
আন্তর্জাতিক ডেস্ক,
যুক্তরাষ্ট্রে আসন্ন ফুটবল বিশ্বকাপ ঘিরে নিরাপত্তা ও ভিড় ব্যবস্থাপনা নিয়ে নতুন বিতর্ক তৈরি হয়েছে। টুর্নামেন্টকে কেন্দ্র করে কানসাস সিটিতে একটি অস্থায়ী আটক কেন্দ্র বা মডুলার কারাগার নির্মাণের পরিকল্পনা নিয়েছে স্থানীয় প্রশাসন, যা ইতোমধ্যে ‘বিশ্বকাপ জেল’ নামে পরিচিতি পেয়েছে।
পরিকল্পনা অনুযায়ী, বিশ্বকাপ চলাকালে সম্ভাব্য বিপুল দর্শনার্থীর চাপ সামলাতে এবং শহরের আটক ও পুনর্বাসন ব্যবস্থার সীমাবদ্ধতা মোকাবিলায় এই অস্থায়ী কারাগার নির্মাণ করা হবে। স্থানীয় পর্যটন সংস্থা ভিজিট কেসির হিসাব অনুযায়ী, টুর্নামেন্ট চলাকালে প্রায় ৬ লাখ ৫০ হাজার দর্শনার্থী কানসাস সিটি সফর করবেন।
ফিফা বিশ্বকাপ–এর অংশ হিসেবে আর্জেন্টিনা জাতীয় ফুটবল দল-এর একটি ম্যাচসহ মোট ছয়টি ম্যাচ আয়োজন করা হবে অ্যারোহেড স্টেডিয়াম-এ। এছাড়া রাউন্ড অব ৩২ ও কোয়ার্টার ফাইনালের মতো গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচও এখানে অনুষ্ঠিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। সম্ভাব্য সূচি অনুযায়ী, আর্জেন্টিনা, ইংল্যান্ড ও নেদারল্যান্ডসের মতো দলগুলো শহরে বেস ক্যাম্প করবে।
স্থানীয় নীতিনির্ধারকদের মতে, বড় আকারের এই আন্তর্জাতিক আসরে ছোটখাটো অপরাধ, বিশৃঙ্খলা বা আইন লঙ্ঘনের ঘটনা সামাল দিতে অতিরিক্ত আটক সুবিধার প্রয়োজন হবে। তাই সাময়িকভাবে প্রায় ১০০ আসনের একটি অস্থায়ী জেল তৈরির প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে, যা ভবিষ্যতে স্থায়ী অবকাঠামো নির্মাণ না হওয়া পর্যন্ত ব্যবহারের পরিকল্পনা।
শহরের সহকারী সিটি ম্যানেজার জানিয়েছেন, বিশ্বকাপ শুরুর আগেই এটি চালু করার লক্ষ্য ছিল, তবে সময়সূচি অনুযায়ী কাজ এগোয়নি। অন্যদিকে স্থানীয় কাউন্সিল সদস্যরা বলছেন, বিশ্বকাপের সময় অতিরিক্ত ভিড়, ভ্রমণকারীর চাপ এবং ছোটখাটো বিশৃঙ্খলা মোকাবিলায় এমন প্রস্তুতি প্রয়োজন হতে পারে।
তবে এই উদ্যোগ নিয়ে সমালোচনাও রয়েছে। কিছু মহল ও অভিবাসনবিরোধী কর্মীরা আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন যে, এটি ভবিষ্যতে আটক কার্যক্রম আরও বিস্তৃত করার মাধ্যম হতে পারে। সিটি কর্তৃপক্ষের দাবি, এই কেন্দ্র মূলত ছোটখাটো অপরাধ ও পৌর আইন ভঙ্গের ঘটনা সামাল দেওয়ার জন্যই ব্যবহৃত হবে।
























