Dhaka , Thursday, 15 January 2026
নিবন্ধন নাম্বারঃ ১১০, সিরিয়াল নাম্বারঃ ১৫৪, কোড নাম্বারঃ ৯২
শিরোনাম ::
জেলা-উপজেলা পর্যায়ে শ্রেষ্ঠ রোভার শিক্ষক কক্সবাজারের জাহাঙ্গির আলম শরীয়তপুরে কাবিখা কাবিটা প্রকল্পে লুটপাট, প্রশ্ন করায় সাংবাদিককে হুমকি রামুর ফতেখাঁরকুলের ইয়াবাডন আবদুল্লাহ ইয়াবাসহ গ্রেফতার। কিশোরগঞ্জে ছাত্রাবাস থেকে নিখোঁজ ৯ম শ্রেণির শিক্ষার্থী নোওয়াফ, থানায় জিডি। ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে পাঁচবিবিতে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে কঠোর নিরাপত্তা তদারকি জোরদার চট্টগ্রাম মা ও শিশু হাসপাতালে বেগম খালেদা জিয়ার দোয়া মাহফিলে আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি অধ্যাদেশ জারির দাবিতে সাত কলেজ শিক্ষার্থীদের পুনরায় বিক্ষোভ নোয়াখালীতে ২৫০০ কেজি জাটকা ইলিশ জব্দ   জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের জরিমানার সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার দাবি কুড়িগ্রাম সরকারী কলেজের অধ্যক্ষের। টাঙ্গাইলের মধুপুর শালবনে লাল সোনা  নোয়াখালীতে ব্যবসায়ীর জায়গা দখল করে বিএনপির কার্যালয় নির্মাণের অভিযোগ গাজীপুরে মুক্তিযোদ্ধা দলের সভাপতি যোগ দিলেন জামায়াতে হিলিতে প্রকাশ্যে ধূমপানের দায়ে জরিমানা পাঁচবিবিতে গণভোটের প্রচারণায় র‍্যালী ও লিফলেট বিতরণ নরসিংদীর শিবপুরে অস্ত্র ও মাদক জব্দ, ৭ জন গ্রেপ্তার রুপগঞ্জে গাবতলী থেকে পঞ্চম শ্রেণি পড়ুয়া শিশু নিখোঁজ চট্টগ্রাম ১৪ আসনে বিতর্কের ঝড় চট্টগ্রামের বাকলিয়া থানায় অস্ত্রসহ আটক, আসামির বিরুদ্ধে সন্দেহজনক মামলা হাতীবান্ধার দুর্গম সীমান্তে বিজিবির নতুন বিওপি ‘পূর্ব সারডুবি’র যাত্রা শুরু নির্বাচনে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ৯ লাখ সদস্য দায়িত্ব পালন করবেন:- চট্টগ্রামে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা মধুপুরে গ্রাম বাংলার ঐতিহ্য ঘোড়দৌড় প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত ঝালকাঠি-১ আসনে প্রার্থীতা ফিরে পেলেন গোলাম আজম সৈকত জুলাই সনদ অক্ষরে অক্ষরে বাস্তবায়ন করবে বিএনপি- সালাহউদ্দিন আহমদ  ঝালকাঠি ট্রাফিক পুলিশের প্রকাশ্য মাসোয়ারা বাণিজ্যর অভিযোগে সার্জেন্টকে ক্লোজ ঝালকাঠি সদর থানায় অপমৃত্যু মামলার আলামত সংরক্ষণে অবহেলার অভিযোগ কক্সবাজারে জামায়াতের প্রতিনিধি সমাবেশ সব রাজনৈতিক দলের জন্য সমান সুযোগ সৃষ্টির দাবি অপারেশন ডেভিল হান্ট-২: নোয়াখালীতে আগ্নেয়াস্ত্র ও গুলিসহ গ্রেপ্তার ২ কক্সবাজারে ইউপি সদস্য কামাল হত্যামামলার ৮ আসামি কারাগারে দেশ থেকে জলাতঙ্ক নির্মূলের লক্ষে চন্দনাইশে অবহিতকরণ সভা অনুষ্ঠিত ছাত্রীকে নিয়ে পালালো প্রধান শিক্ষক,মাদরাসায় অগ্নিসংযোগ

নীলফামারীতে আশঙ্কাজনকভাবে বাড়ছে গুলের নেশায় আসক্তের সংখ্যা

  • Reporter Name
  • আপডেট সময় : 04:28:31 pm, Wednesday, 1 December 2021
  • 440 বার পড়া হয়েছে

নীলফামারীতে আশঙ্কাজনকভাবে বাড়ছে গুলের নেশায় আসক্তের সংখ্যা

আমিরুল হক, নীলফামারী জেলা প্রতিনিধি ।।

নীলফামারীর ৬টি উপজেলায় আশঙ্কাজনকভাবে বাড়ছে গুল নামক তামাকজাত পণ্যে আসক্তের সংখ্যা। স্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর ধোঁয়াবিহীন গুল নামক এই বিষ সেবন করে অজান্তেই মৃত্যুর দিকে ধাবিত হচ্ছে প্রতিনিয়ত অসংখ্য মানুষ। এছাড়া গুল তৈরির কারখানাগুলোতে শ্রমিকদের অধিকাংশই নারী ও শিশু। এমন তথ্য জানিয়েছে জেলা মাদক নিয়ন্ত্রন অধিদপ্তর।
সরেজমিনে ঘুরে দেখা গেছে, এ জেলার কয়কটি উপজেলায় বেশি তামাক উৎপাদন হয়। বিভিন্ন নামীদামী সিগারেট কোম্পানিগুলো সেখানে তামাক পাতা কিনে গুদামজাত করছে। এসব তামাক পাতা দিয়ে জর্দা এবং তামাকের ডাটাসহ উচ্ছৃষ্ট অংশ দিয়ে তৈরি হচ্ছে গুল। জেলার সৈয়দপুর উপজেলায় রয়েছে অনেক গুল তৈরির কারখানা। এসব কারখানা গড়ে উঠেছে আবাসিক ও ঘনবসতি এলাকায়। ফলে মালিকরা খুব সহজে ও অল্প টাকায় নারী ও শিশু শ্রমিক পান। তাই দিনে-রাতে সমানতালে চলে কাজ। যত্রতত্র ময়লা স্থানে গুলের পাউডার রেখে শ্রমিকরা কৌটায় ভরছে। আবার কেউ কেউ কৌটায় লেবেল লাগাচ্ছে। তাদের হাতে-পায়ে নেই কোন রক্ষাকারী সামগ্রী। বাতাসের মাধ্যমে গুলের পাউডারগুলো ছড়াচ্ছে এলাকায়। উত্তরাঞ্চলের মধ্যে সৈয়দপুরের তৈরি গুলের চাহিদা অনেক বেশি। দুই টাকা দামের গুল একটু বড় কৌটায় ভরে এখন বিক্রয় হচ্ছে ৫ টাকায়।
শহরের বাঁশবাড়ী এলাকার কলেজ শিক্ষক আরিফুল ইসলাম বলেন, আমার এলাকার চারপাশে গুলের কারখানা গড়ে উঠেছে। এই কারখানাগুলো উচ্ছেদ করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে একাধিকবার লিখিত অভিযোগ করে কোন লাভ হয়নি। ফলে বাধ্য হয়েই নিজের ও সন্তানের কথা চিন্তা করে ওই এলাকা ছেড়ে অন্য এলাকায় ভাড়া বাসায় বসবাস করছি।

 

গুল ব্যবহারকারী নূরুল হুদা বলেন, দাঁতে ব্যাথার কারনে শুরুতে গুল দিয়ে দাঁত মাজা শুরু করি। পরে ধীরে ধীরে গুল আসক্তি শুরু হয়। শেষমেশ এমন পর্যায়ে পৌঁছে যা নেশায় পরিনত হয়ে গেছে। এখন আর ইচ্ছা করলেও ছাড়তে পারছিনা।
নীলফামারী জেলা সিভিল সার্জন জাহাঙ্গীর কবীর জানান, তামাকের মধ্যে যত ক্ষতিকর পদার্থ এর সব আছে গুলের মধ্যে। বিড়ি ও সিগারেটের ধোঁয়ার মাধ্যমে নিকোটিনসহ অন্যান্য ক্ষতিকর পদার্থ শরীরে প্রবেশ করায় এর ক্ষতিকর প্রভাব পড়তে বেশ কিছুদিন সময় লাগে। গুল সরাসরি মুখে সেবন করায় সকল প্রকার ক্ষতিকর পদার্থ শরীরের ভেতরে গিয়ে রক্তের সঙ্গে মিশে যায়। যা খুব দ্রæত নার্ভের ওপর বিরূপ প্রভাব ফেলে। গুল সেবনের কারণে মুখে ক্যান্সারের ঝুঁকি অনেক বেড়ে যায়। অনেকে আছেন যারা সারাক্ষণ মুখে গুল রেখে দেন। যে স্থানে নিয়মিত গুল লাগানো থাকে ধীরে ধীরে সেই স্থানটিতে ক্ষতের সৃষ্টি হয়। পরবর্তীতে এই ক্ষত স্থানটি ক্যান্সারে রূপ নেয়।
প্রসঙ্গত, ২০০৫ সালের (সংশোধিত ২০০৯) ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ আইনের ১০ ধারায় সকল প্রকার তামাকজাত পণ্যে সচিত্র স্বাস্থ্য সতর্কতাবাণী মুদ্রণ বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। ইতোমধ্যে দেশের অধিকাংশ সিগারেট কোম্পানি সিগারেটের প্যাকেটের দু’পাশে অর্ধেক জায়গাজুড়ে বীভৎস ছবি দিলেও গুলের কৌটার লেবেলে এখনও বীভৎস ছবি সংবলিত সতর্কবাণী দেয়া হয়নি। সিগারেটের প্যাকেটে বীভৎস ক্যান্সারের ছবি দেয়ার পর ধীরে ধীরে মানুষ সচেতন হয়ে উঠছে। আর গুলসহ ধোঁয়াবিহীন অন্যান্য তামাক জাত পণ্যে এখনও এই ছবি সংযোজন না করায় মানুষজন এর কুফল না ভেবে যথেচ্ছভাবে এগুলো সেবন করে আসছে।

ট্যাগ :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

জেলা-উপজেলা পর্যায়ে শ্রেষ্ঠ রোভার শিক্ষক কক্সবাজারের জাহাঙ্গির আলম

নীলফামারীতে আশঙ্কাজনকভাবে বাড়ছে গুলের নেশায় আসক্তের সংখ্যা

আপডেট সময় : 04:28:31 pm, Wednesday, 1 December 2021

আমিরুল হক, নীলফামারী জেলা প্রতিনিধি ।।

নীলফামারীর ৬টি উপজেলায় আশঙ্কাজনকভাবে বাড়ছে গুল নামক তামাকজাত পণ্যে আসক্তের সংখ্যা। স্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর ধোঁয়াবিহীন গুল নামক এই বিষ সেবন করে অজান্তেই মৃত্যুর দিকে ধাবিত হচ্ছে প্রতিনিয়ত অসংখ্য মানুষ। এছাড়া গুল তৈরির কারখানাগুলোতে শ্রমিকদের অধিকাংশই নারী ও শিশু। এমন তথ্য জানিয়েছে জেলা মাদক নিয়ন্ত্রন অধিদপ্তর।
সরেজমিনে ঘুরে দেখা গেছে, এ জেলার কয়কটি উপজেলায় বেশি তামাক উৎপাদন হয়। বিভিন্ন নামীদামী সিগারেট কোম্পানিগুলো সেখানে তামাক পাতা কিনে গুদামজাত করছে। এসব তামাক পাতা দিয়ে জর্দা এবং তামাকের ডাটাসহ উচ্ছৃষ্ট অংশ দিয়ে তৈরি হচ্ছে গুল। জেলার সৈয়দপুর উপজেলায় রয়েছে অনেক গুল তৈরির কারখানা। এসব কারখানা গড়ে উঠেছে আবাসিক ও ঘনবসতি এলাকায়। ফলে মালিকরা খুব সহজে ও অল্প টাকায় নারী ও শিশু শ্রমিক পান। তাই দিনে-রাতে সমানতালে চলে কাজ। যত্রতত্র ময়লা স্থানে গুলের পাউডার রেখে শ্রমিকরা কৌটায় ভরছে। আবার কেউ কেউ কৌটায় লেবেল লাগাচ্ছে। তাদের হাতে-পায়ে নেই কোন রক্ষাকারী সামগ্রী। বাতাসের মাধ্যমে গুলের পাউডারগুলো ছড়াচ্ছে এলাকায়। উত্তরাঞ্চলের মধ্যে সৈয়দপুরের তৈরি গুলের চাহিদা অনেক বেশি। দুই টাকা দামের গুল একটু বড় কৌটায় ভরে এখন বিক্রয় হচ্ছে ৫ টাকায়।
শহরের বাঁশবাড়ী এলাকার কলেজ শিক্ষক আরিফুল ইসলাম বলেন, আমার এলাকার চারপাশে গুলের কারখানা গড়ে উঠেছে। এই কারখানাগুলো উচ্ছেদ করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে একাধিকবার লিখিত অভিযোগ করে কোন লাভ হয়নি। ফলে বাধ্য হয়েই নিজের ও সন্তানের কথা চিন্তা করে ওই এলাকা ছেড়ে অন্য এলাকায় ভাড়া বাসায় বসবাস করছি।

 

গুল ব্যবহারকারী নূরুল হুদা বলেন, দাঁতে ব্যাথার কারনে শুরুতে গুল দিয়ে দাঁত মাজা শুরু করি। পরে ধীরে ধীরে গুল আসক্তি শুরু হয়। শেষমেশ এমন পর্যায়ে পৌঁছে যা নেশায় পরিনত হয়ে গেছে। এখন আর ইচ্ছা করলেও ছাড়তে পারছিনা।
নীলফামারী জেলা সিভিল সার্জন জাহাঙ্গীর কবীর জানান, তামাকের মধ্যে যত ক্ষতিকর পদার্থ এর সব আছে গুলের মধ্যে। বিড়ি ও সিগারেটের ধোঁয়ার মাধ্যমে নিকোটিনসহ অন্যান্য ক্ষতিকর পদার্থ শরীরে প্রবেশ করায় এর ক্ষতিকর প্রভাব পড়তে বেশ কিছুদিন সময় লাগে। গুল সরাসরি মুখে সেবন করায় সকল প্রকার ক্ষতিকর পদার্থ শরীরের ভেতরে গিয়ে রক্তের সঙ্গে মিশে যায়। যা খুব দ্রæত নার্ভের ওপর বিরূপ প্রভাব ফেলে। গুল সেবনের কারণে মুখে ক্যান্সারের ঝুঁকি অনেক বেড়ে যায়। অনেকে আছেন যারা সারাক্ষণ মুখে গুল রেখে দেন। যে স্থানে নিয়মিত গুল লাগানো থাকে ধীরে ধীরে সেই স্থানটিতে ক্ষতের সৃষ্টি হয়। পরবর্তীতে এই ক্ষত স্থানটি ক্যান্সারে রূপ নেয়।
প্রসঙ্গত, ২০০৫ সালের (সংশোধিত ২০০৯) ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ আইনের ১০ ধারায় সকল প্রকার তামাকজাত পণ্যে সচিত্র স্বাস্থ্য সতর্কতাবাণী মুদ্রণ বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। ইতোমধ্যে দেশের অধিকাংশ সিগারেট কোম্পানি সিগারেটের প্যাকেটের দু’পাশে অর্ধেক জায়গাজুড়ে বীভৎস ছবি দিলেও গুলের কৌটার লেবেলে এখনও বীভৎস ছবি সংবলিত সতর্কবাণী দেয়া হয়নি। সিগারেটের প্যাকেটে বীভৎস ক্যান্সারের ছবি দেয়ার পর ধীরে ধীরে মানুষ সচেতন হয়ে উঠছে। আর গুলসহ ধোঁয়াবিহীন অন্যান্য তামাক জাত পণ্যে এখনও এই ছবি সংযোজন না করায় মানুষজন এর কুফল না ভেবে যথেচ্ছভাবে এগুলো সেবন করে আসছে।