মো.ইমরান হোসেন, স্টাফ রিপোর্টার।।
উপমহাদেশের শ্রেষ্ঠ পরমাণু বিজ্ঞানী ড. মেঘনাদ সাহার জন্মস্থান গাজীপুরের কালিয়াকৈরে ৬ অক্টোবর ১৩০ তম জন্মশত বার্ষিকী পালিত হয়েছে । জন্মদিন উপলক্ষে কালিয়াকৈর উপজেলার সেওড়াতলী ভূবনেশ্বরী উচ্চ বালিকা বিদ্যালয়ে সকালে ও মেঘনাদ সাহার জন্মস্থান সেওড়াতলী গ্রামে বিকেলে কেক কাটা ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয় ।
বিশ্ব বরেণ্য ড. মেঘনাদ সাহার জন্ম গাজীপুর জেলার কালিয়াকৈর উপজেলার সেওড়াতলী গ্রামে । খুবই দরিদ্র পরিবারে ১৮৯৩ খ্রি. ৬ অক্টোবর মেঘনাদ সাহার জন্ম । তাঁর পিতার নাম জগন্নাথ সাহা এবং মাতার নাম ভুবনেশ্বরী সাহা । পাঁচ ভাই-বোনের মধ্যে মেঘনাদ সাহা ছিলেন পঞ্চম সন্তান । পিতা জগন্নাথ সাহা পেশায় ছিলেন একজন মুদি দোকানদার । দরিদ্র সংসারে কাজকর্মের পাশাপাশি মেঘনাদ সাহার দোকানে বসতে হতো সেই সাথে পড়া-লেখাও করতে হয়েছে । মেঘনাদ সাহা অধ্যাবসায় খুবই মনোযোগী ছিলেন ।
। মেঘনাদ সাহা ১৯১১ খ্রি. ঢাকা কলেজ থেকে বিশেষ কৃতিত্বের সাথে আই,এস,সি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হলেন ।১৯১৫ খ্রি. কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় হতে ফলিত গনিতে এম,এস, সি পরীক্ষায় প্রথম বিভাগে প্রথম স্থান লাভ করেন । ১৯১৬ খ্রি. মেঘনাদ সাহা প্রথমে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে পদার্থ ও ফলিত গণিতে গবেষক হিসেবে যোগদান করেন । অসাধারণ কৃতিত্বের অধিকারী মেঘনাদ সাহার উপর ন্যাস্ত হলো কোয়ান্টামবাদ নিয়ে পড়াশুনা করা ।এ জন্য তাকে জার্মানী ভাষা শিখতে হলো । গবেষণায় তিনি সাফল্যের পরিচয় দিলেন । মেঘনাদ সাহা বিশ্বে আইনস্টাইনে “ থিউরি অব রিলেটিভিটি ” প্রথম ইংরেজীতে অনুবাদ করেন ।
ড. মেঘনাদ সাহা আপেক্ষিক তত্ত্ব গবেষণা করতে গিয়ে বিদ্যুৎ চুম্বকতত্ত¡ আবিস্কার করেন । তার প্রথম গবেষণা ১৯১৭ খ্রি. “ ম্যাকওয়েল স্টীসেস ” ফিলোসফিক্যাল বিশ্ববিখ্যাত ম্যাগাজিনে প্রকাশিত হয় । তিনি নভো পদার্থ বিদ্যা,ডায়নামিক্স ও ইলেকট্রনের বিষয়েও গুরুত্বপূর্ণ গবেষণা করেন । ১৯১৮ খ্রি. কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় মেঘনাদ সাহাকে “ বিদ্যুৎ,চুম্বকতত্ত¡ ও তেজসক্রিয়ায় চাপ ” এর উপর গবেষণায় বিশেষ অবদানের জন্য “ ডি.এস.সি ” উপাধিতে ভুষিত করেন । ১৯১৯ খ্রি. কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে সর্বোচ্চ সম্মান ও ডিগ্রি দেওয়া হয় এবং তিনি “ প্রেম চাঁদ , রায় চাদ ও গুরু প্রসন্ন ” বৃত্তি লাভ করে লন্ডন ও বার্লিনে গবেষণার জন্য বিদেশ ভ্রমন করেন । ড. মেঘনাদ সাহা “ তপিয় অয়নতত্ত্ব ,বিকিরন ও তাপ ” আবিস্ককারের ফলে বিশ্বে ব্যাপক পরিচিতি লাভ করেন । তার এই তত্ত¡ হতে সূর্য ও নক্ষত্রের পিঠে ও ভিতরে কোন জিনিস এবং কিভাবে আছে তা পাওয়া যায় । ১৯২০ খ্রী. ড. মেঘনাদ সাহার এই সব আবিস্কারের তত্ত্ব লন্ডনের ফিজিউক্যাল ম্যাগাজিনে প্রকাশিত হয় ।
ড.মেঘনাদ সাহা ১৯২৩ খ্রি. কলকাতা এলাহাবাদ বিশ্ববিদ্যালয়ে পদার্থ বিজ্ঞান বিষয়ে বিভাগীয় প্রধান হিসেবে যোগদান করেন । তিনি এখানে প্রায় ১৫ বছর অধ্যাপনা করেন । ড.মেঘনাদ সাহা মাত্র ৩৪ বছরে অর্থাৎ ১৯২৭ খ্রি. “ ফেলো অব দি রয়্যাল সোসাইটি ” (এফ.আর.সি) সম্মানে ভুষিত হন ।১৯৩৪ খ্রি. তিনি ভারতীয় বিজ্ঞান কংগ্রেসের সভাপতি নির্বাচিত হন। ১৯৪৮ খ্রি. তিনি “ ইনষ্টিটিউট অব নিউক্লিয়ার ফিজিক্স ” প্রতিষ্ঠা করেন । ড. মেঘনাদ সাহার মৃত্যুর পর এই প্রতিষ্ঠানের নাম রাখা হয় “ সাহা ইনষ্টিটিউট অব নিউ ক্লিয়ার অব ফিজিক্স ” । রশায়ন শাস্ত্র ও পদার্থ বিজ্ঞানে মূল্যবান গবেষনার জন্য তিনি সর্ব শ্রেষ্ঠ বৈজ্ঞানিক সংস্থা রয়্যাল সোসাইটির ফেলো নির্বাচিত হন । নিউক্লিয়ার ফিজিক্স তার অন্যতম কৃতিত্ব ।
ড. মেঘনাদ সাহা ১৯৫২ খ্রি. লোকসভার সাধারণ নির্বাচনে কংগ্রেস বিরোধী সতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে কলকাতার বড় বাজার আসনে বিপুল ভোটের মাধ্যমে জয়লাভ করেন ড. মেঘনাদ সাহার কর্মময় জীবনের বেশীর ভাগ সময়েই কলকাতায় কাটান । কিন্তু দেশের জন্যও তিনি যথেষ্ট চিন্তা করেছেন । উল্লেখ্য,ড. মেঘনাদ সাহা নিজের জন্মস্থানে নারী শিক্ষার কোন ব্যবস্থা না থাকায় ১৯৪০খ্রি. নিজের মায়ের নামে গাজীপুর জেলার কালিয়াকৈর উপজেলায় বলিয়াদী এলাকায় “সেওড়াতলী ভূবনেশ্বরী উচ্চ বালিকা বিদ্যালয় ” প্রতিষ্ঠা করেন । ১৯৫৬ খ্রী. ১৬ ফেব্রয়ারীতে দিল্লী লোকসভার অধিবেশনে যাবার পথে হঠাৎ তিনি অসুস্থ্য হয়ে পড়েন এবং তারপর তিনি মারা যান ।
ড. মেঘনাদ সাহার জন্মস্থান গাজীপুর জেলার কালিয়াকৈর উপজেলায় বলিয়াদী এলাকায় বর্তমান বংষধর ও নাতি নারায়ন চন্দ্র সাহা ও সেওড়াতলী ভূবনেশ্বরী উচ্চ বালিকা বিদ্যালয় উদ্যোগে ৬ অক্টোবর শুক্রবার ২০২৩ খ্রিঃ ১৩০ তম জন্মশত বার্ষিকী পালিত হয় । বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. সিরাজুল ইসলাম বকশি বলেন, ৬ অক্টোবর ডক্টর মেঘনাদ সাহার জন্মদিন উপলক্ষে প্রতিবছর বেশ জাকজমকপূর্ণভাবে পালন করা হয়। এ বছর হঠাৎ টানা বর্ষণে ও প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে বিদ্যালযে কেক কেটে ও আলোচনা সভা করে ডক্টর মেঘনাদ সাহার ১৩০ তম জন্ম শতবার্ষিকী পালন করা হয়েছে।























