
চঞ্চল, লালমনিরহাট প্রতিনিধি:
লালমনিরহাটের আদিতমারী উপজেলার দুর্গাপুর সীমান্তে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর –বিএসএফ- একটি পুশইন প্রচেষ্টা রুখে দিয়েছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ –বিজিবি-। এই সময় নারী ও শিশুসহ ১০ জন ভারতীয় অভিবাসীকে আটক করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার -১০ জুলাই- ভোর ৪টার দিকে দুর্গাপুর সীমান্তের ৯২৫ নম্বর মেইন পিলারের প্রায় ৫০০ গজ বাংলাদেশের অভ্যন্তরে চওরাটারিতে তাদের আটক করা হয়।
বৃহস্পতিবার দুপুরে লালমনিরহাট ব্যাটালিয়ন -১৫ বিজিবি-এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মেহেদী ইমাম একটি প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, আটককৃতরা সকলেই হিন্দু ধর্মাবলম্বী এবং তাদের বাড়ি কুড়িগ্রাম জেলার ফুলবাড়ী উপজেলার দক্ষিণ বড় ভিটা গ্রামে।
আটককৃত ব্যক্তিরা হলেন- মৃত গণনাথ রায়ের ছেলে মন্টু রায় -৬৫- , মন্টুর স্ত্রী অর্চনা রায়-৫০-, ছেলে পলাশ রায় -২৮-, পলাশের স্ত্রী মিতু রায়-২২-, পলাশের ১০ মাস বয়সী মেয়ে পল্লবী রায়, মহেন্দ্রনাথের ছেলে হরিকান্ত বর্মন -২৮-, হরিকান্তের স্ত্রী মিশু রায়-২৪-, মেয়ে সম্পা রায় -০২-, ছেলে সৌরভ রায়-০৫- ও এক মাস বয়সী ছেলে স্বপন রায়।
বিজিবির প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বৃহস্পতিবার ভোরে লালমনিরহাট ১৫ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধীনস্থ দুর্গাপুর বিওপির একটি টহল দল চওরাটারি এলাকায় কর্তব্যরত ছিল। এই সময় ভারতের ৭৮ পদ্মা বিএসএফ ১০ জন নাগরিককে বাংলাদেশে অবৈধভাবে ঠেলে পাঠানোর –পুশইন- চেষ্টা করলে বিজিবির চৌকস দলটি তাদের আটক করতে সক্ষম হয়।
আটককৃতরা প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানায়, তারা প্রায় দশ বছর আগে জীবিকার সন্ধানে কুড়িগ্রামের কাশিপুর সীমান্ত দিয়ে বৈধভাবেই ভারতে গিয়েছিলেন। সেখানে তারা হরিয়ানা প্রদেশের রেওয়াড়ীতে একটি ইটের ভাটায় কাজ করতেন। পুশইনের আগে তাদের হরিয়ানা থেকে বাসে দিল্লি, সেখান থেকে বিমানে গুয়াহাটি এবং পরে বাসে করে কুচবিহারে নিয়ে আসা হয়। সবশেষে, বৃহস্পতিবার ভোরে তাদের দুর্গাপুর সীমান্ত দিয়ে বাংলাদেশে ঠেলে পাঠানোর চেষ্টা করা হয়।
বিজিবি অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মেহেদী ইমাম বলেন, “আটককৃতদের বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনি কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ সীমান্তে অবৈধ অনুপ্রবেশ, চোরাচালান ও মাদক পরিবহন ঠেকাতে সব সময় প্রস্তুত। সীমান্তে অপরাধ নির্মূলে ও দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় আমরা নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছি।”

























