
মোঃ আবু তৈয়ব, হাটহাজারী (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি:
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে চট্টগ্রামের হাটহাজারী উপজেলায় ব্যতিক্রমী এক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। উপজেলার মির্জাপুর ইউনিয়নের চারিয়া গ্রামের দুই পরিচিত ও প্রভাবশালী ধর্মীয় নেতা ভিন্ন দুই রাজনৈতিক দল থেকে জাতীয় সংসদ সদস্য (এমপি) পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। একই গ্রামের দুই ব্যক্তির একই আসনে লড়াইকে ঘিরে স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনসহ সাধারণ মানুষের মধ্যেও ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।
প্রার্থীরা হলেন— মাওলানা নাছির উদ্দিন মুনির এবং মাওলানা মুফতি শিহাবুদ্দীন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়,
মুফতি শিহাবুদ্দীন— হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ কেন্দ্রীয় কমিটির নির্বাহী সদস্য, খেলাফত মজলিসের কেন্দ্রীয় দাওয়াহ বিষয়ক সম্পাদক, চট্টগ্রাম উত্তর জেলার সভাপতি। এছাড়া তিনি মানবকল্যাণ সংগঠনের সেক্রেটারি জেনারেল হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। পাশাপাশি এম কে ফাউন্ডেশন ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড হজ্ব কাফেলার চেয়ারম্যান হিসেবেও এলাকায় পরিচিত। তিনি খেলাফত মজলিস মনোনীত প্রার্থী হিসেবে চট্টগ্রাম-৫ (হাটহাজারী ও বায়েজিদ আংশিক) আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নামছেন।
অন্যদিকে,
মাওলানা নাছির উদ্দিন মুনির— হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ ও জমিয়েত ওলামায়ে ইসলামী বাংলাদেশের যুগ্ম মহাসচিব। তিনি হাটহাজারী উপজেলার সাবেক উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করে এলাকার মানুষজনের কাছে পরিচিত মুখ। দীর্ঘদিন ধরে তিনি এলাকার ধর্মীয় শিক্ষা, সামাজিক সেবা ও রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে সক্রিয় ভূমিকা রেখে আসছেন।
এমপি নির্বাচনকে ঘিরে একই গ্রামের দুই ধর্মীয় নেতার প্রতিদ্বন্দ্বিতা স্থানীয় ভোটারদের মাঝেও কৌতূহল তৈরি করেছে। কে কাকে ছাড়িয়ে এগিয়ে থাকবেন—এ নিয়ে গ্রাম থেকে বাজার, চা দোকান থেকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম পর্যন্ত নানা আলোচনা চলছে। অনেকে মনে করছেন, দুই প্রার্থীর আলাদা রাজনৈতিক অবস্থান ও সংগঠনভিত্তিক জনপ্রিয়তার কারণে নির্বাচনী মাঠে প্রতিদ্বন্দ্বিতা আরও জমে উঠবে।
স্থানীয় রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, ধর্মীয় নেতৃত্ব, দীর্ঘদিনের জনসম্পৃক্ততা এবং ব্যক্তিগত গ্রহণযোগ্যতার বিষয়গুলোই এ প্রতিদ্বন্দ্বিতায় বড় ভূমিকা রাখবে। একই গ্রামের দুই শীর্ষ নেতার এই লড়াই আগামী নির্বাচনে হাটহাজারী আসনকে কেন্দ্রবিন্দুতে নিয়ে এসেছে।
নির্বাচন যত ঘনিয়ে আসছে, চারিয়া গ্রামসহ পুরো হাটহাজারীজুড়ে বাড়ছে নির্বাচনী উত্তাপ। ভোটাররা অপেক্ষা করছেন—এই ঐতিহাসিক লড়াইয়ে শেষ পর্যন্ত কার কাছে যাবে চট্টগ্রাম-৫ আসন।























