সজল চন্দ্র রায়, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি,
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ও আশপাশের এলাকায় ডেঙ্গুর সংক্রমণ বাড়ার পাশাপাশি এডিস মশার উপদ্রব বৃদ্ধি পাওয়ায় শিক্ষার্থীদের বসবাসের মেস ও কটেজ এলাকায় মশা নিধন অভিযান চালিয়েছে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (চাকসু) সহকারী সাধারণ সম্পাদক (এজিএস) আইয়ুবুর রহমান তৌফিক। ডেঙ্গুর ঝুঁকিতে থাকা ঘনবসতিপূর্ণ কটেজ এলাকায় মশার উপদ্রব কমানো, এডিস মশার সম্ভাব্য বংশবিস্তারস্থল নিয়ন্ত্রণ এবং শিক্ষার্থীদের বসবাসের পরিবেশ নিরাপদ রাখার লক্ষ্যে এ উদ্যোগ নেওয়া হয়। বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) চাকসু এজিএসের উদ্যোগে ফতেহপুর ইউনিয়ন পরিষদের সহযোগিতায় চবির শাহ আমানত ও শাহজালাল হলের সম্মুখের কটেজ এলাকা এবং সোহরাওয়ার্দী হলের পেছনের এলাকায় এ অভিযান পরিচালনা করা হয়।
সম্প্রতি চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েকজন শিক্ষার্থী ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হওয়ার খবর পাওয়া যায়। একই সময়ে ক্যাম্পাস ও আশপাশের এলাকায় মশার উপদ্রবও বৃদ্ধি পাওয়ায় শিক্ষার্থীদের মধ্যে ডেঙ্গু নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক হলের বাইরে বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থী মেস ও কটেজে বসবাস করেন। এসব এলাকায় ঘনবসতি, অপরিচ্ছন্ন পরিবেশ কিংবা বিভিন্ন স্থানে পানি জমে থাকলে এডিস মশার বংশবিস্তারের সুযোগ তৈরি হতে পারে। বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে শিক্ষার্থীদের বসবাসের এলাকাগুলোকে অগ্রাধিকার দিয়ে মশা নিধন কার্যক্রম শুরু করেন চাকসু এজিএস আইয়ুবুর রহমান তৌফিক।
অভিযানের প্রথম ধাপে চবির শাহ আমানত ও শাহজালাল হলের সামনের কটেজ এলাকাগুলোতে এবং সোহরাওয়ার্দী হলের পেছনের অংশে মশা নিধন করা হয়। এসব এলাকায় মশার উপদ্রব কমানোর পাশাপাশি মশার সম্ভাব্য প্রজননস্থলগুলোর দিকেও নজর দেওয়া হয়। বিশেষ করে জমে থাকা পানি, অপরিচ্ছন্ন ও স্যাঁতসেঁতে স্থানসহ এডিস মশার বংশবিস্তারের অনুকূল পরিবেশ চিহ্নিত করে তা নিয়ন্ত্রণের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।
অভিযানে নেতৃত্ব দেওয়া চাকসুর এজিএস আইয়ুবুর রহমান তৌফিক বলেন, “চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েকজন শিক্ষার্থী ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। বিশেষ করে কটেজগুলো ঘনবসতিপূর্ণ ও গিঞ্জি পরিবেশে হওয়ায় সেখানে ডেঙ্গুর ঝুঁকি তুলনামূলক বেশি। তাই সেখানে অভিযান চালানো হয়েছে। সামনেও এ কার্যক্রম চলমান রাখা হবে।”
তিনি আরও বলেন, শিক্ষার্থীদের নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করতে শুধু মশা নিধন করলেই হবে না, মশার বংশবিস্তারের পরিবেশও বন্ধ করতে হবে। এজন্য কটেজ ও মেসের আশপাশে পানি জমে থাকা, অপরিচ্ছন্ন জায়গা ও মশার প্রজননের সম্ভাব্য স্থানগুলোর বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের সচেতন থাকতে হবে।
এ সময় শিক্ষার্থীদের নিজেদের বসবাসের আশপাশের পরিবেশ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখার পাশাপাশি কোথাও যেন পানি জমে না থাকে, সেদিকে বিশেষভাবে নজর দেওয়ার অনুরোধ জানানো হয়। পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের বসবাসের অন্যান্য মেস ও কটেজ এলাকাতেও পর্যায়ক্রমে মশা নিধন কার্যক্রম পরিচালনার কথা জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।


























