন(২৬), মোঃ হোসেন আলী(৩৭), মোঃ হুমায়ন মিজী হৃদয়(২৮)কে গ্রেফতার করা হয়।
ধৃত আসামীদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে জানা যায় যে, আসামী মোঃ হোসেন আলী এবং ভিকটিম লাবনী খাতুন একই গ্রামে বসবাস করেন। আসামী হোসেন লক্ষ্য করেন যে, ভিকটিম লাবনী বাড়ি করার জন্য বেশ কিছু নতূন ইট নিয়ে এসেছে এবং ঘটনার ২ দিন আগে ভিকটিম চাটমোহরে গিয়েছিল ব্যাংক থেকে টাকা উঠানোর জন্য।
তার ধারণা ছিল ভিকটিমের কাছে বেশ কিছু নগদ টাকা এবং স্বর্ণালংকার রয়েছে। এই তথ্যটি সে তার আপন ছোট ভাই সাদ্দাম কে দেয়। সাদ্দামের বাড়ি দিঘলিয়া গ্রামে হলেও সে দীর্ঘদিন যাবত শ্বশুর বাড়ি গোপালগঞ্জে বসবাস করে এবং পেশায় একজন দূর্ধর্ষ চোর এবং ছিনতাইকারী। 
এই তথ্য পাওয়ার পরে ফরিদপুর জেলায় বসবাস রত আর এক চোর হুমায়ুন কবির @ হৃদয় কে সাথে নিয়ে গত ২৫ জানুয়ারী সকালে ফরিদপুর থেকে রওনা দেয়। 
আসামী সাদ্দাম এবং হৃদয় টেবুনিয়াতে অবস্থান করে অপর আসামী হোসেন ভিকটিমের অবস্থান সম্পর্কে খোঁজ-খবর নিতে থাকে। রাত গভীর হলে হোসেন ফোন করে সাদ্দাম এবং হৃদয় কে ডেকে নিয়ে আসে এবং আনুমানিক রাত ১ টার দিকে আসামী সাদ্দাম এবং হৃদয়
ডিসিস্ট লাবনী খাতুন এর বসত বাড়ীতে গাছ বেয়ে বাড়ীর ভিতরে প্রবেশ করে বাহিরে মেইন দরজা খুলে রেখে ঘরের পিছনে টিন কেটে ঢোকার চেষ্টা করলে ভিকটিম ঘুম থেকে জেগে উঠে এবং কিসের শব্দ ছিল তা জানার জন্য ঘরের দরজা খোলা মাত্রই আসামীরা তাকে ধরে ফেলে এবং কোন কিছু বুঝে উঠার আগেই গলায় ওড়না পেঁচিয়ে মেরে ফেলে। 
ইতোমধ্যে তার ১০ বছরের শিশু রিয়াদ ঘুম থেকে উঠেই ভয়ে চিৎকার শুরু করতে থাকলে আসামী সাদ্দাম তাকে পুকুর পাড়ে নিয়ে মাফলার পেঁচিয়ে মেরে ফেলে। ঘটনাকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করার জন্য রিয়াদের লাশ গাছে ঝুলিয়ে রাখে। 
পরবর্তীতে আসামী সাদ্দাম এবং হৃদয় মিলে পুনরায় ভিকটিমের বাড়ীতে এসে ডিসিষ্ট লাবনী খাতুন এর কোমড়ে থাকা চাবি এবং কানে থাকা স্বর্ণের রিং নিয়ে ঘরে প্রবেশ করে স্টিলের ট্রাংকে থাকা স্বর্ণের চেইন, হাতের বালা, 
কানের দুল, দুইজোড়া রুপার নুপুর, রুপার পায়েল নিয়ে বাড়ীর পিছন দিয়ে আসামী হোসেন এর বাড়ীর পিছনে লিচু বাগানে যায় এবং অপর আসামী হোসেন এর সাথে দেখা করে তার কাছে ডিসিষ্ট লাবনী খাতুন এর
কানের স্বণের রিং রেখে আনুমানিক রাত ৩ টার দিকে গোপালগঞ্জের উদ্দেশ্যে রওনা করে। আর এভাবেই মাত্র কিছু স্বর্ণ ও টাকার লোভে ২ টি তরতাজা মানুষকে নৃশংসভাবে হত্যা করে পালিয়ে যায় ৩ জন দূর্ধর্ষ ছিনতাইকারী। 
এখানে উল্লেখ্য যে, ধৃত আসামী মোঃ সাদ্দাম হোসেন গত অক্টোবর/২০২২ সালে চাটমোহরের ফৈলযানা এলাকায় একজন সিএনজি ড্রাইভারকে -ইসমাইল-শ্বাধরোধ করে হত্যা করে সিএনজি ছিনতাইয়ের ঘটনার মূল আসামী ছিল। এ মামলায় সে দীর্ঘদিন পলাতক ছিল। তার বিরুদ্ধে একাধিক হত্যা মামলা বিচারাধীন আছে।
ধৃত আসামীরা হলেন-চাটমোহর থানার ধুপুলিয়া গ্রামের মোজাম আলী ওরফে মোজাম্মেল এন ছেলে মোঃ সাদ্দাম হোসেন (২৬), এর বিরুদ্ধে  চুরি, হত্যা সহ একাধিক মামলা আছে,
মোজাম আলী ওরফে মোজাম্মেল ধুপুলিয়া গ্রামের মো: হোসেন আলী(৩৭), রাজবাড়ী থানার খানখানাপুর দত্ত পাড়া গ্রামের মোস্তফা মিজী ছেলে মোঃ হুমায়ন মিজী(২৮), এর বিরুদ্ধে চুরি,দসুত্যা সহ একাধিক মামলা আছে।
উদ্ধারকৃত মালামাল গুলো হলো-একটি স্বর্ণের চেইন (১২ আনা),একজোড়া হাতের বালা, একজোড়া স্বর্ণের কানের দুল (৬ আনা), একজোড়া স্বর্ণের কানের রিং, দুই জোড়া রুপার নুপুর (৮ ভরি), একটি রুপার পায়েল, নগদ ৩০,০০০/- হাজার টাকা, আসামীদের ব্যবহৃত ০৩ টি মোবাইল ফোন, হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত টিন কাটার কেচি, হত্যাকান্ডে ব্যবহৃত মাফলার এবং ওড়না।

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

শরীয়তপুরে প্রধান শিক্ষক সুজিত কর্মকারের অপসারণ দাবিতে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ

পাবনায় প্রবাসীর স্ত্রী ১০ বছরের শিশুকে হত্যা রহস্য উদঘাটন গ্রেফতার ৩ জন।।

আপডেট সময় : 10:04:30 am, Thursday, 1 February 2024
পাবনা প্রতিনিধি।।
পাবনা জেলার চাটমোহর থানাধীন দিঘলিয়া গ্রামের মোঃ আব্দুর রশিদ গত ৭-সাত-বছর যাবত মালয়েশিয়া থাকেন। প্রবাসি আব্দুর রশিদ এর স্ত্রী ডিসিস্ট লাবনী খাতুন তার বাড়ী নির্মানের জন্য গত কয়েক দিন আগে প্রায় ২৫০০০ ইট ক্রয় করে এবং ব্যাংক হতে নগদ অর্থ উত্তোলন করে বাড়িতে রাখে। ডিসিস্ট লাবনী খাতুন সহ তার ১০
বছরের ছেলে রিয়াদ গত ২৫ জানুয়ারি দিবাগত রাতে খা্ওয়া দা্ওয়া শেষে নিজ বসত ঘরে ঘুমিয়ে ছিল। পরের দিন সকাল সাড়ে আট ঘটিকার দিকে ভিকটিমের ঘরের দরজা খোলা এবং আসবাব পত্র এলোমেলো দেখে সবাই খোঁজাখুজি শুরু করে। 
এক পর্যায়ে ভিক্টিম লাবনীর মৃতদেহ ছাগল রাখার ঘরে এবং ১০ বছরের ছেলে রিয়াদের মৃতদেহ বাড়ির পাশে পুকুর পারে গাছের সাথে ঝুলন্ত অবস্থায় পাওয়া যায়। 
উক্ত ঘটনার প্রেক্ষিতে চাটমোহর থানার মামলা নং-২২ তারিখ ২৬/০১/২০২৪ইং ধারাঃ ৩০২/২০১/৩৪ পেনাল  কোড ১৮৬০ রজু হয়।
পুলিশ সুপার জনাব মোঃ আকবর আলী মুনসী নির্দেশনায় অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অর্থ ও প্রশাসন)জনাব মোঃ মাসুদ আলম এর তত্ত্বাবধানে এবং নেতৃত্বে ওসি ডিবি মোঃ এমরান মাহমুদ তুহিন, 
এসআই -নিরস্ত্র-বেনু রায়,কং/মো: রিমন হোসেন পিপিএম জেলা গোয়েন্দা শাখা পাবনা সহ সঙ্গীয় অফিসার ফোর্স এবং মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা পুলিশ পরিদর্শক -নিঃমোঃ গোলাম রসুল সহ উক্ত হত্যাকান্ডের মুল রহস্য উদ্ধঘাটন এবং চুরি হ্ওয়া মালামাল উদ্ধারের জন্য কাজ শুরু করে। 
পরবর্তীতে তথ্য প্রযুক্তি ও গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ফরিদপুর, গোপালগঞ্জ জেলার বিভিন্ন থানা এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে উক্ত ঘটনার সাথে সরাসরি জড়িত আসামী মোঃ সাদ্দাম হোসেন(২৬), মোঃ হোসেন আলী(৩৭), মোঃ হুমায়ন মিজী হৃদয়(২৮)কে গ্রেফতার করা হয়।
ধৃত আসামীদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে জানা যায় যে, আসামী মোঃ হোসেন আলী এবং ভিকটিম লাবনী খাতুন একই গ্রামে বসবাস করেন। আসামী হোসেন লক্ষ্য করেন যে, ভিকটিম লাবনী বাড়ি করার জন্য বেশ কিছু নতূন ইট নিয়ে এসেছে এবং ঘটনার ২ দিন আগে ভিকটিম চাটমোহরে গিয়েছিল ব্যাংক থেকে টাকা উঠানোর জন্য।
তার ধারণা ছিল ভিকটিমের কাছে বেশ কিছু নগদ টাকা এবং স্বর্ণালংকার রয়েছে। এই তথ্যটি সে তার আপন ছোট ভাই সাদ্দাম কে দেয়। সাদ্দামের বাড়ি দিঘলিয়া গ্রামে হলেও সে দীর্ঘদিন যাবত শ্বশুর বাড়ি গোপালগঞ্জে বসবাস করে এবং পেশায় একজন দূর্ধর্ষ চোর এবং ছিনতাইকারী। 
এই তথ্য পাওয়ার পরে ফরিদপুর জেলায় বসবাস রত আর এক চোর হুমায়ুন কবির @ হৃদয় কে সাথে নিয়ে গত ২৫ জানুয়ারী সকালে ফরিদপুর থেকে রওনা দেয়। 
আসামী সাদ্দাম এবং হৃদয় টেবুনিয়াতে অবস্থান করে অপর আসামী হোসেন ভিকটিমের অবস্থান সম্পর্কে খোঁজ-খবর নিতে থাকে। রাত গভীর হলে হোসেন ফোন করে সাদ্দাম এবং হৃদয় কে ডেকে নিয়ে আসে এবং আনুমানিক রাত ১ টার দিকে আসামী সাদ্দাম এবং হৃদয়
ডিসিস্ট লাবনী খাতুন এর বসত বাড়ীতে গাছ বেয়ে বাড়ীর ভিতরে প্রবেশ করে বাহিরে মেইন দরজা খুলে রেখে ঘরের পিছনে টিন কেটে ঢোকার চেষ্টা করলে ভিকটিম ঘুম থেকে জেগে উঠে এবং কিসের শব্দ ছিল তা জানার জন্য ঘরের দরজা খোলা মাত্রই আসামীরা তাকে ধরে ফেলে এবং কোন কিছু বুঝে উঠার আগেই গলায় ওড়না পেঁচিয়ে মেরে ফেলে। 
ইতোমধ্যে তার ১০ বছরের শিশু রিয়াদ ঘুম থেকে উঠেই ভয়ে চিৎকার শুরু করতে থাকলে আসামী সাদ্দাম তাকে পুকুর পাড়ে নিয়ে মাফলার পেঁচিয়ে মেরে ফেলে। ঘটনাকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করার জন্য রিয়াদের লাশ গাছে ঝুলিয়ে রাখে। 
পরবর্তীতে আসামী সাদ্দাম এবং হৃদয় মিলে পুনরায় ভিকটিমের বাড়ীতে এসে ডিসিষ্ট লাবনী খাতুন এর কোমড়ে থাকা চাবি এবং কানে থাকা স্বর্ণের রিং নিয়ে ঘরে প্রবেশ করে স্টিলের ট্রাংকে থাকা স্বর্ণের চেইন, হাতের বালা, 
কানের দুল, দুইজোড়া রুপার নুপুর, রুপার পায়েল নিয়ে বাড়ীর পিছন দিয়ে আসামী হোসেন এর বাড়ীর পিছনে লিচু বাগানে যায় এবং অপর আসামী হোসেন এর সাথে দেখা করে তার কাছে ডিসিষ্ট লাবনী খাতুন এর
কানের স্বণের রিং রেখে আনুমানিক রাত ৩ টার দিকে গোপালগঞ্জের উদ্দেশ্যে রওনা করে। আর এভাবেই মাত্র কিছু স্বর্ণ ও টাকার লোভে ২ টি তরতাজা মানুষকে নৃশংসভাবে হত্যা করে পালিয়ে যায় ৩ জন দূর্ধর্ষ ছিনতাইকারী। 
এখানে উল্লেখ্য যে, ধৃত আসামী মোঃ সাদ্দাম হোসেন গত অক্টোবর/২০২২ সালে চাটমোহরের ফৈলযানা এলাকায় একজন সিএনজি ড্রাইভারকে -ইসমাইল-শ্বাধরোধ করে হত্যা করে সিএনজি ছিনতাইয়ের ঘটনার মূল আসামী ছিল। এ মামলায় সে দীর্ঘদিন পলাতক ছিল। তার বিরুদ্ধে একাধিক হত্যা মামলা বিচারাধীন আছে।
ধৃত আসামীরা হলেন-চাটমোহর থানার ধুপুলিয়া গ্রামের মোজাম আলী ওরফে মোজাম্মেল এন ছেলে মোঃ সাদ্দাম হোসেন (২৬), এর বিরুদ্ধে  চুরি, হত্যা সহ একাধিক মামলা আছে,
মোজাম আলী ওরফে মোজাম্মেল ধুপুলিয়া গ্রামের মো: হোসেন আলী(৩৭), রাজবাড়ী থানার খানখানাপুর দত্ত পাড়া গ্রামের মোস্তফা মিজী ছেলে মোঃ হুমায়ন মিজী(২৮), এর বিরুদ্ধে চুরি,দসুত্যা সহ একাধিক মামলা আছে।
উদ্ধারকৃত মালামাল গুলো হলো-একটি স্বর্ণের চেইন (১২ আনা),একজোড়া হাতের বালা, একজোড়া স্বর্ণের কানের দুল (৬ আনা), একজোড়া স্বর্ণের কানের রিং, দুই জোড়া রুপার নুপুর (৮ ভরি), একটি রুপার পায়েল, নগদ ৩০,০০০/- হাজার টাকা, আসামীদের ব্যবহৃত ০৩ টি মোবাইল ফোন, হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত টিন কাটার কেচি, হত্যাকান্ডে ব্যবহৃত মাফলার এবং ওড়না।