Dhaka , Tuesday, 22 September 2026
নিবন্ধন নাম্বারঃ ১১০, সিরিয়াল নাম্বারঃ ১৫৪, কোড নাম্বারঃ ৯২
শিরোনাম ::
প্রেসিডেন্ট পুলিশ পদক পিপিএম সেবা পেলেন পিবিআই এর এসআই মনজুর রহমান সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে গুজব প্রতিরোধে সাইবার টিমের করণীয় বিষয়ে জেলা পুলিশের সভা সোনারগাঁওয়ে পুলিশের কাছ থেকে আসামী ছিনতাই, আহত ২ অটোরিকশায় চার্জ দিতে গিয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে চালকের মৃত্যু চাষাড়ায় শুভ হত্যার আসামিদের গ্রেপ্তার ও বিচারের দাবিতে মানববন্ধন নারায়ণগঞ্জে হাইকোর্টের বিচারপতির আদালত পরিদর্শন কারাগারে বন্দিদের মাদকবিরোধী সচেতনতা ও গার্মেন্টস প্রশিক্ষণ শীতলক্ষ্যায় খণ্ডিত মরদেহের অংশ দেখার পরও উদ্ধার হয়নি চরভদ্রাসনে ১০৫ পিস ইয়াবাসহ মাদকসম্রাজ্ঞী আটক- অন্য একজনকে মাদক মামলায় ৬ মাসের সাজা- সন্ত্রাসবিরোধী আইনে গ্রেফতার ২ রাষ্ট্রপতির পুলিশ পদক পাচ্ছেন এসএমপি’র জালালাবাদ থানার অফিসার ইনচার্জ শামসুল হাবিব লিংক রোডে ১৪ হাজার পিস ইয়াবাসহ দুই মাদক কারবারি গ্রেপ্তার শরীয়তপুরে মা ইলিশ রক্ষা অভিযানে নৌ পুলিশের কঠোর সতর্কবার্তা সরাইল পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের জিপিএ-৫ প্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের ‘পজিটিভ সরাইল’ এর উদ্যোগে সংবর্ধনা চবির দুই শিক্ষার্থীর অকালমৃত্যুতে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের শোক কক্সবাজার সরকারি কলেজের মহিলা হোস্টেলে ২০ হাজার ইয়াবা, ছাত্রী গ্রেপ্তার ব্যাচেলর পয়েন্ট নাটকে এন্ট্রি নিয়েই হিট গ্যাংস্টার ইংলিশ লেবু বাংলাদেশের বিপক্ষে খেলার অপেক্ষায় সার্জিও আগুয়েরো! পাইকগাছায় ১৭ প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের সঙ্গে বাপ্পীর মতবিনিময় জাপানে ঘূর্ণিঝড় দুজুয়ানের প্রভাবে ভারী বৃষ্টি, ভূমিধসের শঙ্কা ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬: ২২ ক্যারেট স্বর্ণের ভরি কত? সরকারকে ‘মেজরিটির ভূতে’ ধরেছে: গোলাম পরওয়ার বাস ভাড়া বাড়ানো নিয়ে বৈঠক ‘ডাকাতদের কাছে আইনজীবীদের নাম’—এসপির বক্তব্যে ক্ষুব্ধ কক্সবাজার জেলা আইনজীবী সমিতি সরকারের এক পার্সেন্ট জমিও ছাড় দেওয়া হবে না, পুনরুদ্ধার করা হবে: ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন চিকিৎসার ভরসাস্থলে চরম হতাশা:নানামুখী সংকটে ভুগছে কিশোরগঞ্জ সদর হাসপাতাল পাইকগাছাকে অত্যাধুনিক সুবিধাসম্পন্ন উপজেলা গড়তে কাজ করছি: বাপ্পী পাইকগাছা পৌরসভা পরিদর্শনে স্থানীয় সরকার বিভাগের উপ-পরিচালক কক্সবাজারে অনুষ্ঠিত হলো শিশু অধিকার সুরক্ষায় গণমাধ্যমের করণীয় শীর্ষক কর্মশালা নতুন কুঁড়িতে নিবন্ধনে দেশসেরা চট্টগ্রাম আশুলিয়ায় গ্যাস সিলিন্ডারবাহী কাভার্ডভ্যানে আগুন মূল কারখানা ও উৎপাদন কার্যক্রম অক্ষত, হতাহতদের পাশে থাকার ঘোষণা কর্তৃপক্ষের

আত্ম-নিয়ন্ত্রণ: ক্ষণিকের ভুলে দীর্ঘস্থায়ী আক্ষেপ

  • Reporter Name
  • আপডেট সময় : 07:54:51 pm, Friday, 25 July 2025
  • 778 বার পড়া হয়েছে

তৌহিদুল ইসলাম চঞ্চল,

কলামিস্ট,

মানবসম্পদ–শ্রম ও মানবাধিকার বিশেষজ্ঞ:

মহাসড়কে চলতে থাকা একটি গাড়ি যখন নিয়ন্ত্রণ হারায়, তখন তার পরিণতি হয় ভয়াবহ দুর্ঘটনা। ঠিক তেমনি, মানুষ যখন নিজের আবেগের ওপর নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলে, তখন তার জীবনেও ঘটে যায় ছোট-বড় নানা অঘটন। বন্দুক থেকে বেরিয়ে যাওয়া গুলি যেমন ফিরিয়ে আনা যায় না, তেমনি ক্রোধ বা ক্ষোভের বশে করে ফেলা কোনো কাজের পরিণতিও আর নিজের হাতে থাকে না। এর ফলে কখনও সমাধান করা গেলেও, বেশিরভাগ সময়েই তা দীর্ঘস্থায়ী মানসিক যন্ত্রণার কারণ হয়ে দাঁড়ায়।

প্রতিটি মানুষের ভেতরেই স্নেহ, মায়া, ভালোবাসার মতো মানবিক গুণাবলী রয়েছে। কিন্তু তার পাশাপাশি ষড়রিপু—কাম, ক্রোধ, লোভ, মোহ, মদ ও মাৎসর্য—এই ছয়টি শত্রুও সমানভাবে ক্রিয়াশীল। এই রিপুগুলো, বিশেষ করে ক্রোধ, যখন আমাদের विवेक বা বুদ্ধিমত্তাকে গ্রাস করে, তখনই আমরা নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাই।

একটি সাধারণ ঘটনা, একটি বড় শিক্ষা

পারভেজ সাহেবের ঘটনাটি এর একটি सटीक উদাহরণ। তিনি পরিবার নিয়ে ঢাকা থেকে গ্রামের বাড়ি যাচ্ছিলেন। হঠাৎ গাড়ির সামনে এক ছেলে এসে পড়লে তিনি সজোরে ব্রেক করেন। পেছনের একটি রিকশা তার গাড়িতে হালকা ধাক্কা দেয়, যাতে গাড়ির ইন্ডিকেটর লাইটটি ভেঙে যায়। পরিবারের সামনে নিজের ‘কর্তৃত্ব’ জাহির করতে তিনি গাড়ি থেকে নেমে রিকশাচালকের গালে সপাটে এক চড় বসিয়ে দেন। কিন্তু এরপর যা ঘটলো, তার জন্য তিনি প্রস্তুত ছিলেন না। নেশাগ্রস্ত রিকশাচালকটিও পাল্টা এক চড় কষে দেয় পারভেজ সাহেবের গালে। পরিবারের সদস্যদের সামনে এই অপ্রত্যাশিত ঘটনায় তার সম্মান ও লজ্জা ধুলোয় মিশে যায়। সামান্য ক্রোধ সংবরণ করতে না পারায় তাকে অকারণে অপ্রস্তুত হতে হলো, হারাতে হলো নিজের সম্মান।

কেন আমরা নিয়ন্ত্রণ হারাই?

মানুষ সাধারণত রাগান্বিত হয়েই নিজের ওপর নিয়ন্ত্রণ হারায়। অপ্রীতিকর পরিস্থিতি, অপূর্ণ আশা, কিংবা ইচ্ছার বিরুদ্ধে কোনো কাজ করতে বাধ্য হলে আমাদের মধ্যে ক্ষোভ জন্মায়। এই ক্ষোভের উৎস হতে পারে শত শত কারণ:

  • পারিবারিক জীবনে: স্ত্রীর সঙ্গে মতের অমিল বা সন্তানের আশানুরূপ ফল না করা।
  • কর্মক্ষেত্রে: বসের ভর্ৎসনা বা সহকর্মীর সাফল্যে ঈর্ষা।
  • সামাজিক জীবনে: বন্ধুর এড়িয়ে যাওয়া, দাওয়াতে অপ্রীতিকর প্রশ্ন, বাসে কন্ডাক্টরের সাথে ভাড়া নিয়ে বচসা।
  • ব্যক্তিগত হতাশা: হোটেলে চায়ের মান পছন্দ না হওয়া থেকে শুরু করে নিজের কোনো বদভ্যাস—এমন হাজারো ছোট-বড় কারণে আমাদের মন বিষিয়ে ওঠে এবং আমরা নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাই।

এই নিয়ন্ত্রৃহীন আবেগগুলো জীবনকে দুর্বিষহ করে তোলে। তাই নিজেকে নিয়ন্ত্রণের কৌশল জানা অত্যন্ত জরুরি।

আত্ম-নিয়ন্ত্রণের পথে কিছু সহজ কৌশল

কিছু কৌশল অবলম্বন করলে কঠিন মুহূর্তেও আবেগ নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব।

১. নিজেকে জানুন ও চিহ্নিত করুন: প্রথমেই একটি তালিকা তৈরি করুন—কোন কোন পরিস্থিতিতে এবং কী কী কারণে আপনি নিজের ওপর নিয়ন্ত্রণ হারান। এটি আপনাকে আপনার দুর্বল মুহূর্তগুলো চিহ্নিত করতে সাহায্য করবে। যখন আপনি বুঝতে পারবেন ঠিক কোন আচরণটি নিয়ন্ত্রণ করতে হবে, তখন সমাধান খুঁজে পাওয়া সহজ হবে।

২. কারণগুলো বিশ্লেষণ করুন: যেসব কারণে আপনি উত্তেজিত হন, সেগুলো নিয়ে গভীরভাবে ভাবুন। যেমন:

  • অতিরিক্ত খরচ: আপনি কি বাজারে গেলে প্রয়োজনের অতিরিক্ত জিনিস কেনেন? তাহলে বাজারে যাওয়ার আগে একটি তালিকা করুন এবং দৃঢ়প্রতিজ্ঞ হন যে তালিকার বাইরে কিছুই কিনবেন না।
  • বদভ্যাস ত্যাগ: ধূমপানের মতো বদভ্যাস ছাড়তে চাইলে এর ক্ষতিকর দিকগুলো (শারীরিক, অর্থনৈতিক) নিয়ে ভাবুন। এই অভ্যাস আপনার জীবনের জন্য কতটা জরুরি, তা নিজেকে প্রশ্ন করুন।

৩. বিকল্প আচরণের অনুশীলন করুন: যে পরিস্থিতিতে আপনি সাধারণত রেগে যান, সেখানে কীভাবে শান্ত থাকা যায় তার একটি তালিকা তৈরি করুন। প্রয়োজনে সফল মানুষদের পর্যবেক্ষণ করুন বা এ বিষয়ে পড়ুন। যেমনটি করেছিলেন সেই ব্যক্তি, যিনি প্রতিদিন ৫০০ টাকার কফি খেতেন। একটি সিনেমার দৃশ্য দেখে তার মধ্যে আত্মসমালোচনা জন্মায় এবং তিনি সেই অভ্যাস ত্যাগ করেন। এখন তিনি প্রতিদিন কফি শপের সামনে দাঁড়িয়ে ভাবেন, “কফির দাম ৫০০ টাকা, মাসে ১৫ হাজার টাকা!”—এই একটি ভাবনাই তাকে নিয়ন্ত্রণ করতে সাহায্য করে।

৪. সম্পর্ক নিয়ে নতুন করে ভাবুন: দাম্পত্য জীবনে খাবার নিয়ে স্ত্রীকে রোজ দু’কথা শোনানো যদি আপনার অভ্যাসে পরিণত হয়, তবে থামুন। নিজেকে প্রশ্ন করুন:

  • “যার সাথে এমন করছি,তার সাথে আমার সম্পর্ক কী?”
  • “আমার জীবনে তার প্রয়োজন কতটা?”
  • “আসলেই কি রান্না খারাপ,নাকি এটা আমার বদভ্যাসে পরিণত হয়েছে?”

সমস্যাটি খুঁজে বের করে সমাধান চিন্তা করুন এবং নতুন করে সম্পর্ক শুরু করুন।

শেষ কথা

আত্ম-নিয়ন্ত্রণ একটি শক্তি। যে ব্যক্তি নিজেকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারেন, তিনি কখনও ক্ষতিগ্রস্ত হন না, বরং সবদিক থেকে লাভবান হন। আত্ম-নিয়ন্ত্রণে দাম্পত্য জীবন সুন্দর হয়, পরিবারে শান্তি বজায় থাকে এবং সন্তান একটি সুস্থ পরিবেশে বেড়ে ওঠার শিক্ষা পায়। এর ইতিবাচক প্রভাব ব্যক্তিজীবন ছাড়িয়ে সমাজ ও রাষ্ট্রেও পড়ে। ক্ষণিকের আবেগের কাছে বন্দী না হয়ে, আসুন আমরা আত্ম-নিয়ন্ত্রণের সহজ পাঠগুলো অনুশীলন করি।

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

প্রেসিডেন্ট পুলিশ পদক পিপিএম সেবা পেলেন পিবিআই এর এসআই মনজুর রহমান

আত্ম-নিয়ন্ত্রণ: ক্ষণিকের ভুলে দীর্ঘস্থায়ী আক্ষেপ

আপডেট সময় : 07:54:51 pm, Friday, 25 July 2025

তৌহিদুল ইসলাম চঞ্চল,

কলামিস্ট,

মানবসম্পদ–শ্রম ও মানবাধিকার বিশেষজ্ঞ:

মহাসড়কে চলতে থাকা একটি গাড়ি যখন নিয়ন্ত্রণ হারায়, তখন তার পরিণতি হয় ভয়াবহ দুর্ঘটনা। ঠিক তেমনি, মানুষ যখন নিজের আবেগের ওপর নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলে, তখন তার জীবনেও ঘটে যায় ছোট-বড় নানা অঘটন। বন্দুক থেকে বেরিয়ে যাওয়া গুলি যেমন ফিরিয়ে আনা যায় না, তেমনি ক্রোধ বা ক্ষোভের বশে করে ফেলা কোনো কাজের পরিণতিও আর নিজের হাতে থাকে না। এর ফলে কখনও সমাধান করা গেলেও, বেশিরভাগ সময়েই তা দীর্ঘস্থায়ী মানসিক যন্ত্রণার কারণ হয়ে দাঁড়ায়।

প্রতিটি মানুষের ভেতরেই স্নেহ, মায়া, ভালোবাসার মতো মানবিক গুণাবলী রয়েছে। কিন্তু তার পাশাপাশি ষড়রিপু—কাম, ক্রোধ, লোভ, মোহ, মদ ও মাৎসর্য—এই ছয়টি শত্রুও সমানভাবে ক্রিয়াশীল। এই রিপুগুলো, বিশেষ করে ক্রোধ, যখন আমাদের विवेक বা বুদ্ধিমত্তাকে গ্রাস করে, তখনই আমরা নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাই।

একটি সাধারণ ঘটনা, একটি বড় শিক্ষা

পারভেজ সাহেবের ঘটনাটি এর একটি सटीक উদাহরণ। তিনি পরিবার নিয়ে ঢাকা থেকে গ্রামের বাড়ি যাচ্ছিলেন। হঠাৎ গাড়ির সামনে এক ছেলে এসে পড়লে তিনি সজোরে ব্রেক করেন। পেছনের একটি রিকশা তার গাড়িতে হালকা ধাক্কা দেয়, যাতে গাড়ির ইন্ডিকেটর লাইটটি ভেঙে যায়। পরিবারের সামনে নিজের ‘কর্তৃত্ব’ জাহির করতে তিনি গাড়ি থেকে নেমে রিকশাচালকের গালে সপাটে এক চড় বসিয়ে দেন। কিন্তু এরপর যা ঘটলো, তার জন্য তিনি প্রস্তুত ছিলেন না। নেশাগ্রস্ত রিকশাচালকটিও পাল্টা এক চড় কষে দেয় পারভেজ সাহেবের গালে। পরিবারের সদস্যদের সামনে এই অপ্রত্যাশিত ঘটনায় তার সম্মান ও লজ্জা ধুলোয় মিশে যায়। সামান্য ক্রোধ সংবরণ করতে না পারায় তাকে অকারণে অপ্রস্তুত হতে হলো, হারাতে হলো নিজের সম্মান।

কেন আমরা নিয়ন্ত্রণ হারাই?

মানুষ সাধারণত রাগান্বিত হয়েই নিজের ওপর নিয়ন্ত্রণ হারায়। অপ্রীতিকর পরিস্থিতি, অপূর্ণ আশা, কিংবা ইচ্ছার বিরুদ্ধে কোনো কাজ করতে বাধ্য হলে আমাদের মধ্যে ক্ষোভ জন্মায়। এই ক্ষোভের উৎস হতে পারে শত শত কারণ:

  • পারিবারিক জীবনে: স্ত্রীর সঙ্গে মতের অমিল বা সন্তানের আশানুরূপ ফল না করা।
  • কর্মক্ষেত্রে: বসের ভর্ৎসনা বা সহকর্মীর সাফল্যে ঈর্ষা।
  • সামাজিক জীবনে: বন্ধুর এড়িয়ে যাওয়া, দাওয়াতে অপ্রীতিকর প্রশ্ন, বাসে কন্ডাক্টরের সাথে ভাড়া নিয়ে বচসা।
  • ব্যক্তিগত হতাশা: হোটেলে চায়ের মান পছন্দ না হওয়া থেকে শুরু করে নিজের কোনো বদভ্যাস—এমন হাজারো ছোট-বড় কারণে আমাদের মন বিষিয়ে ওঠে এবং আমরা নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাই।

এই নিয়ন্ত্রৃহীন আবেগগুলো জীবনকে দুর্বিষহ করে তোলে। তাই নিজেকে নিয়ন্ত্রণের কৌশল জানা অত্যন্ত জরুরি।

আত্ম-নিয়ন্ত্রণের পথে কিছু সহজ কৌশল

কিছু কৌশল অবলম্বন করলে কঠিন মুহূর্তেও আবেগ নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব।

১. নিজেকে জানুন ও চিহ্নিত করুন: প্রথমেই একটি তালিকা তৈরি করুন—কোন কোন পরিস্থিতিতে এবং কী কী কারণে আপনি নিজের ওপর নিয়ন্ত্রণ হারান। এটি আপনাকে আপনার দুর্বল মুহূর্তগুলো চিহ্নিত করতে সাহায্য করবে। যখন আপনি বুঝতে পারবেন ঠিক কোন আচরণটি নিয়ন্ত্রণ করতে হবে, তখন সমাধান খুঁজে পাওয়া সহজ হবে।

২. কারণগুলো বিশ্লেষণ করুন: যেসব কারণে আপনি উত্তেজিত হন, সেগুলো নিয়ে গভীরভাবে ভাবুন। যেমন:

  • অতিরিক্ত খরচ: আপনি কি বাজারে গেলে প্রয়োজনের অতিরিক্ত জিনিস কেনেন? তাহলে বাজারে যাওয়ার আগে একটি তালিকা করুন এবং দৃঢ়প্রতিজ্ঞ হন যে তালিকার বাইরে কিছুই কিনবেন না।
  • বদভ্যাস ত্যাগ: ধূমপানের মতো বদভ্যাস ছাড়তে চাইলে এর ক্ষতিকর দিকগুলো (শারীরিক, অর্থনৈতিক) নিয়ে ভাবুন। এই অভ্যাস আপনার জীবনের জন্য কতটা জরুরি, তা নিজেকে প্রশ্ন করুন।

৩. বিকল্প আচরণের অনুশীলন করুন: যে পরিস্থিতিতে আপনি সাধারণত রেগে যান, সেখানে কীভাবে শান্ত থাকা যায় তার একটি তালিকা তৈরি করুন। প্রয়োজনে সফল মানুষদের পর্যবেক্ষণ করুন বা এ বিষয়ে পড়ুন। যেমনটি করেছিলেন সেই ব্যক্তি, যিনি প্রতিদিন ৫০০ টাকার কফি খেতেন। একটি সিনেমার দৃশ্য দেখে তার মধ্যে আত্মসমালোচনা জন্মায় এবং তিনি সেই অভ্যাস ত্যাগ করেন। এখন তিনি প্রতিদিন কফি শপের সামনে দাঁড়িয়ে ভাবেন, “কফির দাম ৫০০ টাকা, মাসে ১৫ হাজার টাকা!”—এই একটি ভাবনাই তাকে নিয়ন্ত্রণ করতে সাহায্য করে।

৪. সম্পর্ক নিয়ে নতুন করে ভাবুন: দাম্পত্য জীবনে খাবার নিয়ে স্ত্রীকে রোজ দু’কথা শোনানো যদি আপনার অভ্যাসে পরিণত হয়, তবে থামুন। নিজেকে প্রশ্ন করুন:

  • “যার সাথে এমন করছি,তার সাথে আমার সম্পর্ক কী?”
  • “আমার জীবনে তার প্রয়োজন কতটা?”
  • “আসলেই কি রান্না খারাপ,নাকি এটা আমার বদভ্যাসে পরিণত হয়েছে?”

সমস্যাটি খুঁজে বের করে সমাধান চিন্তা করুন এবং নতুন করে সম্পর্ক শুরু করুন।

শেষ কথা

আত্ম-নিয়ন্ত্রণ একটি শক্তি। যে ব্যক্তি নিজেকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারেন, তিনি কখনও ক্ষতিগ্রস্ত হন না, বরং সবদিক থেকে লাভবান হন। আত্ম-নিয়ন্ত্রণে দাম্পত্য জীবন সুন্দর হয়, পরিবারে শান্তি বজায় থাকে এবং সন্তান একটি সুস্থ পরিবেশে বেড়ে ওঠার শিক্ষা পায়। এর ইতিবাচক প্রভাব ব্যক্তিজীবন ছাড়িয়ে সমাজ ও রাষ্ট্রেও পড়ে। ক্ষণিকের আবেগের কাছে বন্দী না হয়ে, আসুন আমরা আত্ম-নিয়ন্ত্রণের সহজ পাঠগুলো অনুশীলন করি।