
চঞ্চল,
জাতীয় পার্টির সাবেক মহাসচিব ও সাবেক মন্ত্রী মসিউর রহমান রাঙ্গার রাজনৈতিক ক্যারিয়ারে বড় বিপর্যয় নেমে এসেছে। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিজের জন্মভূমি লালমনিরহাট-১ (হাতীবান্ধা-পাটগ্রাম) আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে শোচনীয় পরাজয় বরণ করেছেন তিনি। প্রাপ্ত ভোটের হিসেবে চতুর্থ অবস্থানে থাকা রাঙ্গার নির্বাচনী জামানত পর্যন্ত বাজেয়াপ্ত হয়েছে।
ভরাডুবির মূল কারণসমূহ:
বিশ্লেষকদের মতে, নির্বাচনের আগে মনোনয়ন পাইয়ে দেওয়ার নামে বিপুল অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগ তাঁর ভাবমূর্তি ধুলিসাৎ করে দেয়। এছাড়া দীর্ঘদিন এলাকার মানুষের সাথে বিচ্ছিন্নতা এবং সাধারণ ভোটারদের এড়িয়ে ‘বডিগার্ড বেষ্টিত’ আভিজাত্যপূর্ণ প্রচারণা ভোটারদের ক্ষুব্ধ করে তোলে। পাশাপাশি বিগত সরকারের প্রতিমন্ত্রী হিসেবে বিতর্কিত ভূমিকা এবং জুলাই গণ-অভ্যুত্থান পরবর্তী জনমনে তৈরি হওয়া নেতিবাচক প্রভাব তাঁর পতনের পথ নিশ্চিত করেছে।
ফলাফল চিত্র:
বেসরকারি ফলাফল অনুযায়ী, এই আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী হাসান রাজিব প্রধান ১,৩৮,৬৮৬ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতে ইসলামীর আনোয়ারুল ইসলাম রাজু পেয়েছেন ১,২৯,৫৭২ ভোট। তৃতীয় স্থানে স্বতন্ত্র প্রার্থী শিহাব আহমেদ (৭,৯৫৯ ভোট) থাকলেও, মসিউর রহমান রাঙ্গা মাত্র ৫,১৫২ ভোট পেয়ে চতুর্থ হয়েছেন।
রাঙ্গার প্রতিক্রিয়া:
এই ভরাডুবির পর হতাশ রাঙ্গা মুঠোফোনে জানান, “নির্বাচন নিয়ে আমার আর কোনো মন্তব্য নেই। গত ১৭ বছর এমপি-মন্ত্রী ছিলাম, নতুন করে আর কিছু পাওয়ার নেই।” হত্যাসহ একাধিক মামলার বোঝা এবং এই নির্বাচনী পরাজয় রাঙ্গার দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনের সফল সমাপ্তি নিয়ে বড় প্রশ্ন চিহ্ন এঁকে দিয়েছে।

























