
চট্টগ্রাম ব্যুরো:
চট্টগ্রাম সদর সাব-রেজিস্ট্রি কার্যালয়ের অফিস সহকারী মাহফুজুর রহমানের বিরুদ্ধে সরকারি ফি-এর বাইরে অতিরিক্ত অর্থ আদায়, ঘুষ গ্রহণের। শুধু তাই নয়, ভূমি দলিল নিবন্ধনের সময় নানা ধরনের জটিলতা তৈরি করতেন তিনি। তার বিরুদ্ধে মামলা হয়েছিল দুর্নীতি দমন কমিশনেও (দুদক)।
এসব অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে মাহফুজুর রহমানকে বদলির সুপারিশ করেছিলেন চট্টগ্রাম জেলা রেজিস্ট্রার। তবে সুপারিশের প্রায় দুই মাস পার হলেও তা কার্যকর না হওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন অনেকে। এ ঘটনায় মানববন্ধন করেছেন ভুক্তভোগীরা।
শনিবার সকালে চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের সামনে ‘চট্টগ্রামের সচেতন নাগরিক ও ভুক্তভোগী জনসাধারণ’ এর ব্যানারে আয়োজিত মানববন্ধনে বক্তারা মাহফুজুর রহমানের বিরুদ্ধে
এ মানববন্ধন করা হয়। সাধারণ মানুষকে হয়রানি, অনিয়ম, দুর্নীতি ও ঘুষ-বাণিজ্যের অভিযোগ তুলেন ভুক্তভোগীরা। এসময় তার বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান। মানববন্ধনে মোহাম্মদ কাইয়ুম, মোহাম্মদ ইব্রাহিম, জাহাঙ্গীর আলম, মো. রুবেল ও মামুনুর রশীদসহ প্রায় ৫০ জন উপস্থিত ছিলেন।
দুদক সূত্রে জানা গেছে, ২০২৪ সালের ১ সেপ্টেম্বর নিজের স্ত্রীর নামে কোটি টাকার বেশি অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগের ভিত্তিতে মাহফুজুর রহমান ও তার স্ত্রী দিলুয়ারা মাহফুজের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন দুর্নীতি দমন কমিশনের সমন্বিত জেলা কার্যালয় চট্টগ্রাম-২ এর উপসহকারী পরিচালক মো. মিজানুর রহমান চৌধুরী। মামলায় মাহফুজুর রহমানের স্ত্রী দিলুয়ারা মাহফুজকে প্রধান আসামি করা হয়। তাদের বাড়ি চট্টগ্রামের পটিয়া উপজেলায়।
জানা গেছে, ২০২২ সালের ৪ জানুয়ারি জনৈক আবদুর রহিমের জাল-জালিয়াতির অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে নিজ দপ্তরের দেওয়া শোকজের জবাবে মাহফুজুর রহমান লিখিতভাবে জানান, ‘আমি আওয়ামী পরিবারের সন্তান। মহান মুক্তিযোদ্ধারা জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তান। আমার মরহুম পিতা মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন সময়ের একজন রণাঙ্গনের সৈনিক ছিলেন। দেশ স্বাধীন হওয়ার পর পটিয়া উপজেলাস্থ কালারপুল নামক স্থানে আমার পিতা প্রথম স্বাধীনতার প্রতীক নৌকা বানিয়ে এলাকার জনসাধারণকে সঙ্গে নিয়ে উত্তোলন করেন। সেই পরিবারের সন্তান কীভাবে জামায়াত-বিএনপি হয়?’ তিনি আরও দাবি করেন, অভিযোগকারীর আনা অভিযোগ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন।
৫ আগস্টের পর থেকে তিনি নিজেকে বিএনপির পরিচয় দিয়ে আসছেন। দুদকের মামলা চলমান থাকা অবস্থায়ও তাকে চট্টগ্রাম সদর সাব-রেজিস্ট্রি কার্যালয়ের মতো গুরুত্বপূর্ণ দপ্তরে পদায়ন করা হয়। এরপর থেকে তার বিরুদ্ধে লাগামহীন ঘুষ-বাণিজ্য, অনিয়ম ও সেবাগ্রহীতাদের হয়রানির অভিযোগ রয়েছে।
গত ৭ জুলাই চট্টগ্রাম জেলা রেজিস্ট্রার খন্দকার জামীলুর রহমানের সই করা এক অফিস আদেশে মো. মাহফুজুর রহমানকে চট্টগ্রাম সদর সাব-রেজিস্ট্রি কার্যালয় থেকে মিরসরাই সাব-রেজিস্ট্রি দপ্তরে পদায়নের সুপারিশ চেয়ে ঢাকার মহাপরিদর্শক নিবন্ধন বাংলাদেশ বরাবরে সুপারিশ করা হয়েছে। অদ্যাবধি এখনও বহাল তবিয়তে আছেন বলে জানা গেছে।
এই বিষয়ে মাহফুজুর রহমানের মুঠোফোনে কয়েকবার কল দেওয়া হলে সংযোগ পাওয়া যায়নি।

























