
বিনোদন ডেস্ক,
বলিউড তারকা আমির খানকে দেওয়া প্রাণনাশের হুমকির ঘটনায় নতুন তথ্য সামনে এসেছে। তদন্তে পুলিশ জানতে পেরেছে, হুমকির ফোনকল ও অডিও বার্তা পাঠাতে ব্যবহৃত আইপি অ্যাড্রেসের অবস্থান সুইডেন ও কানাডায়।
পুলিশ জানিয়েছে, কারাবন্দি গ্যাংস্টার লরেন্স বিষ্ণোইয়ের নাম ব্যবহার করে দেওয়া এসব হুমকি ‘ভয়েস ওভার ইন্টারনেট প্রোটোকল’ বা ভিওআইপি কলের মাধ্যমে করা হয়েছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করতে সংশ্লিষ্ট দেশের প্রযুক্তি প্ল্যাটফর্ম ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে বিস্তারিত তথ্য চেয়ে চিঠি পাঠানো হয়েছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও সাংবাদিকদের মধ্যে ছড়িয়ে পড়া একটি অডিও বার্তায় এক ব্যক্তি নিজেকে লরেন্স বিষ্ণোই গ্যাংয়ের সদস্য ‘আরজু বিষ্ণোই’ বলে পরিচয় দেন। সেখানে আমির খানের বিরুদ্ধে ‘লাভ জিহাদ’ প্রচারের অভিযোগ তুলে তাকে ভয়াবহ পরিণতির হুমকি দেওয়া হয়।
বার্তায় দাবি করা হয়, ভবিষ্যতে এমন ঘটনা ঠেকাতে আমির খান ও তার সহযোগীদের ওপর এমন হামলা চালানো হবে, যাতে তারা পরবর্তী সময়ে কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে ‘শতবার চিন্তা করতে বাধ্য হন’।
একজন জ্যেষ্ঠ পুলিশ কর্মকর্তা জানিয়েছেন, অডিও বার্তাটি ভারতে ছড়িয়ে পড়ার আগে সম্ভবত এনক্রিপ্টেড মেসেজিং অ্যাপ ‘সিগন্যাল’-এর মাধ্যমে পাঠানো হয়েছিল।
তবে হুমকির ঘটনায় আমির খানের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক অভিযোগ বা মামলা দায়ের করা হয়নি। তারপরও সাম্প্রতিক সময়ে বলিউডের একাধিক তারকাকে লরেন্স বিষ্ণোই গ্যাংয়ের নামে হুমকি দেওয়ার অভিযোগ থাকায় বিষয়টিকে গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করছে প্রশাসন।
এরই মধ্যে মুম্বাইয়ের বান্দ্রার পালি হিলে অবস্থিত আমির খানের বাসভবনের বাইরে নিরাপত্তা কয়েক গুণ বাড়ানো হয়েছে। হুমকির সময় অভিনেতা দেশের বাইরে থাকলেও সম্প্রতি তিনি ভারতে ফিরেছেন।
এখন প্রশ্ন—এই হুমকির পেছনে কারা রয়েছে? সত্যিই কি লরেন্স বিষ্ণোই গ্যাংয়ের কোনো সদস্য, নাকি গ্যাংটির নাম ব্যবহার করে অন্য কেউ আতঙ্ক ছড়ানোর চেষ্টা করছে? তদন্ত শেষে মিলতে পারে সেই উত্তর।

























