
দেশের ভূমিহীন ও প্রান্তিক কৃষকদের জন্য ‘কৃষক কার্ড’ কর্মসূচির আওতায় বছরে একবার ২ হাজার ৫০০ টাকা করে নগদ সহায়তা দেওয়ার প্রস্তাব করা হয়েছে। এ কর্মসূচি বাস্তবায়নে ২০২৬–২৭ অর্থবছরের বাজেটে ১ হাজার ৬২ কোটি ৫০ লাখ টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।
বৃহস্পতিবার (১১ জুন) বিকেল ৩টায় জাতীয় সংসদে বাজেট উপস্থাপনকালে তিনি এ প্রস্তাব দেন।
বাজেট বক্তৃতায় তিনি বলেন, কৃষিকে জাতীয় সমৃদ্ধির প্রধান চালিকাশক্তিতে পরিণত করাই সরকারের লক্ষ্য। প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর দোরগোড়ায় সেবা পৌঁছে দিতে ‘কৃষক কার্ড’ চালু করা হয়েছে।
আগামী অর্থবছরে ১০০ উপজেলায় ৪২ লাখ ৫০ হাজার কৃষককে এ কার্ড দেওয়া হবে। পর্যায়ক্রমে দেশের সব কৃষককে এই কর্মসূচির আওতায় আনার পরিকল্পনা রয়েছে।
কৃষক কার্ডের মাধ্যমে ভূমিহীন ও প্রান্তিক কৃষকেরা বছরে একবার ২ হাজার ৫০০ টাকা নগদ সহায়তা পাবেন। পাশাপাশি কৃষি খাতে ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত ঋণের সুদ মওকুফ কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।
বাজেট অনুযায়ী, ২০২৬–২৭ অর্থবছরের মোট বাজেটের আকার ধরা হয়েছে ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকা। রাজস্ব আয়ের লক্ষ্যমাত্রা ৬ লাখ ৯৫ হাজার কোটি টাকা, ফলে ঘাটতি দাঁড়িয়েছে ২ লাখ ৪৩ হাজার কোটি টাকা।
ঘাটতি পূরণে অভ্যন্তরীণ ও বৈদেশিক উৎস থেকে অর্থ সংগ্রহের পরিকল্পনা রয়েছে। এর মধ্যে বৈদেশিক উৎস থেকে ১ লাখ ১৬ হাজার কোটি টাকা এবং অভ্যন্তরীণ উৎস থেকে ১ লাখ ২৭ হাজার কোটি টাকা নেওয়া হবে। ব্যাংক ব্যবস্থা থেকে ১ লাখ ১২ হাজার কোটি টাকা এবং সঞ্চয়পত্রসহ অন্যান্য উৎস থেকে ১৫ হাজার কোটি টাকা সংগ্রহের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
প্রস্তাবিত বাজেটে দেশের জিডিপির আকার ধরা হয়েছে ৬৮ লাখ ৩০ হাজার ২৪ কোটি টাকা। আগামী অর্থবছরে মূল্যস্ফীতি ৭.৫ শতাংশে নামিয়ে আনা এবং জিডিপি প্রবৃদ্ধি ৬.৫ শতাংশে উন্নীত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ–এর সভাপতিত্বে এবং প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান–এর উপস্থিতিতে বাজেট উপস্থাপন করা হয়।
এটি দেশের ৫৫তম বাজেট এবং অর্থমন্ত্রীর প্রথম বাজেট উপস্থাপন। বাজেট উপস্থাপনের আগে মন্ত্রিসভায় অনুমোদন দেওয়া হয় এবং পরে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন এতে সম্মতি দেন। আগামী ১ জুলাই থেকে নতুন অর্থবছরের বাজেট কার্যকর হবে।

























