
চট্টগ্রাম প্রতিনিধি:
চট্টগ্রামের বাঁশখালী উপজেলায় অভিযান চালিয়ে প্রায় ৩ কোটি টাকা মূল্যের ১ লাখ পিস ইয়াবা উদ্ধার করেছে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব-৭)। এ সময় মাদক পরিবহনে ব্যবহৃত একটি সিএনজি অটোরিকশা জব্দ এবং ৩ জন মাদক কারবারিকে আটক করা হয়েছে। বুধবার (২৯ এপ্রিল ২০২৬) বিকেলে উপজেলার বাঁশখালী মহিলা ডিগ্রি কলেজের সামনে পরিচালিত এ অভিযানে মাদকগুলো উদ্ধার করা হয়।
র্যাব-৭, চট্টগ্রাম সূত্রে জানা যায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে তারা জানতে পারে যে কক্সবাজার জেলার সীমান্তবর্তী এলাকা থেকে একটি সংঘবদ্ধ মাদকচক্র বিপুল পরিমাণ ইয়াবা নিয়ে সিএনজি অটোরিকশাযোগে চট্টগ্রাম মহানগরীর দিকে পাচারের উদ্দেশ্যে রওনা দিয়েছে। তথ্যটি পাওয়ার পরপরই র্যাব-৭ এর একটি আভিযানিক দল তাৎক্ষণিকভাবে অভিযান পরিচালনার পরিকল্পনা গ্রহণ করে এবং সম্ভাব্য রুটে নজরদারি জোরদার করে।
এরই ধারাবাহিকতায় বুধবার বিকেল আনুমানিক ৪টা ৩০ মিনিটের দিকে চট্টগ্রাম জেলার বাঁশখালী থানাধীন বাঁশখালী মহিলা ডিগ্রি কলেজের সামনে একটি অস্থায়ী চেকপোস্ট স্থাপন করে র্যাব সদস্যরা যানবাহন তল্লাশি শুরু করেন। এ সময় সন্দেহজনক একটি সিএনজি অটোরিকশা চেকপোস্টের কাছে পৌঁছালে র্যাব সদস্যদের উপস্থিতি টের পেয়ে সিএনজিতে থাকা কয়েকজন ব্যক্তি পালানোর চেষ্টা করে। কিন্তু র্যাব সদস্যরা দ্রুত তাদের ঘিরে ফেললে পালানোর সুযোগ পায়নি তারা।
পরে ঘটনাস্থল থেকে মোঃ সলিম উল্লাহ (৪৩), পিতা-মৃত আব্দুল নবী, সাং-গোনাপাড়া; মোঃ হাসান মুরাদ (৪৮), পিতা-মৃত আনসারুল হক শিকদার, সাং-কুতুবজুম; এবং মোঃ মজিদ আলম প্রকাশ মরজান (৩৫), পিতা-মৃত কবির আহম্মেদ, সাং-কুতুবজুম এই তিনজনকে আটক করা হয়। আটককৃত তিনজনের বাড়িই কক্সবাজার জেলার মহেশখালী উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় বলে জানা গেছে।
পরবর্তীতে আটককৃতদের ব্যবহৃত সিএনজি অটোরিকশাটি তল্লাশি করা হলে এর গ্যাস সিলিন্ডারের ভেতরে বিশেষ কৌশলে লুকিয়ে রাখা বিপুল পরিমাণ ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়। র্যাব সদস্যরা সিলিন্ডারের ভেতরে গোপন কক্ষ তৈরি করে সেখানে ইয়াবাগুলো সংরক্ষণ করা হয়েছিল বলে জানান। সেখান থেকে মোট ১ লাখ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়। উদ্ধার হওয়া এসব ইয়াবার আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় ৩ কোটি টাকা বলে জানিয়েছে র্যাব।
র্যাব-৭ চট্টগ্রামের সহকারী পুলিশ সুপার ও সহকারী পরিচালক (মিডিয়া) এ. আর. এম. মোজাফ্ফর হোসেন জানান, আটককৃতরা দীর্ঘদিন ধরে সীমান্তবর্তী এলাকা থেকে ইয়াবা সংগ্রহ করে দেশের বিভিন্ন স্থানে পাচার করে আসছিল। গোপন তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে তাদের হাতেনাতে আটক করা সম্ভব হয়েছে।
তিনি আরও জানান, উদ্ধারকৃত ইয়াবা ট্যাবলেট ও জব্দকৃত সিএনজি অটোরিকশা মাদক পরিবহনের কাজে ব্যবহৃত হচ্ছিল। আটককৃতদের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে এবং তাদের বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
র্যাব জানায়, মাদক নির্মূলের লক্ষ্যে দেশের বিভিন্ন স্থানে তাদের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। বিশেষ করে সীমান্তবর্তী এলাকা থেকে ইয়াবা পাচার বন্ধে র্যাব গোয়েন্দা নজরদারি জোরদার করেছে এবং ভবিষ্যতেও এ ধরনের অভিযান আরও জোরদার করা হবে।
























