
চঞ্চল,
চব্বিশের রক্তক্ষয়ী গণঅভ্যুত্থানপরবর্তী প্রথম গণতান্ত্রিক সরকারের মন্ত্রিসভায় লালমনিরহাট-৩ (সদর) আসন থেকে নির্বাচিত সংসদ সদস্য, বরেণ্য রাজনীতিবিদ অধ্যক্ষ আসাদুল হাবিব দুলু-কে ‘দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়’-এর দায়িত্ব প্রদান করা হয়েছে।
মঙ্গলবার বিকেলে জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় আয়োজিত এক বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানে রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ সাহাবুদ্দিন তাঁকে শপথ বাক্য পাঠ করান।
উত্তরবঙ্গের মাটি ও মানুষের এই প্রিয় নেতার মন্ত্রী হওয়ার সংবাদে লালমনিরহাট জেলা জুড়ে উৎসবের আমেজ বিরাজ করছে এবং সর্বস্তরের মানুষ তাঁকে প্রাণঢালা অভিনন্দন জানাচ্ছে।
দীর্ঘ ৪০ বছরের আপোষহীন পথচলা:
অধ্যক্ষ আসাদুল হাবিব দুলু কেবল একজন রাজপথের লড়াকু সৈনিকই নন, তিনি লালমনিরহাটের মানুষের আশা-ভরসার শেষ আশ্রয়স্থল। তার দীর্ঘ ৪০ বছরের রাজনৈতিক জীবন ত্যাগের মহিমায় ভাস্বর। গত ১৭ বছরের দুঃসহ নিপীড়ন, মামলা-হামলা এবং জেল-জুলুম উপেক্ষা করেও তিনি এক মুহূর্তের জন্য মাঠ ছেড়ে যাননি। স্বৈরাচার বিরোধী প্রতিটি আন্দোলন ও সংগ্রামে তার বলিষ্ঠ নেতৃত্ব তাকে আজ গণমানুষের নেতায় পরিণত করেছে।
আলোকিত লালমনিরহাটের রূপকার ও অতীতের সাফল্য:
অতীতের মন্ত্রী থাকাকালীন লালমনিরহাটের অবকাঠামো ও সামাজিক উন্নয়নে তিনি যে বৈপ্লবিক পরিবর্তন এনেছিলেন, তা জেলাবাসী আজও শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করে। শিক্ষা, স্বাস্থ্য এবং গ্রামীণ যোগাযোগ ব্যবস্থায় তার অবদান লালমনিরহাটকে একটি আধুনিক জেলার রূপরেখা দিয়েছিল। বর্তমানের এই নতুন দায়িত্ব তার সেই উন্নয়ন যাত্রাকে আরও বেগবান করবে বলে সাধারণ মানুষ বিশ্বাস করে।
তিস্তা বাঁচাও ও সামাজিক অপরাধ নির্মূলের সংগ্রাম:
অধ্যক্ষ আসাদুল হাবিব দুলু সবসময় শোষিত মানুষের পক্ষে সোচ্চার। উত্তরের জীবনমরণ সমস্যা ‘তিস্তা বাঁচাও নদী বাঁচাও’ আন্দোলনে তার বলিষ্ঠ ভূমিকা সর্বজনবিদিত। এছাড়াও তিনি ‘আলোকিত লালমনিরহাট’ গড়ার লক্ষ্যে সামাজিক অপরাধ, মাদক ও অবক্ষয় নির্মূলে নিরন্তর সংগ্রাম করে যাচ্ছেন। তিনি স্বপ্ন দেখেন এমন এক জেলার, যেখানে প্রতিটি মানুষ নিরাপদ ও মর্যাদার সাথে বসবাস করবে।
জনগণের সরকার ও ডিজিটাল সংযোগ:
ক্ষমতার দাপট নয়, বরং জনসেবাকেই ব্রত হিসেবে নিয়েছেন তিনি। সম্প্রতি তিনি একটি ব্যক্তিগত ওয়েবসাইট চালু করেছেন, যার মাধ্যমে সরাসরি জনগণের পরামর্শ ও মতামত গ্রহণ করছেন। তার এই উদ্যোগ প্রমাণ করে যে তিনি প্রকৃত অর্থেই জনগণের প্রতিনিধি।
প্রিয় নেতার এই অর্জনে জেলার সর্বস্তরের মানুষ আনন্দিত ও উদ্বেলিত।
লালমনিরহাটের সচেতন মহলের পক্ষ থেকে তাঁকে অভিনন্দন জানিয়ে বিশিষ্ট চারুশিল্পী রুস্তম আলী প্রামাণিক বলেন, “”অধ্যক্ষ আসাদুল হাবিব দুলু এই দায়িত্ব পাওয়ার যোগ্য দাবিদার ছিলেন। তাঁর দীর্ঘ লড়াইয়ের মূল্যায়ন হওয়ায় আমরা অত্যন্ত আনন্দিত। আমরা বিশ্বাস করি, তাঁর নেতৃত্বে লালমনিরহাট একটি মডেল জেলায় পরিণত হবে।”
শহরের মিশন মোড়ে অবস্থিত একটি হোটেলের মালিক গোবিন্দ মোদক , “দুলু ভাই আমাদের অভিভাবক। তাঁকে মন্ত্রী করায় আমরা সরকারকে ধন্যবাদ জানাই এবং দুলু ভাইকে প্রাণঢালা অভিনন্দন জানাচ্ছি। তিনি মন্ত্রী হওয়া মানে আমাদের ভাগ্য খুলে যাওয়া।”
নদী তীরবর্তী এলাকার এক বৃদ্ধ কৃষক আবেগপ্লুত হয়ে বলেন, “দুলু ভাই নদী ভাঙা মানুষের দুঃখ বোঝেন। আমরা তাঁকে অভিনন্দন জানাই এবং দোয়া করি তিনি যেন সারা দেশের দুর্যোগ কবলিত মানুষের মুখে হাসি ফোটাতে পারেন।”
প্রত্যাশা ও আগামীর পথ: দুর্যোগপ্রবণ এই অঞ্চলের সন্তান হিসেবে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পাওয়ায় নদীভাঙন কবলিত ও দুস্থ মানুষের ভাগ্য উন্নয়নে বড় ধরণের ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। জেলার সাধারণ মানুষের চাওয়া, দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনের অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে এই জননেতা অতীতের মতো আবারও উন্নয়ন ও সমৃদ্ধির নতুন অধ্যায় শুরু করবেন।
























