
মো মোসাদ্দেক হোসেন, ইবি প্রতিনিধি,
ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ও ইউজিসির গবেষনা ফান্ডের যথাযথ ব্যবহার সংক্রান্ত কমিটির সদস্য অধ্যাপক ড. এ কে এম মতিনুর রহমান বলেছেন, পূর্বে গবেষণাগুলো হতো এরকম যে আমরা একটি ফান্ড পেয়েছি, একটি পেপার প্রেজেন্ট করে সাবমিট করেছি এবং অর্থ নিয়েছি।অনেক সময় এই অর্থের ব্যবহার একটি গতানুগতিক বরাদ্দের মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল। কিন্তু এখন আমরা যে বিষয়টির ওপর বেশি গুরুত্ব দিচ্ছি তা হলো, গবেষনা ফান্ড পেতে; গবেষণালব্ধ জ্ঞান যেন দেশীয় ও আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত নূন্যতম কিউ-৩ জার্নালে প্রকাশিত হয় সে বিষয়ে প্রাথমিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
মঙ্গলবার ( ২৫ আগস্ট) ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ভবনের কনফারেন্স রুমে ইউজিসি কর্তৃক আয়োজিত ‘হিট’ প্রজেক্ট নিয়ে প্রায় ৭৫ জন উপাচার্যকে কেন্দ্র করে ‘ভাইস-চ্যান্সেলর ডায়লগ’ সম্পর্কিত সংবাদ সম্মেলনে উপাচার্য এমন মন্তব্য করেন।
এসময় উপাচার্য অধ্যাপক ড এ কে এম মতিনুর রহমান বলেন, সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের পাশাপাশি প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়েও বড় ভলিউমের একটি অর্থ বরাদ্দ রয়েছে, আমি নির্দিষ্ট অর্থের পরিমাণটি উল্লেখ করলাম না। এই অর্থটিকে যথাযথভাবে ব্যবহার করার ক্ষেত্রে বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি সুশাসন (Governance) থাকা প্রয়োজন, যেন ফান্ডের সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত হয়। সেই লক্ষ্যে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশন (ইউজিসি) আমাদের কিছু গাইডলাইন দিয়েছেন। আমরাও আমাদের জায়গা থেকে কিছু সীমাবদ্ধতার কথা উল্লেখ করেছি। আমি মনে করি, এই গবেষণার ক্ষেত্রে আমরা শিক্ষার্থীদেরও সম্পৃক্ত করতে চাই। গবেষণা মানে যেন শুধু পেপার সাবমিট করা না হয়। সেখানে পর্যাপ্ত গবেষণা ফান্ডের যেমন বরাদ্দ প্রয়োজন, পাশাপাশি আমরা এর যথাযথ ব্যবহারও চাই, যাতে এই গবেষণা থেকে আমরা একটি ভালো আউটপুট পেতে পারি।
পূর্বে গবেষণাগুলো যেমন হতো—আমরা একটি ফান্ড পেয়েছি, একটি পেপার প্রেজেন্ট করে সাবমিট করেছি এবং অর্থ নিয়েছি। অনেক সময় এই অর্থের ব্যবহার একটি গতানুগতিক বরাদ্দের (Traditional allocation) মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল। কিন্তু এখন আমরা যে বিষয়টির ওপর বেশি গুরুত্ব দিচ্ছি তা হলো, গবেষণালব্ধ জ্ঞান যেন দেশীয় ও আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত জার্নালে প্রকাশিত হয়। এর মাধ্যমে জাতি, দেশের মানুষ, বুদ্ধিজীবী সমাজ এবং শিক্ষার্থীরা যেন উপকৃত হতে পারে। গবেষণার মাধ্যমে কী সমস্যা চিহ্নিত করলাম বা কী ফলাফল বের করে আনলাম, সেটির ওপরই বেশি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। আমরা এই জায়গাটিতে স্বচ্ছ থাকার চেষ্টা করেছি এবং আমরা মনে করি এখানে আরও বেশি স্বচ্ছতা থাকা উচিত। আপনারা জানেন, বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশন এবং সকল বিশ্ববিদ্যালয় মিলে যে প্রজেক্টটি করছে, সেখানে এখনো বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর জন্য কোনো বরাদ্দ আসেনি। তবে গবেষণা ফান্ডের যথাযথ ব্যবহারের জন্য সেখানে একটি ছোট কমিটি গঠন করা হয়েছে। সৌভাগ্যক্রমে পাঁচ সদস্য বিশিষ্ট ওই কমিটির আমি একজন সদস্য। আমরা ইতোমধ্যে দুই দফা মিটিং করেছি এবং আশা করছি খুব শিগগিরই এ ব্যাপারে একটি চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসবে। যার পরিপ্রেক্ষিতে ইনশাআল্লাহ আমরা এই বরাদ্দটি পাব।
যখন আমরা এই বরাদ্দটি পাব, তখন এর যথাযথ ব্যবহার এবং মানসম্মত গবেষণা নিশ্চিত করার জন্য আমরা নিশ্চয়ই একটি নীতিমালা প্রণয়ন করব। যারা এই নীতিমালার আওতায় আসবেন, কেবল তারাই এই গবেষণা ফান্ডটি পাবেন। গবেষণা কর্ম সম্পন্ন করার পর তা যেন অন্তত আন্তর্জাতিক মানের জার্নালে—যেমন Q1, Q2 বা ন্যূনতম Q3 জার্নালে প্রকাশিত হয়, ইউজিসির সাথে মিলে প্রাথমিকভাবে আমরা এমন একটি সিদ্ধান্ত নিয়েছি। এর মধ্যে আরও অনেকগুলো মানদণ্ড রয়েছে, আমি শুধু একটির কথা উল্লেখ করলাম। আশা করি, এর মধ্য দিয়ে আমরা মানসম্মত গবেষণা পাব। শিক্ষকরাও গবেষণার ব্যাপারে আরও অনেক বেশি আগ্রহী হবেন এবং আমার মনে হয় গবেষণার পরিধি আরও বৃদ্ধি পাবে।

























