
কাজল খান,
নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিতকরণ, খাদ্যে ভেজাল প্রতিরোধ এবং জনসচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে মাদারীপুর পৌরসভার উদ্যোগে “নিরাপদ খাদ্য বিষয়ক সচেতনতামূলক কর্মশালা” অনুষ্ঠিত হয়েছে।
সোমবার (২৭ জুলাই) সকাল সাড়ে ১১টায় মাদারীপুর পৌরসভার সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত এ কর্মশালায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মাদারীপুরের জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মর্জিনা আক্তার।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন মাদারীপুর পৌরসভার প্রশাসক (উপসচিব) মোছাঃ জেসমিন আক্তার বানু। কর্মশালার মূখ্য আলোচক ছিলেন মাদারীপুর জেলা নিরাপদ খাদ্য কর্মকর্তা মোঃ রফিকুল ইসলাম।
কর্মশালায় নিরাপদ খাদ্য উৎপাদন, প্রক্রিয়াজাতকরণ, সংরক্ষণ, পরিবহন, বিপণন এবং ভোক্তা পর্যায়ে নিরাপদ খাদ্য গ্রহণ নিশ্চিত করার বিভিন্ন দিক নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়। পাশাপাশি খাদ্যে ভেজাল, ক্ষতিকর রাসায়নিক, ফরমালিন ও কৃত্রিম রঙের অপব্যবহার, অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে খাদ্য প্রস্তুত ও সংরক্ষণ এবং মেয়াদোত্তীর্ণ খাদ্য বিক্রির কারণে জনস্বাস্থ্যের ওপর যে বিরূপ প্রভাব পড়ছে, সে বিষয়েও অংশগ্রহণকারীদের সচেতন করা হয়।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে জেলা প্রশাসক মর্জিনা আক্তার বলেন, “নিরাপদ খাদ্য মানুষের মৌলিক অধিকার। সুস্থ, কর্মক্ষম ও উন্নত জাতি গঠনে নিরাপদ খাদ্যের কোনো বিকল্প নেই। খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকারি সংস্থার পাশাপাশি ব্যবসায়ী, উৎপাদক, বাজার ব্যবস্থাপনা কমিটি এবং সাধারণ ভোক্তাদেরও সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে।”
তিনি আরও বলেন, নিরাপদ খাদ্য আইন যথাযথভাবে বাস্তবায়নের পাশাপাশি নিয়মিত তদারকি, ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা এবং জনসচেতনতা বৃদ্ধির মাধ্যমে খাদ্যে ভেজাল রোধ করা সম্ভব। এ ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট সকলকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান তিনি।
সভাপতির বক্তব্যে পৌর প্রশাসক মোছাঃ জেসমিন আক্তার বানু বলেন, “নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করা শুধু সরকারের একার দায়িত্ব নয়; এটি ব্যবসায়ী, উৎপাদক, বিক্রেতা ও ভোক্তা-সবার যৌথ দায়িত্ব। খাদ্য উৎপাদন থেকে শুরু করে ভোক্তার হাতে পৌঁছানো পর্যন্ত প্রতিটি ধাপে স্বাস্থ্যবিধি ও নিরাপত্তা মান কঠোরভাবে অনুসরণ করতে হবে।
মূখ্য আলোচক জেলা নিরাপদ খাদ্য কর্মকর্তা মোঃ রফিকুল ইসলাম নিরাপদ খাদ্য আইন, খাদ্য নিরাপত্তা বিধিমালা এবং খাদ্য ব্যবসায়ীদের করণীয় সম্পর্কে বিস্তারিত উপস্থাপনা করেন। তিনি নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করতে লাইসেন্স গ্রহণ, স্বাস্থ্যসম্মত পরিবেশ বজায় রাখা, মানসম্মত কাঁচামাল ব্যবহার এবং ভোক্তাদের সচেতনতার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
কর্মশালায় বক্তারা বলেন, বর্তমানে খাদ্যে ভেজাল, ক্ষতিকর রাসায়নিক, অপরিচ্ছন্ন পরিবেশে খাদ্য প্রস্তুত, অনিরাপদ সংরক্ষণ এবং মান নিয়ন্ত্রণের অভাব জনস্বাস্থ্যের জন্য বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি করছে। এসব প্রতিরোধে নিরাপদ খাদ্য আইন কার্যকর বাস্তবায়ন, নিয়মিত বাজার তদারকি, ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা, খাদ্য ব্যবসায়ীদের প্রশিক্ষণ এবং ভোক্তাদের সচেতনতা বৃদ্ধির কোনো বিকল্প নেই।
বক্তারা আরও বলেন, নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করা সম্ভব হলে খাদ্যবাহিত রোগ, অপুষ্টি, ক্যানসারসহ বিভিন্ন দীর্ঘমেয়াদি স্বাস্থ্যঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে কমে আসবে। এজন্য প্রতিটি খাদ্য ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে স্বাস্থ্যসম্মত পরিবেশ বজায় রাখা, মান নিয়ন্ত্রণ নিশ্চিত করা এবং সচেতনভাবে খাদ্য ক্রয় ও গ্রহণের অভ্যাস গড়ে তোলার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়।
কর্মশালায় বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা, স্বাস্থ্য বিভাগের প্রতিনিধি, নিরাপদ খাদ্য সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিবৃন্দ, জনপ্রতিনিধি, ব্যবসায়ী, শিক্ষক, সুশীল সমাজের প্রতিনিধি, বিভিন্ন গণমাধ্যমকর্মী এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশগ্রহণ করেন।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত অংশগ্রহণকারীরা নিজ নিজ অবস্থান থেকে নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিতকরণে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।
কর্মশালার সমাপনী বক্তব্যে বক্তারা বলেন, নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করতে সরকারি ও বেসরকারি সকল প্রতিষ্ঠানের সমন্বিত উদ্যোগ, নিয়মিত জনসচেতনতামূলক কার্যক্রম এবং আইনের কার্যকর বাস্তবায়নের মাধ্যমে একটি নিরাপদ ও সুস্থ সমাজ গড়ে তোলা সম্ভব। এ ধরনের কর্মসূচি ধারাবাহিকভাবে আয়োজন করা হলে খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণে ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে এবং জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

























