
ইসরাত জাহান প্রিয়ানা, নিউট্রিশন এন্ড ডায়েট কনসালটেন্ট,
বর্তমানে অনেকের মধ্যেই ত্বকে চুলকানি, একজিমা, সোরিয়াসিস, ব্রণসহ বিভিন্ন ধরনের চর্মরোগের সমস্যা দেখা যাচ্ছে। এসব সমস্যার পেছনে সাধারনত জেনেটিক কারণ, অ্যালার্জি ইস্যু, হরমোনাল পরিবর্তন, পরিবেশ ও জীবনযাত্রা,ফ্রী রেডিকেলের প্রভাব,অতিবেগুনি রশ্মির পাশাপাশি খাদ্যাভ্যাসেরও ভূমিকা রয়েছে। বিশেষ করে অতিরিক্ত চিনি বা চিনিযুক্ত খাবার, রিফাইনড শর্করা, ফাস্ট ফুড, ডীপ ফ্রাই,অতিরিক্ত তৈলাক্ত খাবার ও আল্ট্রা প্রসেসড খাবার থেকে প্রতিনিয়ত প্যাকেটজাত খাবার গ্রহণে শরীরে প্রদাহ ও অক্সিডেটিভ স্ট্রেস বাড়াতে থাকে। যা কিছু প্রদাহজনিত ত্বকের উপসর্গকে বাড়িয়ে দিতে ভূমিকা রাখে এবং প্রভাবিত করতে পারে।
তাই খাদ্যতালিকায় বিভিন্ন রঙের রঙিন শাকসবজি ও ফল, মাছ, মুরগি, বাদাম ও বীজ, ডাল, ছোলা, গোটা শস্য এবং পর্যাপ্ত আ্যন্টিঅক্সিডেন্ট সমৃদ্ধ খাবার (গ্রিন টি,বি পোলেন,বিটরুট,মধু,আদা,মাশরুম তথা নিউট্রাসিউটিকেলা)রাখা গুরুত্বপূর্ণ। এসব খাবার থেকে আন্থোসায়ানিন,লাইকোপেন,বিটা ক্যারোটিন,ক্লোরোফিল,ওমেগা-৩ ও ৬,ফাইবার,টকোফেরল,প্রিবায়োটিক পাওয়া যায় যা সামগ্রিকভাবে ত্বকের স্বাস্থ্য ও স্কিনের প্রতিরক্ষায় সহায়তা করে।
তবে রেড মিট(গরু,খাসির মাংস),ইলিশ মাছ,পুঁইশাক,চিংড়ি,বেগুন,মিষ্টি কুমড়া,দুধ সহ বেশ কিছু খাবার চুলকানি ও ত্বকে প্রদাহ বাড়াতে পারে।ব্যক্তিভেদে খাবারের সেন্সিটিভিটি ভিন্ন হয়।সবার ক্ষেত্রে সব খাবারের প্রভাব সমান হবে না।এজন্য একজন পুষ্টিবিদ বা ডায়েটিশিয়ান এর কনসালটেশন এর মাধ্যমে ফুড এলার্জি,ফুড হ্যাবিট বিবেচনা করে ব্যক্তির খাদ্য পরিকল্পনা তথা ডায়েট প্ল্যান করে নেয়া উত্তম।
অন্যদিকে অতিরিক্ত মিষ্টি, কোমল পানীয়, ফাস্ট ফুড, অতিরিক্ত ভাজাপোড়া, প্যাকেটজাত খাবার কমানো উচিত। তবে চর্মরোগ হলেই নির্দিষ্ট অনেক খাবার একেবারে বাদ দিতে হবে—এমন ধারণাও ঠিক নয়। কারও কোনো নির্দিষ্ট খাবারে ব্যক্তির এলার্জি বা সংবেদনশীলতা থাকলে চিকিৎসক ও পুষ্টিবিদের পরামর্শ অনুযায়ী সেটি শনাক্ত করে প্রয়োজন হলে বাদ দিতে হবে। তবে অপ্রয়োজনীয়ভাবে অনেক খাবার বাদ দিলে পুষ্টি ঘাটতি হতে পারে।
তাই চর্মরোগের নিরাময়ের ক্ষেত্রে শুধু বাহ্যিক চিকিৎসা নয়, বরং রোগের ধরন অনুযায়ী সঠিক চিকিৎসার পাশাপাশি সুষম খাদ্যাভাস, পর্যাপ্ত পানি, ঘুম এবং স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন ইতিবাচক ভূমিকা আনতে গুরুত্বপূর্ণ।
এভার ড্রীম ফার্টিলিটি কেয়ার, ওয়ারী
হেমায়েতপুর সেন্ট্রাল হসপিটাল,সাভার

























