Dhaka , Saturday, 18 April 2026
নিবন্ধন নাম্বারঃ ১১০, সিরিয়াল নাম্বারঃ ১৫৪, কোড নাম্বারঃ ৯২
শিরোনাম ::
ঝালকাঠিতে খাল খনন কর্মসূচির উদ্বোধন করলেন এমপি ইলেন ভুট্টো নলছিটিতে সেলাই মেশিন, খেলাধুলার সামগ্রী ও বাদ্যযন্ত্র বিতরণ নোয়াখালীতে গণভোটের রায় বাস্তবায়নের দাবিতে ১১ দলীয় ঐক্যজোটের বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত  সরাইলে নুরু আলী হত্যাকান্ডে জড়িতদের গ্রেফতারের দাবিতে মানববন্ধন  নোয়াখালীতে শিক্ষকের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রমূলক মামলা প্রত্যাহারের দাবিতে মানববন্ধন নোয়াখালীতে প্রাইভেট কারের ধাক্কায় পথচারী নারী নিহত কাউখালী উপজেলা প্রশাসনের সমন্বিত পরিচ্ছন্নতা অভিযান বাংলাদেশি শ্রমিকের ঘামে টিকছে পর্তুগালের কৃষি ; খরা-শ্রমিক সংকট মোকাবেলায় প্রযুক্তি নির্ভরতা বৃদ্ধি পার্কের লেকে গোসল করতে নেমে দুই ভাইয়ের মর্মান্তিক মৃত্যু স্থানীয় সন্ত্রাসীদের হামলায় চবি’র তিন শিক্ষার্থী আহত;গ্রেফতার ১ মধুপুরে ঢাকা বিভাগীয় স্কাউট অ্যাডভেঞ্চার ক্যাম্প শুরু দল-মতের ঊর্ধ্বে থেকে দেশ গঠনে যুবসমাজকে সম্পৃক্ত করার আহ্বান যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রীর হিলিতে তেল নিতে গিয়ে সাংবাদিকসহ ৩ জন অসুস্থ আড়াইহাজরে বসতবাড়িতে ডাকাতি, নগদ টাকা ও স্বর্ণালংকার লুটে নিয়েছে হজযাত্রী সেবা কাজকর্ম মনিটরিংয়ে গভীর রাতে হজক্যাম্পে : ধর্মমন্ত্রী শাজাহানপুর-এ শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগ, অভিযুক্ত বৃদ্ধের বিরুদ্ধে মামলা এই সংসদ জনগণের সংসদ,সম্মানিত ভোটারদের প্রতি আমারও দায়বদ্ধতা রয়েছে :ডেপুটি স্পিকার পাইকগাছায় হাম-রুবেলা ভ্যাকসিন প্রশিক্ষণ কর্মশালা অনুষ্ঠিত রূপগঞ্জে এতিম শিক্ষার্থীদের সঙ্গে সময় টেলিভিশনের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন প্রবীণ সাংবাদিকদের অবসর ভাতা বাস্তবায়নে কাজ করছে সরকার: তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী বর্তমানে অপতথ্য ও গুজব মহামারি আকার ধারণ করেছে: ফারুক ওয়াসিফ বাংলাদেশকে ‘রেইনবো নেশন’ হিসেবে গড়ে তোলার প্রতিচ্ছবি যেন এই সাংগ্রাই উৎসব:- প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর হেলাল বাংলাদেশ পেডিয়াট্রিক এসোসিয়েশন (বিপিএ), চট্টগ্রাম শাখার কার্যনির্বাহী কমিটি গঠিত পার্বত্য চট্টগ্রামের ভূমি সমস্যা সমাধান ও উন্নয়নই সরকারের অগ্রাধিকার:- প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর হেলাল নওয়াব আলী চৌধুরীর নামে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে হল প্রতিষ্ঠার দাবি ফুটবল উন্মাদনায় লালমনিরহাট: ৩নং ওয়ার্ডে শুরু হলো বর্ণাঢ্য টুর্নামেন্ট লালমনিরহাট ও কুড়িগ্রাম সীমান্তে ১৫ বিজিবির অভিযান: গাঁজা ও ডিজেলসহ মালামাল জব্দ লালমনিরহাটে আওয়ামী লীগ নেতার সংবাদ সম্মেলন: অসুস্থতা দেখিয়ে দল থেকে পদত্যাগ সিদ্ধিরগঞ্জে হকারদের সঙ্গে বিএনপি সমর্থকদের সংঘর্ষ, মহাসড়ক অবরোধ “লেসন ভিউ একাডেমি’র এসএসসি ও দাখিল পরীক্ষার্থী’র বিদায় সংবর্ধনা ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত”

লক্ষ্মীপুরে বন্যায় সর্বশান্ত হয়েছে ৩ লাখ কৃষক।।

  • Reporter Name
  • আপডেট সময় : 06:48:51 am, Tuesday, 8 October 2024
  • 113 বার পড়া হয়েছে

লক্ষ্মীপুরে বন্যায় সর্বশান্ত হয়েছে ৩ লাখ কৃষক।।

মোঃ মাসুদ রানা মনি
লক্ষ্মীপুর জেলা প্রতিনিধি।।
   
   
এবারের ভয়াবহ বন্যায় লক্ষ্মীপুরে  ক্ষতি হয়েছে প্রায় ১ হাজার ৫০০ কোটি টাকার। সর্বস্ব হারিয়ে নিঃস্ব হয়েছে প্রায় তিন লাখ মানুষ।  সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হয়েছে কৃষি ও মৎস্য খাতে। এই দুই খাতেই ক্ষতি হয়েছে ৮৭০ কোটি টাকা। আর সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হয়েছে জেলার রামগতি ও রামগঞ্জ উপজেলায়। 
এ ছাড়া বিধ্বস্ত হয়েছে প্রায় ৩০ হাজার কাঁচা ঘরবাড়ি। বন্যায় ক্ষয়ক্ষতির শিকার হয়েছেন প্রায় ৭ লাখ ৫০ হাজার মানুষ। তার মধ্যে সব হারিয়ে নিঃস্ব হয়েছেন প্রায় তিন লাখ কৃষক। বন্যার দুই মাস পার হলেও এখনো ৫টি উপজেলায় প্রায় দুই  লক্ষাধিক মানুষ পানিবন্দী রয়েছেন। 
স্থানীয় লোকজন জানান, গত ২০ বছরের মধ্যে এত পানি আর জলাবদ্ধতা এবং দীর্ঘস্থায়ী বন্যা দেখেনি লক্ষ্মীপুরের মানুষ। বন্যার দুই মাস পার হলেও অনেক এলাকা থেকে এখনো পানি নামেনি। এখন পর্যন্ত রাস্তাঘাট ও বাড়িঘর হাঁটু পরিমাণ পানিতে তলিয়ে রয়েছে। এদিকে গত দুদিনের বৃষ্টিতে কিছু কিছু এলাকায় আবার জলাবদ্ধতা বৃদ্ধি পেয়েছে। 
জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, গত ১৭ আগস্ট থেকে শুরু হয় টানা বৃষ্টি ও বন্যা। এতে জেলার রামগতি, রামগঞ্জ ও কমলনগর উপজেলার বিভিন্ন জায়গা প্লাবিত হয়। এরপর পর্যায়ক্রমে একের পর এক গ্রাম ও শহর পানিতে তলিয়ে যায়। বন্যায় পানিবন্দী হয়ে পড়েন পাঁচ উপজেলার লাখ লাখ মানুষ। ভেসে যায় ৫০ হাজার পুকুর ও ঘেরের ২৫০ কোটি টাকার মাছ। তলিয়ে যায় আমনের বীজতলা-আবাদসহ ৬০ হাজার হেক্টর জমির ফসল। এতে ক্ষতির পরিমাণ দাঁড়ায় সাড়ে ৬০০ কোটি টাকা। 
এ ছাড়া পানির তোড়ে ২০০টি ব্রিজ-কালভার্ট এবং কাঁচাপাকা ২ হাজার ৭৫০ কিলোমিটার সড়ক ভেঙে সাড়ে ৩০০ কোটি টাকার ক্ষতি হয়। অপরদিকে ৯ হাজার ৮৭০ কিমি বিদ্যুৎ লাইন ও ১০১টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও ৩০ হাজার ঘরবাড়ি বিধ্বস্ত হয়। এ ছাড়া ১ লাখ ১৭ হাজার ৬৫৬টি গবাদিপশু ভেসে যাওয়াসহ বন্যায় মারা গেছে। সব মিলিয়ে জেলায় বন্যায় ক্ষতি হয়েছে প্রায় ১ হাজার ৫০০ কোটি টাকার। এতে ৭ লাখ ৫০ হাজার মানুষ ক্ষতির শিকার হন। এর মধ্যে পুঁজিসহ সব হারিয়ে নিঃস্ব তিন লাখ কৃষক ও চাষি। কীভাবে সামনের দিনগুলোতে ঘুরে দাঁড়াবে, তা নিয়ে দুশ্চিন্তায় দিন কাটছে বানবাসী এসব মানুষের। 
জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা মো. ইউনুছ মিয়া বলেন, ‘৩০ হাজার ঘরবাড়ি বিধ্বস্ত হয়েছে। এবারের বন্যায় ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। সব মিলে ক্ষতি হয়েছে প্রায় ১ হাজার ৫০০ কোটি টাকা। ক্ষতির শিকার প্রায় সাড়ে ৭ লাখ মানুষ। এর মধ্যে কৃষকই তিন লাখ। এই ক্ষতি পুষিয়ে উঠতে অনেক সময় লাগবে। কাজ করে যাচ্ছি।’ 
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তা মো. মঞ্জুর হোসেন বলেন, আমন আবাদসহ মোট শস্যখেত রয়েছে ৯০ হাজার ৫৭৪ হেক্টর জমি। এর মধ্যে বন্যায় ক্ষতি হয়েছে ৫৮ হাজার ৩০০ হেক্টর জমির ফসল। যার ক্ষয়ক্ষতি ৬৩৩ কোটি টাকা। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের পুনর্বাসন করার কার্যক্রম হাতে নেওয়া হয়েছে। 
জানতে চাইলে জেলা প্রশাসক রাজিব কুমার সরকার বলেন, ‘ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা তৈরি করে পুনর্বাসনের কাজ চলছে। পাশাপাশি খালগুলোর বাঁধ অপসারণ ও দুপাড়ে অবৈধভাবে গড়ে ওঠা বহুতল ভবন উচ্ছেদ করে পানি চলাচল স্বাভাবিক করার উদ্যোগ নেওয়া হয়। সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হয়েছে কৃষি ও মৎস্য খাতে। 

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

ঝালকাঠিতে খাল খনন কর্মসূচির উদ্বোধন করলেন এমপি ইলেন ভুট্টো

লক্ষ্মীপুরে বন্যায় সর্বশান্ত হয়েছে ৩ লাখ কৃষক।।

আপডেট সময় : 06:48:51 am, Tuesday, 8 October 2024
মোঃ মাসুদ রানা মনি
লক্ষ্মীপুর জেলা প্রতিনিধি।।
   
   
এবারের ভয়াবহ বন্যায় লক্ষ্মীপুরে  ক্ষতি হয়েছে প্রায় ১ হাজার ৫০০ কোটি টাকার। সর্বস্ব হারিয়ে নিঃস্ব হয়েছে প্রায় তিন লাখ মানুষ।  সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হয়েছে কৃষি ও মৎস্য খাতে। এই দুই খাতেই ক্ষতি হয়েছে ৮৭০ কোটি টাকা। আর সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হয়েছে জেলার রামগতি ও রামগঞ্জ উপজেলায়। 
এ ছাড়া বিধ্বস্ত হয়েছে প্রায় ৩০ হাজার কাঁচা ঘরবাড়ি। বন্যায় ক্ষয়ক্ষতির শিকার হয়েছেন প্রায় ৭ লাখ ৫০ হাজার মানুষ। তার মধ্যে সব হারিয়ে নিঃস্ব হয়েছেন প্রায় তিন লাখ কৃষক। বন্যার দুই মাস পার হলেও এখনো ৫টি উপজেলায় প্রায় দুই  লক্ষাধিক মানুষ পানিবন্দী রয়েছেন। 
স্থানীয় লোকজন জানান, গত ২০ বছরের মধ্যে এত পানি আর জলাবদ্ধতা এবং দীর্ঘস্থায়ী বন্যা দেখেনি লক্ষ্মীপুরের মানুষ। বন্যার দুই মাস পার হলেও অনেক এলাকা থেকে এখনো পানি নামেনি। এখন পর্যন্ত রাস্তাঘাট ও বাড়িঘর হাঁটু পরিমাণ পানিতে তলিয়ে রয়েছে। এদিকে গত দুদিনের বৃষ্টিতে কিছু কিছু এলাকায় আবার জলাবদ্ধতা বৃদ্ধি পেয়েছে। 
জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, গত ১৭ আগস্ট থেকে শুরু হয় টানা বৃষ্টি ও বন্যা। এতে জেলার রামগতি, রামগঞ্জ ও কমলনগর উপজেলার বিভিন্ন জায়গা প্লাবিত হয়। এরপর পর্যায়ক্রমে একের পর এক গ্রাম ও শহর পানিতে তলিয়ে যায়। বন্যায় পানিবন্দী হয়ে পড়েন পাঁচ উপজেলার লাখ লাখ মানুষ। ভেসে যায় ৫০ হাজার পুকুর ও ঘেরের ২৫০ কোটি টাকার মাছ। তলিয়ে যায় আমনের বীজতলা-আবাদসহ ৬০ হাজার হেক্টর জমির ফসল। এতে ক্ষতির পরিমাণ দাঁড়ায় সাড়ে ৬০০ কোটি টাকা। 
এ ছাড়া পানির তোড়ে ২০০টি ব্রিজ-কালভার্ট এবং কাঁচাপাকা ২ হাজার ৭৫০ কিলোমিটার সড়ক ভেঙে সাড়ে ৩০০ কোটি টাকার ক্ষতি হয়। অপরদিকে ৯ হাজার ৮৭০ কিমি বিদ্যুৎ লাইন ও ১০১টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও ৩০ হাজার ঘরবাড়ি বিধ্বস্ত হয়। এ ছাড়া ১ লাখ ১৭ হাজার ৬৫৬টি গবাদিপশু ভেসে যাওয়াসহ বন্যায় মারা গেছে। সব মিলিয়ে জেলায় বন্যায় ক্ষতি হয়েছে প্রায় ১ হাজার ৫০০ কোটি টাকার। এতে ৭ লাখ ৫০ হাজার মানুষ ক্ষতির শিকার হন। এর মধ্যে পুঁজিসহ সব হারিয়ে নিঃস্ব তিন লাখ কৃষক ও চাষি। কীভাবে সামনের দিনগুলোতে ঘুরে দাঁড়াবে, তা নিয়ে দুশ্চিন্তায় দিন কাটছে বানবাসী এসব মানুষের। 
জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা মো. ইউনুছ মিয়া বলেন, ‘৩০ হাজার ঘরবাড়ি বিধ্বস্ত হয়েছে। এবারের বন্যায় ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। সব মিলে ক্ষতি হয়েছে প্রায় ১ হাজার ৫০০ কোটি টাকা। ক্ষতির শিকার প্রায় সাড়ে ৭ লাখ মানুষ। এর মধ্যে কৃষকই তিন লাখ। এই ক্ষতি পুষিয়ে উঠতে অনেক সময় লাগবে। কাজ করে যাচ্ছি।’ 
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তা মো. মঞ্জুর হোসেন বলেন, আমন আবাদসহ মোট শস্যখেত রয়েছে ৯০ হাজার ৫৭৪ হেক্টর জমি। এর মধ্যে বন্যায় ক্ষতি হয়েছে ৫৮ হাজার ৩০০ হেক্টর জমির ফসল। যার ক্ষয়ক্ষতি ৬৩৩ কোটি টাকা। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের পুনর্বাসন করার কার্যক্রম হাতে নেওয়া হয়েছে। 
জানতে চাইলে জেলা প্রশাসক রাজিব কুমার সরকার বলেন, ‘ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা তৈরি করে পুনর্বাসনের কাজ চলছে। পাশাপাশি খালগুলোর বাঁধ অপসারণ ও দুপাড়ে অবৈধভাবে গড়ে ওঠা বহুতল ভবন উচ্ছেদ করে পানি চলাচল স্বাভাবিক করার উদ্যোগ নেওয়া হয়। সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হয়েছে কৃষি ও মৎস্য খাতে।