
তৌহিদুল ইসলাম চঞ্চল,
বাঙালির হাজার বছরের আবহমান ঐতিহ্য ও গ্রামীণ লোকসংস্কৃতির অন্যতম প্রাচীন অনুষঙ্গ পুতুল নাচকে আধুনিক প্রজন্মের সামনে বাঁচিয়ে রাখার এক মহতী উদ্যোগ দেখা গেল সীমান্তঘেঁষা জেলা লালমনিরহাটে। অপসংস্কৃতির বিস্তার ও তথ্যপ্রযুক্তির আগ্রাসনে যখন গ্রামীণ ঐতিহ্যগুলো একে একে হারিয়ে যাচ্ছে, ঠিক তখনই লালমনিরহাটে পরিবেশিত হলো মনকাড়া ঐতিহ্যবাহী পুতুল নাচ প্রদর্শনী।
‘দি নিউ কাজলী অপেরা পুতুল নাচ-২০২৬’ শিরোনামের এই বর্ণাঢ্য আয়োজন স্থানীয় সাংস্কৃতিক আঙিনা ও সাধারণ দর্শকের মাঝে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে।
ঐতিহ্যবাহী ও বর্ণিল এই পরিবেশনার সার্বিক পরিচালনায় ছিলেন কাজলী বেগম এবং সহকারী পরিচালনায় যুক্ত ছিলেন মোঃ রফিকুল ইসলাম কাজী। লোকসংস্কৃতির বিশুদ্ধ ধারা অক্ষুণ্ণ রেখে সামাজিক সচেতনতা ও নির্মল বিনোদনমূলক নানা গল্পের সংমিশ্রণে পরিবেশিত এই পুতুল নাচ দেখতে নারী, পুরুষ ও শিশুসহ সর্বস্তরের বিভিন্ন বয়সী দর্শকের উপচে পড়া ভিড় লক্ষ্য করা যায়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন লালমনিরহাট জেলা শিল্পকলা একাডেমির জেলা কালচারাল অফিসার মোঃ হামিদুর রহমান। প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন, “বর্তমান ডিজিটাল যুগে আমাদের নিজস্ব শেকড়ের ঐতিহ্য ও লোকসংস্কৃতিগুলোকে টিকিয়ে রাখা একটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। লোকশিল্পীদের পৃষ্ঠপোষকতা না থাকায় পুতুল নাচের মতো মাধ্যমগুলো বিলুপ্তির পথে। এমন বাস্তবতায় ‘দি নিউ কাজলী অপেরা পুতুল নাচ’ দল যে উদ্যোগ নিয়েছে, তা অত্যন্ত সময়োপযোগী ও প্রশংসনীয়। আবহমান বাংলার এই প্রাচীন শিল্পকর্ম রক্ষায় সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠানসহ সমাজের সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে।”
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন লালমনিরহাট জেলা জাতীয়তাবাদী সামাজিক সাংস্কৃতিক সংস্থা (জাসাস)-এর আহ্বায়ক সামসুদ্দোহা বাবু। তিনি নিজস্ব সংস্কৃতি চর্চা ও লোকঐতিহ্য ধরে রাখতে প্রান্তিক শিল্পীদের এমন নিরলস প্রচেষ্টাকে আন্তরিক সাধুবাদ জানান।
আয়োজনে অংশ নেওয়া সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব ও স্থানীয় সুধীজনেরা অভিমত ব্যক্ত করে বলেন, প্রযুক্তিনির্ভর যুগে তরুণ প্রজন্মকে সুস্থ বিনোদন দেওয়া এবং দেশীয় লোকশিল্পের ঐতিহ্যকে বাঁচিয়ে রাখতে পুতুল নাচের মতো আয়োজনগুলো নিয়মিত হওয়া প্রয়োজন। এই প্রদর্শনীতে আরও উপস্থিত ছিলেন ‘দি নিউ কাজলী অপেরা পুতুল নাচ’ দলের সক্রিয় সদস্য জাহানারা বেগম, কবরী বেগম, লাভলী বেগম, নুর জাহান, ছোট নুর জাহান টুলটুলি, রাশেদা বেগম, সামেনা বেগম, অমেনা বেগম, লাইলি বেগম, নুর আলম, মোঃ মোজাম্মেল এবং গানের মাস্টার মন্টুসহ সংগঠনের কলাকুশলীবৃন্দ।

























