
চট্টগ্রাম প্রতিনিধি:
চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশের (সিএমপি) চান্দগাঁও থানা পুলিশের অভিযানে চোরাইকৃত বিপুল পরিমাণ নগদ অর্থ উদ্ধার এবং চোর চক্রের মূলহোতাকে গ্রেফতারের ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। পুলিশের দাবি, পরিকল্পিত ও ধারাবাহিক অভিযানের মাধ্যমে চুরির ঘটনার রহস্য উদঘাটন করে নগদ ২৩ লাখ ৭৩ হাজার ৫১০ টাকা উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত ২৫ এপ্রিল ২০২৬ তারিখ সন্ধ্যা আনুমানিক ৬টা থেকে রাত ৯টার মধ্যে যেকোনো সময়ে অজ্ঞাতনামা চোরেরা চান্দগাঁও থানাধীন সিএন্ডবি মোড়স্থ ক্লিউইস্টন সিএনজি স্টেশনের অফিস কক্ষকে টার্গেট করে। চোরেরা অফিস কক্ষের পিছনের জানালার গ্রিল কেটে ভেতরে প্রবেশ করে এবং সেখানে থাকা স্টিলের আলমিরার লকার ভেঙে নগদ ২৬ লাখ ২৯ হাজার ৩৫২ টাকা চুরি করে নিয়ে যায়।
ঘটনার পর বাদী মোঃ কামরুল ইসলাম (২৫) চান্দগাঁও থানায় হাজির হয়ে লিখিত এজাহার দায়ের করেন। অভিযোগের ভিত্তিতে চান্দগাঁও থানায় মামলা নং-২৭, তারিখ ২৬/০৪/২০২৬ ইং, ধারা ৪৫৭/৩৮০ পেনাল কোডে মামলা রুজু করা হয়। মামলাটি দায়ের হওয়ার পরপরই পুলিশ ঘটনাটিকে গুরুত্বের সঙ্গে নিয়ে তদন্ত কার্যক্রম শুরু করে।
চান্দগাঁও থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ নূর হোসেন মামুনের সার্বিক তত্ত্বাবধানে এসআই মোহাম্মদ আমির হোসেন, এসআই হৃদয় মাহমুদ লিটন এবং এএসআই মোঃ মিজানুর রহমানের সমন্বয়ে একটি বিশেষ টিম গঠন করা হয়। টিমটি নগরীর বিভিন্ন এলাকায় তথ্য সংগ্রহ, সন্দেহভাজনদের গতিবিধি পর্যবেক্ষণ এবং সম্ভাব্য আস্তানাগুলোতে একাধিক অভিযান পরিচালনা করে।
পুলিশ জানায়, তদন্তের একপর্যায়ে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে চান্দগাঁও থানাধীন মৌলভীবাজার এলাকায় অভিযান চালানো হয়। সেখানে চোর চক্রের মূলহোতা হিসেবে অভিযুক্ত মোঃ ইউনুছ রনি (৩৭)-কে গ্রেফতার করা হয়। তিনি মৃত কামাল হোসেনের ছেলে এবং চান্দগাঁও এলাকার মৌলভী পুকুর পাড়, কোরবান আলী মিস্ত্রীর বাড়ির বাসিন্দা।
গ্রেফতারের পর প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে ইউনুছ রনি উক্ত চুরির ঘটনায় নিজের সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করেন বলে জানিয়েছে পুলিশ। পরে তার দেওয়া তথ্য ও দেখানো স্থান অনুযায়ী চান্দগাঁও থানাধীন দক্ষিণ মোহরা এলাকার কবির টাওয়ারের পিছনে হাড্ডির বাড়ির ওসমানের মায়ের কলোনীর পার্শ্ববর্তী ঝোপঝাড়ে অভিযান চালানো হয়। সেখানে দুইটি প্লাস্টিকের বস্তার ভিতরে লুকিয়ে রাখা নগদ ২৩ লাখ ৭৩ হাজার ৫১০ টাকা উদ্ধার করা হয়।
উদ্ধার হওয়া অর্থ আইনগত প্রক্রিয়া শেষে প্রকৃত মালিকের কাছে হস্তান্তরের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলে জানা গেছে। এছাড়া চুরি হওয়া বাকি অর্থ কোথায় গেছে এবং এ ঘটনায় আর কারা জড়িত রয়েছে তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
পুলিশের একাধিক সূত্র জানিয়েছে, এটি একটি সংঘবদ্ধ চোরচক্রের কাজ হতে পারে। গ্রেফতারকৃত আসামির দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে চক্রের অন্যান্য সদস্যদের শনাক্ত ও গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
স্থানীয় ব্যবসায়ী ও বাসিন্দারা চান্দগাঁও থানা পুলিশের এই সাফল্যে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন। তারা বলেন, দ্রুত সময়ে বিপুল পরিমাণ চোরাইকৃত অর্থ উদ্ধার হওয়ায় সাধারণ মানুষের মধ্যে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রতি আস্থা আরও বেড়েছে।
চান্দগাঁও থানা পুলিশ জানিয়েছে, নগরীতে অপরাধ দমনে নিয়মিত অভিযান অব্যাহত থাকবে এবং যেকোনো অপরাধের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

























