Dhaka , Wednesday, 4 March 2026
নিবন্ধন নাম্বারঃ ১১০, সিরিয়াল নাম্বারঃ ১৫৪, কোড নাম্বারঃ ৯২
শিরোনাম ::
দুর্গাপুরে ২য় বারের মতো শুরু হচ্ছে হিফজুল কুরআন হামদ-নাত ও আজান প্রতিযোগিতা রূপগঞ্জে ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে উচ্ছেদ অভিযান চট্টগ্রামকে ক্লিন-গ্রিন সিটি হিসেবে গড়তে একযোগে কাজ করতে হবে: মেয়র ডা. শাহাদাত সাংবাদিক নেতা মো. আইয়ুব আলীর মৃত্যুতে চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের শোক আগামী দিনে কাজের মধ্য দিয়ে প্রমান করব, মেয়র মজিবুর রহমান বেনাপোল দিয়ে দেশে ফিরল সাবেক এমপি জোয়াহেরুল ইসলামের মরদেহ আদ্-দ্বীন হাসপাতালে অত্যাধুনিক সিটি স্ক্যান মেশিন উদ্বোধন বর্জ্য ব্যবস্থাপনার জন্য সুন্দরগঞ্জ  পৌর এলাকায় ডাষ্টবিন বিতরণ  আমতলীতে সাংবাদিকের চাঁদা দাবী। গণধোলাইয়ের পর পুলিশে সোপর্দ। এমপির নির্দেশ অমান্য করে ছেড়ে দিলেন পুলিশ সংরক্ষিত মহিলা আসনে বিএনপি থেকে মনোনয়ন চান টাঙ্গাইলের নাজমা পারভীন ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ১০৮ কেজি গাঁজাসহ মাইক্রোবাস আটক সাঘাটায় মাদক সেবনকারীকে ৬ মাসের  কারাদণ্ড দিয়েছে ভ্রাম্যমান আদালত    নোয়াখালীতে ৫ মাদকসেবীকে কারাদণ্ড নোয়াখালীতে ৫ মাদকসেবীকে কারাদণ্ড চবিতে ফ্যাসিস্টের দোসর সাইদ হোসেন এর বিতর্কিত পদোন্নতি : প্রশ্নবিদ্ধ প্রশাসন বেতাগী মেয়ার হাট বাজারে পাবলিক টয়লেট দখল করে ছাগলের ঘর-প্রশাসনের অভিযানে উদ্ধার  কোস্ট গার্ডের অভিযানে অস্ত্রসহ বনদস্যু আটক বেতাগীতে (বিএনপি) দুই দফা আনন্দ মিছিল:-চিফ হুইপ নুরুল ইসলাম মনি আদিতমারীতে পলাশী ইউনিয়ন বিএনপির ইফতার ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিতআদিতমারীতে পলাশী ইউনিয়ন বিএনপির ইফতার ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত রূপগঞ্জে ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে উচ্ছেদ অভিযান  রায়পুরে অবৈধ দখলদারদের বিরুদ্ধে প্রশাসনের সাঁড়াশি অভিযান: ২৪ হাজার টাকা জরিমানা। দুর্গাপুর সাংবাদিক সমিতির আহবায়ক কমিটি গঠন পাইকগাছা পৌরসভা বিভিন্ন উন্নয়ন কাজ পরিদর্শনে পৌর প্রশাসক পাইকগাছায় মৎস্য লীজ ঘের নিয়ে পক্ষে-বিপক্ষে উত্তেজনা গাজীপুরে ইয়াবাসহ ৯ মাদক কারবারি গ্রেপ্তার সন্ত্রাসী ও চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে লুটপাটের শিকার কারখানা মালিকের সংবাদ সম্মেলন পতাকা বিধিমালার তোয়াক্কা নেই লালমনিরহাট খামারবাড়িতে; নিয়ম জানেন না খোদ উপ-পরিচালক! ভঙ্গুর সংযোগ সড়কে মরণফাঁদ: মোগলহাটে ৬৯ লাখ টাকার সেতুতে জনভোগান্তি চরমে রামগঞ্জে সন্ধ্যার পর কোন শিক্ষার্থী বাহিরে থাকতে পারবে না শাহাদাত হোসেন সেলিম এমপি ইরান–যুক্তরাষ্ট্র সংঘাতে আকাশপথে অচলাবস্থা, হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর-এ আটকা কয়েক হাজার যাত্রী

সাবাস বাংলাদেশ, সাবাস পাবনা! পুতিনের কন্ঠে পাবনা উচ্চারণ।।

  • Reporter Name
  • আপডেট সময় : 12:15:51 pm, Friday, 6 October 2023
  • 244 বার পড়া হয়েছে

সাবাস বাংলাদেশ, সাবাস পাবনা! পুতিনের কন্ঠে পাবনা উচ্চারণ।।

পাবনা প্রতিনিধি।।

দুপুর ১২টা থেকেই আমন্ত্রিত অতিথিরা আসতে শুরু করেন। দুপুর ২টা না বাজতেই রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের সুপরিসর সম্মেলন কেন্দ্রের সব আসন ভরে যায়। আমন্ত্রিত সবাই রাজনীতিক, প্রশাসনের কর্মকর্তা, দেশি বিদেশি উচ্চপর্যায়ের কর্মকর্তা, সংবাদ কর্মীসহ নানা শ্রেণি-পেশার বিশিষ্টজন।

সবার চোখে মুখে আবেগ-উত্তেজনার ছাপ! আর অপেক্ষা যেন সয় না, কখন শুরু হবে সেই মাহেন্দ্রক্ষণ! অবশেষে দুপুর ২টা ৫৩ মিনিটে পর্দায় আসেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন।

এ সময় অভ্যাগতদের মুহুর্মুহু করতালি আর আনন্দ চিৎকারে পুরো সম্মেলন কেন্দ্রে এক অন্যরকম পরিবেশের সৃষ্টি হয়। জয় বাংলা স্লোগানে মুখরিত হয় পুরো এলাকা।

বৃহস্পতিবার এমনই ছিল পাবনার রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্পে ফ্রেশ নিউক্লিয়ার ফুয়েল বা ইউরেনিয়াম হস্তান্তরের সময়কার আনন্দময় মুহূর্ত; যা চোখে না দেখলে বিশ্বাস করা যাবে না। এদিকে এই পারমাণবিক জ্বালানি ফ্রেশ নিউক্লিয়ার ফুয়েল বা ইউরেনিয়াম হস্তান্তরের মধ্য দিয়ে পারমানবিক ইউরেনিয়ামের মালিক হয়ে ইতিহাস সৃষ্টি করলো বাংলাদেশ।

শুধু তাই নয়, রাশিয়ার লৌহ শাসক পুতিনের কণ্ঠে বাংলাদেশ এবং উত্তরবঙ্গের জেলা পাবনার নাম উচ্চারণে পুরো রূপপুর যেন তখন গর্বিত এক খণ্ড বাংলাদেশে পরিণত হয়েছিল। এ সময় সবার মুখে উচ্চারিত হয় সাবাস বাংলাদেশ, সাবাস পাবনা!

বৃহস্পতিবার রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের জ্বালানি সরবরাহ সনদ আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করা হয়। গণভবনে বৃহস্পতিবার বিকালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে রাশিয়ার পক্ষ থেকে এ সনদ তুলে দেওয়া হয়।

বৃহস্পতিবার বিকাল ৩টা ৫২ মিনিটে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার অনলাইন উপস্থিতিতে ঐতিহাসিক হস্তান্তর প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়। হস্তান্তর অনুষ্ঠানে ভার্চুয়ালি যুক্ত ছিলেন আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার (আইএইএ) মহাপরিচালক রাফায়েল গ্রোসি।

হস্তান্তর উপলক্ষে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রে আয়োজন করা হয় গ্র্যাজুয়েশন সেরিমনি।

অনুষ্ঠানে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন বলেন, আজ এই জ্বালানি হস্তান্তরের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ পারমাণবিক জ্বালানি শক্তিধর দেশে পরিণত হলো। রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্প কেবল একটি বিদ্যুৎ প্রকল্প নির্মাণ নয় এটি দুই দেশের বন্ধুত্বের সম্পর্ক।

তিনি বলেন, ৫০ বছর আগের একটি পৃথক রাষ্ট্র সৃষ্টি থেকে রাশিয়া বাংলাদেশর পাশে ছিল এবং সব সময় বাংলাদেশের পাশে আছে। তিনি তার বক্তৃতায় পাবনার রূপপুরের নাম উচ্চারণ করেন।

এ সময় উপস্থিত অতিথিরা উত্তেজনায় ফেটে পড়েন। জয় বাংলা স্লোগানে মুখরিত হয় প্রকল্প এলাকা।

বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, বাংলাদেশ পরমাণু শক্তির শান্তিপূর্ণভাবে ব্যবহার করছে। বাংলাদেশ সবসময় পারমাণবিক অস্ত্রের বিরুদ্ধে অবস্থান। পরিবেশবান্ধব বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য আমরা এই প্রকল্প নিয়েছি। রাশিয়া আমাদের সহযোগিতা করেছে। রূপপুর প্রকল্পের মাধ্যমে বাংলাদেশ স্মার্ট বাংলাদেশ হিসেবে গড়ে উঠবে।

এ সময় বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী ভারতের মোদি সরকারের প্রশংসা করে বলেন, ভারতও সব সময় সহযোগিতা করেছে এবং এখনো পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের জন্য ভারতে অনেক কর্মীকে প্রশিক্ষণে পাঠানো হয়েছে। দুই দেশের সরকার প্রধানের অনুমতিতে সেখান পারমাণবিক জ্বালানির একটি নমুনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমন্ত্রী ইয়াফেস ওসমানের হাতে হস্তান্তর করেন রুশ পরমাণু শক্তি করপোরেশন রোসাটমের মহাপরিচালক আলেক্সি লিখাচেভ। এটি হস্তান্তরের মধ্য দিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে পারমাণবিক শক্তির অধিকারী হলো বাংলাদেশ।

অনুষ্ঠানে অতীতের মতো কবিতা দিয়ে শুরু এবং কবিতা দিয়ে শেষ করা বক্তব্য দিয়ে প্রশংসিত হন মন্ত্রী ইয়াফেস ওসমান।

রসাটম মহাপরিচালক লিখাচেভ তার বক্তব্যে বলেন, শতভাগ পেশাদারিত্বের মাধ্যমে এবং সর্বাধিক গুরুত্ব দিয়ে এই প্রকল্প সম্পন্ন করা হচ্ছে। এটি শতভাগ নিরাপদ।

এ ছাড়া প্রকল্প পরিচালক শৌকত আকবর, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আলী হোসেন অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন।

এদিকে ইউরেনিয়াম হস্তান্তর অনুষ্ঠান উপলক্ষে পাবনা-ঈশ্বরদী মহাসড়কজুড়ে এবং পুরো রূপপুর এলাকা বর্ণিলরুপে সাজানো হয়। রাশিয়ানদের আবাসন এলাকা গ্রিন সিটিতে রং বেরঙের বেলুনসহ সড়কে রঙের আলপনা অন্যরকম মাত্রা যোগ করে। একই সঙ্গে সর্বোচ্চ নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়।

প্রসঙ্গত, গত ২৮ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশে এসে পৌঁছায় রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্পের জ্বালানির প্রথম চালান। ২৯ সেপ্টেম্বর বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থায় জ্বালানি নেওয়া হয় প্রকল্প এলাকায়। রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র দেশের সবচেয়ে আলোচিত ও বৃহৎ প্রকল্প। এই বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণে খরচ হচ্ছে প্রায় ১ লাখ ১৪ হাজার কোটি টাকা। এর মধ্যে সরকারের ব্যয় ২২ হাজার ৫২ কোটি ৯১ লাখ ২৭ হাজার টাকা। আর রাশিয়া থেকে ঋণ সহায়তা হিসেবে আসছে ৯১ হাজার ৪০ কোটি টাকা।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ২০২৪ সালের প্রথম দিকে বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরু করবে দেশের প্রথম পরমাণু বিদ্যুৎ কেন্দ্রটি। আর ২০২৫ সালের মাঝামাঝি বিদ্যুৎ কেন্দ্রটির দ্বিতীয় ইউনিট চালু হতে পারে। দুটি ইউনিট চালু হলে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র থেকে ২ হাজার ৪০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন হবে। প্রথম ইউনিটের ভৌত এবং অবকাঠামোগত কাজ শেষ হয়ে গেছে ৯০ শতাংশের বেশি। আর দ্বিতীয় ইউনিটের অগ্রগতি ৭০ শতাংশ। বিশ্বের ৩৩তম ইউরেনিয়ামের দেশ এখন বাংলাদেশ।

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

দুর্গাপুরে ২য় বারের মতো শুরু হচ্ছে হিফজুল কুরআন হামদ-নাত ও আজান প্রতিযোগিতা

সাবাস বাংলাদেশ, সাবাস পাবনা! পুতিনের কন্ঠে পাবনা উচ্চারণ।।

আপডেট সময় : 12:15:51 pm, Friday, 6 October 2023

পাবনা প্রতিনিধি।।

দুপুর ১২টা থেকেই আমন্ত্রিত অতিথিরা আসতে শুরু করেন। দুপুর ২টা না বাজতেই রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের সুপরিসর সম্মেলন কেন্দ্রের সব আসন ভরে যায়। আমন্ত্রিত সবাই রাজনীতিক, প্রশাসনের কর্মকর্তা, দেশি বিদেশি উচ্চপর্যায়ের কর্মকর্তা, সংবাদ কর্মীসহ নানা শ্রেণি-পেশার বিশিষ্টজন।

সবার চোখে মুখে আবেগ-উত্তেজনার ছাপ! আর অপেক্ষা যেন সয় না, কখন শুরু হবে সেই মাহেন্দ্রক্ষণ! অবশেষে দুপুর ২টা ৫৩ মিনিটে পর্দায় আসেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন।

এ সময় অভ্যাগতদের মুহুর্মুহু করতালি আর আনন্দ চিৎকারে পুরো সম্মেলন কেন্দ্রে এক অন্যরকম পরিবেশের সৃষ্টি হয়। জয় বাংলা স্লোগানে মুখরিত হয় পুরো এলাকা।

বৃহস্পতিবার এমনই ছিল পাবনার রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্পে ফ্রেশ নিউক্লিয়ার ফুয়েল বা ইউরেনিয়াম হস্তান্তরের সময়কার আনন্দময় মুহূর্ত; যা চোখে না দেখলে বিশ্বাস করা যাবে না। এদিকে এই পারমাণবিক জ্বালানি ফ্রেশ নিউক্লিয়ার ফুয়েল বা ইউরেনিয়াম হস্তান্তরের মধ্য দিয়ে পারমানবিক ইউরেনিয়ামের মালিক হয়ে ইতিহাস সৃষ্টি করলো বাংলাদেশ।

শুধু তাই নয়, রাশিয়ার লৌহ শাসক পুতিনের কণ্ঠে বাংলাদেশ এবং উত্তরবঙ্গের জেলা পাবনার নাম উচ্চারণে পুরো রূপপুর যেন তখন গর্বিত এক খণ্ড বাংলাদেশে পরিণত হয়েছিল। এ সময় সবার মুখে উচ্চারিত হয় সাবাস বাংলাদেশ, সাবাস পাবনা!

বৃহস্পতিবার রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের জ্বালানি সরবরাহ সনদ আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করা হয়। গণভবনে বৃহস্পতিবার বিকালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে রাশিয়ার পক্ষ থেকে এ সনদ তুলে দেওয়া হয়।

বৃহস্পতিবার বিকাল ৩টা ৫২ মিনিটে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার অনলাইন উপস্থিতিতে ঐতিহাসিক হস্তান্তর প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়। হস্তান্তর অনুষ্ঠানে ভার্চুয়ালি যুক্ত ছিলেন আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার (আইএইএ) মহাপরিচালক রাফায়েল গ্রোসি।

হস্তান্তর উপলক্ষে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রে আয়োজন করা হয় গ্র্যাজুয়েশন সেরিমনি।

অনুষ্ঠানে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন বলেন, আজ এই জ্বালানি হস্তান্তরের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ পারমাণবিক জ্বালানি শক্তিধর দেশে পরিণত হলো। রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্প কেবল একটি বিদ্যুৎ প্রকল্প নির্মাণ নয় এটি দুই দেশের বন্ধুত্বের সম্পর্ক।

তিনি বলেন, ৫০ বছর আগের একটি পৃথক রাষ্ট্র সৃষ্টি থেকে রাশিয়া বাংলাদেশর পাশে ছিল এবং সব সময় বাংলাদেশের পাশে আছে। তিনি তার বক্তৃতায় পাবনার রূপপুরের নাম উচ্চারণ করেন।

এ সময় উপস্থিত অতিথিরা উত্তেজনায় ফেটে পড়েন। জয় বাংলা স্লোগানে মুখরিত হয় প্রকল্প এলাকা।

বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, বাংলাদেশ পরমাণু শক্তির শান্তিপূর্ণভাবে ব্যবহার করছে। বাংলাদেশ সবসময় পারমাণবিক অস্ত্রের বিরুদ্ধে অবস্থান। পরিবেশবান্ধব বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য আমরা এই প্রকল্প নিয়েছি। রাশিয়া আমাদের সহযোগিতা করেছে। রূপপুর প্রকল্পের মাধ্যমে বাংলাদেশ স্মার্ট বাংলাদেশ হিসেবে গড়ে উঠবে।

এ সময় বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী ভারতের মোদি সরকারের প্রশংসা করে বলেন, ভারতও সব সময় সহযোগিতা করেছে এবং এখনো পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের জন্য ভারতে অনেক কর্মীকে প্রশিক্ষণে পাঠানো হয়েছে। দুই দেশের সরকার প্রধানের অনুমতিতে সেখান পারমাণবিক জ্বালানির একটি নমুনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমন্ত্রী ইয়াফেস ওসমানের হাতে হস্তান্তর করেন রুশ পরমাণু শক্তি করপোরেশন রোসাটমের মহাপরিচালক আলেক্সি লিখাচেভ। এটি হস্তান্তরের মধ্য দিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে পারমাণবিক শক্তির অধিকারী হলো বাংলাদেশ।

অনুষ্ঠানে অতীতের মতো কবিতা দিয়ে শুরু এবং কবিতা দিয়ে শেষ করা বক্তব্য দিয়ে প্রশংসিত হন মন্ত্রী ইয়াফেস ওসমান।

রসাটম মহাপরিচালক লিখাচেভ তার বক্তব্যে বলেন, শতভাগ পেশাদারিত্বের মাধ্যমে এবং সর্বাধিক গুরুত্ব দিয়ে এই প্রকল্প সম্পন্ন করা হচ্ছে। এটি শতভাগ নিরাপদ।

এ ছাড়া প্রকল্প পরিচালক শৌকত আকবর, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আলী হোসেন অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন।

এদিকে ইউরেনিয়াম হস্তান্তর অনুষ্ঠান উপলক্ষে পাবনা-ঈশ্বরদী মহাসড়কজুড়ে এবং পুরো রূপপুর এলাকা বর্ণিলরুপে সাজানো হয়। রাশিয়ানদের আবাসন এলাকা গ্রিন সিটিতে রং বেরঙের বেলুনসহ সড়কে রঙের আলপনা অন্যরকম মাত্রা যোগ করে। একই সঙ্গে সর্বোচ্চ নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়।

প্রসঙ্গত, গত ২৮ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশে এসে পৌঁছায় রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্পের জ্বালানির প্রথম চালান। ২৯ সেপ্টেম্বর বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থায় জ্বালানি নেওয়া হয় প্রকল্প এলাকায়। রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র দেশের সবচেয়ে আলোচিত ও বৃহৎ প্রকল্প। এই বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণে খরচ হচ্ছে প্রায় ১ লাখ ১৪ হাজার কোটি টাকা। এর মধ্যে সরকারের ব্যয় ২২ হাজার ৫২ কোটি ৯১ লাখ ২৭ হাজার টাকা। আর রাশিয়া থেকে ঋণ সহায়তা হিসেবে আসছে ৯১ হাজার ৪০ কোটি টাকা।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ২০২৪ সালের প্রথম দিকে বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরু করবে দেশের প্রথম পরমাণু বিদ্যুৎ কেন্দ্রটি। আর ২০২৫ সালের মাঝামাঝি বিদ্যুৎ কেন্দ্রটির দ্বিতীয় ইউনিট চালু হতে পারে। দুটি ইউনিট চালু হলে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র থেকে ২ হাজার ৪০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন হবে। প্রথম ইউনিটের ভৌত এবং অবকাঠামোগত কাজ শেষ হয়ে গেছে ৯০ শতাংশের বেশি। আর দ্বিতীয় ইউনিটের অগ্রগতি ৭০ শতাংশ। বিশ্বের ৩৩তম ইউরেনিয়ামের দেশ এখন বাংলাদেশ।