সজল চন্দ্র রায়, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি,
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) আবাসিক হল, অনুষদ, বিভাগ, গ্রন্থাগার, প্রশাসনিক ভবনসহ উপযুক্ত সব স্থাপনায় সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা চালুর দাবি জানিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. শাফায়াত হোসেন। সোমবার (১২ অক্টোবর) এ দাবিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য বরাবর স্মারকলিপি দিয়েছেন তিনি। সর্বশেষ চাকসু নির্বাচনে ছাত্রদল মনোনীত প্যানেল থেকে সাধারণ সম্পাদক (জিএস) পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন শাফায়াত হোসেন।
স্মারকলিপিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভবনগুলোর উপযোগী ছাদে পর্যায়ক্রমে সৌর প্যানেল স্থাপনের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। এতে বলা হয়, সৌরবিদ্যুৎ ব্যবহার করা গেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিদ্যুৎ ব্যয় কমানোর পাশাপাশি প্রচলিত বিদ্যুতের ওপর নির্ভরশীলতা হ্রাস এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়ানো সম্ভব হবে।
স্মারকলিপিতে আরও বলা হয়, শিক্ষার্থীদের আবাসিক জীবন, পড়াশোনা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হলগুলোতে নির্ভরযোগ্য বিদ্যুৎ সরবরাহ প্রয়োজন। একই সঙ্গে শ্রেণিকক্ষ, গবেষণাগার, গ্রন্থাগার ও প্রশাসনিক কার্যক্রম পরিচালনায় নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ অপরিহার্য। এ জন্য ভবনগুলোর উপযোগী ছাদে সৌর প্যানেল স্থাপনের পাশাপাশি বিদ্যুৎ সংরক্ষণ ও প্রয়োজনীয় কারিগরি সুবিধা নিশ্চিত করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। এতে বিদ্যুৎ বিভ্রাটের সময়ও গুরুত্বপূর্ণ কার্যক্রম সচল রাখার সুযোগ তৈরি হতে পারে।

প্রকল্প বাস্তবায়নের আগে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভবনগুলোর ছাদের অবস্থা, বিদ্যুতের চাহিদা, কারিগরি সক্ষমতা ও সম্ভাব্য ব্যয় যাচাই করে সমন্বিত পরিকল্পনা তৈরির প্রস্তাব দিয়েছেন শাফায়াত হোসেন। এ ক্ষেত্রে বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব তহবিল, সরকারি বরাদ্দ ও সংশ্লিষ্ট সংস্থার সহায়তাসহ সম্ভাব্য অর্থায়নের উৎস অনুসন্ধানের কথাও উল্লেখ করেছেন তিনি।
স্মারকলিপিতে শুরুতে কয়েকটি উপযুক্ত আবাসিক হল ও অনুষদে পরীক্ষামূলকভাবে সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা চালুর প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। এ উদ্যোগ সফল হলে পর্যায়ক্রমে পুরো ক্যাম্পাসে তা সম্প্রসারণের কথা বলা হয়। পাশাপাশি উৎপাদিত বিদ্যুতের উদ্বৃত্ত জাতীয় গ্রিডে সরবরাহের কারিগরি ও আর্থিক সম্ভাব্যতা যাচাই, সরকারি নীতিমালা অনুসরণ এবং প্রকল্পের বাস্তবায়ন ও রক্ষণাবেক্ষণ তদারকিতে বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে কমিটি গঠনের প্রস্তাবও রয়েছে।
স্মারকলিপিতে নবায়নযোগ্য জ্বালানিকে পরিবেশবান্ধব ও টেকসই উন্নয়নের গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। এতে বলা হয়, সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা চালু করা গেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিদ্যুৎ ব্যয় কমানোর পাশাপাশি পরিবেশ সংরক্ষণ ও জ্বালানি নিরাপত্তা জোরদারে ভূমিকা রাখা সম্ভব হবে। এ উদ্যোগ বাস্তবায়নে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কার্যকর পদক্ষেপ ও উপাচার্যের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন শাফায়াত হোসেন।
এ বিষয়ে চবি শাখা ছাত্রদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. শাফায়াত হোসেন বলেন, “বর্তমান সময়ে বিদ্যুৎ ঘাটতি মোকাবিলা, খরচ কমানো এবং শিক্ষার্থীদের আবাসিক জীবন স্বাভাবিক রাখতে নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়ানো জরুরি। বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক হলগুলোতে সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা স্থাপন করা হলে বিদ্যুৎ ব্যয় কমানোর পাশাপাশি মূল গ্রিডের ওপর নির্ভরশীলতাও হ্রাস পাবে। বিশেষ করে বিদ্যুৎ সংকটের সময়ে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা ও দৈনন্দিন কার্যক্রম স্বাভাবিক রাখতে সৌরবিদ্যুৎ কার্যকর ভূমিকা রাখবে।”
























