Dhaka , Monday, 21 September 2026
নিবন্ধন নাম্বারঃ ১১০, সিরিয়াল নাম্বারঃ ১৫৪, কোড নাম্বারঃ ৯২
শিরোনাম ::
সরাইল পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের জিপিএ-৫ প্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের ‘পজিটিভ সরাইল’ এর উদ্যোগে সংবর্ধনা চবির দুই শিক্ষার্থীর অকালমৃত্যুতে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের শোক কক্সবাজার সরকারি কলেজের মহিলা হোস্টেলে ২০ হাজার ইয়াবা, ছাত্রী গ্রেপ্তার ব্যাচেলর পয়েন্ট নাটকে এন্ট্রি নিয়েই হিট গ্যাংস্টার ইংলিশ লেবু বাংলাদেশের বিপক্ষে খেলার অপেক্ষায় সার্জিও আগুয়েরো! পাইকগাছায় ১৭ প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের সঙ্গে বাপ্পীর মতবিনিময় জাপানে ঘূর্ণিঝড় দুজুয়ানের প্রভাবে ভারী বৃষ্টি, ভূমিধসের শঙ্কা ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬: ২২ ক্যারেট স্বর্ণের ভরি কত? সরকারকে ‘মেজরিটির ভূতে’ ধরেছে: গোলাম পরওয়ার বাস ভাড়া বাড়ানো নিয়ে বৈঠক ‘ডাকাতদের কাছে আইনজীবীদের নাম’—এসপির বক্তব্যে ক্ষুব্ধ কক্সবাজার জেলা আইনজীবী সমিতি সরকারের এক পার্সেন্ট জমিও ছাড় দেওয়া হবে না, পুনরুদ্ধার করা হবে: ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন চিকিৎসার ভরসাস্থলে চরম হতাশা:নানামুখী সংকটে ভুগছে কিশোরগঞ্জ সদর হাসপাতাল পাইকগাছাকে অত্যাধুনিক সুবিধাসম্পন্ন উপজেলা গড়তে কাজ করছি: বাপ্পী পাইকগাছা পৌরসভা পরিদর্শনে স্থানীয় সরকার বিভাগের উপ-পরিচালক কক্সবাজারে অনুষ্ঠিত হলো শিশু অধিকার সুরক্ষায় গণমাধ্যমের করণীয় শীর্ষক কর্মশালা নতুন কুঁড়িতে নিবন্ধনে দেশসেরা চট্টগ্রাম আশুলিয়ায় গ্যাস সিলিন্ডারবাহী কাভার্ডভ্যানে আগুন মূল কারখানা ও উৎপাদন কার্যক্রম অক্ষত, হতাহতদের পাশে থাকার ঘোষণা কর্তৃপক্ষের অধ্যক্ষ মাওলানা দেলোয়ার হোসেন আজিজীর ভোলা সফর উপলক্ষে মাদ্রাসা শিক্ষক-কর্মচারী ফোরামের প্রস্তুতি সভা ২৬ সেপ্টেম্বর কাউখালী-বরিশাল সরাসরি বাস নেই, ভোগান্তিতে হাজারো যাত্রী চন্দনাইশ-আনোয়ারায় রুবি সিমেন্টের সর্বোচ্চ পাইকারি বিক্রেতা হাজী মোহাম্মদ রফিক, পেলেন মোটরসাইকেল উপহার ইউনাইটেড ইয়ুথ ব্লাড ডোনেশন সোসাইটির উদ্যোগে ‘Youth Tech Connect’ কর্মশালা অনুষ্ঠিত টেকনাফে বনভোজন শেষে ‘জয় বাংলা’ স্লোগান, বিএনপি নেতার উপস্থিতি নিয়ে বিতর্ক বরিশালে কারখানার বর্জ্য ও নগরবাসীর পলিথিনে মরছে কীর্তনখোলা কালিয়াকৈরে হাফেজ আলীমের বিরুদ্ধে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ সুন্দরগঞ্জে পরপর তিন ককটেল বিস্ফোরণ, আতঙ্ক সাতকানিয়ায় ট্রেনের ধাক্কায় নিহত ২ ‘মক্কা জোট’ হবে এক যুগান্তকারী প্ল্যাটফর্ম: তুরস্ক কর আইনজীবীদের পেশাগত দায়িত্ব পালনের আহ্বান রাষ্ট্রপতির টম ক্রুজকে ফুটবল শেখালেন টেলর সুইফট, জানালেন কী কথা হয়েছিল

আজ ঘোড়াশাল ট্র্যাজেডি দিবস :নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরতে হবে

  • Reporter Name
  • আপডেট সময় : 03:22:37 pm, Saturday, 6 December 2025
  • 88 বার পড়া হয়েছে

অরবিন্দ রায়,

১৯৭১ সালে ৬ ডিসেম্বর পাক হানাদার বাহিনী ও তাদের দোসররা গ্রামের সাধারন মানুষকে বাড়ি থেকে টেনে বের নির্বিচারে গুলি করে হত্যা করে। ৬ ডিসেম্বর শনিবার ঘোড়াশাল ট্র্যাজেডি দিবস। দিবসটি এলেই এলাকায় নেমে আসে এলাকায় শোকের ছায়া। ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের চূড়ান্ত বিজয়ের মাত্র ৯দিন বাকি। দেশজুড়ে কোনঠাসা হয়ে পড়েছে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী। তৎকালীন ঢাকার কালীগঞ্জ থানাধীন মধ্যে ঘোড়াশালের আঁটিয়াগাওয়ে ঘটে এক মর্মান্তিক ঘটনা। আঁটিয়াগাওয়ের আবুল কাসেমের বাড়িতে নারকীয় হত্যাযজ্ঞ চালায় পাক হানাদার বাহিনী। আজো এই দিনটি এলে বিজয়ের মাসে এলাকাবাসী শোকে বিহবল হয় পড়ে।
স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধা ও ঘোড়াশালের সাবেক কাউন্সিলর মো. রফিক ভূইয়া জানান, ১৯৭১ সালের ৬ ডিসেম্বর সন্ধ্যায় সবেমাত্র মাগরিবের আযান হয়েছে। হানাদার বাহিনী আবুল কাসেমের বাড়ি দুইদিক থেকে ঘিরে ফেলে। পাশাপাশি আসেপাশে ১০-১২টি বাড়িতে করে অগ্নিসংযোগ। ঘটনা আঁচ করতে পেরে আবুল
কাসেম পরিবারসহ ঘরের ভিতর একটি মাটির গর্তে লুকিয়ে পড়ে। হানাদাররা বাড়ির বিভিন্ন ঘরের দরজা ভেঙ্গে ৩২ জন নারী পুরুষ শিশুকে উঠানে সারিবদ্ধভাবে দাঁড় করায়। আচমকা নরপিশাচদের আগ্নেয়াস্ত্র গর্জে উঠে। ঘটনাস্থলেই শহীদ হয় ১৮ জন, ৪ জন হয় মারাত্মকভাবে জখম। বাকিরা ভাগ্যক্রমে বেঁচে যায়। মাটির গর্তে জ্ঞান হারায় আবুল কাসেম। তিনি প্রাণে বাঁচলেও ঐদিন শহীদ হয় আম্বিয়া খাতুন, মজিদা, আলিমুন বেগম, মালা বেগম, আকমন আলী, মোকছেদ আলী, শিশুপুত্রসহ আয়েশা বেগম, হযরত আলী, নেহাজ উদ্দিন, শাহাজদ্দিন, শাহাজাহান, রহম আলী,আ. হেকিমসহ আরো ৪ জন। দেশ স্বাধীন হয়েছে ৫৪বছর, আজ পর্যন্ত আবুল কাসেমের বাড়িতে ঘটে যাওয়া শহীদদের স্মৃতি রক্ষার্থে আজো
নেওয়া হয়নি কোন সরকারি পদক্ষেপ। আবুল কাসেম পরলোকগমন করেন ৭ বছর হলো। মৃত্যুর আগে তিনি প্রায়ই আফসোস করে বলতেন কত সরকার আসলো গেল কেউই আমার বাড়ির এই ১৮ জন শহীদের নামে কোন একটি স্মৃতি ফলকও করে দিল না। আবুল কাসেমের ছেলে সাত্তার বাবুল বলেন আমি তখন ছোট হলেও সবই পরিষ্কার মনে আছে। আমাদের উঠানে ১৮ জনের মৃতদেহ আহতদের চিৎকারে আমরাও কান্নায় ভেঙ্গে পড়ি। তবে আক্ষেপ আমাদের বাড়ির শহীদদের নামে স্মৃতি রক্ষার্থে কোনকিছু আজো হলো না।এমনকি শহীদ পরিবারের মর্যাদাটুকু পেলামনা। আমরা চাই বাড়ির পাশে ১৮ জন শহীদ যে ‘গোরস্তানে চিরনিদ্রায় ঘুমিয়ে আছে, তাদের সম্মান রক্ষায় সরকারের পক্ষ হতে একটা কিছু হোক।
এদিকে শহীদদের গোরস্তানে ছবি তুলতে গেলে দেখা যায় নিরব নিথর এক গোরস্তান। তবে এলাকার সচেতন মহলের দাবী সরকার বা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুতসময়ে এই ১৮ জন শহীদদের স্মৃতি রক্ষায় সংশ্লিষ্ট মহল বা সরকার দ্রুত উদ্যোগ গ্রহনের দাবি জানান । নতুন প্রজন্ম ঘোড়াশাল ট্রাজেডি সম্পর্কে সুস্পষ্ট ধারণা নেই।

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

সরাইল পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের জিপিএ-৫ প্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের ‘পজিটিভ সরাইল’ এর উদ্যোগে সংবর্ধনা

আজ ঘোড়াশাল ট্র্যাজেডি দিবস :নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরতে হবে

আপডেট সময় : 03:22:37 pm, Saturday, 6 December 2025

অরবিন্দ রায়,

১৯৭১ সালে ৬ ডিসেম্বর পাক হানাদার বাহিনী ও তাদের দোসররা গ্রামের সাধারন মানুষকে বাড়ি থেকে টেনে বের নির্বিচারে গুলি করে হত্যা করে। ৬ ডিসেম্বর শনিবার ঘোড়াশাল ট্র্যাজেডি দিবস। দিবসটি এলেই এলাকায় নেমে আসে এলাকায় শোকের ছায়া। ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের চূড়ান্ত বিজয়ের মাত্র ৯দিন বাকি। দেশজুড়ে কোনঠাসা হয়ে পড়েছে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী। তৎকালীন ঢাকার কালীগঞ্জ থানাধীন মধ্যে ঘোড়াশালের আঁটিয়াগাওয়ে ঘটে এক মর্মান্তিক ঘটনা। আঁটিয়াগাওয়ের আবুল কাসেমের বাড়িতে নারকীয় হত্যাযজ্ঞ চালায় পাক হানাদার বাহিনী। আজো এই দিনটি এলে বিজয়ের মাসে এলাকাবাসী শোকে বিহবল হয় পড়ে।
স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধা ও ঘোড়াশালের সাবেক কাউন্সিলর মো. রফিক ভূইয়া জানান, ১৯৭১ সালের ৬ ডিসেম্বর সন্ধ্যায় সবেমাত্র মাগরিবের আযান হয়েছে। হানাদার বাহিনী আবুল কাসেমের বাড়ি দুইদিক থেকে ঘিরে ফেলে। পাশাপাশি আসেপাশে ১০-১২টি বাড়িতে করে অগ্নিসংযোগ। ঘটনা আঁচ করতে পেরে আবুল
কাসেম পরিবারসহ ঘরের ভিতর একটি মাটির গর্তে লুকিয়ে পড়ে। হানাদাররা বাড়ির বিভিন্ন ঘরের দরজা ভেঙ্গে ৩২ জন নারী পুরুষ শিশুকে উঠানে সারিবদ্ধভাবে দাঁড় করায়। আচমকা নরপিশাচদের আগ্নেয়াস্ত্র গর্জে উঠে। ঘটনাস্থলেই শহীদ হয় ১৮ জন, ৪ জন হয় মারাত্মকভাবে জখম। বাকিরা ভাগ্যক্রমে বেঁচে যায়। মাটির গর্তে জ্ঞান হারায় আবুল কাসেম। তিনি প্রাণে বাঁচলেও ঐদিন শহীদ হয় আম্বিয়া খাতুন, মজিদা, আলিমুন বেগম, মালা বেগম, আকমন আলী, মোকছেদ আলী, শিশুপুত্রসহ আয়েশা বেগম, হযরত আলী, নেহাজ উদ্দিন, শাহাজদ্দিন, শাহাজাহান, রহম আলী,আ. হেকিমসহ আরো ৪ জন। দেশ স্বাধীন হয়েছে ৫৪বছর, আজ পর্যন্ত আবুল কাসেমের বাড়িতে ঘটে যাওয়া শহীদদের স্মৃতি রক্ষার্থে আজো
নেওয়া হয়নি কোন সরকারি পদক্ষেপ। আবুল কাসেম পরলোকগমন করেন ৭ বছর হলো। মৃত্যুর আগে তিনি প্রায়ই আফসোস করে বলতেন কত সরকার আসলো গেল কেউই আমার বাড়ির এই ১৮ জন শহীদের নামে কোন একটি স্মৃতি ফলকও করে দিল না। আবুল কাসেমের ছেলে সাত্তার বাবুল বলেন আমি তখন ছোট হলেও সবই পরিষ্কার মনে আছে। আমাদের উঠানে ১৮ জনের মৃতদেহ আহতদের চিৎকারে আমরাও কান্নায় ভেঙ্গে পড়ি। তবে আক্ষেপ আমাদের বাড়ির শহীদদের নামে স্মৃতি রক্ষার্থে কোনকিছু আজো হলো না।এমনকি শহীদ পরিবারের মর্যাদাটুকু পেলামনা। আমরা চাই বাড়ির পাশে ১৮ জন শহীদ যে ‘গোরস্তানে চিরনিদ্রায় ঘুমিয়ে আছে, তাদের সম্মান রক্ষায় সরকারের পক্ষ হতে একটা কিছু হোক।
এদিকে শহীদদের গোরস্তানে ছবি তুলতে গেলে দেখা যায় নিরব নিথর এক গোরস্তান। তবে এলাকার সচেতন মহলের দাবী সরকার বা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুতসময়ে এই ১৮ জন শহীদদের স্মৃতি রক্ষায় সংশ্লিষ্ট মহল বা সরকার দ্রুত উদ্যোগ গ্রহনের দাবি জানান । নতুন প্রজন্ম ঘোড়াশাল ট্রাজেডি সম্পর্কে সুস্পষ্ট ধারণা নেই।