
মুজাহিদ শেখ, শ্রীপুর (মাগুরা) প্রতিনিধি:
মাগুরার শ্রীপুরে কীটনাশক সেবন করা শিশু রোগীকে সরকারি অ্যাম্বুলেন্স থেকে নামিয়ে নিজের ব্যক্তিগত কাজে ব্যবহার করার অভিযোগ উঠেছে শ্রীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ মোঃ আশরাফুজাম্মান লিটন এর বিরুদ্ধে।
সোমবার বেলা পৌনে তিন টায় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স চত্বরে এই ঘটনাটি ঘটেছে।
শিশু আফিয়া খাতুন মাগুরার সদর উপজেলার শেখ পাড়া গ্রামের ইলিয়াজ আলীর কণ্যা।
এ ঘটনা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ আশরাফুজ্জামান লিটনকে নিয়ে এলাকায় সমালোচনার ঝড় উঠেছে।
সরজমিনে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, উপজেলার চরচৌগাছি -ঘসিয়াল গ্রামে মামা বাড়িতে বেড়াতে এসে শিশু আফিয়া খাতুন (৬)
কৃষি জমিতে প্রয়োগ করা কীটনাশক (বিষ) প্যাকেট নিয়ে খেলতে গিয়ে মুখে দেয়। এক পর্যায়ে আফিয়া অসুস্থ হয়ে পড়লে বাড়ির লোকজন তাকে শ্রীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এ নিয়ে গেলে জরুরী বিভাগে কর্মরত চিকিৎসক তাকে মাগুরা সদর হাসপাতালে রেফার্ড করেন। এ সময় তারা দ্রুত যাওয়ার জন্য সরকারি অ্যাম্বুলেন্সে উঠলে কিছু সময় পরে ড্রাইভার আকিদুল ইসলাম তাদের জানান,টিএইচএ স্যার অ্যাম্বুলেন্স নিয়ে তার কাজে যাবেন বলে অ্যাম্বুলেন্স নিয়ে যেতে নিষেধ করেছেন।
তখন তারা নিরুপায় হয়ে ইজি বাইকে করে মাগুরা সদর হাসপাতালে যান।
এ বিষয়ে আফিয়ার মামা এমদাদুল হক জানান, আমার ছোট ভাগ্নির সাথে যেটা ঘটেছে সেটা খুবই দুঃখজনক ও নিন্দনীয়। আমরা চাই সরকারি হাসপাতালে সকল ধরনের সেবা সাধারণ জনগণ সঠিকভাবে পাবে।
এ বিষয়ে শ্রীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ মোঃ আশরাফুজাম্মান লিটন সরকারি অ্যাম্বুলেন্স থেকে রোগী নামিয়ে তিনি তার কাজে ব্যবহার করতে পারেন কিনা সাংবাদিকদের এমন এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে মাগুরা মেডিকেল কলেজ খুব বেশি দূরে নয় এই জন্য তিনি অন্যভাবে তাদেরকে মাগুরা যেতে বলেছেন।তিনি আরো বলেন কিছু ইমারজেন্সি কাজে তারা হাসপাতালের সরকারি অ্যাম্বুলেন্স ব্যবহার করে থাকেন।
বিষয়টি নিয়ে শ্রীপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ সালেক মূহিদ সাংবাদিকদের বলেন, এই অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা গ্রহণ করার জন্য যে কর্তৃপক্ষ যথাযথ আমরা সে কর্তৃপক্ষের কাছে সংশ্লিষ্ট অভিযোগগুলো পৌঁছে দেব।
এ বিষয়ে মাগুরা সিভিল সার্জন ডাঃ মোঃ শামীম কবির সাংবাদিকদের জানান, যেহেতু বাচ্চাটাকে মাগুরা সদর হাসপাতালে রেফার্ড করা হয়েছে সেহেতু তার উচিত ছিল বাচ্চা থেকে দেখে বুঝিয়ে বলা। তার উচিত হয়নি বাচ্চাটাকে অ্যাম্বুলেন্স থেকে নামিয়ে দেওয়া। অভিযোগের বিষয়টি তদন্তপূর্বক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
























