
মোঃ আসিফুজ্জামান আসিফ,
ভারতে পালিয়ে থাকা অন্য অপরাধীদেরও ফেরত চায় বাংলাদেশ, জাতীয় স্বার্থে ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক: হুমায়ুন কবির
নবনিযুক্ত পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির বলেছেন, সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা একজন ‘টেররিস্ট’। দেড় হাজার মানুষ হত্যার পর তিনি ভারতে পালিয়ে গেছেন। শুধু শেখ হাসিনাই নন, বাংলাদেশে অপরাধ করে আরও যারা ভারতে পালিয়ে আছেন, তাদেরও দেশে ফিরিয়ে আনার বিষয়ে ভারতের সঙ্গে আলোচনা করা হবে।
শনিবার সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এসব কথা বলেন নবনিযুক্ত পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী।
হুমায়ুন কবির বলেন, “শেখ হাসিনাকে ফেরত চাওয়া বাংলাদেশের মানুষের স্বাভাবিক দাবি। এটা বাংলাদেশের মানুষের সেন্টিমেন্টের দাবি। আমরা সেই প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে ভারতের সঙ্গে এনগেজ করব।”
ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্কের বিষয়ে তিনি বলেন, ভারত বাংলাদেশের প্রতিবেশী দেশ। বাংলাদেশের পক্ষ থেকে ভারতের সঙ্গে ইতিবাচক ও কার্যকর সম্পর্ক বজায় রাখার চেষ্টা থাকবে। তবে কোনো দেশের সঙ্গে সম্পর্কের ক্ষেত্রে বাংলাদেশের জাতীয় স্বার্থের সঙ্গে কোনো ধরনের আপস করা হবে না।
তিনি বলেন, “উই ওয়ান্ট টু হ্যাভ এ পজিটিভ রিলেশনশিপ উইথ ইন্ডিয়া। তারা আমাদের প্রতিবেশী। আমাদের একটি ওয়ার্কিং রিলেশনশিপ দরকার। তবে জাতীয় স্বার্থ শুধু ভারতের ক্ষেত্রে নয়, কোনো দেশের সঙ্গেই আমরা কম্প্রোমাইজ করে কিছু করতে পারি না।”
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, জাতীয় স্বার্থকে সামনে রেখে ঐকমত্যের ভিত্তিতে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। ভারত সফরের সম্ভাবনা নিয়েও তিনি কথা বলেন।
তিনি বলেন, “কালকের মধ্যে যদি আমরা প্রস্তুতি নিতে পারি, তাহলে আগামী সপ্তাহেই ভারত সফর হতে পারে। এখানে কোনো রাশ নেই। আলাপ-আলোচনার বিষয় আছে, গ্রাউন্ডওয়ার্ক করার বিষয় আছে।”
তবে এ ধরনের রাষ্ট্রীয় সফর হুট করে করা সম্ভব নয় উল্লেখ করে হুমায়ুন কবির বলেন, একজন প্রধানমন্ত্রী থেকে আরেকজন প্রধানমন্ত্রীর সফরের মতো বিষয়েও যথাযথ প্রস্তুতি, আলোচনা ও গ্রাউন্ডওয়ার্ক প্রয়োজন।
‘শেখ হাসিনার বক্তব্য মানুষের সেন্টিমেন্ট আরও কঠোর করেছে’
শেখ হাসিনার সাম্প্রতিক সংবাদ সম্মেলনের প্রসঙ্গ টেনে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, তার বক্তব্যের মাধ্যমে বাংলাদেশের মানুষের সেন্টিমেন্ট আরও কঠোর হয়েছে।
তিনি বলেন, “শেখ হাসিনার প্রেস কনফারেন্সের মাধ্যমে মানুষের সেন্টিমেন্ট হার্ড করেছে। আর আমরা জাতীয় স্বার্থের ভিত্তিতেই নেক্সটে যাব।”
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক গুরুত্বপূর্ণ হলেও দেশের মানুষের স্বার্থ ও জাতীয় স্বার্থই সরকারের কাছে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার পাবে। এ বিষয়গুলো নিয়ে ভারতের সঙ্গে আলোচনা ও কূটনৈতিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
এ সময় নবনিযুক্ত অন্যান্য মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীরাও উপস্থিত ছিলেন।


























