
নিউজ ডেস্ক,
আমি বড় হয়েছি মফস্বলের ছোট পল্লিগ্রামে, যেখানে প্রতিদিনের বিদ্যুৎ বিভ্রাট, বেতের পাখা, হাতের কারুকার্য এবং পল্লিগ্রামের সরল জীবন আমার কৈশোরের অংশ ছিল। স্কুল জীবনের ছোট ছোট আনন্দ ও দুঃখ, চিঠিপত্রের মাধ্যমে প্রথম ভালোবাসা, বন্ধু-বান্ধবের সঙ্গে আবেগঘন মুহূর্ত—সবই আমার জীবনের অমোঘ স্মৃতি হয়ে আছে।
অষ্টম শ্রেণিতে পড়াকালীন প্রথম বয়ঃসন্ধিকালের উন্মাদনা, লিপস্টিকের প্রথম স্পর্শ, স্কুল ড্রেসের ক্রস ওড়নার অনুভূতি—সবই এখন স্মৃতিতে পলি জমিয়েছে। কুয়াশা জড়ানো সকাল, স্কুলের মাঠ, গ্রামীণ হাওয়া—সবই এক ধরনের সরল আনন্দের প্রতিচ্ছবি।
আমার প্রথম প্রেম ফাহিমের সঙ্গে চিঠিপ্রেমের মাধ্যমে শুরু হয়। তার হাতে লেখা চিঠির শব্দ, ভাব এবং হাতের লেখার সৌন্দর্য আমাকে মুগ্ধ করেছিল। প্রতিটি শুক্রবার, স্কুল বন্ধ থাকলে তাকে দেখা যেত না, এবং চিঠি হয়ে যেত আমাদের একমাত্র যোগাযোগের মাধ্যম। সেই প্রেমময় অনুভূতি আজও স্মৃতিতে অমলিন।
বছর কেটে যাওয়ার পর, ঢাকা শহরে কলেজ জীবন শুরু হলেও ফাহিমের সঙ্গে দেখা হয়নি। তবে একদিন, বাসে মুখোমুখি দেখা হয়—অনেক বছর পর। যদিও কথোপকথন হয়নি এবং ফোন নম্বর বা সামাজিক যোগাযোগের তথ্য জানা সম্ভব হয়নি, তবুও সেই ছোট্ট মুহূর্তে স্মৃতির জোড়া শালিক আবার জীবন্ত হয়ে উঠেছিল।
আজও সেই নস্টালজিয়া, সেই চিঠি, সেই প্রথম ভালোবাসার ছোঁয়া আমার স্মৃতির এক অবিচ্ছিন্ন অংশ। জীবন এগোয়, তবে কোনো স্মৃতি কখনো পুরোপুরি বিলীন হয় না।

























