Dhaka , Sunday, 7 June 2026
নিবন্ধন নাম্বারঃ ১১০, সিরিয়াল নাম্বারঃ ১৫৪, কোড নাম্বারঃ ৯২
শিরোনাম ::
চসিকের ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান, নিউমার্কেট থেকে সদরঘাট পর্যন্ত প্রায় ২০০ অবৈধ দোকান উচ্ছেদ কুড়িগ্রামে পিকআপ-মোটরসাইকেল মুখোমুখি সংঘর্ষে বাবা-ছেলে নিহত বিয়ের চারদিন পর মোটরসাইকেল নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে যুবকের মৃত্যু মোংলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ডেঙ্গু প্রতিরোধে পরিচ্ছন্নতা অভিযান রামগঞ্জে নিষিদ্ধ ঘোষিত যুবলীগ-ছাত্রলীগ নেতাসহ ৯ জন গ্রেপ্তার রামুর দক্ষিণ মিঠাছড়ি ইউনিয়ন জামায়াতের আমিরের পিতা হাছান আলীর ইন্তেকাল ছাত্রলীগের ঝটিকা মিছিলের পরেই লালমনিরহাটে পুলিশের সাঁড়াশি অভিযান: যুবলীগ সভাপতি মোতালেবসহ ১৫ নেতাকর্মী জেলহাজতে চমেক হাসপাতালের ২৪ সদস্য বিশিষ্ট নতুন ব্যবস্থাপনা কমিটি গঠন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী যুবদলের কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটি পূর্ণাঙ্গ ঘোষণায় চট্টগ্রামে স্বাগত মিছিল রূপগঞ্জে পুলিশের সামনেই এনসিপির নেতা কর্মীদের উপর বিএনপির হামলা আহত- ১০ বিক্ষোভ করছে ‘ককরোচ জনতা পার্টি’, দেশে ফিরলেন পার্টির প্রতিষ্ঠাতা ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে ১৮ কিলোমিটার যানজট নেইমারের শারীরিক অবস্থা নিয়ে যা জানালেন আনচেলত্তি দেশীয় প্রযুক্তিতে অ্যাম্বুলেন্স তৈরি নিয়ে বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী কুয়েত-বাহরাইনকে লক্ষ্য করে ৭টি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছে ইরান নোয়াখালীতে কিশোর গ্যাংয়ের ১৮ সদস্য আটক নোয়াখালীতে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের বিক্ষোভ জুয়া খেলা নিয়ে বাকবিতন্ডা ভাতিজাকে বাঁচাতে গিয়ে চাচার মৃত্যু: কিশোর গ্যাং নেতা গ্রেপ্তার নবায়নযোগ্য জ্বালানি শক্তি জলবায়ু সহনশীল ভবিষ্যতের ভিত্তি বিশ্ব পরিবেশ দিবসে বিপ্লবী তারকেশ্বর দস্তিদার স্মৃতি পরিষদেরপথসভা অনুষ্ঠিত বিএনপি সকল ধর্মের মানুষের অধিকার নিশ্চিত করবে : মজিবুর রহমান এমপি পাইকগাছায় বিশ্ব পরিবেশ দিবস উপলক্ষ্যে আলোচনা সভা ও চারা বিতারণ পাইকগাছায় বিশ্ব পরিবেশ দিবস পালিত; র‍্যালি, বৃক্ষরোপণ ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত ​রূপগঞ্জে বীর মুক্তিযোদ্ধার সন্তানদের ওপর হামলা, দোকানে লুটপাট ও হত্যার হুমকি মাদারীপুরে ডেঙ্গু প্রতিরোধে সচেতনতামূলক রেলি শহীদ জিয়ার আদর্শে দেশ গঠনে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান মেয়র ডা. শাহাদাতের চট্টগ্রামের জিয়া স্মৃতি জাদুঘর দ্রুত জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত করা হবে জলাবদ্ধতা থেকে মুক্তি পেতে খালে ময়লা আবর্জনা ফেলা বন্ধ করতে হবে :- ডা. শাহাদাত হোসেন সাংবাদিকদের স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ করবে না সরকার: তথ্য প্রতিমন্ত্রী জি-মেইল হ্যাক, ব্যাংক হিসাব থেকে বিকাশ/নগদে মানি ট্রান্সফার, পরে অনলাইন জুয়া ও গরু ব্যবসায় বিনিয়োগ, প্রতারক চক্রের মূলহোতা ইকবালসহ গ্রেপ্তার ২

পাটগ্রামের ইউএনও’র উদ্যোগে থাকার ঘরটি তৈরি হচ্ছে ভিখারিনী ছালেহার

  • Reporter Name
  • আপডেট সময় : 04:22:25 pm, Saturday, 26 April 2025
  • 142 বার পড়া হয়েছে

পাটগ্রামের ইউএনও’র উদ্যোগে থাকার ঘরটি তৈরি হচ্ছে ভিখারিনী ছালেহার

তৌহিদুল ইসলাম চঞ্চল, বিশেষ প্রতিনিধি

লালমনিরহাটে পাটগ্রামের বাসিন্দা ৬২ বছর বয়সী বৃদ্ধা মোছা. ছালেহা খাতুন ওরফে ছালেহা বেওয়া। বয়স্ক ভাতা ১ হাজার ৬শ টাকা আর ভিক্ষাবৃত্তি করে কোনোরকমে জীবনযাপন করেন তিনি। ১০ এপ্রিল -বৃহস্পতিবার- ভোরে হওয়া কালবৈশাখি ঝড়ে মাথা গোজার ঠাঁই শেষ সম্বল টিনের চালের ঘরটি লন্ডভন্ড হয়ে যায়। ঘরটি পুনরায় নির্মাণ করার মতো সামর্থ্য না থাকায় রোদের তাপ ও বৃষ্টি থেকে বাঁচতে ও রাত্রিযাপনের জন্য সেই ভাঙা ঘরটিতেই কোনোরকমে বসবাস করছিলেন এই দুঃখিনী নারী।

অবশেষে পাটগ্রামের উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা -ইউএনও- মো: জিল্লুর রহমানের উদ্যোগে উপজেলা প্রশাসন থেকে তার ঘর নির্মাণের কাজ শুরু হওয়ায় যারপরনাই খুশী একাকী এই নারী।

ছালেহা জানান, তাদের বাড়ি ছিল হাতীবান্ধা উপজেলার নদী তীরবর্তী এলাকায়। নদী ভাঙনের ফলে তাদের পরিবার চলে আসে পাটগ্রাম পৌরসভার রসুলগঞ্জ পুরাতন বাসস্ট্যান্ড এলাকায়। সেখানে রেল লাইনের পাশে রেলের পরিত্যক্ত জমিতে তারা ঘর করে বসবাস শুরু করেন। তখন তিনি কোলের শিশু ছিলেন তাই তেমন কিছুই মনে নেই তার। পরে তার বিয়ে হয় হাতীবান্ধার বড়খাতা এলাকার বাসিন্দা  ও রেলওয়ে কর্মচারী আনোয়ার হোসেনের সাথে।  ১২ থেকে ১৩ বছর আগে মারা যান তার স্বামী। দ্বিতীয় স্ত্রী হওয়ায় প্রথম স্ত্রীর সন্তান ও আত্মীয়স্বজন তাকে তার প্রাপ্য পাওনা থেকে বঞ্চিত করেন। ফলে তাকে আবার অস্থায়ী এই জায়গায় ফিরে আসতে হয় তাকে। বয়স্ক ভাতা ১ হাজার ৬শ টাকা আর ভিক্ষাবৃত্তি করে কোনোরকমে বেঁচে আছেন ছালেহা। ছেলে সন্তান নেই তাই তার এই দশা বলে আক্ষেপ করেন তিনি।

সরকারি ও বেসরকারি কোনো সাহায্য না পাওয়ায় তিনি নিজেই উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কার্যালয়ে যান। পরে বৃহস্পতিবার -১৭ এপ্রিল- সেই অফিস থেকে একজন কর্মকর্তা এসে তার অবস্থা দেখে যান। এর কয়েকদিন পর ইউএনও’র উদ্যোগে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে তার ঘর নির্মাণের কাজ শুরু হয়।

এমনকি শুক্রবার -২৪ এপ্রিল- ইউএনও নিজে তার ঘর নির্মাণ কাজের অগ্রগতি দেখতে ও তার সাথে দেখা করতে যান। সে সময় তিনি তার দুঃখ দুর্দশার করা শোনেন। কয়েকদিনের মধ্যে ঘরটি তাকে হস্তান্তর করবেন ইউএনও।

ছালেহা বেগম বলেন, “ইউএনও স্যার আমার এখানে এসে আমার সাথে কথা বলেন। আমি তাকে একটি জানালার কথা বলেছি। তিনি আমার এখানে আসায় আমি অনেক খুশী। সৃষ্টিকর্তা তার মঙ্গল করুন।“

পাটগ্রামের প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা -পিআইও- মো. আতাউর রহমান বলেন, “ঘটনাটি জানার পর ইউএনও স্যার বিষয়টিকে অনেক গুরুত্বের সাথে ও মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে বিবেচনায় নিয়েছেন। ফলে তার নির্দেশনায় বিভিন্ন দিক থেকে সমন্বয় করে আমরা ছালেহা বেগমের ঘরের কাজটি শুরু করি। আমি নিজেও ঘটনাস্থলে যাই। পরে ইউএনও স্যারও সেখানে গিয়ে বৃদ্ধা ছালেহার সাথে দেখা করেন। তার জন্য আমরা যথাসাধ্য চেষ্টা করেছি।

পাটগ্রামের ইউএনও মো: জিল্লুর রহমান বলেন, “আমি নিজে ছালেহা বেগমের সাথে দেখা করতে গিয়েছি। তিনি এখন খুশী কিনা তা জানতে চেয়েছি। তিনি জানালার কথা বলেছেন। যত দ্রুততার সাথে সম্ভব তার ঘরের কাজ শেষ করে তার হাতে সেটি হস্তান্তর করা যায় আমরা সেই চেষ্টাই করছি। আমি আমার দায়িত্ব পালন করছি মাত্র।

এদিকে ইউএনও’র উদ্যোগে বৃদ্ধা ছালেহার থাকার ঘরের চলমান নির্মাণের কাজের প্রশংসা করেছেন এলাকাবাসী। তারা  ইউএনও’র এই মানবিক উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়েছেন।   

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

চসিকের ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান, নিউমার্কেট থেকে সদরঘাট পর্যন্ত প্রায় ২০০ অবৈধ দোকান উচ্ছেদ

পাটগ্রামের ইউএনও’র উদ্যোগে থাকার ঘরটি তৈরি হচ্ছে ভিখারিনী ছালেহার

আপডেট সময় : 04:22:25 pm, Saturday, 26 April 2025

তৌহিদুল ইসলাম চঞ্চল, বিশেষ প্রতিনিধি

লালমনিরহাটে পাটগ্রামের বাসিন্দা ৬২ বছর বয়সী বৃদ্ধা মোছা. ছালেহা খাতুন ওরফে ছালেহা বেওয়া। বয়স্ক ভাতা ১ হাজার ৬শ টাকা আর ভিক্ষাবৃত্তি করে কোনোরকমে জীবনযাপন করেন তিনি। ১০ এপ্রিল -বৃহস্পতিবার- ভোরে হওয়া কালবৈশাখি ঝড়ে মাথা গোজার ঠাঁই শেষ সম্বল টিনের চালের ঘরটি লন্ডভন্ড হয়ে যায়। ঘরটি পুনরায় নির্মাণ করার মতো সামর্থ্য না থাকায় রোদের তাপ ও বৃষ্টি থেকে বাঁচতে ও রাত্রিযাপনের জন্য সেই ভাঙা ঘরটিতেই কোনোরকমে বসবাস করছিলেন এই দুঃখিনী নারী।

অবশেষে পাটগ্রামের উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা -ইউএনও- মো: জিল্লুর রহমানের উদ্যোগে উপজেলা প্রশাসন থেকে তার ঘর নির্মাণের কাজ শুরু হওয়ায় যারপরনাই খুশী একাকী এই নারী।

ছালেহা জানান, তাদের বাড়ি ছিল হাতীবান্ধা উপজেলার নদী তীরবর্তী এলাকায়। নদী ভাঙনের ফলে তাদের পরিবার চলে আসে পাটগ্রাম পৌরসভার রসুলগঞ্জ পুরাতন বাসস্ট্যান্ড এলাকায়। সেখানে রেল লাইনের পাশে রেলের পরিত্যক্ত জমিতে তারা ঘর করে বসবাস শুরু করেন। তখন তিনি কোলের শিশু ছিলেন তাই তেমন কিছুই মনে নেই তার। পরে তার বিয়ে হয় হাতীবান্ধার বড়খাতা এলাকার বাসিন্দা  ও রেলওয়ে কর্মচারী আনোয়ার হোসেনের সাথে।  ১২ থেকে ১৩ বছর আগে মারা যান তার স্বামী। দ্বিতীয় স্ত্রী হওয়ায় প্রথম স্ত্রীর সন্তান ও আত্মীয়স্বজন তাকে তার প্রাপ্য পাওনা থেকে বঞ্চিত করেন। ফলে তাকে আবার অস্থায়ী এই জায়গায় ফিরে আসতে হয় তাকে। বয়স্ক ভাতা ১ হাজার ৬শ টাকা আর ভিক্ষাবৃত্তি করে কোনোরকমে বেঁচে আছেন ছালেহা। ছেলে সন্তান নেই তাই তার এই দশা বলে আক্ষেপ করেন তিনি।

সরকারি ও বেসরকারি কোনো সাহায্য না পাওয়ায় তিনি নিজেই উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কার্যালয়ে যান। পরে বৃহস্পতিবার -১৭ এপ্রিল- সেই অফিস থেকে একজন কর্মকর্তা এসে তার অবস্থা দেখে যান। এর কয়েকদিন পর ইউএনও’র উদ্যোগে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে তার ঘর নির্মাণের কাজ শুরু হয়।

এমনকি শুক্রবার -২৪ এপ্রিল- ইউএনও নিজে তার ঘর নির্মাণ কাজের অগ্রগতি দেখতে ও তার সাথে দেখা করতে যান। সে সময় তিনি তার দুঃখ দুর্দশার করা শোনেন। কয়েকদিনের মধ্যে ঘরটি তাকে হস্তান্তর করবেন ইউএনও।

ছালেহা বেগম বলেন, “ইউএনও স্যার আমার এখানে এসে আমার সাথে কথা বলেন। আমি তাকে একটি জানালার কথা বলেছি। তিনি আমার এখানে আসায় আমি অনেক খুশী। সৃষ্টিকর্তা তার মঙ্গল করুন।“

পাটগ্রামের প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা -পিআইও- মো. আতাউর রহমান বলেন, “ঘটনাটি জানার পর ইউএনও স্যার বিষয়টিকে অনেক গুরুত্বের সাথে ও মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে বিবেচনায় নিয়েছেন। ফলে তার নির্দেশনায় বিভিন্ন দিক থেকে সমন্বয় করে আমরা ছালেহা বেগমের ঘরের কাজটি শুরু করি। আমি নিজেও ঘটনাস্থলে যাই। পরে ইউএনও স্যারও সেখানে গিয়ে বৃদ্ধা ছালেহার সাথে দেখা করেন। তার জন্য আমরা যথাসাধ্য চেষ্টা করেছি।

পাটগ্রামের ইউএনও মো: জিল্লুর রহমান বলেন, “আমি নিজে ছালেহা বেগমের সাথে দেখা করতে গিয়েছি। তিনি এখন খুশী কিনা তা জানতে চেয়েছি। তিনি জানালার কথা বলেছেন। যত দ্রুততার সাথে সম্ভব তার ঘরের কাজ শেষ করে তার হাতে সেটি হস্তান্তর করা যায় আমরা সেই চেষ্টাই করছি। আমি আমার দায়িত্ব পালন করছি মাত্র।

এদিকে ইউএনও’র উদ্যোগে বৃদ্ধা ছালেহার থাকার ঘরের চলমান নির্মাণের কাজের প্রশংসা করেছেন এলাকাবাসী। তারা  ইউএনও’র এই মানবিক উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়েছেন।