
শওকত আলম, কক্সবাজার:
কক্সবাজারে জমি রেজিস্ট্রিতে আরোপিত আকাশচুম্বী উৎস কর কমানোর দাবিতে মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বুধবার (২০ আগস্ট) সকাল ১০টা থেকে দুপুর সাড়ে ১২টা পর্যন্ত পরিবেশ, জলবায়ু ও নাগরিক সংগঠন ‘সেভ দ্য কক্সবাজার’ এ কর্মসূচির আয়োজন করে।
সভায় সভাপতিত্ব করেন সংগঠনটির চেয়ারম্যান সাংবাদিক তৌহিদ বেলাল। প্রধান অতিথির বক্তব্যে কক্সবাজার পৌরসভার সাবেক মেয়র সরওয়ার কামাল বলেন,
“জমি নিবন্ধনের নামে কক্সবাজার জেলাবাসীর উপর নতুন করে রক্তচোষা নীতি চাপিয়ে দেওয়া হচ্ছে। জেলার ২৯ লক্ষ মানুষের উপর এই জুলুম বরদাশত করা হবে না। অবিলম্বে সরকারের এই সিদ্ধান্ত বাতিল করা না হলে বৃহত্তর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।”
প্রবীণ সাংবাদিক ও গবেষক মুহম্মদ নুরুল ইসলাম বলেন, উচ্চহারের উৎস করের কারণে জমির ক্রেতা-বিক্রেতারা বৈধ নিবন্ধন প্রক্রিয়া থেকে নিরুৎসাহিত হচ্ছেন। এতে সরকার রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।
খ্যাতিমান শিক্ষাবিদ অধ্যাপক মকবুল আহমদ বলেন,
“অতিরিক্ত উৎস কর সাধারণ মানুষের উপর অযথা চাপ সৃষ্টি করছে। এতে সংশ্লিষ্ট পেশাজীবীরা সংকটে পড়েছেন এবং বৈধভাবে জমি নিবন্ধন করা প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছে।”
প্রধান বক্তা সিসিএনএফ-এর সদস্য সচিব জাহাঙ্গীর আলম জানান, নতুন নীতিমালার ফলে প্রতি শতক কৃষি জমিতে ২৫ হাজার, আবাসিক জমিতে ৫০ হাজার ও বাণিজ্যিক জমিতে ১ লাখ টাকা অতিরিক্ত উৎস কর গুনতে হচ্ছে। জেলার ১৮৮ মৌজার মধ্যে ৮১ মৌজায় ইতোমধ্যে প্রজ্ঞাপন কার্যকর হয়েছে। তিনি একে “বিমাতাসুলভ আচরণ” বলে উল্লেখ করেন।
রাজনীতিবিদ মাওলানা মুহাম্মদ ইয়াছিন হাবিব বলেন, এই নীতিমালা বৈধ লেনদেন নিরুৎসাহিত করছে, ফলে সরকার রাজস্ব হারাচ্ছে এবং সাধারণ মানুষ, বিশেষত মধ্যবিত্ত ও পেশাজীবীরা ভোগান্তিতে পড়েছেন।
কক্সবাজার জেলা দলিল লেখক সমিতির সভাপতি আবুল হোছাইন বলেন, উৎস কর বাস্তব বাজারমূল্যের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ করতে হবে। কর যৌক্তিক হলে জনগণ দলিল রেজিস্ট্রিতে উৎসাহিত হবে এবং সরকারের রাজস্বও বাড়বে।
সাবেক ছাত্রনেতা ও ‘আমরা কক্সবাজারবাসী’র সদস্য সচিব নাজিম উদ্দিন বলেন,
“নতুন কর চাপানোর আগে স্থানীয় জনগণ, দলিল লেখক, জনপ্রতিনিধি ও প্রশাসনের সাথে আলোচনা জরুরি ছিল। ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির মতো জোর করে চাপিয়ে দেওয়া এই রক্তশোষণ নীতি কক্সবাজারবাসী মেনে নেবে না।”
বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা) কক্সবাজার সদর উপজেলা সভাপতি এনামুল হক চৌধুরী বলেন,
“সাধারণ মানুষের উপর চাপিয়ে দেওয়া অতিরিক্ত উৎস করের এই জুলুম কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যাবে না।”
সভায় আরও বক্তব্য দেন হিউম্যান রাইটস ডিফেন্ডারস ফোরামের সদস্য সচিব মিজানুর রহমান বাহাদুর, সুজনের সাধারণ সম্পাদক সাংবাদিক মাহাবুবুর রহমান, কবি এম. জসিম উদ্দিন, উন্নয়নকর্মী মোহাম্মদ আরিফ উল্লাহ, সাবেক ছাত্রনেতা মাওলানা হাফেজ ওমর ফারুক, হেলপ ইয়ুথ ক্লাব সভাপতি আবদুর রহিম বাবু, সাংবাদিক রতন দাশ, সাবেক ছাত্রনেতা ও সাংবাদিক নুর মোহাম্মদ, দলিল লেখক সমিতির সদর উপজেলা সভাপতি মমতাজ আহমদ, সমাজকর্মী আবুল কাসেম, সাংবাদিক জাফর আলম, মানবাধিকারকর্মী জামাল হোসেন প্রমুখ।
সাংবাদিক ও সমাজকর্মী কামরুল হাসান সঞ্চালিত এ কর্মসূচি শেষে সেভ দ্য কক্সবাজার-এর একটি প্রতিনিধি দল ভারপ্রাপ্ত জেলা রেজিস্ট্রার জাহিদুর রহমানের সাথে সাক্ষাৎ করে মতবিনিময় করে।

























