Dhaka , Monday, 2 November 2026
নিবন্ধন নাম্বারঃ ১১০, সিরিয়াল নাম্বারঃ ১৫৪, কোড নাম্বারঃ ৯২
শিরোনাম ::
ধর্মপাশায় বোরো জমির মালিকানা নিয়ে দুই পক্ষের সংঘর্ষে আহত ৫ নোয়াখালীতে ছাত্রদলের নবগঠিত কমিটির আনন্দ শোভাযাত্রা ছেলেকে নিয়ে হ্যালোইন উৎসবে শাবনূর জাতীয় যুব দিবসে ঠাকুরগাঁওয়ে শ্রেষ্ঠ যুব সম্মাননা পেলেন অক্সিজেন এর প্রতিষ্ঠাতা ইমন কবে দলে ফিরতে পারেন দিবালা, জানালেন রোমা কোচ গাজীপুরে ন্যূনতম মজুরি ৩০ হাজারের দাবিতে শ্রমিক বিক্ষোভ, ভাংচুর-আগ্নসংযোগ কালিয়াকৈরে শ্রমিক আন্দোলনের প্রায় ৭ ঘন্টা পর ঢাকা টাঙ্গাইল মহাসড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক ‎গাইবান্ধার সাঘাটায় ভূমি কর্মকর্তার অপসারণে বিক্ষোভ ও মানববন্ধন ভাঙ্গায় সরকারি জমি দখলমুক্ত করতে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ দীঘিনালায় অগ্নিকাণ্ডের ঝুঁকি মোকাবিলায় সেনাবাহিনী ও ফায়ার সার্ভিসের মহড়া সাভার-আশুলিয়ায় শ্রমিক অসন্তোষ, ৪৮ কারখানায় সাধারণ ছুটি মৌলভীবাজারে এনপিবি নিউজের ১ম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপিত রাজনগরে জাতীয় যুব দিবস পালিত, ১২ যুবক-যুবতী পেলেন ১২ লাখ ৬০ হাজার টাকা জেন-জি বিক্ষোভে উত্তাল জার্মানি, চ্যান্সেলরের পদত্যাগ দাবি রাত ৯টা পর্যন্ত শপিংমল খোলা রাখার দাবি রূপগঞ্জ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ময়লা অপসারণ শুরু, স্বস্তিতে রোগী ও স্বজনরা সাজিনাজ হাসপাতাল ও রেডিসন ব্লু চট্টগ্রামের মধ্যে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর টাকার লোভে আ.লীগ নেতাদের আশ্রয় দিচ্ছে বিএনপির কিছু লোক: মির্জা আব্বাস কালিয়াকৈরে শ্রমিক আন্দোলনে ঝুটের গোডাউনে আগুনের ঘটনা ঘটে নগরবাসীর দুর্ভোগ লাঘবে দ্রুত কাজ শেষ করার নির্দেশ প্রশাসক ডা. শাহাদাতের রাজধানীতে ট্রাফিক আইন লঙ্ঘনে ২৪ ঘণ্টায় ১,৮১০ মামলা, ডাম্পিং ৪৯৮ গাড়ি পাইকগাছায় জাতীয় যুব দিবস পালিত সাজেকের অবরোধ প্রত্যাহারের দাবিতে খাগড়াছড়ি-দীঘিনালা সড়কে পরিবহন শ্রমিকদের অবরোধ সংবাদপত্র ছেঁড়ার ব্যাখ্যা দিলেন রাশেদ খাঁন রূপগঞ্জে পাথরবোঝাই ট্রাক থেকে ৬৪২ বোতল ফেনসিডিল উদ্ধার, গ্রেপ্তার ২ মধুপুরে জাতীয় যুব দিবস পালিত, যুব ঋণের চেক ও সনদপত্র বিতরণ কালিয়াকৈরে থেমে থেমে চলছে শ্রমিক-পুলিশ সংঘর্ষ ১৫ কিলোমিটার জুড়ে আটকে আছে যানবাহন  দুর্গাপুরে লক্ষাধিক টাকার মালামালসহ এক তরুণ আটক ১৩৫ টন চালে ক্ষতিকর মাত্রায় অ্যাফ্লাটক্সিন পাওয়ার প্রতিবেদন নিয়ে শিপিং এজেন্টের আপত্তি নারায়ণগঞ্জে ডেঙ্গু প্রতিরোধে সব উপজেলায় একযোগে পরিচ্ছন্নতা অভিযান

ফুল নিতে নয়, দিতে গেলেন ডিসি জাহিদ

  • Reporter Name
  • আপডেট সময় : 08:16:43 pm, Tuesday, 6 October 2026
  • 36 বার পড়া হয়েছে

চট্টগ্রাম প্রতিনিধি,

সরকারি কর্মকর্তাদের ফুল দিয়ে স্বাগত জানানোর দৃশ্য পরিচিত। চট্টগ্রামে দেখা গেল উল্টো ছবি। ফুল নিতে নয়, ফুল দিতে গেলেন জেলা প্রশাসক। সঙ্গে সম্মাননা স্মারক।

যাঁদের কাছে গেলেন, তাঁরা কোনো পদস্থ কর্মকর্তা বা বিশিষ্ট ব্যক্তি নন। তাঁরা চট্টগ্রাম জেলা ক্রীড়া সংস্থার (সিজেকেএস) শপিং কমপ্লেক্সের ব্যবসায়ী। প্রায় এক যুগ ধরে জমে থাকা বিপুল পরিমাণ ময়লা-আবর্জনা নিজেদের উদ্যোগে সরিয়েছেন তাঁরা।

সেই কাজের স্বীকৃতি দিতেই মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) সিজেকেএস শপিং কমপ্লেক্সে হাজির হন চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক ও সিজেকেএসের সভাপতি মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা। ব্যবসায়ী নেতাদের হাতে তুলে দেন ফুল ও সম্মাননা স্মারক।

জেলা প্রশাসকের ভাষায়, ‘জেলা প্রশাসন শুধু ফুল নেয় না, ফুলও দেয়।’

চট্টগ্রাম নগরের কাজীর দেউড়িতে এম এ আজিজ স্টেডিয়ামসংলগ্ন সিজেকেএস শপিং কমপ্লেক্স। গুরুত্বপূর্ণ এই এলাকায় বছরের পর বছর জমতে থাকে ময়লা-আবর্জনা ও নির্মাণবর্জ্য। একপর্যায়ে তা বড় স্তূপে পরিণত হয়।

জেলা প্রশাসনের হিসাবে, সেখানে জমেছিল আনুমানিক ২০০ থেকে ২৫০ ট্রাক বর্জ্য। ব্যবসায়ীদের ভাষ্য, ১২ থেকে ১৩ বছর ধরে জমেছিল এসব আবর্জনা।

বর্জ্যের স্তূপে দুর্গন্ধ ও অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ তৈরির পাশাপাশি মানুষের চলাচলেও বাধা সৃষ্টি হচ্ছিল। ছিল মশার প্রজনন ও অগ্নিকাণ্ডের ঝুঁকিও। জেলা প্রশাসক বলেন, বর্জ্যের মধ্যে দাহ্য পদার্থ থাকায় আগুন লাগলে পাশের মার্কেট ও স্টেডিয়ামও ঝুঁকিতে পড়তে পারত।

যেভাবে সরল এক যুগের জঞ্জাল

‘পরিচ্ছন্ন করি নগর-গ্রাম, গড়ি নান্দনিক চট্টগ্রাম’ স্লোগানে জেলাজুড়ে পরিচ্ছন্নতা ও সৌন্দর্যবর্ধনের কার্যক্রম চালাচ্ছে চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসন। ডেঙ্গুর প্রাদুর্ভাবের মধ্যে এ কার্যক্রম আরও জোরদার করা হয়।

জেলা প্রশাসকের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, প্রায় দুই হাজার মসজিদে একযোগে পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম চালানো হয়েছে। ডেঙ্গুর হটস্পট হিসেবে চিহ্নিত সীতাকুণ্ডে বিশেষ কর্মসূচির পর কর্ণফুলীতেও একই ধরনের কার্যক্রম নেওয়া হয়।

এরই ধারাবাহিকতায় নজরে আসে সিজেকেএস শপিং কমপ্লেক্সের বর্জ্যের স্তূপ।

গত ২৮ সেপ্টেম্বর সিজেকেএসের অ্যাডহক কমিটির সভায় বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয়। জেলা প্রশাসনের আহ্বানে সাড়া দিয়ে শপিং কমপ্লেক্স দোকান মালিক ও ব্যবসায়ী সমিতি নিজেদের উদ্যোগে বর্জ্য অপসারণ শুরু করে। কয়েক দিনের মধ্যেই সরানো হয় এক যুগ ধরে জমে থাকা জঞ্জাল।

দোকান মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক কামাল হোসেন বলেন, নতুন কমিটি দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই জায়গাটি পরিষ্কার করার পরিকল্পনা ছিল তাঁদের। জেলা প্রশাসনের উৎসাহ ও সহযোগিতা পাওয়ার পর তাঁরা কাজে নামেন।

তবে কাজের স্বীকৃতি দিতে জেলা প্রশাসক নিজেই ফুল নিয়ে আসবেন, তা ভাবেননি কামাল।

তিনি বলেন, ‘ডিসি মহোদয় নিজে এসে আমাদের ধন্যবাদ জানাবেন, ফুল দিয়ে উৎসাহিত করবেন—এটা ভাবিনি। তাঁর এই স্বীকৃতি আমাদের উৎসাহিত করেছে।’

সমিতির সভাপতি মুকলেসুর রহমান বলেন, কোনো কিছু পাওয়ার আশায় তাঁরা কাজটি করেননি। মানুষের কল্যাণের কথা ভেবেই উদ্যোগটি নিয়েছেন। জেলা প্রশাসকের স্বীকৃতি তাঁদের জন্য বড় প্রাপ্তি।

চট্টগ্রাম জেলা ক্রীড়া সংস্থার সদস্যসচিব মোহাম্মদ সালাউদ্দিনও ঘটনাটিকে ব্যতিক্রমী বলছেন।

তিনি বলেন, ‘সাধারণত কোনো কর্মকর্তা এলে তাঁকে ফুল দিয়ে স্বাগত জানানো হয়। এখানে ডিসি সাহেব নিজেই এসে যাঁরা কাজটি করেছেন, তাঁদের ফুল দিয়ে অভিনন্দন জানিয়েছেন। এমন ঘটনা আমি আগে দেখিনি।’

‘জেলা প্রশাসন শুধু ফুল নেয় না, ফুল দেয়’

ব্যবসায়ীদের সম্মাননা দেওয়ার কারণ ব্যাখ্যা করে জেলা প্রশাসক জাহিদুল ইসলাম বলেন, শহর বদলাতে শুধু প্রশাসনিক নির্দেশ যথেষ্ট নয়; নাগরিকদের মধ্যেও দায়িত্ববোধ তৈরি হতে হবে।

তিনি বলেন, ‘জেলা প্রশাসন শুধু ফুল নেয় না, জেলা প্রশাসন ফুল দেয়। আমরা তাঁদের হাতে আজ ফুল দিয়েছি। ভালো কাজের জন্য স্মারক উপহার দিয়েছি।’

শহরের প্রাণকেন্দ্র থেকে ২০০ থেকে ২৫০ ট্রাক বর্জ্য সরানো সহজ কাজ ছিল না উল্লেখ করে জেলা প্রশাসক বলেন, ‘হয়তো এই ফুল সামান্য। কিন্তু তাঁদের প্রতি আমার যে ভালোবাসা, যে সম্মান—সেটা অনেক বড়। সেই সম্মান দেখাতেই আজ তাঁদের কাছে এসেছি।’

কাজটি নিজের সরকারি চাকরিজীবনের স্মরণীয় ঘটনাগুলোর একটি হয়ে থাকবে বলেও জানান তিনি।

জাহিদুল ইসলাম বলেন, ‘আমরা যারা সরকারি চাকরি করি, চাকরিজীবনের কিছু কাজ স্মৃতিকোঠায় থেকে যায়। সুন্দর একটি স্টেডিয়াম ও মার্কেটের পাশে ১২ বছর ধরে জমে থাকা ২০০ থেকে ২৫০ ট্রাক ময়লার স্তূপ অপসারণ—আমার মনে হয়, এই কাজটি আমার স্মৃতিতে থেকে যাবে।’

আবর্জনার জায়গায় হবে বাগান

বর্জ্য সরিয়েই কাজ শেষ হচ্ছে না। এত দিন আবর্জনার স্তূপে ঢাকা জায়গাটি এবার সাজানোর পরিকল্পনা করেছে জেলা প্রশাসন।

জেলা প্রশাসক জানান, সেখানে বাগান করা হবে। থাকবে বসার জায়গা ও পানির ব্যবস্থা। এলাকাটি সৌন্দর্যবর্ধনের আওতায় আনা হবে।

আবার যেন সেখানে ময়লা না জমে, সে জন্য বসানো হবে সিসিটিভি ক্যামেরা। কেউ অবৈধভাবে ময়লা ফেললে ফুটেজ দেখে শনাক্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান জেলা প্রশাসক।

তিনি বলেন, ‘এখানে কোনো ছাড় আমি দেব না।’

প্রায় এক যুগ ধরে জমে থাকা আবর্জনা সরেছে কয়েক দিনে। যে জায়গায় ছিল ময়লার স্তূপ, সেখানে এখন বাগান করার পরিকল্পনা চলছে।

আর যে প্রশাসন সাধারণত ফুল গ্রহণ করে, এবার সেই প্রশাসনই ফুল নিয়ে গেছে নাগরিকের কাছে—ভালো কাজের স্বীকৃতি দিতে।

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

ধর্মপাশায় বোরো জমির মালিকানা নিয়ে দুই পক্ষের সংঘর্ষে আহত ৫

ফুল নিতে নয়, দিতে গেলেন ডিসি জাহিদ

আপডেট সময় : 08:16:43 pm, Tuesday, 6 October 2026

চট্টগ্রাম প্রতিনিধি,

সরকারি কর্মকর্তাদের ফুল দিয়ে স্বাগত জানানোর দৃশ্য পরিচিত। চট্টগ্রামে দেখা গেল উল্টো ছবি। ফুল নিতে নয়, ফুল দিতে গেলেন জেলা প্রশাসক। সঙ্গে সম্মাননা স্মারক।

যাঁদের কাছে গেলেন, তাঁরা কোনো পদস্থ কর্মকর্তা বা বিশিষ্ট ব্যক্তি নন। তাঁরা চট্টগ্রাম জেলা ক্রীড়া সংস্থার (সিজেকেএস) শপিং কমপ্লেক্সের ব্যবসায়ী। প্রায় এক যুগ ধরে জমে থাকা বিপুল পরিমাণ ময়লা-আবর্জনা নিজেদের উদ্যোগে সরিয়েছেন তাঁরা।

সেই কাজের স্বীকৃতি দিতেই মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) সিজেকেএস শপিং কমপ্লেক্সে হাজির হন চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক ও সিজেকেএসের সভাপতি মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা। ব্যবসায়ী নেতাদের হাতে তুলে দেন ফুল ও সম্মাননা স্মারক।

জেলা প্রশাসকের ভাষায়, ‘জেলা প্রশাসন শুধু ফুল নেয় না, ফুলও দেয়।’

চট্টগ্রাম নগরের কাজীর দেউড়িতে এম এ আজিজ স্টেডিয়ামসংলগ্ন সিজেকেএস শপিং কমপ্লেক্স। গুরুত্বপূর্ণ এই এলাকায় বছরের পর বছর জমতে থাকে ময়লা-আবর্জনা ও নির্মাণবর্জ্য। একপর্যায়ে তা বড় স্তূপে পরিণত হয়।

জেলা প্রশাসনের হিসাবে, সেখানে জমেছিল আনুমানিক ২০০ থেকে ২৫০ ট্রাক বর্জ্য। ব্যবসায়ীদের ভাষ্য, ১২ থেকে ১৩ বছর ধরে জমেছিল এসব আবর্জনা।

বর্জ্যের স্তূপে দুর্গন্ধ ও অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ তৈরির পাশাপাশি মানুষের চলাচলেও বাধা সৃষ্টি হচ্ছিল। ছিল মশার প্রজনন ও অগ্নিকাণ্ডের ঝুঁকিও। জেলা প্রশাসক বলেন, বর্জ্যের মধ্যে দাহ্য পদার্থ থাকায় আগুন লাগলে পাশের মার্কেট ও স্টেডিয়ামও ঝুঁকিতে পড়তে পারত।

যেভাবে সরল এক যুগের জঞ্জাল

‘পরিচ্ছন্ন করি নগর-গ্রাম, গড়ি নান্দনিক চট্টগ্রাম’ স্লোগানে জেলাজুড়ে পরিচ্ছন্নতা ও সৌন্দর্যবর্ধনের কার্যক্রম চালাচ্ছে চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসন। ডেঙ্গুর প্রাদুর্ভাবের মধ্যে এ কার্যক্রম আরও জোরদার করা হয়।

জেলা প্রশাসকের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, প্রায় দুই হাজার মসজিদে একযোগে পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম চালানো হয়েছে। ডেঙ্গুর হটস্পট হিসেবে চিহ্নিত সীতাকুণ্ডে বিশেষ কর্মসূচির পর কর্ণফুলীতেও একই ধরনের কার্যক্রম নেওয়া হয়।

এরই ধারাবাহিকতায় নজরে আসে সিজেকেএস শপিং কমপ্লেক্সের বর্জ্যের স্তূপ।

গত ২৮ সেপ্টেম্বর সিজেকেএসের অ্যাডহক কমিটির সভায় বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয়। জেলা প্রশাসনের আহ্বানে সাড়া দিয়ে শপিং কমপ্লেক্স দোকান মালিক ও ব্যবসায়ী সমিতি নিজেদের উদ্যোগে বর্জ্য অপসারণ শুরু করে। কয়েক দিনের মধ্যেই সরানো হয় এক যুগ ধরে জমে থাকা জঞ্জাল।

দোকান মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক কামাল হোসেন বলেন, নতুন কমিটি দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই জায়গাটি পরিষ্কার করার পরিকল্পনা ছিল তাঁদের। জেলা প্রশাসনের উৎসাহ ও সহযোগিতা পাওয়ার পর তাঁরা কাজে নামেন।

তবে কাজের স্বীকৃতি দিতে জেলা প্রশাসক নিজেই ফুল নিয়ে আসবেন, তা ভাবেননি কামাল।

তিনি বলেন, ‘ডিসি মহোদয় নিজে এসে আমাদের ধন্যবাদ জানাবেন, ফুল দিয়ে উৎসাহিত করবেন—এটা ভাবিনি। তাঁর এই স্বীকৃতি আমাদের উৎসাহিত করেছে।’

সমিতির সভাপতি মুকলেসুর রহমান বলেন, কোনো কিছু পাওয়ার আশায় তাঁরা কাজটি করেননি। মানুষের কল্যাণের কথা ভেবেই উদ্যোগটি নিয়েছেন। জেলা প্রশাসকের স্বীকৃতি তাঁদের জন্য বড় প্রাপ্তি।

চট্টগ্রাম জেলা ক্রীড়া সংস্থার সদস্যসচিব মোহাম্মদ সালাউদ্দিনও ঘটনাটিকে ব্যতিক্রমী বলছেন।

তিনি বলেন, ‘সাধারণত কোনো কর্মকর্তা এলে তাঁকে ফুল দিয়ে স্বাগত জানানো হয়। এখানে ডিসি সাহেব নিজেই এসে যাঁরা কাজটি করেছেন, তাঁদের ফুল দিয়ে অভিনন্দন জানিয়েছেন। এমন ঘটনা আমি আগে দেখিনি।’

‘জেলা প্রশাসন শুধু ফুল নেয় না, ফুল দেয়’

ব্যবসায়ীদের সম্মাননা দেওয়ার কারণ ব্যাখ্যা করে জেলা প্রশাসক জাহিদুল ইসলাম বলেন, শহর বদলাতে শুধু প্রশাসনিক নির্দেশ যথেষ্ট নয়; নাগরিকদের মধ্যেও দায়িত্ববোধ তৈরি হতে হবে।

তিনি বলেন, ‘জেলা প্রশাসন শুধু ফুল নেয় না, জেলা প্রশাসন ফুল দেয়। আমরা তাঁদের হাতে আজ ফুল দিয়েছি। ভালো কাজের জন্য স্মারক উপহার দিয়েছি।’

শহরের প্রাণকেন্দ্র থেকে ২০০ থেকে ২৫০ ট্রাক বর্জ্য সরানো সহজ কাজ ছিল না উল্লেখ করে জেলা প্রশাসক বলেন, ‘হয়তো এই ফুল সামান্য। কিন্তু তাঁদের প্রতি আমার যে ভালোবাসা, যে সম্মান—সেটা অনেক বড়। সেই সম্মান দেখাতেই আজ তাঁদের কাছে এসেছি।’

কাজটি নিজের সরকারি চাকরিজীবনের স্মরণীয় ঘটনাগুলোর একটি হয়ে থাকবে বলেও জানান তিনি।

জাহিদুল ইসলাম বলেন, ‘আমরা যারা সরকারি চাকরি করি, চাকরিজীবনের কিছু কাজ স্মৃতিকোঠায় থেকে যায়। সুন্দর একটি স্টেডিয়াম ও মার্কেটের পাশে ১২ বছর ধরে জমে থাকা ২০০ থেকে ২৫০ ট্রাক ময়লার স্তূপ অপসারণ—আমার মনে হয়, এই কাজটি আমার স্মৃতিতে থেকে যাবে।’

আবর্জনার জায়গায় হবে বাগান

বর্জ্য সরিয়েই কাজ শেষ হচ্ছে না। এত দিন আবর্জনার স্তূপে ঢাকা জায়গাটি এবার সাজানোর পরিকল্পনা করেছে জেলা প্রশাসন।

জেলা প্রশাসক জানান, সেখানে বাগান করা হবে। থাকবে বসার জায়গা ও পানির ব্যবস্থা। এলাকাটি সৌন্দর্যবর্ধনের আওতায় আনা হবে।

আবার যেন সেখানে ময়লা না জমে, সে জন্য বসানো হবে সিসিটিভি ক্যামেরা। কেউ অবৈধভাবে ময়লা ফেললে ফুটেজ দেখে শনাক্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান জেলা প্রশাসক।

তিনি বলেন, ‘এখানে কোনো ছাড় আমি দেব না।’

প্রায় এক যুগ ধরে জমে থাকা আবর্জনা সরেছে কয়েক দিনে। যে জায়গায় ছিল ময়লার স্তূপ, সেখানে এখন বাগান করার পরিকল্পনা চলছে।

আর যে প্রশাসন সাধারণত ফুল গ্রহণ করে, এবার সেই প্রশাসনই ফুল নিয়ে গেছে নাগরিকের কাছে—ভালো কাজের স্বীকৃতি দিতে।