Dhaka , Saturday, 18 July 2026
নিবন্ধন নাম্বারঃ ১১০, সিরিয়াল নাম্বারঃ ১৫৪, কোড নাম্বারঃ ৯২
শিরোনাম ::
পাকিস্তানে আনারস রপ্তানির সম্ভাবনা নিয়ে মধুপুরে পাকিস্তানি প্রতিনিধিদলের মাঠ পরিদর্শন দুর্গাপুর তেরী বাজার বড় মসজিদের নতুন আহ্বায়ক কমিটি গঠন রূপগঞ্জ সদর ইউনিয়ন পরিষদে নতুন প্রশাসক নিয়োগ এবার দেশে মুক্তি পেল ‘মাস্তুল’ তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচ কি খেলবে এমবাপ্পে? জর্ডানে মার্কিন ঘাঁটিতে ইরানের হামলা, দুই যুদ্ধবিমান ধ্বংসের দাবি এলডিসি উত্তরণে আন্তর্জাতিক সমর্থন জোরদারের আহ্বান বাণিজ্যমন্ত্রীর শিক্ষার্থীদের রাজনৈতিক ট্যাগ দিয়ে হেনস্তা সভ্য রাষ্ট্রের পরিচয় নয়: নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বায়ু-শব্দদূষণ রোধে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর ‘আমাদের চট্টগ্রাম’ অ্যাপ চালু ,‌ নাগরিক সেবা এখন হাতের মুঠোয় বিচ্ছিন্নভাবে নয়, সমন্বিত উদ্যোগের মাধ্যমে বন্যাদুর্গত মানুষের দোরগোড়ায় সেবা পৌঁছাতে হবে: প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন বানভাসি মানুষের পাশে অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, চট্টগ্রামের বিভিন্ন এলাকায় দিনব্যাপী ত্রাণ বিতরণ মধুপুরে রথযাত্রা, অংশ নিলেন সহস্রাধিক ভক্ত গর্জনিয়ায় জুলাই শহীদদের স্মরণে দোয়া ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত সন্ত্রাস প্রতিরোধ দিবসে ঢাবি ছাত্রশিবিরের ‘লীগ ধর’ ম্যারাথন অনুষ্ঠিত নরসিংদীতে জুলাই শহীদ দিবস উদযাপন জুলাই শহীদ দিবস উপলক্ষে সিলেট অনলাইন প্রেসক্লাবের আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত মহেশখালীতে কোস্ট গার্ডের অভিযানে অস্ত্র, গোলাবারুদ ও অস্ত্র তৈরির সরঞ্জামাদিসহ সন্ত্রাসী মিন্টু বাহিনীর প্রধান মিন্টু আটক শুধু ত্রাণ বিতরণ নয়, সরকারের লক্ষ্য ক্ষতিগ্রস্থদের পুনর্বাসন করা :- বান্দরবানে ভুমি ও পার্বত্য প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর হেলাল বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত চট্টগ্রামের পাঁচ জেলার কৃষকদের ধান বীজ ও চারা দেয়া হবে, ১৫ দিনের মধ্যে শতভাগ গবাদি পশুকে টিকা দেওয়া হবে: কৃষি এবং মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী জুলাই বিপ্লবের শহীদদের আত্মত্যাগেই রচিত হয়েছে দেশের রাজনীতির নতুন ধারা’:- ভূমি ও পার্বত্য প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর হেলাল পাইকগাছা পৌরসভার উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নে সম্ভাব্য সাইট পরিদর্শন ইউএনওর উদ্যোগে দুই যুগের সংস্কারহীন সড়কের দুর্ভোগের অবসান; স্বস্তি এলাকাবাসীর রামগঞ্জে প্রবাসীর স্ত্রীর ঝুলন্ত মৃতদেহ উদ্ধার টানা বৃষ্টিতে রামগঞ্জে নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিসের দাম বৃদ্ধি বিপাকে সাধারণ মানুষ ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইল উপজেলার পাকশিমুল ইউনিয়নের পরমানন্দপুর গ্রামে মাদকবিরোধী মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছেন এলাকাবাসী। নিখোঁজের ৮ মাস: তৃপ্তিকে ফিরে পেতে প্রশাসনের দ্বারে দ্বারে আহাজারি মায়ের। বঙ্গোপসাগর উপকূলে নৌকাডুবি, ৫০০ জনের বেশি রোহিঙ্গা নিহত কক্সবাজারে স্কুলছাত্র অপহরণ : রক্তাক্ত অবস্থায় উদ্ধার বন্যার্তদের সাহায্যার্থে বাঁশখালীতে ড্যাব, চট্টগ্রাম এর খাবার ও ঔষধ বিতরণ

সদরপুরে চুন,রং,চিনিতে তৈরি হচ্ছে নকল  খেজুর গুড় স্বাস্থ্যঝুঁকিতে মানুষ।।

  • Reporter Name
  • আপডেট সময় : 10:56:46 am, Wednesday, 1 January 2025
  • 290 বার পড়া হয়েছে

সদরপুরে চুন,রং,চিনিতে তৈরি হচ্ছে নকল  খেজুর গুড় স্বাস্থ্যঝুঁকিতে মানুষ।।

মামুন মিঞা

সিনিয়র স্টাফ রিপোর্টার ফরিদপুর।।

   

   

ফরিদপুরের খেজুরের গুড়ের আলাদা একটা সুনাম ছিলো বহু বছর আগে থেকেই।খাঁটি গুড়ের সুগন্ধ চারপাশে ছড়িয়ে পড়ে অগ্রহায়ণ মাসেই।এ গুড়ের স্বাদই আলাদা।সেই খেজুরের গুড় এখন নেই বললেই চলে।

জেলার বিভিন্ন স্থানে অতি গোপনে গড়ে উঠেছে ভেজাল গুড় তৈরি কারখানা।দেখে বুঝার ও কায়দা নেই-হুবহু এক রকমের। স্বাদ গন্ধও ঠিক আছে। বিশেষ করে সদরপুর উপজেলা বিভিন্ন স্থানে গড়ে উঠেছে ভেজাল গুড় তৈরি কারখানা।
    
খেজুরের রস ছাড়াই তৈরি হচ্ছে খেজুরের গুড়। দেখতে অবিকল  খেজুর গুড়ের মতো মনে হলেও আসলে এসব ভেজাল খেজুর গুড়। এসব গুড়ের উপাদান অপরিশোধিত ভারতীয় চিনি,পুরাতন পঁচা গুড়, রং, আটা- চুন- রাসায়নিক এবং ভেষজ নির্যাস।

ফরিদপুর জেলার সদরপুর উপজেলায় প্রতিবছর খেজুর গাছের সংখ্যা কমলেও বাড়ছে ভেজাল গুড়ের উৎপাদন। এজন্য এ উপজেলার ঢেউখালী, নয়রশি ও কৃষ্ণপুরসহ আনাচে কানাচে গড়ে উঠেছে কারখানা। প্রতিদিন এ গুড় যাচ্ছে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে। এতে ফরিদপুরের গুড়ের সুনাম নষ্টের পাশাপাশি বাড়ছে স্বাস্থ্যঝুঁকি।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে- শীত এলে সদরপুরে এক শ্রেণির মৌসুমে ব্যবসায়ী কারিগর এনে অথবা নিজেরাই কারখানা খুলে বসেন। রাতারাতি প্রতিটি কারখানায় ২০০-৩০০ কেজি গুড় তৈরি করেন। এর পর বিভিন্ন হাট বাজারে এসব ভেজাল গুড় বিক্রি করেন। বিশেষ করে চন্দ্রপাড়া ও আটরশি দরবার শরীফের বাৎসরিক ওরস আসলে এসব গুড় বেশি বানানো হয়। চড়া দামে বিক্রি করেন এসব গুড়।

সরেজমিন কয়েকটি এলাকায় গিয়ে দেখা গেছে, যত্রতত্র গড়ে উঠেছে কারখানা।  ভারতীয় অপরিশোধিত চিনি ও গুড়ের টিন কেটে টুকরো করা হচ্ছে। সাথে দেওয়া হচ্ছে ১০-১২ কেজি ঝোলা গুড়,দিয়ে জ্বালানো হয়। পরে অপরিশোধিত চিনি ও গুড়ের দলা  মেশানো হচ্ছে। তারপর দেওয়া হচ্ছে  নির্যাস, রং, রাসায়নিক, চুন ও আটা। মিশিয়ে তৈরি হচ্ছে অভিনব  খেজুরের গুড়।প্রকাশ্যে চলছে এমন কর্মকাণ্ড।
অপরিশোধিত চিনি-গুড় ভারত থেকে আমদানি করা হয় বলে দাবি কারখানা মালিকদের।

তারা বলেন, অনেক আগে থেকেই এসব ব্যবহার করা হচ্ছে। আগে প্রতি মণ গুড় তৈরিতে খেজুরের রস কিংবা ঝোলা গুড়ের সঙ্গে ৫-১০ কেজি চিনি দেওয়া হতো। এখন টিনভর্তি ভারতীয় অপরিশোধিত চিনি-গুড়ের প্রায় ২২ কেজি উপকরণ মেশানো হয়।

এর সঙ্গে ১০-১২ কেজি ঝোলা গুড়, আটা ও রাসায়নিক মেশালেই এক মণ গুড় হয়। প্রতি কেজি অপরিশোধিত চিনি-গুড় ৭০-৮০ টাকায় কিনলেও বাজারের খেজুরের গুড় ২০০ থেকে ৪০০ টাকায় বিক্রি হয়। এতে কয়েক গুণ লাভ হচ্ছে।

উপজেলার চরবিষ্ণুপুর ইউনিয়নের এক গাছি আজাদ হোসেন বলেন, আগে ফরিদপুরের নাম শুনলেই ক্রেতারা হুমড়ি খেয়ে পড়তেন গুড় কিনতে। তবে বর্তমানে প্রতারিত হয়ে তারা আগ্রহ হারিয়েছে।

এখন গাছিদের সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ হয়ে আসল গুড় কিনতে হয়। ভেজাল গুড়ে ভেষজ নির্যাস মেশানোর কারণে আসলের চেয়ে ঘ্রাণ বেশি হয়। বাজারে আসল ও ভেজাল, সব একই দাম। আসল গুড় তৈরি করা কঠিন। এ জন্য রস ও ঝোলা গুড় কেজি হিসেবে স্থানীয়দের কাছে বিক্রি করে দিচ্ছি। তারা অগ্রিম টাকা দিয়ে এসব কিনছে।

গুড় তৈরি কারখানার কারিগরদের সাথে কথা বলে জানাযায়,প্রাকৃতিক কারণে খেজুর গাছে আগের মতো রস হয় না। রস ছাড়া আসল খেজুর গুড় তৈরি করবো কিভাবে? গুড়ের পরিমাণ বাড়াতে সামান্য রসের সাথে আমরা চিনি মেশাই। যখন রস থাকেনা তখন পুরাতন গুড়, চিনি আর কেমিক্যাল দিয়ে নতুন গুড় তৈরি করি। তাতে অল্প টাকায় কিছুটা গুড়ের স্বাদ পায় ক্রেতারা। আমরা এসব গুড় তৈরি করছি বলে অনেকে গুড় খেতে পারছে। না হলে গুড় আর চোখে দেখতে হতো না।

কেমিক্যাল মিশ্রিত গুড় খেলে আলসার- ডায়রিয়া- কলেরাসহ পেটের নানান সমস্যা দেখা দিতে পারে বলে জানান সদরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এর মেডিকেল অফিসার ডা.মো.সালাউদ্দিন। তিনি আরও বলেন, এসব গুড় দিয়ে শিশুদের খাদ্য তৈরি করে খাওয়ালে কিডনি, হৃদযন্ত্র, ব্রেন ও লিভার ক্যান্সারের মতো জটিল রোগে আক্রান্ত হতে পারে।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা নিটুল রায় বলেন- গাছ কমলেও গুড়ের উৎপাদন বেড়েছে। কারখানাগুলোয় নিম্নমানের সাদা ও লাল অপরিশোধিত চিনি-গুড় মেশানো হচ্ছে। এতে গুনগত মান থাকছে না। এতে প্রকৃত উৎপাদনকারীরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। আমরা এ বিষয়ে সবাইকে সচেতন করে যাচ্ছি কিন্তু তাতে খুব একটা লাভ হচ্ছে না।

বাংলাদেশ ভোক্তা সমিতি -ক্যাব- এর সদরপুর উপজেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক প্রভাত কুমার সাহা বলেন, ভেজাল গুড় তৈরি বন্ধে এ উপজেলায় অনেক অভিযান চালানো প্রয়োজন। নতুন কিছু কারখানার তথ্য মিলেছে। সেখানে দ্রুত অভিযান চালানো হবে। এ বিষয়ে শীঘ্রই প্রশাসনের সাথে আমরা আলোচনা করবো।

উপজেলার সচেতন মহল বলছে, কারখানাগুলোর সঙ্গে পাল্লা দিয়ে টিকতে পারছে না আসল গাছিরা। গাছিরা দৈনিক ১০ কেজি গুড় তৈরিতেই ক্লান্ত আর কারখানা মালিকরা দিনে ১০ থেকে ১২ মণ গুড় তৈরি করছে। বর্তমানে সুনাম হারাতে বসেছে ফরিদপুর অঞ্চলের গুড়।

এভাবে চলতে থাকলে সদরপুরসহ ফরিদপুরের গুড় আর চলবে না। সদরপুরে ভেজাল গুড়ের কারখানা বন্ধে দ্রুত অভিযানের পাশাপাশি সরকারি উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে।

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

পাকিস্তানে আনারস রপ্তানির সম্ভাবনা নিয়ে মধুপুরে পাকিস্তানি প্রতিনিধিদলের মাঠ পরিদর্শন

সদরপুরে চুন,রং,চিনিতে তৈরি হচ্ছে নকল  খেজুর গুড় স্বাস্থ্যঝুঁকিতে মানুষ।।

আপডেট সময় : 10:56:46 am, Wednesday, 1 January 2025

মামুন মিঞা

সিনিয়র স্টাফ রিপোর্টার ফরিদপুর।।

   

   

ফরিদপুরের খেজুরের গুড়ের আলাদা একটা সুনাম ছিলো বহু বছর আগে থেকেই।খাঁটি গুড়ের সুগন্ধ চারপাশে ছড়িয়ে পড়ে অগ্রহায়ণ মাসেই।এ গুড়ের স্বাদই আলাদা।সেই খেজুরের গুড় এখন নেই বললেই চলে।

জেলার বিভিন্ন স্থানে অতি গোপনে গড়ে উঠেছে ভেজাল গুড় তৈরি কারখানা।দেখে বুঝার ও কায়দা নেই-হুবহু এক রকমের। স্বাদ গন্ধও ঠিক আছে। বিশেষ করে সদরপুর উপজেলা বিভিন্ন স্থানে গড়ে উঠেছে ভেজাল গুড় তৈরি কারখানা।
    
খেজুরের রস ছাড়াই তৈরি হচ্ছে খেজুরের গুড়। দেখতে অবিকল  খেজুর গুড়ের মতো মনে হলেও আসলে এসব ভেজাল খেজুর গুড়। এসব গুড়ের উপাদান অপরিশোধিত ভারতীয় চিনি,পুরাতন পঁচা গুড়, রং, আটা- চুন- রাসায়নিক এবং ভেষজ নির্যাস।

ফরিদপুর জেলার সদরপুর উপজেলায় প্রতিবছর খেজুর গাছের সংখ্যা কমলেও বাড়ছে ভেজাল গুড়ের উৎপাদন। এজন্য এ উপজেলার ঢেউখালী, নয়রশি ও কৃষ্ণপুরসহ আনাচে কানাচে গড়ে উঠেছে কারখানা। প্রতিদিন এ গুড় যাচ্ছে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে। এতে ফরিদপুরের গুড়ের সুনাম নষ্টের পাশাপাশি বাড়ছে স্বাস্থ্যঝুঁকি।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে- শীত এলে সদরপুরে এক শ্রেণির মৌসুমে ব্যবসায়ী কারিগর এনে অথবা নিজেরাই কারখানা খুলে বসেন। রাতারাতি প্রতিটি কারখানায় ২০০-৩০০ কেজি গুড় তৈরি করেন। এর পর বিভিন্ন হাট বাজারে এসব ভেজাল গুড় বিক্রি করেন। বিশেষ করে চন্দ্রপাড়া ও আটরশি দরবার শরীফের বাৎসরিক ওরস আসলে এসব গুড় বেশি বানানো হয়। চড়া দামে বিক্রি করেন এসব গুড়।

সরেজমিন কয়েকটি এলাকায় গিয়ে দেখা গেছে, যত্রতত্র গড়ে উঠেছে কারখানা।  ভারতীয় অপরিশোধিত চিনি ও গুড়ের টিন কেটে টুকরো করা হচ্ছে। সাথে দেওয়া হচ্ছে ১০-১২ কেজি ঝোলা গুড়,দিয়ে জ্বালানো হয়। পরে অপরিশোধিত চিনি ও গুড়ের দলা  মেশানো হচ্ছে। তারপর দেওয়া হচ্ছে  নির্যাস, রং, রাসায়নিক, চুন ও আটা। মিশিয়ে তৈরি হচ্ছে অভিনব  খেজুরের গুড়।প্রকাশ্যে চলছে এমন কর্মকাণ্ড।
অপরিশোধিত চিনি-গুড় ভারত থেকে আমদানি করা হয় বলে দাবি কারখানা মালিকদের।

তারা বলেন, অনেক আগে থেকেই এসব ব্যবহার করা হচ্ছে। আগে প্রতি মণ গুড় তৈরিতে খেজুরের রস কিংবা ঝোলা গুড়ের সঙ্গে ৫-১০ কেজি চিনি দেওয়া হতো। এখন টিনভর্তি ভারতীয় অপরিশোধিত চিনি-গুড়ের প্রায় ২২ কেজি উপকরণ মেশানো হয়।

এর সঙ্গে ১০-১২ কেজি ঝোলা গুড়, আটা ও রাসায়নিক মেশালেই এক মণ গুড় হয়। প্রতি কেজি অপরিশোধিত চিনি-গুড় ৭০-৮০ টাকায় কিনলেও বাজারের খেজুরের গুড় ২০০ থেকে ৪০০ টাকায় বিক্রি হয়। এতে কয়েক গুণ লাভ হচ্ছে।

উপজেলার চরবিষ্ণুপুর ইউনিয়নের এক গাছি আজাদ হোসেন বলেন, আগে ফরিদপুরের নাম শুনলেই ক্রেতারা হুমড়ি খেয়ে পড়তেন গুড় কিনতে। তবে বর্তমানে প্রতারিত হয়ে তারা আগ্রহ হারিয়েছে।

এখন গাছিদের সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ হয়ে আসল গুড় কিনতে হয়। ভেজাল গুড়ে ভেষজ নির্যাস মেশানোর কারণে আসলের চেয়ে ঘ্রাণ বেশি হয়। বাজারে আসল ও ভেজাল, সব একই দাম। আসল গুড় তৈরি করা কঠিন। এ জন্য রস ও ঝোলা গুড় কেজি হিসেবে স্থানীয়দের কাছে বিক্রি করে দিচ্ছি। তারা অগ্রিম টাকা দিয়ে এসব কিনছে।

গুড় তৈরি কারখানার কারিগরদের সাথে কথা বলে জানাযায়,প্রাকৃতিক কারণে খেজুর গাছে আগের মতো রস হয় না। রস ছাড়া আসল খেজুর গুড় তৈরি করবো কিভাবে? গুড়ের পরিমাণ বাড়াতে সামান্য রসের সাথে আমরা চিনি মেশাই। যখন রস থাকেনা তখন পুরাতন গুড়, চিনি আর কেমিক্যাল দিয়ে নতুন গুড় তৈরি করি। তাতে অল্প টাকায় কিছুটা গুড়ের স্বাদ পায় ক্রেতারা। আমরা এসব গুড় তৈরি করছি বলে অনেকে গুড় খেতে পারছে। না হলে গুড় আর চোখে দেখতে হতো না।

কেমিক্যাল মিশ্রিত গুড় খেলে আলসার- ডায়রিয়া- কলেরাসহ পেটের নানান সমস্যা দেখা দিতে পারে বলে জানান সদরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এর মেডিকেল অফিসার ডা.মো.সালাউদ্দিন। তিনি আরও বলেন, এসব গুড় দিয়ে শিশুদের খাদ্য তৈরি করে খাওয়ালে কিডনি, হৃদযন্ত্র, ব্রেন ও লিভার ক্যান্সারের মতো জটিল রোগে আক্রান্ত হতে পারে।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা নিটুল রায় বলেন- গাছ কমলেও গুড়ের উৎপাদন বেড়েছে। কারখানাগুলোয় নিম্নমানের সাদা ও লাল অপরিশোধিত চিনি-গুড় মেশানো হচ্ছে। এতে গুনগত মান থাকছে না। এতে প্রকৃত উৎপাদনকারীরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। আমরা এ বিষয়ে সবাইকে সচেতন করে যাচ্ছি কিন্তু তাতে খুব একটা লাভ হচ্ছে না।

বাংলাদেশ ভোক্তা সমিতি -ক্যাব- এর সদরপুর উপজেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক প্রভাত কুমার সাহা বলেন, ভেজাল গুড় তৈরি বন্ধে এ উপজেলায় অনেক অভিযান চালানো প্রয়োজন। নতুন কিছু কারখানার তথ্য মিলেছে। সেখানে দ্রুত অভিযান চালানো হবে। এ বিষয়ে শীঘ্রই প্রশাসনের সাথে আমরা আলোচনা করবো।

উপজেলার সচেতন মহল বলছে, কারখানাগুলোর সঙ্গে পাল্লা দিয়ে টিকতে পারছে না আসল গাছিরা। গাছিরা দৈনিক ১০ কেজি গুড় তৈরিতেই ক্লান্ত আর কারখানা মালিকরা দিনে ১০ থেকে ১২ মণ গুড় তৈরি করছে। বর্তমানে সুনাম হারাতে বসেছে ফরিদপুর অঞ্চলের গুড়।

এভাবে চলতে থাকলে সদরপুরসহ ফরিদপুরের গুড় আর চলবে না। সদরপুরে ভেজাল গুড়ের কারখানা বন্ধে দ্রুত অভিযানের পাশাপাশি সরকারি উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে।